২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে ‘কালো টাকা সাদা করার সুযোগ’ রাখার সমালোচনা হলেও এনবিআর চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান খান একে ‘কালো টাকা সাদা করার সুযোগ’ বলে মানতে রাজি নন। তিনি বলেছেন, ‘এবারের বাজেটে কালো টাকা সাদা করার কোনো প্রভিশন রাখা হয় নাই। আমার মনে হয়, আপনাদের মধ্যে একটু ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হয়েছে।
ইসলামী ব্যাংকের সার্বিক পরিস্থিতি এবং ব্যাংকটিতে ‘সরকারি হস্তক্ষেপ’ সংক্রান্ত অভিযোগ নিয়েও খোলামেলা কথা বলেছেন গভর্নর মোশতাকুর রহমান। তার দাবি, ব্যাংকটিকে স্থিতিশীল জায়গায় নিয়ে আসাটাই মূল লক্ষ্য।
মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে ব্যবসা পরিচালনার খরচ কমানো এবং দীর্ঘমেয়াদি নীতিগত পদক্ষেপ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, ‘মূল্যস্ফীতি তিন মাসের বিষয় নয়, দীর্ঘ পরিকল্পনার মাধ্যমে আমরা তা নিয়ন্ত্রণে আনব।’
বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত এই আইপিও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহের জন্ম দিয়েছে। শেয়ার বিক্রির আগে মাস্কের সম্পদের পরিমাণ ছিল প্রায় ৭৮০ বিলিয়ন ডলার। তবে স্পেসএক্সের নতুন মূল্যায়নের ফলে তার সম্পদের বড় অংশ এখন কোম্পানিটির শেয়ারের ওপর নির্ভরশীল।
সিপিডি বলছে, বিএনপি এই বাজেট কতটা বাস্তবায়ন করতে পারবে, তার ওপরই নির্ভর কছে বাজেটের সাফল্য। সে হিসাবে এই বাজেট বিএনপির জন্য একটি বড় সুযোগও। এ সুযোগ কাজে লাগাতে পারলে বিএনপি দেশের অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করার দিকে নিয়ে যেতে পারবে, সেই সঙ্গে জনবান্ধব নীতির প্রতি নিজেদের অবস্থানও প্রমাণ করতে সক্ষম হবে।
প্রস্তাবিত এই বাজেটের শিরোনামও করা হয়েছে ‘গণতান্ত্রিক, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতির অভিযাত্রা’। কিন্তু অর্থনীতিবিদের অনেকের দুশ্চিন্তা এর বাস্তবায়নের ঝুঁকি নিয়ে। কারণ বিশাল অঙ্কের বাজেটের বড় ঘাটতি মেটাতে নির্ভরতা থাকবে রাজস্ব আয়ের ওপর। সেখানে রাজস্ব আয়ে রয়েছে দীর্ঘদিনের স্থবিরতা। সেখানে রাজস
২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা করেছেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এ বাজেটে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ছয় লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। তবে রাজস্ব আদায়ের গতি বাড়াতে বিপুল পরিমাণ কর বসানোর কৌশল নেয়নি সরকার। বরং করমুক্ত আয়সীমা বাড়ানো হয়েছে. বিভিন্ন খাতে
অর্থমন্ত্রী বলেন, ফ্যাসিবাদ দেশের অর্থনীতির যে বিপর্যয় তৈরি করেছে, সমাজ-সংস্কৃতির বুনন যেভাবে ধ্বংস করেছে, এতে এর পুনরুদ্ধার ও একে পুনরায় গতিশীল করা রাজনৈতিক সংস্কার ছাড়া সম্ভব নয়। একই সঙ্গে অর্থনীতির গণতন্ত্রায়ন, অর্থাৎ সব মানুষের জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক ও জবাবদিহিপূর্ণ অর্থনৈতিক ব্যবস্থা এবং মানবিক
অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘সরকারি কর্মচারীরা বিগত প্রায় ১১ বছর যাবৎ একই বেতনকাঠামোতে বেতন-ভাতা পাচ্ছেন। ইতিমধ্যে মূল্যস্ফীতির কারণে জীবনযাত্রার ব্যয় অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। আমরা সরকারি কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতনকাঠামো আগামী ১ জুলাই ২০২৬ থেকে ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করার ঘোষণা দিচ্ছি।’
প্রস্তাবিত বাজেটকে ‘চিন্তাশীল বাজেট’ হিসেবে অভিহিত করেছেন বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) ফেলো ও বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। তবে তিনি মনে করেন, বাজেটের নীতিগত কাঠামো শক্তিশালী হলেও তা বাস্তবায়নের আর্থিক ভিত্তি দুর্বল।
প্রস্তাবিত বাজেটে বিভিন্ন বিশেষ শ্রেণির করদাতাদের জন্যও করমুক্ত আয়সীমায় অতিরিক্ত সুবিধা রাখা হয়েছে। নারী করদাতা ও ৬৫ বছরের বেশি বয়সী করদাতাদের জন্য করমুক্ত আয়সীমা ৪ লাখ ২৫ হাজার টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে।
সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির আওতা ও সুবিধা বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে সরকার। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী ভাতার হার বৃদ্ধি, উপকারভোগীর সংখ্যা সম্প্রসারণ, অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর জন্য ভাতা অব্যাহত রাখা এবং ক্যান্সার, কিডনি ও হৃদরোগসহ ৬টি দুরারোগ্য রোগে আক্রান্তদের আর্থিক সহায়তা দ্বিগুণ
বিধান অনুযায়ী, কোনো করদাতা জমি, ভবন বা অ্যাপার্টমেন্ট ক্রয়ের ক্ষেত্রে প্রকৃত মূল্য দলিলমূল্যের চেয়ে বেশি হলে সেই অতিরিক্ত অপ্রদর্শিত অর্থের ওপর ব্যক্তিশ্রেণির জন্য প্রযোজ্য নিয়মিত হারে আয়কর পরিশোধ করে তা বৈধ করতে পারবেন।
প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান কেরু অ্যান্ড কোম্পানির উৎপাদিত মদের ওপর নতুন করে মূল্য সংযোজন কর (মূসক) বা ভ্যাট আরোপের প্রস্তাব দিয়েছে সরকার। নতুন এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে কেরুর উৎপাদিত দেশি ও বিদেশি উভয় ব্র্যান্ডের মদের দাম প্রতি লিটারে ৫০০ টাকা কর বসবে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহিদদের পরিবারকে ২০ হাজার টাকা করে মাসিক ভাতা দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া এ, বি ও সি ক্যাটাগরিতে আহতরা যথাক্রমে ২০, ১৫ ও ১০ হাজার টাকা মাসিক ভাতা পাচ্ছেন। আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে এই ভাতার পরিমাণ অব্যাহত রাখার প্রস্তাব দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে প্রতিরক্ষা খাতের জন্য ৪২ হাজার ৪৯৭ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এ খাতে বরাদ্দ ছিল ৪০ হাজার ৬৬১ কোটি টাকা। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে প্রতিরক্ষা বাজেট প্রায় এক হাজার ৮৩৬ কোটি টাকা বেড়েছে।