বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) নির্বাচনি প্রচারের প্রথম দিন সিলেট থেকে সমাবেশ শুরু করেন তিনি। এ দিন বেলা ১২টায় সিলেট সরকারি আলিয়া মাদরাসা মাঠে প্রথম নির্বাচনি সমাবেশে বক্তব্য রাখেন তারেক রহমান। সর্বশেষ নরসিংদীর সমাবেশে বক্তব্য দিয়ে রাত ৪টার কিছু পর তিনি ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন।
কিন্তু আমি বিশ্বাস করি, দেশ ও জাতির প্রয়োজনে রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তন বা সংস্কার অনিবার্য। সেই সংস্কারের স্পিরিট বা চেতনা আমি এখন বিএনপির রাজনীতির মধ্যে দেখতে পাচ্ছি। তাই দেশের এ বাস্তবতায় জাতীয় ঐক্য ও গণতন্ত্র পুনর্প্রতিষ্ঠার স্বার্থে বিএনপির সঙ্গেই পথ চলাকে আমি শ্রেয় মনে করেছি এবং যোগদানের সিদ্ধান
ভোটের প্রচারের মাঠে নামতেই দেখা গেল, এত সব প্রতিশ্রুতি, ইতিবাচক বার্তা যেন নিছক কথার কথা। বিএনপি, জামায়াত, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)— তিন দলের শীর্ষ নেতৃত্বের কণ্ঠেই উঠে এলো প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার বার্তা।
‘২০০০ টাকার কার্ড নিতে ১০০০ টাকা ঘুষ দেওয়া লাগবে না তো? তাহলে ঘুষ-চাঁদাবাজি, সেটা যদি আমরা নির্মূল না করতে পারি— এই সকল সুযোগ সুবিধা কি জনগণের কাছে পর্যন্ত পৌঁছাবে?’— বলেন এনসিপির এই নেতা।
সাইফুল হক বলেন, যারা কালো টাকা ও পেশী শক্তি দিয়ে ভোটের বাক্স ভরতে চান, তারা সেসব দিনের কথা ভুলে যান। যারা মাস্তানি ও চাঁদাবাজি করে, তাদের ঢাকা-১২ আসনের জনগণ প্রত্যাখ্যান করবেন। ইনশাল্লাহ তারেক রহমানের ভালোবাসা ও কোদাল মার্কা নিয়ে বিপুল ভোটে জয়যুক্ত হব।
তিনি বলেন, সবকিছুর মালিক আল্লাহ, কিন্তু কেউ কেউ ‘বেহেস্তের টিকিট’ বিক্রির মাধ্যমে ভোট চাচ্ছে। নির্বাচনের আগেই তারা ঠকাচ্ছে, নির্বাচনের পরে তারা কি করবে সবাই বুঝে গেছে। অমুককে দেখেছেন, তমুককে দেখেছেন যারা বলছেন, তাদের ‘৭১ সালে দেশের মানুষ দেখেছে।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, ১০ দলীয় নির্বাচনি ঐক্য ইনশাল্লাহ বিপুল ভোটে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করবে। বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ আমাদের সঙ্গে আছেন। জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে প্রয়োজনীয় রাষ্ট্রীয় সংস্কার এগিয়ে নিতে এই ঐক্যের বিজয়ের কোনো বিকল্প নেই।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) দুপুর সিলেটের আলিয়া মাদরাসা মাঠে আয়োজিত বিএনপির প্রথম নির্বাচনি সমাবেশে এ কথা বলেন তিনি।
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন,‘আমরা বিএনপি একটি উদারপন্থী গণতান্ত্রিক দল। আমাদের যাত্রা তারেক রহমানের চিন্তার মধ্যে দিয়ে গণতান্ত্রিক সমৃদ্ধি অর্জনের যাত্রা।’
ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা ও স্থানীয় কমিউনিটি পর্যায়ে শক্তিশালী গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা ছাড়া প্রকৃত নাগরিক সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।
সকাল থেকেই সিলেটের বিভিন্ন এলাকা থেকে মিছিল নিয়ে সমাবেশস্থলে আসতে শুরু করেন নেতাকর্মীরা। কানায় কানায় পূর্ণ আলিয়া মাদরাসা মাঠ ছিল তারেক রহমানের অপেক্ষায়। অবশেষে সেই অপেক্ষার অবসান হলো।
এর আগে বুধবার (২১ জানুয়ারি) দিবাগত রাতেই দলের পক্ষ থেকেও এক ঝাঁক নতুন পরিকল্পনা ও ইশতেহারের রূপরেখা আনা শুরু করেছে বিএনপি।
মিরপুর-১০ নম্বরের আদর্শ স্কুল মাঠে জনসভার মাধ্যমে তিনি এই প্রচারণার সূচনা করবেন। এরপর পর্যায়ক্রমে ২৩ ও ২৪ জানুয়ারি উত্তরবঙ্গসহ দেশের বিভিন্ন নির্বাচনী এলাকায় গণসংযোগ ও সফর করবেন জামায়াত আমির।
দলীয় প্রধানকে একনজর দেখতে ভোর থেকেই ব্যানার-ফেস্টুন ও স্লোগানে মুখর হয়ে উঠেছে পুরো সিলেট নগরী, যেখানে নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের উপস্থিতিও ছিল চোখে পড়ার মতো।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বৃহস্পতিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) শুরু হচ্ছে ভোটের প্রচার। এরই মধ্যে সব রাজনৈতিক দলই নিজেদের নির্বাচনি প্রচারের কৌশল নির্ধারণ করেছে। সব দলই প্রথম দিন থেকেই কোমড় বেঁধে নামবে প্রচারে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, এ সফরসূচির বিষয়ে সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, নরসিংদী, নারায়ণগঞ্জ ও ঢাকার সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তাদের পাশাপাশি পুলিশ ও অন্যান্য কর্তৃপক্ষকে আগেই চিঠির মাধ্যমে জানানো হয়েছে।