
প্রতিবেদক, রাজনীতি ডটকম

নারায়ণগঞ্জের রয়েল রিসোর্টে ২০২১ সালের ৩ এপ্রিল ঘটে যাওয়া বহুল আলোচিত ‘রিসোর্টকাণ্ড’ নিয়ে দীর্ঘ ব্যাখ্যা দিয়েছেন ইসলামি বক্তা ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক। তিনি এ ঘটনাকে ‘শেখ হাসিনার ষড়যন্ত্র’ এবং ‘ব্যর্থ প্রজেক্ট’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন করেছেন।
আজ শনিবার (২০ জুন) ফেসবুক পেজে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি দাবি করেন, ‘ঘটনাটি কোনো স্বাভাবিক পুলিশি অভিযান ছিল না, বরং আগে থেকে পরিকল্পিতভাবে তৈরি করা পরিস্থিতি, যেখানে তাকে সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে হেয় করার উদ্দেশ্য ছিল।’
মামুনুল হক বলেন, সেদিন তিনি তার স্ত্রী জান্নাত আরা ঝর্ণাকে সঙ্গে নিয়ে নারায়ণগঞ্জের রয়েল রিসোর্টের ৫০১ নম্বর কক্ষে অবস্থান করছিলেন। তার ভাষ্য, হঠাৎ করে পুলিশের নেতৃত্বে স্থানীয় রাজনৈতিক কর্মী, সাংবাদিক এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যসহ শতাধিক মানুষ কক্ষে প্রবেশ করে পরিস্থিতি অস্বাভাবিক করে তোলেন। তিনি দাবি করেন, ঘটনার সময় একাধিক টেলিভিশন চ্যানেল সরাসরি লাইভ সম্প্রচার শুরু করে।
ঘটনাস্থলের বর্ণনায় তিনি বলেন, রুমে প্রবেশের পর তাদের বিভিন্নভাবে হেনস্তা করা হয় এবং পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছে যায় যে, তিনি তার স্ত্রীকে (জান্নাত আরা) ওয়াশরুমে আটকে দিতে বাধ্য হন। পরে নারী পুলিশের একটি দল সেখানে প্রবেশ করে তারাও সেখান থেকে লাইভ সম্প্রচার করতে থাকে বলে দাবি করেন তিনি।
মামুনুল হক লেখেন, ‘উপর্যুপরি তাদের জিজ্ঞাসাবাদে আমি এবং আমার স্ত্রী আমরা উভয়েই স্পষ্ট ভাষায় আমাদের বৈবাহিক সম্পর্ক এবং আমরা স্বামী-স্ত্রী হিসেবে সেখানে অবস্থান করার বিষয়টি ব্যক্ত করি এবং সেটি সকল সংবাদে একযোগে প্রচার হতে থাকে।’
তিনি উল্লেখ করেন, ‘শুরুতেই পুলিশ কর্মকর্তা আমার হাত থেকে মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। পরে অ্যাডিশনাল এসপি আসার পর তিনি আমাদের তথ্য যাচাইয়ের জন্য ফোনে আমার পরিচিতজনদের সঙ্গে কথা বলে আশ্বস্ত হয়ে আমাদেরকে নিরাপদে বাইরে নিয়ে আসতে চান। কিন্তু ততক্ষণে সেখানে উপস্থিত হন গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএফআইর একাধিক কর্মকর্তা। তারা আমাদেরকে থানায় নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন।’
‘আমরা তাদের সঙ্গে রুম থেকে বের হয়ে লবিতে নেমে দেখি হুলস্থুল কাণ্ড। হাজার হাজার প্রতিবাদী মানুষ সেখানে ঢুকে পড়েছে। উপস্থিত পুলিশগুলো প্রাণ ভয়ে আমাকে জড়িয়ে ধরে তাদেরকে রক্ষা করার আবদার জানাতে থাকে। আমি পুলিশ কর্মকর্তার কাছ থেকে আমার মোবাইল ফেরত নিয়ে লাইভে কিছু বক্তব্য দেয়ার চেষ্টা করি। কিন্তু দেখি প্রযুক্তির সাহায্যে আমার ফেসবুক আইডির লাইভ অপশন বন্ধ করে রাখা হয়েছে। তখন আমি বিক্ষুব্ধ জনতার সামনে গিয়ে তাদেরকে নিবৃত্ত করি এবং পুলিশদেরকে রক্ষা করার ব্যবস্থা করি,’ দাবি করেন মামুনুল হক।
জান্নাত আরাকে দ্বিতীয় বিয়ে ও বিচ্ছেদ প্রসঙ্গ
নারায়ণগঞ্জের রয়েল রিসোর্টে মামুনুল হকের সঙ্গে থাকা নারী জান্নাত আরার সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে দীর্ঘ ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, এটি ছিল তার দ্বিতীয় বিয়ে এবং শরিয়তসম্মতভাবে সম্পন্ন একটি বৈধ বিবাহ। তিনি লেখেন, ‘জান্নাত আরা ইতোপূর্বে আমার ঘনিষ্ঠ সহকর্মী হাফেজ শহিদুল ইসলামের স্ত্রী ছিল এবং আঃ রহমান জামি ও ওবায়দুর রহমান তামিম নামে তাদের দুজন সন্তান রয়েছে। বনিবনা না হওয়ায় তারা উভয়ে স্বেচ্ছায় বিচ্ছেদ ঘটায়। একসময় জান্নাত আরা স্বপ্রণোদিত হয়ে ফোনে আমার সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করে এবং আমার সহযোগিতা কামনা করে।’
মামুনুল হক আরও লেখেন, ‘আমি তাকে আমার পরিবারের কথা বলে এই মর্মে প্রস্তাব দেই যে, সমতার ভিত্তিতে স্ত্রীদের যেই অধিকার দেওয়ার বাধ্যবাধকতা ইসলামে রয়েছে, আমি সেটা দিতে পারব না। এতে যদি সে সম্মত থাকে তাহলে আমি তাকে আমার বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ করব। সে স্বেচ্ছায় প্রস্তাবে সম্মতি জানালে আমি তার কাছ থেকে সুস্পষ্ট শব্দে বিবাহের ইজিন গ্রহণ করি এবং শরীয়তের বিধান মোতাবেক আমার বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ করি।’
তিনি লেখেন, ‘২০১৯ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত ছয় বছর আমাদের বিবাহ বন্ধন টিকে ছিল। কিন্তু ২০২১ এর ঘটনার পর পরস্পর কিছু মনোমালিন্য সৃষ্টি হওয়ার প্রেক্ষিতে একপর্যায়ে আমরা আলোচনার মাধ্যমে বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি। ২০২৫ সালের মার্চ মাসে বিচ্ছেদের আগ পর্যন্ত, এমনকি আমার কারাবাসকালীন সময়েও তার ভরণপোষণসহ প্রাপ্য অধিকার আদায় করি।’
দ্বিতীয় বিয়ে ‘গোপন রাখা’ ও প্রথম স্ত্রী ‘অপ্রাপ্তবয়স্ক’ স্বীকারোক্তি
জান্নাত আরাকে বিয়ে করার বিষয়টি গোপন রাখা প্রসঙ্গে তিনি লেখেন, ‘এটা আমরা সবাই জানি, আমাদের উপমহাদেশে একাধিক বিবাহ একটা জটিল বিষয়। কারণ, পরিবার কোনোভাবেই তা মানতে চায় না। স্বাভাবিকভাবেই আমার সন্তান ও পরিবারে ওই মুহূর্তে আমি অস্থিরতা তৈরি করতে চাইনি। রাষ্ট্রীয় আইনে প্রথম স্ত্রীর অনুমতির বাধ্যবাধকতার জটিলতায় কাবিন করাটাও সমস্যাপূর্ণ ছিল। আর ইসলামেও কাবিন করা বাধ্যতামূলক নয়।’
প্রথম স্ত্রীর বয়স প্রসঙ্গে মামুনুল হক দাবি করেন, ‘আমার প্রথম বিবাহেও স্ত্রী রাষ্ট্রীয় আইনে অপ্রাপ্তবয়স্কা হওয়ায় কাবিন করিনি। তবে একাধিক বিবাহের বিষয়টি ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিবর্গ জানত। আমিই সতর্কতামূলক জানিয়ে রেখেছিলাম। রয়েল রিসোর্ট থেকে পুলিশ কর্মকর্তা এএসপি মহোদয় আমার সেই ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের মধ্য থেকে একাধিক নির্ভরযোগ্য সুপরিচিত ব্যক্তির সঙ্গে আলাপ করে আশ্বস্ত হয়েছিলেন এবং আমার পক্ষে কিছুটা ভূমিকা পালন করেছিলেন। ফলে তাকে হাসিনা সরকারের চরম নিগ্রহের শিকার হতে হয়েছে।’
রয়েল রিসোর্টে ‘প্রথম স্ত্রী’র নাম এন্ট্রি প্রসঙ্গ
ফেসবুক পোস্টে মামুনুল হক লেখেন, ‘আমার আইডি কার্ডের বিস্তারিত পরিচয়ে স্ত্রীর নাম আছে আমিনা তাইয়েবা। আর জান্নাত আরার আইডি কার্ডে তার নাম হলো শাহিদা ইসলাম এবং স্বামী হিসেবে শহিদুল ইসলামের নাম লেখা। যা তখনো পরিবর্তন করেনি। তাই আমরা দুজন কথা বলেই স্ত্রীর ঘরে আমার প্রথমার নাম বলেছিলাম।’
মামুনুল হকের দাবি, ‘আমার প্রথম স্ত্রীকে বিষয়টি যেভাবে শান্ত মাথায় বললে তার জন্য মেনে নেওয়া সহজ হতো। তবে সেটা করতে পারিনি, তাই আমি তার কাছে জান্নাত আরার সাবেক পরিচয় বলেছি। যেহেতু জান্নাত আরাকে আগে থেকে সে শহিদুল ইসলামের ওয়াইফ (স্ত্রী) হিসেবেই চিনত।’
‘রাষ্ট্র চেয়েছিল ধ্বংস, আল্লাহ আমাকে রক্ষা করেছেন’
মামুনুল হক অভিযোগ করেন, ‘নারায়ণগঞ্জে রিসোর্টকান্ডের পর জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থার (এনএসআই) তৎকালীন ডিজি মেজর জেনারেল টি এম জোবায়ের আমার সঙ্গে বসেছিলেন। আমাকে অফার করেছিলেন, আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরীর বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে। আলহামদুলিল্লাহ! আমার বুঝে এসেছিল যে, আমাকে ট্র্যাপে ফেলে আমার দ্বারা ইসলামের বড় ক্ষতি করতে চায়। আমি তাদের অফার গ্রহণ করিনি। আল্লাহ আমাকে হেফাজত করেছেন।’
তিনি লেখেন, ‘রয়েল রিসোর্ট থেকে জান্নাত আরাকে মহিলা পুলিশ নিজেদের দায়িত্বে এগিয়ে দিয়ে যায় মাওলানা নোমান কাসেমীর বাসায়। কিন্তু পরে আবার তারাই জান্নাত আরার বাবাকে ধরে ঢাকায় এনে তাকে দিয়ে জিডি করায় এবং জান্নাত আরাকে আমার বাসা থেকে তুলে নিয়ে যায়।’
‘হাফেজ শহিদুল ইসলামকে (জান্নাত আরার প্রাক্তন স্বামী) তুলে এনে আমার বিরুদ্ধে স্টেটমেন্ট দেওয়ানোর জন্য সবরকম চেষ্টা করে। তিনি জীবনের ঝুঁকি নিয়েছেন, কিন্তু তাদের কথায় সম্মত হননি। জান্নাত আরাকে ছয় মাস পর্যন্ত তাদের হেফাজতে রেখে এমন এমন ভীতি প্রদর্শন করেছে, যাতে একজন নারী তাদের কিছু কথায় সায় না দিয়ে থাকতে পারেনি। এমনকি ডিজিএফআইয়ের তত্ত্বাবধানে তাকে আদালতে হাজির করা হয় এবং ডিজিএফআইয়ের একজন নারী কর্মকর্তা কাঠগড়ায় তাকে ঘেঁষে দাঁড়িয়ে থাকে। পুরো আদালত ছিল সেদিন ডিজিএফআই এর নিয়ন্ত্রণে’, লেখেন মামুনুল হক।
তিনি আরও লেখেন, ‘তার (জান্নাত আরা) সন্তান আব্দুর রহমানকেও তারা বিভ্রান্ত করে কিছু বিকৃত বক্তব্য দেওয়ায়। পরবর্তীতে আদালতে সাক্ষী দেওয়ার সময় যখন তারা আবার আব্দুর রহমানকে ধরে আনে, তখন সে প্রায়শ্চিত্ত করে। কাঠগড়ায় দাঁড়ানোর আগ পর্যন্ত তাদের শিখিয়ে দেওয়া বুলি আওড়ায়। কিন্তু আদালত শুরু হলে কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে সে অকপটে প্রতিটি সত্য কথা বলে যেতে থাকে। ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্ট একমাত্র সাক্ষীর এমন সাক্ষের মাধ্যমে তাদের পুরো নাটক মাঠে মারা খায়।’
‘মবসন্ত্রাস ও মিথ্যাচারে’র অভিযোগ
মামুনুল হক তার ফেসবুক পোস্টে অভিযোগ করেন, ‘রাজনৈতিক কিংবা আদর্শগত মতপার্থক্যের কারণে অনেকেই ফ্যাসিস্ট হাসিনার এই নির্লজ্জ মবসন্ত্রাস ও মিথ্যাচারের ঘটনাকে পুঁজি করে আমাকে ঘায়েল করার অপপ্রয়াস চালায়। তারা মনে করে কটূক্তি বা কটাক্ষ করলেই সত্য ন্যায় ইসলাম ও দেশ জাতির পক্ষে কথা বলতে আমি কুণ্ঠিত হয়ে যাব। তাদের মনে রাখা উচিত, কুৎসা রটনা ও ঘায়েল করার ভয়াবহ অনেক পর্ব আমি আল্লাহর রহমতে পেছনে ফেলে এসেছি।’
তিনি আরও লেখেন, ‘নারায়ণগঞ্জের আদালতে এমনও দিন গিয়েছে যে, আমার পক্ষে একজন আইনজীবীকে পর্যন্ত উপস্থিত হতে দেওয়া হয়নি। অপরদিকে আওয়ামী লীগের সকল পান্ডা আইনজীবী ও প্রশাসনিক কর্মকর্তারা ডিজিএফআইয়ের নেতৃত্বে একত্রিত হয়ে আমাকে অশ্লীল গালিগালাজ করেছে, হেনস্তা করেছে। চরম অসহায় অবস্থায় আদালতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ফেলে রেখেছে।’
‘আল্লাহর মেহেরবানীতে আমি কখনো ভেঙে পড়িনি। আল্লাহর রহমতের ওপর ভরসা রেখেছি। পরবর্তীতে অবশ্য বিএনপি ও জামায়াতসহ আমাদের আইনজীবীদের বিপুল উপস্থিতিতে আওয়ামী গুন্ডাজীবীগুলো চুপসে গিয়েছিল। সেই উত্তাল সময়েও গোয়েন্দা বাহিনী চরিত্র হননের ভয় দেখিয়ে আমাকে দিয়ে ইসলামের বিপক্ষে কিংবা আল্লামা বাবুনগরীর বিপক্ষে টু শব্দ উচ্চারণ করাতে পারেনি,’ লেখেন তিনি।
ফেসবুক পোস্টের শেষে মামুনুল হক লেখেন, ‘ইসলামের এই সকল সুমহান আদর্শের অনুসরণে যে সকল কুলাঙ্গাররা ফ্যাসিস্ট হাসিনার ষড়যন্ত্রমূলক অসভ্যতা-নির্লজ্জতা-বেহায়াপনা ও রাষ্ট্রীয় মবসন্ত্রাসের পরাজিত ঘৃণ্য প্রজেক্টকে ৫০১ বলে বলে বিকৃত স্বাদ আস্বাদন করে, তাদের প্রতি আমাদের সুস্পষ্ট জবাব হলো— ৫০১ আমাদের নয়, বরং ফ্যাসিস্ট হাসিনা ও তার নির্লজ্জ দোসরদের পরাজয়ের দলিল। হাসিনার পরাজয়ের কালিমা হিসেবে ৫০১-কে আমরা আমাদের বিজয়ের প্রতীক হিসেবে গ্রহণ করলাম। আমরা এখন থেকে ৫০১-কে সেলিব্রেট করব এবং আল্লাহর খাস রহমত প্রাপ্তির আনন্দ উদযাপন করব, ইনশাআল্লাহ।’

নারায়ণগঞ্জের রয়েল রিসোর্টে ২০২১ সালের ৩ এপ্রিল ঘটে যাওয়া বহুল আলোচিত ‘রিসোর্টকাণ্ড’ নিয়ে দীর্ঘ ব্যাখ্যা দিয়েছেন ইসলামি বক্তা ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক। তিনি এ ঘটনাকে ‘শেখ হাসিনার ষড়যন্ত্র’ এবং ‘ব্যর্থ প্রজেক্ট’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন করেছেন।
আজ শনিবার (২০ জুন) ফেসবুক পেজে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি দাবি করেন, ‘ঘটনাটি কোনো স্বাভাবিক পুলিশি অভিযান ছিল না, বরং আগে থেকে পরিকল্পিতভাবে তৈরি করা পরিস্থিতি, যেখানে তাকে সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে হেয় করার উদ্দেশ্য ছিল।’
মামুনুল হক বলেন, সেদিন তিনি তার স্ত্রী জান্নাত আরা ঝর্ণাকে সঙ্গে নিয়ে নারায়ণগঞ্জের রয়েল রিসোর্টের ৫০১ নম্বর কক্ষে অবস্থান করছিলেন। তার ভাষ্য, হঠাৎ করে পুলিশের নেতৃত্বে স্থানীয় রাজনৈতিক কর্মী, সাংবাদিক এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যসহ শতাধিক মানুষ কক্ষে প্রবেশ করে পরিস্থিতি অস্বাভাবিক করে তোলেন। তিনি দাবি করেন, ঘটনার সময় একাধিক টেলিভিশন চ্যানেল সরাসরি লাইভ সম্প্রচার শুরু করে।
ঘটনাস্থলের বর্ণনায় তিনি বলেন, রুমে প্রবেশের পর তাদের বিভিন্নভাবে হেনস্তা করা হয় এবং পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছে যায় যে, তিনি তার স্ত্রীকে (জান্নাত আরা) ওয়াশরুমে আটকে দিতে বাধ্য হন। পরে নারী পুলিশের একটি দল সেখানে প্রবেশ করে তারাও সেখান থেকে লাইভ সম্প্রচার করতে থাকে বলে দাবি করেন তিনি।
মামুনুল হক লেখেন, ‘উপর্যুপরি তাদের জিজ্ঞাসাবাদে আমি এবং আমার স্ত্রী আমরা উভয়েই স্পষ্ট ভাষায় আমাদের বৈবাহিক সম্পর্ক এবং আমরা স্বামী-স্ত্রী হিসেবে সেখানে অবস্থান করার বিষয়টি ব্যক্ত করি এবং সেটি সকল সংবাদে একযোগে প্রচার হতে থাকে।’
তিনি উল্লেখ করেন, ‘শুরুতেই পুলিশ কর্মকর্তা আমার হাত থেকে মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। পরে অ্যাডিশনাল এসপি আসার পর তিনি আমাদের তথ্য যাচাইয়ের জন্য ফোনে আমার পরিচিতজনদের সঙ্গে কথা বলে আশ্বস্ত হয়ে আমাদেরকে নিরাপদে বাইরে নিয়ে আসতে চান। কিন্তু ততক্ষণে সেখানে উপস্থিত হন গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএফআইর একাধিক কর্মকর্তা। তারা আমাদেরকে থানায় নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন।’
‘আমরা তাদের সঙ্গে রুম থেকে বের হয়ে লবিতে নেমে দেখি হুলস্থুল কাণ্ড। হাজার হাজার প্রতিবাদী মানুষ সেখানে ঢুকে পড়েছে। উপস্থিত পুলিশগুলো প্রাণ ভয়ে আমাকে জড়িয়ে ধরে তাদেরকে রক্ষা করার আবদার জানাতে থাকে। আমি পুলিশ কর্মকর্তার কাছ থেকে আমার মোবাইল ফেরত নিয়ে লাইভে কিছু বক্তব্য দেয়ার চেষ্টা করি। কিন্তু দেখি প্রযুক্তির সাহায্যে আমার ফেসবুক আইডির লাইভ অপশন বন্ধ করে রাখা হয়েছে। তখন আমি বিক্ষুব্ধ জনতার সামনে গিয়ে তাদেরকে নিবৃত্ত করি এবং পুলিশদেরকে রক্ষা করার ব্যবস্থা করি,’ দাবি করেন মামুনুল হক।
জান্নাত আরাকে দ্বিতীয় বিয়ে ও বিচ্ছেদ প্রসঙ্গ
নারায়ণগঞ্জের রয়েল রিসোর্টে মামুনুল হকের সঙ্গে থাকা নারী জান্নাত আরার সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে দীর্ঘ ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, এটি ছিল তার দ্বিতীয় বিয়ে এবং শরিয়তসম্মতভাবে সম্পন্ন একটি বৈধ বিবাহ। তিনি লেখেন, ‘জান্নাত আরা ইতোপূর্বে আমার ঘনিষ্ঠ সহকর্মী হাফেজ শহিদুল ইসলামের স্ত্রী ছিল এবং আঃ রহমান জামি ও ওবায়দুর রহমান তামিম নামে তাদের দুজন সন্তান রয়েছে। বনিবনা না হওয়ায় তারা উভয়ে স্বেচ্ছায় বিচ্ছেদ ঘটায়। একসময় জান্নাত আরা স্বপ্রণোদিত হয়ে ফোনে আমার সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করে এবং আমার সহযোগিতা কামনা করে।’
মামুনুল হক আরও লেখেন, ‘আমি তাকে আমার পরিবারের কথা বলে এই মর্মে প্রস্তাব দেই যে, সমতার ভিত্তিতে স্ত্রীদের যেই অধিকার দেওয়ার বাধ্যবাধকতা ইসলামে রয়েছে, আমি সেটা দিতে পারব না। এতে যদি সে সম্মত থাকে তাহলে আমি তাকে আমার বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ করব। সে স্বেচ্ছায় প্রস্তাবে সম্মতি জানালে আমি তার কাছ থেকে সুস্পষ্ট শব্দে বিবাহের ইজিন গ্রহণ করি এবং শরীয়তের বিধান মোতাবেক আমার বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ করি।’
তিনি লেখেন, ‘২০১৯ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত ছয় বছর আমাদের বিবাহ বন্ধন টিকে ছিল। কিন্তু ২০২১ এর ঘটনার পর পরস্পর কিছু মনোমালিন্য সৃষ্টি হওয়ার প্রেক্ষিতে একপর্যায়ে আমরা আলোচনার মাধ্যমে বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি। ২০২৫ সালের মার্চ মাসে বিচ্ছেদের আগ পর্যন্ত, এমনকি আমার কারাবাসকালীন সময়েও তার ভরণপোষণসহ প্রাপ্য অধিকার আদায় করি।’
দ্বিতীয় বিয়ে ‘গোপন রাখা’ ও প্রথম স্ত্রী ‘অপ্রাপ্তবয়স্ক’ স্বীকারোক্তি
জান্নাত আরাকে বিয়ে করার বিষয়টি গোপন রাখা প্রসঙ্গে তিনি লেখেন, ‘এটা আমরা সবাই জানি, আমাদের উপমহাদেশে একাধিক বিবাহ একটা জটিল বিষয়। কারণ, পরিবার কোনোভাবেই তা মানতে চায় না। স্বাভাবিকভাবেই আমার সন্তান ও পরিবারে ওই মুহূর্তে আমি অস্থিরতা তৈরি করতে চাইনি। রাষ্ট্রীয় আইনে প্রথম স্ত্রীর অনুমতির বাধ্যবাধকতার জটিলতায় কাবিন করাটাও সমস্যাপূর্ণ ছিল। আর ইসলামেও কাবিন করা বাধ্যতামূলক নয়।’
প্রথম স্ত্রীর বয়স প্রসঙ্গে মামুনুল হক দাবি করেন, ‘আমার প্রথম বিবাহেও স্ত্রী রাষ্ট্রীয় আইনে অপ্রাপ্তবয়স্কা হওয়ায় কাবিন করিনি। তবে একাধিক বিবাহের বিষয়টি ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিবর্গ জানত। আমিই সতর্কতামূলক জানিয়ে রেখেছিলাম। রয়েল রিসোর্ট থেকে পুলিশ কর্মকর্তা এএসপি মহোদয় আমার সেই ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের মধ্য থেকে একাধিক নির্ভরযোগ্য সুপরিচিত ব্যক্তির সঙ্গে আলাপ করে আশ্বস্ত হয়েছিলেন এবং আমার পক্ষে কিছুটা ভূমিকা পালন করেছিলেন। ফলে তাকে হাসিনা সরকারের চরম নিগ্রহের শিকার হতে হয়েছে।’
রয়েল রিসোর্টে ‘প্রথম স্ত্রী’র নাম এন্ট্রি প্রসঙ্গ
ফেসবুক পোস্টে মামুনুল হক লেখেন, ‘আমার আইডি কার্ডের বিস্তারিত পরিচয়ে স্ত্রীর নাম আছে আমিনা তাইয়েবা। আর জান্নাত আরার আইডি কার্ডে তার নাম হলো শাহিদা ইসলাম এবং স্বামী হিসেবে শহিদুল ইসলামের নাম লেখা। যা তখনো পরিবর্তন করেনি। তাই আমরা দুজন কথা বলেই স্ত্রীর ঘরে আমার প্রথমার নাম বলেছিলাম।’
মামুনুল হকের দাবি, ‘আমার প্রথম স্ত্রীকে বিষয়টি যেভাবে শান্ত মাথায় বললে তার জন্য মেনে নেওয়া সহজ হতো। তবে সেটা করতে পারিনি, তাই আমি তার কাছে জান্নাত আরার সাবেক পরিচয় বলেছি। যেহেতু জান্নাত আরাকে আগে থেকে সে শহিদুল ইসলামের ওয়াইফ (স্ত্রী) হিসেবেই চিনত।’
‘রাষ্ট্র চেয়েছিল ধ্বংস, আল্লাহ আমাকে রক্ষা করেছেন’
মামুনুল হক অভিযোগ করেন, ‘নারায়ণগঞ্জে রিসোর্টকান্ডের পর জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থার (এনএসআই) তৎকালীন ডিজি মেজর জেনারেল টি এম জোবায়ের আমার সঙ্গে বসেছিলেন। আমাকে অফার করেছিলেন, আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরীর বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে। আলহামদুলিল্লাহ! আমার বুঝে এসেছিল যে, আমাকে ট্র্যাপে ফেলে আমার দ্বারা ইসলামের বড় ক্ষতি করতে চায়। আমি তাদের অফার গ্রহণ করিনি। আল্লাহ আমাকে হেফাজত করেছেন।’
তিনি লেখেন, ‘রয়েল রিসোর্ট থেকে জান্নাত আরাকে মহিলা পুলিশ নিজেদের দায়িত্বে এগিয়ে দিয়ে যায় মাওলানা নোমান কাসেমীর বাসায়। কিন্তু পরে আবার তারাই জান্নাত আরার বাবাকে ধরে ঢাকায় এনে তাকে দিয়ে জিডি করায় এবং জান্নাত আরাকে আমার বাসা থেকে তুলে নিয়ে যায়।’
‘হাফেজ শহিদুল ইসলামকে (জান্নাত আরার প্রাক্তন স্বামী) তুলে এনে আমার বিরুদ্ধে স্টেটমেন্ট দেওয়ানোর জন্য সবরকম চেষ্টা করে। তিনি জীবনের ঝুঁকি নিয়েছেন, কিন্তু তাদের কথায় সম্মত হননি। জান্নাত আরাকে ছয় মাস পর্যন্ত তাদের হেফাজতে রেখে এমন এমন ভীতি প্রদর্শন করেছে, যাতে একজন নারী তাদের কিছু কথায় সায় না দিয়ে থাকতে পারেনি। এমনকি ডিজিএফআইয়ের তত্ত্বাবধানে তাকে আদালতে হাজির করা হয় এবং ডিজিএফআইয়ের একজন নারী কর্মকর্তা কাঠগড়ায় তাকে ঘেঁষে দাঁড়িয়ে থাকে। পুরো আদালত ছিল সেদিন ডিজিএফআই এর নিয়ন্ত্রণে’, লেখেন মামুনুল হক।
তিনি আরও লেখেন, ‘তার (জান্নাত আরা) সন্তান আব্দুর রহমানকেও তারা বিভ্রান্ত করে কিছু বিকৃত বক্তব্য দেওয়ায়। পরবর্তীতে আদালতে সাক্ষী দেওয়ার সময় যখন তারা আবার আব্দুর রহমানকে ধরে আনে, তখন সে প্রায়শ্চিত্ত করে। কাঠগড়ায় দাঁড়ানোর আগ পর্যন্ত তাদের শিখিয়ে দেওয়া বুলি আওড়ায়। কিন্তু আদালত শুরু হলে কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে সে অকপটে প্রতিটি সত্য কথা বলে যেতে থাকে। ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্ট একমাত্র সাক্ষীর এমন সাক্ষের মাধ্যমে তাদের পুরো নাটক মাঠে মারা খায়।’
‘মবসন্ত্রাস ও মিথ্যাচারে’র অভিযোগ
মামুনুল হক তার ফেসবুক পোস্টে অভিযোগ করেন, ‘রাজনৈতিক কিংবা আদর্শগত মতপার্থক্যের কারণে অনেকেই ফ্যাসিস্ট হাসিনার এই নির্লজ্জ মবসন্ত্রাস ও মিথ্যাচারের ঘটনাকে পুঁজি করে আমাকে ঘায়েল করার অপপ্রয়াস চালায়। তারা মনে করে কটূক্তি বা কটাক্ষ করলেই সত্য ন্যায় ইসলাম ও দেশ জাতির পক্ষে কথা বলতে আমি কুণ্ঠিত হয়ে যাব। তাদের মনে রাখা উচিত, কুৎসা রটনা ও ঘায়েল করার ভয়াবহ অনেক পর্ব আমি আল্লাহর রহমতে পেছনে ফেলে এসেছি।’
তিনি আরও লেখেন, ‘নারায়ণগঞ্জের আদালতে এমনও দিন গিয়েছে যে, আমার পক্ষে একজন আইনজীবীকে পর্যন্ত উপস্থিত হতে দেওয়া হয়নি। অপরদিকে আওয়ামী লীগের সকল পান্ডা আইনজীবী ও প্রশাসনিক কর্মকর্তারা ডিজিএফআইয়ের নেতৃত্বে একত্রিত হয়ে আমাকে অশ্লীল গালিগালাজ করেছে, হেনস্তা করেছে। চরম অসহায় অবস্থায় আদালতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ফেলে রেখেছে।’
‘আল্লাহর মেহেরবানীতে আমি কখনো ভেঙে পড়িনি। আল্লাহর রহমতের ওপর ভরসা রেখেছি। পরবর্তীতে অবশ্য বিএনপি ও জামায়াতসহ আমাদের আইনজীবীদের বিপুল উপস্থিতিতে আওয়ামী গুন্ডাজীবীগুলো চুপসে গিয়েছিল। সেই উত্তাল সময়েও গোয়েন্দা বাহিনী চরিত্র হননের ভয় দেখিয়ে আমাকে দিয়ে ইসলামের বিপক্ষে কিংবা আল্লামা বাবুনগরীর বিপক্ষে টু শব্দ উচ্চারণ করাতে পারেনি,’ লেখেন তিনি।
ফেসবুক পোস্টের শেষে মামুনুল হক লেখেন, ‘ইসলামের এই সকল সুমহান আদর্শের অনুসরণে যে সকল কুলাঙ্গাররা ফ্যাসিস্ট হাসিনার ষড়যন্ত্রমূলক অসভ্যতা-নির্লজ্জতা-বেহায়াপনা ও রাষ্ট্রীয় মবসন্ত্রাসের পরাজিত ঘৃণ্য প্রজেক্টকে ৫০১ বলে বলে বিকৃত স্বাদ আস্বাদন করে, তাদের প্রতি আমাদের সুস্পষ্ট জবাব হলো— ৫০১ আমাদের নয়, বরং ফ্যাসিস্ট হাসিনা ও তার নির্লজ্জ দোসরদের পরাজয়ের দলিল। হাসিনার পরাজয়ের কালিমা হিসেবে ৫০১-কে আমরা আমাদের বিজয়ের প্রতীক হিসেবে গ্রহণ করলাম। আমরা এখন থেকে ৫০১-কে সেলিব্রেট করব এবং আল্লাহর খাস রহমত প্রাপ্তির আনন্দ উদযাপন করব, ইনশাআল্লাহ।’

সাংবাদিকদের সঙ্গে এ মতবিনিময় সভায় দেশের সমসাময়িক রাজনৈতিক পরিস্থিতি, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং সরকারের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনাসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। তবে অনুষ্ঠান শেষে বিশ্বকাপ ফুটবল নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সংক্ষিপ্ত মন্তব্য সাংবাদিকদের মধ্যে বেশ আগ্রহ ও হাস্যরসের জন্ম দেয়।
৪ দিন আগে
বিএনপির মহাসচিব বলেন, দুর্ভিক্ষপীড়িত একটি রাষ্ট্রকে টেনে তুলেছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। দেশে স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং গণতন্ত্রকে নিজস্ব প্রক্রিয়ায় চলতে দেওয়ার লক্ষ্য ছিল তার। তিনি আরও ১০ বছর বেঁচে থাকলে আজকে বাংলাদেশ একটি অনন্য দেশ হিসেবে গড়ে উঠতো এবং সমাজে এতো নেতিবাচকতা তৈরি হতো না
৬ দিন আগে
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার বাজেটের মাধ্যমে জনগণকে স্বস্তি দিতে চাইলেও বিরোধীদল তা মানছে না; তবে ভোটের কালি শুকানোর আগেই সরকার নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন শুরু করেছে।
৭ দিন আগে
প্রস্তাবিত এ বাজেট নিয়ে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় দলটি বলছে, বজেটের আকার বড় দেখানোর জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা প্রাক্কলন করা হয়েছে। এই বিশালাকৃতির বাজেট অবাস্তব এবং কোনোভাবেই অর্জনযোগ্য নয়।
৯ দিন আগে