
প্রতিবেদক, রাজনীতি ডটকম

প্রখ্যাত রাজনৈতিক চিন্তাবিদ ও স্বাধীনতার অন্যতম সংগঠক সিরাজুল আলম খানের তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি) আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বক্তারা রাষ্ট্র সংস্কার ও অংশীদারিত্বমূলক গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।
মঙ্গলবার (৯ জুন) জাতীয় প্রেস ক্লাবের আবদুস সালাম মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন জেএসডির সিনিয়র সহসভাপতি তানিয়া রব। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন গীতিকবি ও রাজনৈতিক চিন্তাবিদ শহীদুল্লাহ ফরায়জী।
সভায় বক্তব্য রাখেন জেএসডির সাধারণ সম্পাদক শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন, অ্যাড. হাসনাত কাইয়ুম, সোহরাব হাসান, ডা. হেলালুজ্জামান, জেএসডি স্থায়ী কমিটির সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ সিরাজ মিয়া, মোহাম্মদ তৌহিদ হোসেন, অ্যাড. কে এম জাবির প্রমুখ।
জেএসডির সাধারণ সম্পাদক শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন বলেন, ‘সিরাজুল আলম খান অংশীদারিত্বের ধারণাকে কখনোই কেবল নির্বাচনি প্রতিনিধিত্বের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখেননি। তার রাজনৈতিক দর্শনে রাষ্ট্র পরিচালনা মানে কেবল রাজনৈতিক দলের একচেটিয়া কর্তৃত্ব নয়; বরং সমাজের জ্ঞানভিত্তিক, উৎপাদনশীল ও সৃজনশীল শক্তিসমূহের সক্রিয় অংশগ্রহণ।’
তিনি আরও বলেন, ‘শিক্ষক, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, কৃষিবিদ, আইনজীবী, সাংবাদিক, প্রযুক্তিবিদ, সংস্কৃতিকর্মী, উদ্যোক্তা, শ্রমজীবী মানুষ এবং স্থানীয় অভিজ্ঞতাসম্পন্ন নাগরিকসমাজ— সকলের সম্মিলিত অংশগ্রহণের মাধ্যমেই রাষ্ট্রের নৈতিক ভিত্তি সুদৃঢ় হতে পারে।’
জেএসডির সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘জনগণ কেবল ভোটার নয়; তারা তাদের জ্ঞান, শ্রম, অভিজ্ঞতা ও পেশাগত দক্ষতার মাধ্যমে রাষ্ট্রজীবনের সক্রিয় নির্মাতা। সেই অর্থে প্রকৃত গণতন্ত্র কেবল প্রতিনিধিত্বমূলক নয়, বরং অংশগ্রহণমূলক ও অংশীদারিত্বভিত্তিক।’
রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সভাপতি অ্যাডভোকেট হাসনাত কাইয়ুম বলেন, জনগণ বারবার রক্ত ও ত্যাগের মাধ্যমে ক্ষমতার পরিবর্তন ঘটালেও তাদের প্রত্যাশিত রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হয় না। এ বাস্তবতা থেকে উত্তরণের জন্য রাষ্ট্র সংস্কার অপরিহার্য। তিনি বলেন, গণঅভ্যুত্থানের অর্জন যেন পুনরায় বেহাত না হয়, সে জন্য রাজনৈতিক বিভাজন ও দ্বন্দ্ব নিরসনের কার্যকর পথ অনুসন্ধান করতে হবে।
জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও কবি সোহরাব হাসান বলেন, স্বাধীনতার পরপরই সিরাজুল আলম খান রাষ্ট্র রূপান্তরের বিভিন্ন প্রস্তাব বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কাছে উত্থাপন করেছিলেন। সেসব প্রস্তাব উপেক্ষিত হওয়ায় তিনি বিকল্প রাজনৈতিক দর্শনের ভিত্তিতে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল গঠন করেন। তিনি প্রথাগত প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্রের সীমাবদ্ধতার বিপরীতে অংশীদারিত্বমূলক গণতন্ত্রের ধারণা উপস্থাপন করেন, যেখানে রাষ্ট্রের মালিকানায় সমাজের সকল স্তরের মানুষের কার্যকর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত হবে।
সোহরাব হাসান আরও বলেন, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে প্রতিটি নাগরিকের মর্যাদা, অধিকার ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা আবশ্যক। পেশাজীবী সংগঠক ডা. হেলালুজ্জামান আহমেদ বলেন, সংগ্রাম লড়াই এবং গণঅভ্যুত্থানে জড়িত অংশীজনদের ক্ষমতার অংশীদারিত্ব না দিলে গণআকাঙ্ক্ষা পূরণ করা সম্ভব নয়।
মূল প্রবন্ধে গীতিকবি ও রাষ্ট্রচিন্তক শহীদুল্লাহ ফরায়জী বলেন, সিরাজুল আলম খানের রাজনৈতিক চিন্তার অন্যতম মৌলিক বৈশিষ্ট্য ছিল রাজনীতিকে কেবল নির্বাচন, দল কিংবা রাষ্ট্রক্ষমতা দখলের প্রশ্ন হিসেবে না দেখে সমাজের সংগঠিত শক্তিগুলোর জাগরণ ও অংশগ্রহণের প্রশ্ন হিসেবে দেখা। তার দৃষ্টিতে রাজনৈতিক দল গুরুত্বপূর্ণ হলেও সমাজের ঊর্ধ্বে নয়। সংগঠিত শিক্ষকসমাজ, পেশাজীবী, কৃষক, শ্রমজীবী মানুষ, তরুণ প্রজন্ম এবং সাংস্কৃতিক ও জ্ঞানভিত্তিক সমাজশক্তির সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়া গণতন্ত্র কেবল আনুষ্ঠানিক কাঠামোতে সীমাবদ্ধ থেকে যায়।
সভাপতির বক্তব্যে তানিয়া রব বলেন, রাষ্ট্র সংস্কার ও গণতান্ত্রিক রূপান্তরের লক্ষ্যে জেএসডি দীর্ঘদিন ধরে ধারাবাহিক সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে। গণভোট জনগণের সার্বভৌম ক্ষমতার প্রত্যক্ষ প্রকাশ হলেও শাসকগোষ্ঠী তা উপেক্ষা করছে। জনগণের অধিকার, মর্যাদা ও মুক্তির সংগ্রামকে এগিয়ে নিতে ঐক্যবদ্ধ গণআন্দোলন অব্যাহত রাখতে হবে।
আলোচনা সভা শেষে উপস্থিত নেতাকর্মীরা সিরাজুল আলম খানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং তার আদর্শ বাস্তবায়নের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। অনুষ্ঠানটি যৌথভাবে সঞ্চালনা করেন জেএসডির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম সামছুল আলম নিক্সন ও সহদপ্তর সম্পাদক ফারহান হাবীব।

প্রখ্যাত রাজনৈতিক চিন্তাবিদ ও স্বাধীনতার অন্যতম সংগঠক সিরাজুল আলম খানের তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি) আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বক্তারা রাষ্ট্র সংস্কার ও অংশীদারিত্বমূলক গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।
মঙ্গলবার (৯ জুন) জাতীয় প্রেস ক্লাবের আবদুস সালাম মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন জেএসডির সিনিয়র সহসভাপতি তানিয়া রব। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন গীতিকবি ও রাজনৈতিক চিন্তাবিদ শহীদুল্লাহ ফরায়জী।
সভায় বক্তব্য রাখেন জেএসডির সাধারণ সম্পাদক শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন, অ্যাড. হাসনাত কাইয়ুম, সোহরাব হাসান, ডা. হেলালুজ্জামান, জেএসডি স্থায়ী কমিটির সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ সিরাজ মিয়া, মোহাম্মদ তৌহিদ হোসেন, অ্যাড. কে এম জাবির প্রমুখ।
জেএসডির সাধারণ সম্পাদক শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন বলেন, ‘সিরাজুল আলম খান অংশীদারিত্বের ধারণাকে কখনোই কেবল নির্বাচনি প্রতিনিধিত্বের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখেননি। তার রাজনৈতিক দর্শনে রাষ্ট্র পরিচালনা মানে কেবল রাজনৈতিক দলের একচেটিয়া কর্তৃত্ব নয়; বরং সমাজের জ্ঞানভিত্তিক, উৎপাদনশীল ও সৃজনশীল শক্তিসমূহের সক্রিয় অংশগ্রহণ।’
তিনি আরও বলেন, ‘শিক্ষক, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, কৃষিবিদ, আইনজীবী, সাংবাদিক, প্রযুক্তিবিদ, সংস্কৃতিকর্মী, উদ্যোক্তা, শ্রমজীবী মানুষ এবং স্থানীয় অভিজ্ঞতাসম্পন্ন নাগরিকসমাজ— সকলের সম্মিলিত অংশগ্রহণের মাধ্যমেই রাষ্ট্রের নৈতিক ভিত্তি সুদৃঢ় হতে পারে।’
জেএসডির সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘জনগণ কেবল ভোটার নয়; তারা তাদের জ্ঞান, শ্রম, অভিজ্ঞতা ও পেশাগত দক্ষতার মাধ্যমে রাষ্ট্রজীবনের সক্রিয় নির্মাতা। সেই অর্থে প্রকৃত গণতন্ত্র কেবল প্রতিনিধিত্বমূলক নয়, বরং অংশগ্রহণমূলক ও অংশীদারিত্বভিত্তিক।’
রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সভাপতি অ্যাডভোকেট হাসনাত কাইয়ুম বলেন, জনগণ বারবার রক্ত ও ত্যাগের মাধ্যমে ক্ষমতার পরিবর্তন ঘটালেও তাদের প্রত্যাশিত রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হয় না। এ বাস্তবতা থেকে উত্তরণের জন্য রাষ্ট্র সংস্কার অপরিহার্য। তিনি বলেন, গণঅভ্যুত্থানের অর্জন যেন পুনরায় বেহাত না হয়, সে জন্য রাজনৈতিক বিভাজন ও দ্বন্দ্ব নিরসনের কার্যকর পথ অনুসন্ধান করতে হবে।
জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও কবি সোহরাব হাসান বলেন, স্বাধীনতার পরপরই সিরাজুল আলম খান রাষ্ট্র রূপান্তরের বিভিন্ন প্রস্তাব বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কাছে উত্থাপন করেছিলেন। সেসব প্রস্তাব উপেক্ষিত হওয়ায় তিনি বিকল্প রাজনৈতিক দর্শনের ভিত্তিতে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল গঠন করেন। তিনি প্রথাগত প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্রের সীমাবদ্ধতার বিপরীতে অংশীদারিত্বমূলক গণতন্ত্রের ধারণা উপস্থাপন করেন, যেখানে রাষ্ট্রের মালিকানায় সমাজের সকল স্তরের মানুষের কার্যকর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত হবে।
সোহরাব হাসান আরও বলেন, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে প্রতিটি নাগরিকের মর্যাদা, অধিকার ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা আবশ্যক। পেশাজীবী সংগঠক ডা. হেলালুজ্জামান আহমেদ বলেন, সংগ্রাম লড়াই এবং গণঅভ্যুত্থানে জড়িত অংশীজনদের ক্ষমতার অংশীদারিত্ব না দিলে গণআকাঙ্ক্ষা পূরণ করা সম্ভব নয়।
মূল প্রবন্ধে গীতিকবি ও রাষ্ট্রচিন্তক শহীদুল্লাহ ফরায়জী বলেন, সিরাজুল আলম খানের রাজনৈতিক চিন্তার অন্যতম মৌলিক বৈশিষ্ট্য ছিল রাজনীতিকে কেবল নির্বাচন, দল কিংবা রাষ্ট্রক্ষমতা দখলের প্রশ্ন হিসেবে না দেখে সমাজের সংগঠিত শক্তিগুলোর জাগরণ ও অংশগ্রহণের প্রশ্ন হিসেবে দেখা। তার দৃষ্টিতে রাজনৈতিক দল গুরুত্বপূর্ণ হলেও সমাজের ঊর্ধ্বে নয়। সংগঠিত শিক্ষকসমাজ, পেশাজীবী, কৃষক, শ্রমজীবী মানুষ, তরুণ প্রজন্ম এবং সাংস্কৃতিক ও জ্ঞানভিত্তিক সমাজশক্তির সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়া গণতন্ত্র কেবল আনুষ্ঠানিক কাঠামোতে সীমাবদ্ধ থেকে যায়।
সভাপতির বক্তব্যে তানিয়া রব বলেন, রাষ্ট্র সংস্কার ও গণতান্ত্রিক রূপান্তরের লক্ষ্যে জেএসডি দীর্ঘদিন ধরে ধারাবাহিক সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে। গণভোট জনগণের সার্বভৌম ক্ষমতার প্রত্যক্ষ প্রকাশ হলেও শাসকগোষ্ঠী তা উপেক্ষা করছে। জনগণের অধিকার, মর্যাদা ও মুক্তির সংগ্রামকে এগিয়ে নিতে ঐক্যবদ্ধ গণআন্দোলন অব্যাহত রাখতে হবে।
আলোচনা সভা শেষে উপস্থিত নেতাকর্মীরা সিরাজুল আলম খানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং তার আদর্শ বাস্তবায়নের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। অনুষ্ঠানটি যৌথভাবে সঞ্চালনা করেন জেএসডির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম সামছুল আলম নিক্সন ও সহদপ্তর সম্পাদক ফারহান হাবীব।

সাংবাদিকদের সঙ্গে এ মতবিনিময় সভায় দেশের সমসাময়িক রাজনৈতিক পরিস্থিতি, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং সরকারের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনাসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। তবে অনুষ্ঠান শেষে বিশ্বকাপ ফুটবল নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সংক্ষিপ্ত মন্তব্য সাংবাদিকদের মধ্যে বেশ আগ্রহ ও হাস্যরসের জন্ম দেয়।
৪ দিন আগে
বিএনপির মহাসচিব বলেন, দুর্ভিক্ষপীড়িত একটি রাষ্ট্রকে টেনে তুলেছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। দেশে স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং গণতন্ত্রকে নিজস্ব প্রক্রিয়ায় চলতে দেওয়ার লক্ষ্য ছিল তার। তিনি আরও ১০ বছর বেঁচে থাকলে আজকে বাংলাদেশ একটি অনন্য দেশ হিসেবে গড়ে উঠতো এবং সমাজে এতো নেতিবাচকতা তৈরি হতো না
৬ দিন আগে
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার বাজেটের মাধ্যমে জনগণকে স্বস্তি দিতে চাইলেও বিরোধীদল তা মানছে না; তবে ভোটের কালি শুকানোর আগেই সরকার নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন শুরু করেছে।
৭ দিন আগে
প্রস্তাবিত এ বাজেট নিয়ে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় দলটি বলছে, বজেটের আকার বড় দেখানোর জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা প্রাক্কলন করা হয়েছে। এই বিশালাকৃতির বাজেট অবাস্তব এবং কোনোভাবেই অর্জনযোগ্য নয়।
৯ দিন আগে