ভোট ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের রাজসাক্ষী সাবেক উপদেষ্টা রিজওয়ানা— দাবি জামায়াতের

প্রতিবেদক, রাজনীতি ডটকম
আপডেট : ০৫ মার্চ ২০২৬, ১৮: ০৮

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের যে অভিযোগ করেছিল জামায়াতে ইসলামী, তার রাজসাক্ষী অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলে মন্তব্য করেছেন নায়েবে আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের।

আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এমন মন্তব্য করেন তিনি।

আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, ‘১২ ফেব্রুয়ারি যে নির্বাচন, সেটি বাহ্যিকভাবে মোটামুটি এক্সেপ্টেবল (গ্রহণযোগ্য) একটা নির্বাচন। কিন্তু সময় যেতে যেতেই সেদিন সন্ধ্যা থেকে খবর আসছিল যে নানা জায়গায় কেন্দ্র দখল হয়েছে, জাল ভোট দেওয়া হয়েছে। ব্যাপক অনিয়মের খবর আমাদের কাছে আসছিল। প্রায় ৫৩টি আসনে এমন অনিয়মের অভিযোগ জামায়াতে ইসলামী দাখিল করেছে। কিন্তু গতকাল আমরা একটা রাজসাক্ষী পেয়েছি। সেই রাজসাক্ষীর নাম হচ্ছে সাবেক উপদেষ্টা রিজওয়ানা।’

আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের আরও বলেন, ‘তিনি (রিজওয়ানা হাসান) একজন সাংবাদিকের সঙ্গে কথা বলে এটা প্রকাশ করেছেন। তাঁর ভাষায়, আমরা যারা তার নারীদের উপযুক্ত অধিকারকে নিশ্চিত করতে পারি নাই, তারা বিরোধী দলে থাকলেও আমরা কিন্তু তাদের মূলধারা বা প্রধান শক্তি হিসেবে আসতে দিই নাই। তাহলে বোঝা যায়, ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের যে কথা আসছিল বা আসছে, সেটাকে উনি নিজেই স্বীকার করে রাজসাক্ষী হয়েছেন।’

জামায়াতের নায়েবে আমির বলেন, ‘আমরা এখন তাঁর (রিজওয়ানা হাসান) কাছে, তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকার এবং বর্তমান সরকারের কাছে জানতে চাই, কাদের যোগসাজশে, কীভাবে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে মূলধারা বা প্রধান দল হিসেবে মেজরিটি পেতে তারা বাধাগ্রস্ত করেছে এবং সেটা হতে দেয় নাই? এবং আমরা এটাও জানতে চাই—মাননীয় সাবেক উপদেষ্টার কাছে, ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে উনার সঙ্গে আর কারা কারা জড়িত ছিল?’

সরকারের উদ্দেশে সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, ‘আমি এই সরকারের কাছে দাবি জানাব—রিজওয়ানা হাসানকে তারা কীভাবে জিজ্ঞাসাবাদের আওতায় আনবেন এবং আওতায় এনে তার কাছ থেকে পরিষ্কার যে সিচুয়েশন তিনি তৈরি করেছিলেন সে সম্পর্কে উনারা জানবেন, আমাদের জানাবেন, দেশবাসীর কাছেও এটা পরিষ্কার করবেন।’

নির্বাচনে ‘ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের’ অভিযোগ তুলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানকে বর্তমান মন্ত্রীসভা থেকে বের করে দিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের আওতায় আনার দাবি জানান জামায়াতের নায়েবে আমির। নির্বাচনের আগেও জামায়াত কয়েকজন উপদেষ্টার ব্যাপারে অভিযোগ জানিয়েছে উল্লেখ করে সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, ‘একটি নীতিগত কথা ছিল যে, অন্তর্বর্তী সরকারে যারা দায়িত্বে থাকছেন উপদেষ্টা হিসেবে, তারা কোন দলীয় সরকারে অংশগ্রহণ করবেন না, কোন মন্ত্রিত্ব গ্রহণ করবেন না। কিন্তু শুরু থেকেই আমরা একজন ব্যক্তিকে দেখলাম—অন্তর্বর্তী সরকারে যিনি নিরাপত্তা উপদেষ্টা ছিলেন—খলিলুর রহমান সাহেব প্রথম দিনেই পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করছেন। তিনি তাঁর আগের শপথের পরিপন্থী কাজ করেছেন।’

তাহের যোগ করেন, ‘এটা স্পষ্ট যে খলিলুর রহমান ছিল লন্ডন কনস্পিরেসির প্রধান এবং সেখান থেকে তিনি সরকারকে মোটিভেট করে, ষড়যন্ত্র করে, বর্তমান যারা সরকারে আছেন তাদের সুবিধা দেওয়ার জন্যই উনি অব্যাহতভাবে কাজ করেছিলেন। তাঁর সেই কাজের পুরস্কার হিসেবেই উনি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই রিওয়ার্ড উনি পেয়েছেন। এতে আমি বিস্মিত হয়েছি বিএনপির ব্যাপারেও। কারণ, বিএনপিকে এতই তাঁর লোকজনের সংকট আছে যে, একজন বিতর্কিত ব্যক্তিকে নিয়োগ দিয়েছে। তিনি ইন্টেরিম গভর্মেন্টে থাকার সময়ে বিএনপির নেতা সালাউদ্দিন সাহেবই তাঁর বিরুদ্ধে বক্তব্য রেখেছিলেন। এবং তাকে সরকারের থেকে বের করে দিতে বলেছিলেন।’

বিরোধী দোলীয় উপনেতা বলেন, ‘যে লোকটা বিএনপির দৃষ্টিতে তখন খারাপ ছিল, সালাউদ্দিন সাহেবের বক্তব্যের পরে উনি বিএনপির সাথে নিশ্চয়ই গোপনে এমন এক কন্টাক্টে গেছেন যে তারা বিএনপির স্বার্থ সংরক্ষণের জন্য উলঙ্গভাবে ভূমিকা নিয়েছেন, যে কারণে বিএনপির আস্থাভাজন হয়ে আবার তিনি বিএনপির মন্ত্রী হয়েছেন।’

খলিলুর রহমান সাহেবকে জিজ্ঞাসাবাদের আওতায় আনা উচিত মন্তব্য করে তাহের বলেন, ‘কী ধরনের অভিসন্ধি রিজওয়ানা হাসানসহ অন্যরা করেছেন, যে জাতিকে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন থেকে তারা বঞ্চিত করেছেন। কারণ, একটি সুষ্ঠু নির্বাচন এই জাতির জন্য অত্যন্ত প্রয়োজন ছিল। তাদের মনের আকাঙ্ক্ষা ছিল, তাদের দাবি ছিল। গত ৫৬ বছরে এই জাতি কোন নির্বাচন পায়নি। আমরা সকলেই চেষ্টা করেছিলাম, একটা সুষ্ঠু নির্বাচন হবে এবং সেই সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে যারাই নির্বাচিত হয় তারা সরকার গঠন করবে।’

জামায়াতের এই নায়েবে আমির আরও বলেন, ‘এই যে জাতির আকাঙ্ক্ষা, এই যে লড়াই, এই যে জীবন দেওয়া, এই যে রক্ত, এই যে আমাদের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে পর্যুদস্ত করে দেওয়ার যে গাদ্দারি, দালালি, জাতির সাথে বিদ্রোহ—এই সবকিছুর জন্য এরা দায়ী। এত বড় আকাঙ্ক্ষা সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য, এটা ভণ্ডুল করে দিয়েছে এই মীরজাফর। সুতরাং, আমি দাবি করব সরকার যদি স্বচ্ছতার কিছুটা হলেও পরিচয় দিতে চায়, এসব মীরজাফরদের, খলিলুর রহমানকেও মন্ত্রীসভা থেকে বের করে দেওয়া উচিত এবং তাকেও জিজ্ঞাসাবাদ করে ষড়যন্ত্র কী হয়েছে সেটাকে বের করা উচিত।’

ad
ad

রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

বিভিন্ন গোষ্ঠী ‘মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে’, প্রতিহতের আহ্বান মির্জা ফখরুলের

বিভিন্ন গোষ্ঠী ‘আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে’ উল্লেখ করে তাদের প্রতিহত করার আহ্বান জানিয়ছেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, ‘বাংলাদেশে আমরা সবসময় সবকিছু সোজা পথে পাই না। আজকে আবার বিভিন্নভাবে বিভিন্ন গোষ্ঠী মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে। তারা বিভিন্নভাবে সমস্যা তৈরি করছেন, আইনশৃঙ্খলা পর

৪ দিন আগে

বিশ্বকাপে কোন দলকে সমর্থন— জবাবে যা বললেন প্রধানমন্ত্রী

সাংবাদিকদের সঙ্গে এ মতবিনিময় সভায় দেশের সমসাময়িক রাজনৈতিক পরিস্থিতি, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং সরকারের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনাসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। তবে অনুষ্ঠান শেষে বিশ্বকাপ ফুটবল নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সংক্ষিপ্ত মন্তব্য সাংবাদিকদের মধ্যে বেশ আগ্রহ ও হাস্যরসের জন্ম দেয়।

৪ দিন আগে

‘জিয়াউর রহমান আর ১০ বছর বাঁচলে বাংলাদেশ অনন্য দেশ হতো’

বিএনপির মহাসচিব বলেন, দুর্ভিক্ষপীড়িত একটি রাষ্ট্রকে টেনে তুলেছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। দেশে স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং গণতন্ত্রকে নিজস্ব প্রক্রিয়ায় চলতে দেওয়ার লক্ষ্য ছিল তার। তিনি আরও ১০ বছর বেঁচে থাকলে আজকে বাংলাদেশ একটি অনন্য দেশ হিসেবে গড়ে উঠতো এবং সমাজে এতো নেতিবাচকতা তৈরি হতো না

৬ দিন আগে

সরকার স্বস্তি দিতে চায়, বিরোধীদল ছড়াচ্ছে বিভ্রান্তি: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার বাজেটের মাধ্যমে জনগণকে স্বস্তি দিতে চাইলেও বিরোধীদল তা মানছে না; তবে ভোটের কালি শুকানোর আগেই সরকার নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন শুরু করেছে।

৭ দিন আগে