তারেক রহমানের সঙ্গে মতবিনিময়ে মুক্ত গণমাধ্যমের প্রত্যাশা

প্রতিবেদক, রাজনীতি ডটকম
ইংরেজি দৈনিক ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনাম (বাঁয়ে) ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান (ডানে)। ছবি: ভিডিও থেকে

বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে মতবিনিময়ে মুক্ত গণমাধ্যমের প্রত্যাশার কথা জানিয়েছেন সাংবাদিকরা। তারা বলছেন, ফ্যাসিবাদী আমলে দীর্ঘ দিন ধরে দেশের গণমাধ্যমের কণ্ঠ রোধ করে রাখা হয়েছিল। নতুন বাংলাদেশ যখন গণতান্ত্রিক উত্তরণের পথে রয়েছে, এই উত্তরণের জন্য মুক্ত গণমাধ্যম অপরিহার্য। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা না গেলে রাষ্ট্রে গণতন্ত্র নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।

শনিবার (১০ জানুয়ারি) রাজধানীর বনানীতে হোটেল শেরাটনে এ মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হচ্ছে। কোরআন তেলওয়াতের মাধ্যমে শুরু হয় অনুষ্ঠান।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি উপস্থিত সাংবাদিকদের স্বাগত জানান। বলেন, একটি কঠিন সময়ে তারেক রহমান দেশে এসেছেন। দেশের মানুষ বুকভরা আশা নিয়ে তার দিকে তাকিয়ে আছে।

এরপর আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন গণমাধ্যম জবানের সম্পাদক রেজাউল করিম রনি। তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদের ১৬ বছরে দেশে গণমাধ্যম মুক্তভাবে কাজ করতে পারেনি। নতুন বাস্তবতায় গণমাধ্যম মুক্তভাবে কাজ করতে পারবে কি না, সেটি নিশ্চিত করতে হবে।

দৈনিক আমার দেশের সম্পাদক মাহমুদুর রহমান বলেন, বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান এখন হয়তো তার আশপাশের লোকজনের কাছে গত ১৭ বছরের ইতিহাসের কথা শুনবে। আমি তাকে পরামর্শ দেবো, তিনি যেন সবার কাছ থেকে এই ইতিহাস শোনেন, যেন প্রকৃত চিত্র তিনি জানতে পারেন।

সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে অনলাইন অ্যাকটিভিস্ট ডা. জাহেদুর রহমান বলেন, বিএনপি হয়তো বড় ব্যবধানে জয় নিয়ে ক্ষমতায় আসবে। কিন্তু তারেক রহমানকে নিশ্চিত করতে হবে আমরা নির্বাচনের মধ্যমে হলেও প্রকৃত গণতন্ত্র পাব কি না।

তারেক রহমানের সঙ্গে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে দেশের শীর্ষস্থানীয় সব গণমাধ্যমের সম্পাদক ও সিনিয়র সাংবাদিকরা এবং বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ। ছবি: ভিডিও থেকে।
তারেক রহমানের সঙ্গে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে দেশের শীর্ষস্থানীয় সব গণমাধ্যমের সম্পাদক ও সিনিয়র সাংবাদিকরা এবং বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ। ছবি: ভিডিও থেকে।

নিউ এজ সম্পাদক নূরুল কবীর বলেন, আমরা আজ এই মুহূর্তে এমন এক সময়ে দাঁড়িয়ে আছি, যখন ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার পতন ছাত্র-জনতার অভ্যুথানের মুখে ঘটেছে। এখন আমরা গণতান্ত্রিক উত্তরণের একটা অন্তর্বর্তী সময়ে আছি। পৃথিবীতে এমন কোনো জায়গায় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা হয়নি, যেখানে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ছিল না। ভবিষ্যতের বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণ চাই, একই সঙ্গে তাতে সহযোগিতার জন্য গণতান্ত্রিক ও মুক্ত গণমাধ্যম যেন নিশ্চিত করা হয়।

বিভিন্ন সময়ে দেশে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে এবং তাদের আইনি লড়াইয়ের সুযোগও ছিল না বলে উল্লেখ করেন নূরুল কবীর। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের আমলে তাদের সঙ্গে থাকা অনেকের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। তারা যথাযথভাবে আইনি লড়াইয়ের সুযোগ পেলে সেটিই আগের সরকারের অন্যায়ের বিরুদ্ধে যথাযথ জবাব হবে। এ বিষয়ে কাজ করার সুযোগ থাকলে সেটি কাজে লাগাতে তারেক রহমানকে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

দৈনিক কালের কণ্ঠের সম্পাদক ও জাতী প্রেস ক্লাব সভাপতি কবি হাসান হাফিজ বলেন, আমরা একটি সাংবাদিকবান্ধব প্রশাসন চাই, যা আমরা গত ১০/১২ বছর ধরে পাইনি। সাংবাদিকদের অনেক রক্তাক্ত ইতিহাস রয়েছে। অনেক গণমাধ্যম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। আমরা সে পরিস্থিতিত অবসান চাই। ঘন ঘন সাংবাদিকদের সঙ্গে তারেক রহমান মতবিনিময় করবেন, এ প্রত্যাশা করেন তিনি।

বিডিনিউজ সম্পাদক তৌফিক ইমরোজ খালিদি তার সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তারেক রহমানকে শুভেচ্ছা জানান। বলেন, তারেক রহমান যে পরিকল্পনার কথা বলেছেন, সেটি যেন তিনি বাস্তবায়ন করতে পারেন, সে প্রত্যাশা করেন তিনি।

এ ছাড়াও দেশের শীর্ষস্থানীয় সব গণমাধ্যমের সম্পাদক ও সিনিয়র সাংবাদিকরা অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছেন।

ad
ad

রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

বিশ্বকাপে কোন দলকে সমর্থন— জবাবে যা বললেন প্রধানমন্ত্রী

সাংবাদিকদের সঙ্গে এ মতবিনিময় সভায় দেশের সমসাময়িক রাজনৈতিক পরিস্থিতি, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং সরকারের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনাসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। তবে অনুষ্ঠান শেষে বিশ্বকাপ ফুটবল নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সংক্ষিপ্ত মন্তব্য সাংবাদিকদের মধ্যে বেশ আগ্রহ ও হাস্যরসের জন্ম দেয়।

৪ দিন আগে

‘জিয়াউর রহমান আর ১০ বছর বাঁচলে বাংলাদেশ অনন্য দেশ হতো’

বিএনপির মহাসচিব বলেন, দুর্ভিক্ষপীড়িত একটি রাষ্ট্রকে টেনে তুলেছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। দেশে স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং গণতন্ত্রকে নিজস্ব প্রক্রিয়ায় চলতে দেওয়ার লক্ষ্য ছিল তার। তিনি আরও ১০ বছর বেঁচে থাকলে আজকে বাংলাদেশ একটি অনন্য দেশ হিসেবে গড়ে উঠতো এবং সমাজে এতো নেতিবাচকতা তৈরি হতো না

৬ দিন আগে

সরকার স্বস্তি দিতে চায়, বিরোধীদল ছড়াচ্ছে বিভ্রান্তি: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার বাজেটের মাধ্যমে জনগণকে স্বস্তি দিতে চাইলেও বিরোধীদল তা মানছে না; তবে ভোটের কালি শুকানোর আগেই সরকার নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন শুরু করেছে।

৭ দিন আগে

প্রস্তাবিত বাজেট কথার ফুলঝুরি, রাজনৈতিক চমকবাজি: জাসদ

প্রস্তাবিত এ বাজেট নিয়ে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় দলটি বলছে, বজেটের আকার বড় দেখানোর জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা প্রাক্কলন করা হয়েছে। এই বিশালাকৃতির বাজেট অবাস্তব এবং কোনোভাবেই অর্জনযোগ্য নয়।

৯ দিন আগে