চট্টগ্রামের সমাবেশস্থলে তারেক রহমান, নগরজুড়ে মানুষের ঢল

চট্টগ্রাম ব্যুরো
আপডেট : ২৫ জানুয়ারি ২০২৬, ১৩: ৪৯
রোববার দুপুর ১২টা ২০ মিনিটে সমাবেশস্থলে পৌঁছান বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ছবি: বিএনপির ফেসবুক পেজ

চট্টগ্রাম নগরীর পলোগ্রাউন্ড মাঠের সমাবেশস্থলে পৌঁছেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। রোববার (২৫ জানুয়ারি) দুপুর ১২টা ২০ মিনিটে তিনি সমাবেশস্থলে ঢুকে মঞ্চে না উঠে নেতাকর্মীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। পরে তিনি মঞ্চে ওঠেন। দীর্ঘ ২০ বছর পর চট্টগ্রামের কোনো রাজনৈতিক সমাবেশে যোগ দিলেন তিনি।

চট্টগ্রামে বিএনপির এই মহাসমাবেশকে কেন্দ্র করে মানুষের ঢল নেমেছে। মিছিল ও খণ্ড খণ্ড শোভাযাত্রায় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা সমাবেশস্থল পলোগ্রাউন্ড মাঠে জড়ো হয়েছেন। সমাবেশস্থলের আশপাশের টাইগারপাস মোড়, ফলমণ্ডি মোড়, কদমতলী মোড় ও সিআরবি সড়কে সকাল থেকেই ব্যাপক মানুষের উপস্থিতি দেখা গেছে।

তারেক রহমান সমাবেশস্থলে ঢুকে মঞ্চে না উঠে নেতাকর্মীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন, পরে মঞ্চে ওঠেন। ছবি: বিএনপির ফেসবুক পেজ
তারেক রহমান সমাবেশস্থলে ঢুকে মঞ্চে না উঠে নেতাকর্মীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন, পরে মঞ্চে ওঠেন। ছবি: বিএনপির ফেসবুক পেজ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচার উপলক্ষে এই সমাবেশের আয়োজন করে বিএনপি। মঞ্চে উপস্থিত আছেন চট্টগ্রাম, রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি আসনে বিএনপির মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থীরা। সমাবেশ উপলক্ষে চট্টগ্রাম নগরের টাইগারপাস মোড় থেকে পলোগ্রাউন্ডমুখী সড়কে মানুষের ভিড় উপচে পড়েছে। যান চলাচল নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়েছে। বিভিন্ন মোড়ে সেনাবাহিনী ও পুলিশের বিপুলসংখ্যক সদস্য মোতায়েন রয়েছে।

চট্টগ্রাম নগর ও জেলার বিএনপি ছাড়াও ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, শ্রমিক দল, ওলামা দল ও মহিলা দলের নেতাকর্মীরা সকাল থেকেই সমাবেশে যোগ দিচ্ছেন। সরকারি হাজী মুহাম্মদ মহসীন কলেজ ছাত্রদলের সদস্য সচিব জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘তরুণ প্রজন্ম তারেক রহমানকে সরাসরি দেখার সুযোগ পায়নি। দীর্ঘদিন পর তিনি চট্টগ্রামে আসছেন— এ কারণে নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ দেখা যাচ্ছে।’

সমাবেশস্থলের আশপাশের টাইগারপাস মোড়, ফলমণ্ডি মোড়, কদমতলী মোড় ও সিআরবি সড়কে সকাল থেকেই ব্যাপক মানুষের উপস্থিতি দেখা গেছে। ছবি: বিএনপির ফেসবুক পেজ
সমাবেশস্থলের আশপাশের টাইগারপাস মোড়, ফলমণ্ডি মোড়, কদমতলী মোড় ও সিআরবি সড়কে সকাল থেকেই ব্যাপক মানুষের উপস্থিতি দেখা গেছে। ছবি: বিএনপির ফেসবুক পেজ

চট্টগ্রাম নগর যুবদলের সাবেক দপ্তর সম্পাদক মোহাম্মদ সগির বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে চট্টগ্রাম একটি গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল। আগামীর বাংলাদেশ নিয়ে বিএনপি ও তারেক রহমানের পরিকল্পনা সরাসরি শুনতে চায় এখানকার মানুষ। দীর্ঘ ২০ বছর পর তার চট্টগ্রাম সফরকে ঘিরে নগরজুড়ে উচ্ছ্বাস লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

দলীয় সূত্র জানায়, রোববার সকাল সাড়ে ৯টায় তারেক রহমান তরুণদের সঙ্গে একটি পলিসি ডায়ালগে অংশ নিয়েছেন। এরপর দুপুর ১২টা ২০ মিনিটে তিনি সমাবেশস্থলে ঢুকে মঞ্চে না উঠে নেতাকর্মীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। পরে তিনি মঞ্চে ওঠেন। চট্টগ্রাম সফর শেষে তিনি ফেনী, কুমিল্লা ও নারায়ণগঞ্জে একাধিক পথসভায় অংশ নেবেন।

এদিকে সমাবেশ উপলক্ষে চট্টগ্রাম নগরীতে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রায় দুই হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। মঞ্চসহ পুরো এলাকাকে তিন স্তরের নিরাপত্তা বলয়ে ভাগ করা হয়েছে— রেড জোন, ইয়েলো জোন ও গ্রিন জোন। মঞ্চকে রেড জোন ঘোষণা করা হয়েছে, যেখানে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা, স্থায়ী কমিটির সদস্যরা এবং বৃহত্তর চট্টগ্রামের ২৩টি আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থীরা অবস্থান করতে পারবেন।

মঞ্চের সামনের অংশ ইয়েলো জোন হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে, যেখানে সাংবাদিক ও নারীদের জন্য আলাদা ব্লক রয়েছে। পুরো মাঠকে গ্রিন জোন হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।

ad
ad

রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

বিভিন্ন গোষ্ঠী ‘মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে’, প্রতিহতের আহ্বান মির্জা ফখরুলের

বিভিন্ন গোষ্ঠী ‘আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে’ উল্লেখ করে তাদের প্রতিহত করার আহ্বান জানিয়ছেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, ‘বাংলাদেশে আমরা সবসময় সবকিছু সোজা পথে পাই না। আজকে আবার বিভিন্নভাবে বিভিন্ন গোষ্ঠী মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে। তারা বিভিন্নভাবে সমস্যা তৈরি করছেন, আইনশৃঙ্খলা পর

৪ দিন আগে

বিশ্বকাপে কোন দলকে সমর্থন— জবাবে যা বললেন প্রধানমন্ত্রী

সাংবাদিকদের সঙ্গে এ মতবিনিময় সভায় দেশের সমসাময়িক রাজনৈতিক পরিস্থিতি, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং সরকারের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনাসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। তবে অনুষ্ঠান শেষে বিশ্বকাপ ফুটবল নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সংক্ষিপ্ত মন্তব্য সাংবাদিকদের মধ্যে বেশ আগ্রহ ও হাস্যরসের জন্ম দেয়।

৪ দিন আগে

‘জিয়াউর রহমান আর ১০ বছর বাঁচলে বাংলাদেশ অনন্য দেশ হতো’

বিএনপির মহাসচিব বলেন, দুর্ভিক্ষপীড়িত একটি রাষ্ট্রকে টেনে তুলেছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। দেশে স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং গণতন্ত্রকে নিজস্ব প্রক্রিয়ায় চলতে দেওয়ার লক্ষ্য ছিল তার। তিনি আরও ১০ বছর বেঁচে থাকলে আজকে বাংলাদেশ একটি অনন্য দেশ হিসেবে গড়ে উঠতো এবং সমাজে এতো নেতিবাচকতা তৈরি হতো না

৬ দিন আগে

সরকার স্বস্তি দিতে চায়, বিরোধীদল ছড়াচ্ছে বিভ্রান্তি: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার বাজেটের মাধ্যমে জনগণকে স্বস্তি দিতে চাইলেও বিরোধীদল তা মানছে না; তবে ভোটের কালি শুকানোর আগেই সরকার নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন শুরু করেছে।

৭ দিন আগে