নিজের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, কৃষকদের জন্য বিশেষ কার্ড চালু এবং সহজ শর্তে ঋণের ব্যবস্থা করে কৃষির উন্নয়নে কাজ করবে বিএনপি। পাশাপাশি যুবকদের জন্য প্রশিক্ষণ ও শিক্ষার ব্যবস্থা করে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা হবে, যাতে তারা দেশে কর্মসংস্থানের সৃষ্টি করতে পারে, বিদেশে দক্ষ শ্রমিক হিসেব
শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) বিকেলে চট্টগ্রামের পতেঙ্গা এলাকার চরবস্তি, বিজয়নগর, ফুলছরি পাড়া, নিজাম মার্কেট, দক্ষিণপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগকালে বিভিন্ন পথসভায় তিনি এ কথা বলেন। গণসংযোগে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী, সাধারণ জণগণ, নারী, তরুণের অংশগ্রহণ করেন।
তিনি বলেন, ১৯৯১ সালেও ধানের শীষ বিজয়ী হওয়ার মধ্য দিয়ে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে দেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার হয়েছিল। এরপর তারেক রহমানের নেতৃত্বে দীর্ঘ দেড়যুগ আন্দোলনের মাধ্যমে দেশ থেকে ফ্যাসিবাদ বিদায় নিয়েছে। যখনই ধানের শীষ জয়ী হয়, তখন দেশের গণতন্ত্র জয়লাভ করে।
হাসনাত আব্দুল্লাহ আরো বলেন, গত ১৭ বছর আমাদের টুটি চেপে ধরা হয়েছিল, যারা ভিন্নমত পোষণ করত তাদের সামনে থেকে মাইক কেড়ে নেওয়া হতো, বাংলাদেশ একটা উন্মুক্ত কারাগারে পরিণত হয়েছিল, গুম করা হতো, আয়না ঘরে নেওয়া হতো, ক্রসফায়ারে দেওয়া হতো, ভিন্ন মত ও চিন্তার মানুষগুলোকে বলা হতো পিন্ডি বা দিল্লি চলে যেতে। এ
বিভিন্ন ধরনের ১০টি দল একসঙ্গে এলেও কীসের ভিত্তিতে ঐক্য হলো সেটা স্পষ্ট নয়। এই ঐক্যের উদ্দেশ্য কী, আদর্শিক ভিত্তি কী সেটা নিয়েও কোনো রূপরেখা নেই, বক্তব্য নেই।
তিনি বলেন, ‘১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের প্রকৃত বিজয় ছিনিয়ে আনা হবে। চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাস নির্মূলের প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।’
আজ শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) সকালে ভোটের প্রচারে উত্তরবঙ্গের ৮ জেলা সফরের উদ্দেশ্যে ঢাকার শাহজালাল বিমানবন্দর ত্যাগ করার আগে সেখানের ডমেস্টিক লাউঞ্জে অপেক্ষমাণ সাংবাদিকদের সামনে তিনি এ কথা বলেন।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) নির্বাচনি প্রচারের প্রথম দিন সিলেট থেকে সমাবেশ শুরু করেন তিনি। এ দিন বেলা ১২টায় সিলেট সরকারি আলিয়া মাদরাসা মাঠে প্রথম নির্বাচনি সমাবেশে বক্তব্য রাখেন তারেক রহমান। সর্বশেষ নরসিংদীর সমাবেশে বক্তব্য দিয়ে রাত ৪টার কিছু পর তিনি ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন।
কিন্তু আমি বিশ্বাস করি, দেশ ও জাতির প্রয়োজনে রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তন বা সংস্কার অনিবার্য। সেই সংস্কারের স্পিরিট বা চেতনা আমি এখন বিএনপির রাজনীতির মধ্যে দেখতে পাচ্ছি। তাই দেশের এ বাস্তবতায় জাতীয় ঐক্য ও গণতন্ত্র পুনর্প্রতিষ্ঠার স্বার্থে বিএনপির সঙ্গেই পথ চলাকে আমি শ্রেয় মনে করেছি এবং যোগদানের সিদ্ধান
ভোটের প্রচারের মাঠে নামতেই দেখা গেল, এত সব প্রতিশ্রুতি, ইতিবাচক বার্তা যেন নিছক কথার কথা। বিএনপি, জামায়াত, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)— তিন দলের শীর্ষ নেতৃত্বের কণ্ঠেই উঠে এলো প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার বার্তা।
‘২০০০ টাকার কার্ড নিতে ১০০০ টাকা ঘুষ দেওয়া লাগবে না তো? তাহলে ঘুষ-চাঁদাবাজি, সেটা যদি আমরা নির্মূল না করতে পারি— এই সকল সুযোগ সুবিধা কি জনগণের কাছে পর্যন্ত পৌঁছাবে?’— বলেন এনসিপির এই নেতা।
সাইফুল হক বলেন, যারা কালো টাকা ও পেশী শক্তি দিয়ে ভোটের বাক্স ভরতে চান, তারা সেসব দিনের কথা ভুলে যান। যারা মাস্তানি ও চাঁদাবাজি করে, তাদের ঢাকা-১২ আসনের জনগণ প্রত্যাখ্যান করবেন। ইনশাল্লাহ তারেক রহমানের ভালোবাসা ও কোদাল মার্কা নিয়ে বিপুল ভোটে জয়যুক্ত হব।
তিনি বলেন, সবকিছুর মালিক আল্লাহ, কিন্তু কেউ কেউ ‘বেহেস্তের টিকিট’ বিক্রির মাধ্যমে ভোট চাচ্ছে। নির্বাচনের আগেই তারা ঠকাচ্ছে, নির্বাচনের পরে তারা কি করবে সবাই বুঝে গেছে। অমুককে দেখেছেন, তমুককে দেখেছেন যারা বলছেন, তাদের ‘৭১ সালে দেশের মানুষ দেখেছে।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, ১০ দলীয় নির্বাচনি ঐক্য ইনশাল্লাহ বিপুল ভোটে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করবে। বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ আমাদের সঙ্গে আছেন। জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে প্রয়োজনীয় রাষ্ট্রীয় সংস্কার এগিয়ে নিতে এই ঐক্যের বিজয়ের কোনো বিকল্প নেই।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) দুপুর সিলেটের আলিয়া মাদরাসা মাঠে আয়োজিত বিএনপির প্রথম নির্বাচনি সমাবেশে এ কথা বলেন তিনি।