১৭ বছর পর দেশে তারেক রহমান, ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশ গড়ার ডাক

১৫: ৪৪

বাসায় ঢুকলেন তারেক রহমান

দেশে পৌঁছেছেন দুপুর ১২টার আগেই। বিমানবন্দরেই স্বজন আর দলের শীর্ষ নেতাদের শুভেচ্ছায় সিক্ত হয়েছেন। তারপর দলের লাখ লাখ নেতাকর্মীর স্রোত ঠেলে পৌঁছান সংবর্ধনা মঞ্চে, সেখান থেকে চিকিৎসাধীন মাকে দেখতে হাসপাতালে। সব শেষ করে যখন বাসায় পৌঁছালেন, রাত পেরিয়ে গেছে সাড়ে ৯টা।

একনজরে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ১৭ বছর পর দেশে ফেরার দিনের এই হলো সংক্ষিপ্ত বিবরণ। এ দিন দুপুর পৌনে ১২টার ঠিক আগে আগে শাহজালালে অবতরণ করেন তারেক রহমান। গুলশানের বাসায় পৌঁছান রাত সাড়ে ৯টার কিছু পরে।

দেশে ফেরার পর তারেক রহমানের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে রাস্তায়। সুনির্দিষ্টভাবে বললে যে বিশেষ বাসে করে বিমানবন্দর থেকে বের হয়েছেন, সেই বাসেই কেটেছে তার বেশির ভাগ সময়।

তারেক রহমানকে স্বাগত জানাতে লাখো নেতাকর্মী হাজির হয়েছিলেন ঢাকায়। বিমানবন্দর সড়ক থেকে শুরু করে তারেক রহমানের সংবর্ধনাস্থল ৩৬ জুলাই এক্সপ্রেসওয়ে তথা পূর্বাচল ৩০০ ফিট সড়কে অবস্থান নেন তারা। সড়কে নেতাকর্মীদের যে জনস্রোত, তা ঠেলে সামনে এগোতে বেগ পেতে হয়েছে তারেক রহমানকে।

তথ্য বলছে, বিমানবন্দর থেকে রওয়ানা দিয়ে ১০ কিলোমিটার মতো দূরত্বে অবস্থিত সংবর্ধনাস্থলে পৌঁছাতে তারেক রহমানের সময় লেগেছে তিন ঘণ্টার বেশি। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে খুব বেশি সময় লাগেনি। শুরুতে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তাকে স্বাগত জানান দুই-তিন মিনিটের সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে। এরপর সঞ্চালক শহিদ উদ্দীন এ্যানি ডাকলেও স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন বক্তব্য দেননি, তারেক রহমানকে কেবল ডেকে নেন।

তারেক রহমান নিজে বক্তব্য দিয়েছেন ১৬ মিনিটের মতো। এরপরই সংবর্ধনা অনুষ্ঠান শেষ। সেখান থেকে গন্তব্য এভারকেয়ার হাসপাতাল। তবে সেখানেও সড়ক জুড়ে মানুষের ঢল। তাতে পূর্বাচল থেকে বসুন্ধরার এই হাসপাতালে পৌছাঁতে সময় লাগে দেড় ঘণ্টার বেশি।

হাসপাতালে মাকে দেখেছেন তারেক রহমান। এরপর খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় নিয়োজিত মেডিকেল বোর্ডের সঙ্গে সামনাসামনি কথা বলেছেন, বিস্তারিত জেনেছেন মায়ের চিকিৎসার সব কিছু। প্রায় দেড় ঘণ্টা অবস্থান করেন হাসপাতালে। সন্ধ্যা ৭টা ২৫ মিনিটে হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে রওয়ানা দেন গুলশানের বাসার পথে। প্রায় তিন ঘণ্টা পর শেষ পর্যন্ত পৌঁছালেন বাসায়।

১৩: ৪৩

এভারকেয়ার থেকে বাসার পথে তারেক রহমান

এভারকেয়ার থেকে বাসার পথে তারেক রহমান
এভারকেয়ার হাসপাতালে মা খালেদা জিয়াকে দেখার পর গুলশানের বাসার পথে তারেক রহমান। ছবি: ভিডিও থেকে

রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে মা খালেদা জিয়াকে দেখে বাসার পথে রওয়ানা হয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এ সময় স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান ও মেয়ে জাইমা রহমান তার সঙ্গে ছিলেন।

বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা ৭টা ২৫ মিনিটে এভারকেয়ার হাসপাতাল থেকে বের হন তারেক রহমান। দেড় ঘণ্টা তিনি হাসপাতালে অবস্থান করেন।

বিএনপির সূত্রগুলো বলছে, হাসপাতালে মায়ের সঙ্গে দেখা করা ছাড়াও খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় গঠিত মেডিকেল বোর্ডের সঙ্গে কথা বলেন তারেক রহমান। এতদিন তাদের সঙ্গে ভার্চুয়ালি যোগাযোগ হলেও এবার সামনাসামনি সাক্ষাৎ হওয়ায় বিস্তারিত আলাপ করেন তিনি।

হাসপাতাল থেকে তারেক রহমান যাবেন গুলশানের ১৯৬ নম্বর বাসায়, যেটি তার বাসভবন। সেখানে পৌঁছানোর পর আপাতত আজ আর কোনো কর্মসূচি নেই তার। আগামীকাল শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) সকালে সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধ পরিদর্শন করবেন তিনি, এরপর আগারগাঁওয়ে বাবা প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সমাধি জিয়ারত করবেন।

১১: ৫৭

মাকে দেখতে এভারকেয়ারে তারেক রহমান

মাকে দেখতে এভারকেয়ারে তারেক রহমান
এভারকেয়ার হাসপাতালে ঢুকছেন তারেক রহমান। ছবি: ভিডিও থেকে

চিকিৎসাধীন মা খালেদা জিয়াকে দেখতে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে পৌঁছেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। মাকে দেখে তিনি গুলশানে নিজের বাসায় যাবেন। সেখানে আগেই পৌঁছেছেন তার স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান ও মেয়ে জাইমা রহমান।

বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) বিকেল ৫টা ৫৫ মিনিটে এভারকেয়ার হাসপাতালে প্রবেশ করেন তারেক রহমান। লাখো মানুষের ভিড় ঠেলে ৩৬ জুলাই এক্সপ্রেসওয়ে তথা পূর্বাচল ৩০০ ফিট সড়ক থেকে তার এভারকেয়ার হাসপাতালে পৌঁছাতে সময় লেগেছে প্রায় দেড় ঘণ্টা!

গোটা যাত্রাপথেই বাসের একদম সামনে ছিলেন তারেক রহমান। সেখান থেকেই হাত নেড়ে তিনি অভিবাদন জানিয়েছেন তাকে স্বাগত জানাতে, একনজর দেখতে সারা দেশ থেকে ছুটে আসা নেতাকর্মীদের।

১১: ২০

১৬ মিনিটের বক্তৃতায় যা বললেন তারেক রহমান

১৬ মিনিটের বক্তৃতায় যা বললেন তারেক রহমান
বৃহস্পতিবার বিকেলে ৩৬ জুলাই এক্সপ্রেসওয়েতে বিএনপি আয়োজিত গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ছবি: ভিডিও থেকে

১৭ বছর পর দেশে ফিরে ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশের ডাক দিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বলেছেন, গণতান্ত্রিক শক্তির যারা আছে, সবাই মিলে ঐক্যবদ্ধ হলেই কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গড়ে তোলা যাবে। একাত্তরের শহিদ, চব্বিশের শহিদসহ গণতাান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রামে যারা প্রাণ দিয়েছেন, তাদের স্বপ্ন পূরণ সম্ভব হবে।

এর জন্য বিশেষ করে তরুণদের সহায়তা কামনা করেন তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, তরুণদেরই আগামীর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে। সবার প্রতি সব ধরনের উসকানি এড়িয়ে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বানও জানিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) দুপুরে লন্ডন থেকে দেশে অবতরণ করার পর ৩৬ জুলাই এক্সপ্রেসওয়ে তথা পূর্বাচলের ৩০০ ফিট সড়কে বিএনপি আয়োজিত গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে বক্তব্যে এসব কথা বলেন তারেক রহমান। তার প্রায় ১৬ মিনিটের পুরো বক্তব্যটি পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো—

প্রিয় বাংলাদেশ, উপস্থিত প্রিয় মুরব্বি, মঞ্চে উপস্থিত জাতীয় নেতৃবৃন্দ, আমার সামনে উপস্থিত প্রিয় ভাই ও বোনেরা এবং মিডিয়ার মাধ্যমে সমগ্র বাংলাদেশ থেকে যারা দেখছেন এই অনুষ্ঠান, প্রিয় ভাই ও বোনেরা, প্রিয় মা ও বোনেরা, আসসালামু আলাইকুম।

প্রিয় ভাই ও বোনেরা, আজ প্রথমেই আমি রাব্বুল আলামিনের দরবারে হাজারও লক্ষ কোটি শুকরিয়া জানাতে চাই। রাব্বুল আলামিনের অশেষ রহমতে আজ আমি আমার প্রিয় মাতৃভূমিতে ফিরে আসতে পেরেছি আপনাদের দোয়ায়, আপনাদের মাঝে।

প্রিয় ভাই ও বোনেরা, আমাদের এই প্রিয় মাতৃভূমি ১৯৭১ সালে লক্ষ শহিদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছিল। ঠিক একইভাবে পঁচাত্তরে আবার ৭ নভেম্বর আধিপত্যবাদীদের হাত থেকে রক্ষার জন্য সেদিন সিপাহী জনতার বিপ্লবের মাধ্যমে আধিপত্যবাদের হাত থেকে দেশকে রক্ষা করা হয়েছিল। একইভাবে পরবর্তী সময়ে নব্বইয়ে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে এ দেশের জনগণ, এ দেশের খেটে খাওয়া মানুষ তাদের গণতান্ত্রিক অধিকারকে ছিনিয়ে এনেছিল। কিন্তু তারপরও ষড়যন্ত্রকারীদের ষড়যন্ত্র থেমে থাকেনি।

আমরা তারপর দেখেছি একাত্তর সালে এ দেশের মানুষ যেমন স্বাধীনতা অর্জন করেছিল, ২০২৪ সালে এ দেশের ছাত্র-জনতাসহ সর্বস্তরের মানুষ— কৃষক, শ্রমিক, গৃহবধূ, নারী-পুরুষ, মাদরাসার ছাত্রসহ দলমত নির্বিশেষে, শ্রেণিপেশা নির্বিশেষে সব মানুষ সেদিন ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট এ দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে রক্ষা করেছিল।

প্রিয় ভাই ও বোনেরা, আজ বাংলাদেশের মানুষ কথা বলার অধিকার ফিরে পেতে চায়। তারা তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরে পেতে চায়। বাংলাদেশের মানুষ চায় তারা তাদের যোগ্যতা অনুযায়ী ন্যায়্য অধিকার পাবে।

প্রিয় ভাই ও বোনেরা, আজ আমাদের সময় এসেছে সকলে মিলে দেশ গড়ার। এই দেশে যেমন পাহাড়ের মানুষ আছে, এই দেশে একইভাবে সমতলের মানুষ আছে। এই দেশে মুসলমান, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান, হিন্দুসহ বিভিন্ন ধর্মের মানুষ বসবাস করে। আমরা চাই সকলে মিলে এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলব আমরা, যেই বাংলাদেশের স্বপ্ন একজন মা দেখেন। অর্থাৎ একটি নিরাপদ বাংলাদেশ আমরা গড়ে তুলতে চাই। যে বাংলাদেশে একজন নারী, একজন পুরুষ, একজন শিশু যেই হোক না কেন নিরাপদে ঘর থেকে বের হলে নিরাপদে ইনশাআল্লাহ ঘরে আবার ফিরে আসতে পারে।

প্রিয় ভাই ও বোনেরা, এ দেশের জনসংখ্যার অর্ধেক নারী। চার কোটিরও বেশি তরুণ প্রজন্মের সদস্য, পাঁচ কোটির মতো শিশু, ৪০ লাখের মতো প্রতিবন্ধী মানুষ রয়েছেন। কয়েক কোটি কৃষক-শ্রমিক রয়েছেন। এই মানুষগুলোর একটি প্রত্যাশা আছে এই রাষ্ট্রের কাছে, এই মানুষগুলোর একটি আকাঙ্ক্ষা আছে এই দেশের কাছে। আজ আমরা সকলে যদি ঐক্যবদ্ধ হই, আজ আমরা যদি সকলে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হই, তাহলে আমরা এই লক্ষ্য কোটি মানুষের সেই প্রত্যাশাগুলো পূরণ করতে পারি ইনশাআল্লাহ।

প্রিয় ভাই ও বোনেরা, ৭১ সালে আমাদের শহিদরা নিজের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন এই রকম একটি বাংলাদেশ গঠনের জন্য। বিগত ১৫ বছর স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে শত শত হাজারও গুম-খুনের শিকার হয়েছে শুধু রাজনৈতিক দলের সদস্য নয়, নিরীহ মানুষও প্রতিবাদ করতে গিয়ে অত্যাচার নির্যাতনের শিকার হয়েছে, জীবন দিয়েছে। ২০২৪ সাল মাত্র সেদিনের ঘটনা। আমরা দেখেছি কীভাবে আমাদের তরুণ প্রজন্মের সদস্যরা নিজের জীবন উৎসর্গ করেছে দেশের এই স্বাধীনতা এবং সার্বভৌমত্বকে রক্ষা করার জন্য।

প্রিয় ভাই ও বোনেরা, কয়েকদিন আগে এই বাংলাদেশের ২৪-এর আন্দোলনের এক সাহসী প্রজন্মের এক সাহসী সদস্য ওসমান হাদিকে হত্যা করা হয়েছে। ওসমান হাদি শহিদ হয়েছে।

প্রিয় ভাই ও বোনেরা, ওসমান হাদি চেয়েছিল এ দেশের মানুষের জন্য গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হোক। এ দেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠিত হোক। এ দেশের মানুষ তাদের গণতান্ত্রিক ও অর্থনৈতিক অধিকার ফিরে পাক।

আজ চব্বিশের আন্দোলনে যারা শহিদ হয়েছেন ওসমান হাদিসহ, একাত্তরে যারা শহিদ হয়েছেন, বিগত স্বৈরাচারের সময় বিভিন্নভাবে খুন-গুমের শিকার হয়েছেন, এই মানুষগুলোর রক্তের ঋণ যদি শোধ করতে হয়, আসুন আমরা আমাদের সেই প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তুলব, যেখানে আমরা সকলে মিলে কাজ করব, যেখানে আমরা সকলে মিলে আমাদের প্রত্যাশিত বাংলাদেশকে গড়ে তুলব।

প্রিয় ভাই ও বোনেরা, বিভিন্ন আধিপত্যবাদ শক্তির গুপ্তচরেরা বিভিন্নভাবে ষড়যন্ত্রে এখন লিপ্ত রয়েছে। আমাদেরকে ধৈর্যশীল হতে হবে, আমাদেরকে ধৈর্য ধারণ করতে হবে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের যে সদস্যরা আছেন, তোমরাই আগামী দিন দেশকে নেতৃত্ব দেবে, দেশকে গড়ে তুলবে। এই দায়িত্ব তরুণ প্রজন্মের সদস্যদেরই আজ গ্রহণ করতে হবে, যেন এই দেশকে আমরা সুন্দরভাবে গড়ে তুলতে পারি। শক্ত ভিত্তির ওপরে গণতান্ত্রিক ভিত্তি, শক্তিশালী অর্থনৈতিক ভিত্তির ওপর যেন এই দেশকে আমরা গড়ে তুলতে পারি।

প্রিয় ভাই ও বোনেরা, আমার সঙ্গে আজ মঞ্চে এখানে বহু জাতীয় নেতা বসে আছেন। আসুন, আজ আমরা দুই হাত তুলে আল্লাহর দরবারে দোয়া করি, আল্লাহর রহমত আমরা চাই। যেসব জাতীয় নেতা এই মঞ্চে আছেন, মঞ্চের বাইরে আরও যেসব জাতীয় নেতা আছেন, আমরা সকলে মিলে এই দেশকে নেতৃত্ব দিয়ে আমাদের বাংলাদেশের জনগণের প্রত্যাশিত সেই বাংলাদেশকে আমরা গড়ে তুলতে চাই।

আমাদেরকে যেকোনো মূল্যে, যেকোনো মূল্যে আমাদের এই দেশে শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষা করতে হবে। যেকোনো উসকানির মুখে আমাদেরকে ধীর-শান্ত থাকতে হবে। প্রিয় ভাই ও বোনেরা, আমরা দেশে শান্তি চাই, আমরা দেশে শান্তি চাই, আমরা দেশে শান্তি চাই।

প্রিয় ভাই ও বোনেরা, মার্টিন লুথার কিংয়ের নাম শুনেছেন না আপনারা? নাম শুনেছেন তো আপনারা? মার্টিন লুথার কিং, তার একটি বিখ্যাত ডায়লগ আছে—‘আই হ্যাভ এ ড্রিম’। আজ এই বাংলাদেশের মাটিতে দাঁড়িয়ে আপনাদের সকলের সামনে আমি বলতে চাই, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের একজন সদস্য হিসেবে আপনাদের সামনে আমি বলতে চাই— ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’ ফর দ্য পিপল অব মাই কান্ট্রি, ফর মাই কান্ট্রি।’

আজ এই পরিকল্পনা দেশের মানুষের স্বার্থে, দেশের উন্নয়নের জন্য, দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তনের জন্য। যদি সেই প্ল্যান, সেই কার্যক্রম, সেই পরিকল্পনাকে বাস্তবায়ন করতে হয়, প্রিয় ভাই ও বোনেরা এই জনসমুদ্রে যত মানুষ উপস্থিত আছেন, এই সারা বাংলাদেশে গণতন্ত্রের শক্তি যত মানুষ উপস্থিত আছেন, প্রতিটি মানুষের সহযোগিতা আমার লাগবে। প্রতিটি মানুষের সহযোগিতা আমাদের লাগবে। আপনারা যদি আমাদের পাশে থাকেন, আপনারা যদি আমাদেরকে সহযোগিতা করেন ইনশাআল্লাহ আমরা ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’ বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হব।

আসুন, আমরা আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের দরবারে হাত তুলে প্রার্থনা করি। হে রাব্বুল আলামিন, হে একমাত্র মালিক, হে একমাত্র পরওয়ারদেগার, হে একমাত্র রহমত দানকারী, হে একমাত্র সাহায্যকারী, আজ আপনি যদি আমাদের রহমত দেন তাহলে আমরা এ দেশের মানুষ কঠোর পরিশ্রম করার মাধ্যমে আমাদের প্রত্যাশিত বাংলাদেশকে গড়ে তুলতে পারব। আজ যদি আল্লাহর রহমত এই দেশ ও এ দেশের মানুষের পক্ষে থাকে, আল্লাহর সাহায্য, আল্লাহর দয়া এ দেশের মানুষের ওপরে থাকে, ইনশাআল্লাহ আমরা আমাদের প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সক্ষম হব।

প্রিয় ভাই ও বোনেরা, আজ আসুন আমরা সকলে মিলে প্রতিজ্ঞা করি, ইনশাআল্লাহ আগামী দিনে দেশ পরিচালনার দায়িত্বে যারা আসবে, আমরা সকলে নবি করিম (সা.)-এর যে ন্যায়পরায়ণতা, সেই ন্যায়পরায়ণতার আলোকে আমরা দেশ পরিচালনার সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।

প্রিয় ভাই ও বোনেরা, আজ আপনারা জানেন, এখান থেকে আমি আমার মা দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার কাছে যাব। এই একটি মানুষ, যে মানুষটি এ দেশের মাটি, এ দেশের মানুষকে নিজের জীবনের থেকেও বেশি ভালোবেসেছেন। তার সঙ্গে কী হয়েছে আপনারা প্রতিটি মানুষ সে সম্পর্কে অবগত আছেন। সন্তান হিসেবে আপনাদের কাছে আমি চাইব, আজ আল্লাহর দরবারে আপনারা দোয়া করবেন যেন আল্লাহ উনাকে তৌফিক দেন, উনি যেন সুস্থ হতে পারেন।

প্রিয় ভাই ও বোনেরা, সন্তান হিসেবে আমার মন আমার মায়ের বিছানার পাশে পড়ে আছে সেই হাসপাতালের ঘরে। কিন্তু সেই মানুষটি যাদের জন্য জীবনকে উৎসর্গ করেছেন, অর্থাৎ আপনারা— যাদের জন্য দেশনেত্রী খালেদা জিয়া জীবন উৎসর্গ করেছেন, সেই মানুষগুলোকে আমি কোনোভাবেই ফেলে যেতে পারি না। সে জন্যই আজ হাসপাতালে যাওয়ার আগে আপনাদের প্রতিসহ টেলিভিশনগুলোর মাধ্যমে যারা সমগ্র বাংলাদেশে আমাকে দেখছেন, আপনাদের সকলের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করার জন্য আজ আমি এখানে দাঁড়িয়েছি আপনাদের সামনে।

প্রিয় ভাই ও বোনেরা, আমাদের আজ নিশ্চিত করতে হবে, আমরা যে ধর্মের মানুষ হই, আমরা যে শ্রেণির মানুষ হই, আমরা যে রাজনৈতিক দলের সদস্য হই অথবা একজন নির্দলীয় ব্যক্তি হই, আমাদের নিশ্চিত করতে হবে, যেকোনো মূল্যে আমরা আমাদের এই দেশের শান্তিশৃঙ্খলাকে ধরে রাখতে হবে। যেকোনো মূল্যে যেকোনো বিশৃঙ্খলাকে পরিত্যাগ করতে হবে। যেকোনো মূল্যে আমাদেরকে নিশ্চিত করতে হবে যেন মানুষ নিরাপদে থাকতে পারে। শিশু হোক, নারী হোক, পুরুষ হোক, যেকোনো বয়স, যেকোনো শ্রেণি, যেকোনো পেশা, যেকোনো ধর্মের মানুষ যেন নিরাপদ থাকে— এই হোক আমাদের আজকের চাওয়া।

প্রিয় ভাই ও বোনেরা, আসুন, সবাই মিলে আজ আমরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হই। সবাই মিলে করব কাজ, গড়ব মোদের বাংলাদেশ। আপনাদের সকলের কাছে দোয়া চেয়ে, আবারও সকলকে যেকোনো মূল্যে দেশে শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষার আহ্বান জানিয়ে, যেকোনো বিশৃঙ্খলাকে পরিহার করে ধৈর্যের সঙ্গে মোকাবিলা করার আহ্বান জানিয়ে আমার বক্তব্য শেষ করছি।

আবারও আপনাদের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি আজ আমাকে এইভাবে বরণ করে নেওয়ার জন্য। আল্লাহ হাফেজ। বাংলাদেশ জিন্দাবাদ। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল জিন্দাবাদ। আসসালামু আলাইকুম।

১০: ৩১

সংবর্ধনা মঞ্চ থেকে এভারকেয়ার হাসপাতালের পথে তারেক রহমান

সংক্ষিপ্ত সংবর্ধনা অনুষ্ঠান শেষে মাকে দেখতে এভারকেয়ার হাসপাতালের পথে রওয়ানা হয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টা ২০ মিনিট নাগাদ সংবর্ধনা মঞ্চ থেকে নেমে যান তিনি, ওঠেন তার জন্য নির্ধারিত বিশেষ বাসে। তবে জনস্রোত ঠেলে মঞ্চ থেকে বাস পর্যন্ত শ দুয়েক গজ রাস্তা পেরোতেই তার সময় লেগে যায় প্রায় ৩ মিনিট। আরও প্রায় ১০ মিনিট পরে ছাড়ে বাসটি। সেই বাসে করেই এখন তিনি এভারকেয়ার হাসপাতালের পথে।

এর আগে সংবর্ধনা মঞ্চের সামনে পৌঁছালেও মানুষের ভিড়ের কারণে বাস থেকে নামতে পারছিলেন না তারেক রহমান। বেশ কিছুক্ষণ অপেক্ষার পর বিকেল সাড়ে ৩টার কিছু সময় পরে বাস থেকে নামেন তিনি, ওঠেন সংবর্ধনা মঞ্চে। ডায়াসে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তাকে স্বাগত জানান।

বিকেল ৩টা ৫০ মিনিটে ডায়াসে দাঁড়ান তারেক রহমান। ১৭ বছর ভার্চুয়ালি নানা জনসভায় বক্তব্য রাখতেন তিনি। এবার ১৭ বছর পর সশরীরে হাজির হয়ে জনসভায় ভাষণ রাখেন তিনি।

১০: ১২

আই হ্যাভ আ প্ল্যান, ফর দ্য পিপল অব মাই কান্ট্রি, ফর মাই কান্ট্রি: তারেক রহমান

আই হ্যাভ আ প্ল্যান, ফর দ্য পিপল অব মাই কান্ট্রি, ফর মাই কান্ট্রি: তারেক রহমান
বৃহস্পতিবার বিকেলে বিএনপি আয়োজিত গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন তারেক রহমান। ছবি: ভিডিও থেকে

বিখ্যাত আফ্রিকান-আমেরিকান মানবাধিকার কর্মী ‘মার্টিন লুথার কিং’কে স্মরণ করেছেন তারেক রহমান। গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তার বক্তব্যকে স্মরণ করে নিজে বলেছেন, ‘আই হ্যাভ আ প্ল্যান, ফর দ্য পিপল অব মাই কান্ট্রি, ফর মাই কান্ট্রি’।

বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) বিকেলে ৩৬ জুলাই এক্সপ্রেসওয়ে তথা পূর্বাচল ৩০০ ফিট সড়কে বিএনপি আয়োজিত গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তারেক রহমান এ কথা বলেন।

মার্টিন লুথার কিং তার বিখ্যাত ভাষণে বলেছিলেন, ‘আই হ্যাভ আ ড্রিম’। তার অনুকরণে তারেক রহমান বলেন, ‘আই হ্যাভ আ প্ল্যান।’

এ সময় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, এই পরিকল্পনা দেশের মানুষের স্বার্থে, দেশের উন্নয়নের জন্য, দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তনের জন্য। যদি সেই প্ল্যান, সেই কার্যক্রম, সেই পরিকল্পনাকে বাস্তবায়ন করতে হয়, প্রিয় ভাই ও বোনেরা, এই জনসমুদ্রে যত মানুষ উপস্থিত আছেন, এই সারা বাংলাদেশে গণতন্ত্রের শক্তি যত মানুষ উপস্থিত আছেন, প্রত্যেকটি মানুষের সহযোগিতা আমার লাগবে।

১০: ০৩

১৭ বছর পর দেশের মাটিতে জনসভায় ভাষণ দিচ্ছেন তারেক রহমান

১৭ বছর পর দেশের মাটিতে জনসভায় ভাষণ দিচ্ছেন তারেক রহমান

বিকেল পৌঁনে ৪টা। জনস্রোত ঠেলে বের হলেন, ধীর পায়ে উঠলেন মঞ্চে। তখন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্বাগত জানালেন তাকে ডায়াসে দাঁড়িয়ে। আর কোনো কথা বলেননি তিনি।

এরপর যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দিন এ্যানি ডেকে নিলেন স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদকে। তিনিও বক্তব্য রাখলেন না। শুধু আহ্বান জানালেন এ আয়োজনের মধ্যমণি তারেক রহমানকে।

বিকেল ৩টা ৫০ মিনিটে ডায়াসে দাঁড়ালেন তারেক রহমান। ১৭ বছর ভার্চুয়ালি নানা জনসভায় বক্তব্য রেখেছেন। ১৭ বছর পর সশরীরে হাজির হয়ে জনসভায় ভাষণ রাখতে শুরু করেছেন তিনি।

০৯: ৫৫

সংবর্ধনা মঞ্চে তারেক রহমান

সংবর্ধনা মঞ্চে তারেক রহমান
সংবর্ধনা মঞ্চে তারেক রহমান। ছবি: ভিডিও থেকে

জনস্রোত ঠেলে ৩৬ জুলাই এক্সপ্রেসওয়েতে সংবর্ধনাস্থলে পৌঁছেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এরই মধ্যে সংবর্ধনা মঞ্চে উঠেছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) বিকেল ৩টা ৫০ মিনিটে সংবর্ধনা মঞ্চে ওঠেন তারেক রহমান। এ সময় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তাকে স্বাগত জানান।

০৯: ৫০

সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা: তারেক রহমান

সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা: তারেক রহমান
জনস্রোত ঠেলে এগোচ্ছেন তারেক রহমান। ছবি: তারেক রহমানের ফেসবুক থেকে
০৯: ৩১

মানুষের স্রোত ঠেলে ৩৬ জুলাই এক্সপ্রেসওয়েতে তারেক রহমান

মানুষের স্রোত ঠেলে ৩৬ জুলাই এক্সপ্রেসওয়েতে তারেক রহমান
জনস্রোত ঠেলে এগিয়ে চলেছেন তারেক রহমান। ছবি: রাজনীতি ডটকম

বিমানবন্দর থেকে ৩৬ জুলাই এক্সপ্রেসওয়ে পর্যন্ত সড়কে যেন জনস্রোত। সেই জনস্রোত ঠেলে এগিয়ে চলেছে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের গাড়িবহর। গাড়িতে বসে হাত নেড়ে এগিয়ে চলেছেন তিনি। জনস্রোতের কারণে সে গাড়ি যেন হাঁটা গতিতে এগিয়ে চলেছে। তাতে এক্সপ্রেসওয়েতে নির্মিত সংবর্ধনা মঞ্চের আশপাশে অবস্থানরত নেতাকর্মীদের তারেক রহমানকে দেখার অপেক্ষা প্রলম্বিত হচ্ছে।

বিএনপির নেতাকর্মীরা বলছেন, বিমানবন্দর থেকে ৩০০ ফিট সড়ক পর্যন্ত এলাকায় তারেক রহমানকে স্বাগত জানাতে জড়ো হয়েছেন ১০ লাখেরও বেশি মানুষ। শুধু বিএনপির নেতাকর্মীয় নয়, এই জনস্রোতের মধ্যে সাধারণ মানুষের সংখ্যাও নেহায়েত কম নয় বলে দাবি করেন তারা।

বিএনপি চেয়ারপাসন তারেক রহমান দেশে ফিরছেন ২৫ ডিসেম্বর— এ খবর বিএনপি মহাসচিব নিশ্চিত করার পর থেকেই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দলটির নেতাকর্মীরা প্রস্তুতি নিতে থাকেন ঢাকায় আসার। লক্ষ্য— তারেক রহমানের ১৭ বছর পর দেশে প্রত্যাবর্তনের মুহূর্তের সাক্ষী হওয়া।

০৯: ২৬

‘ইতিহাসের সাক্ষী হতে এসেছি’

‘ইতিহাসের সাক্ষী হতে এসেছি’
তারেক রহমানকে স্বাগত জানাতে পাবনার বেড়া থেকে ঢাকা এসেছেন আলমগীর কবির। ছবি: রাজনীতি ডটকম

‘খালেদা জিয়া ২০০১ সালে যখন প্রধানমন্ত্রী হন, তখন বয়স ১৮ বছর। ছোটবেলা থেকেই বিএনপি সাপোর্ট করি। তাই তার প্রধানমন্ত্রী হওয়া ছিল আমাদের জন্য বিশাল ঘটনা। খালেদা জিয়া আমাদের ওখানে গেছেনও জনসভা করতে। সেই জনসভায় অংশ নেওয়া ছিল স্মরণীয় ঘটনা। কিন্তু আজকের এই দিন বাংলাদেশের জন্য একটা ঐতিহাসিক দিন। শুধু বিএনপি না, সারা দেশ এই দিনের জন্য অপেক্ষা করে আছে। সেই ইতিহাসের সাক্ষী হতে ঢাকা এসেছি।’

আবেগঘন কণ্ঠে কথাগুলো বলছিলেন তারেক রহমানকে স্বাগত জানাতে পাবনার বেড়া থেকে ঢাকায় আসা আলমগীর কবির। বেড়া পৌর যুবদলের একটি ওয়ার্ডের সভাপতি তিনি। তারেক রহমানের দেশে প্রত্যাবর্তন সামনে রেখে অন্য অনেকের মতো বুধবার তিনিও ঢাকা পৌঁছান। বৃহস্পতিবার সকালে অবস্থান নিয়েছেন ৩৬ জুলাই এক্সপ্রেসওয়ে এলাকায়।

রাজনীতি ডটকমের সঙ্গে আলাপকালে আলমগীর বলেন, ‘আওয়ামী লীগের শাসনামলে আমরা সবাই নির্যাতনের শিকার হয়েছি। সারা বাংলাদেশ নির্যাতনের শিকার হয়েছে। জুলাই আন্দোলনের পর দেশ ফ্যাসিস্টমুক্ত হলেও অন্তর্বর্তী সরকার মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। আমরা মনে করি, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপিই এখন গণতন্ত্রের পথে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে পারেন। তাই তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন আমাদের জন্য অবিস্মরণীয় একটি ঘটনা, আজ অবিস্মরণীয় একটি দিন।’

কক্সবাজারের পেকুয়া এলাকা থেকে তারেক রহমানকে স্বাগত জানাতে ঢাকায় আসা মিসবাহ বকশও জানালেন একই ধরনের অনুভূতির কথা। রাজনীতি ডটকমকে তিনি বলেন, ‘আমরা বিএনপির নেতাকর্মীরা কেবল নয়, সারা দেশের মানুষই জানে— এই মুহূর্তে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে নেতৃত্ব হিসেবে তারেক রহমানের কোনো বিকল্প নেই। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর তিনি দেশে ফিরছেন। আজকের দিন বাংলাদেশের ইতিহাসের বাঁক বদলের দিন।’

আলমগীর ও মিসবাহ বকশের মতো বিমানবন্দর সড়ক থেকে ৩৬ জুলাই এক্সপ্রেসওয়ে পর্যন্ত ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা বিএনপির অগণিত নেতাকর্মীদের সবার অনুভূতিই একরকম। দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তারা তারেক রহমানকেই ‘উদ্ধারকর্তা’ বলে মনে করেন।

শুধু তাই নয়, ২৫ ডিসেম্বর খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব বড়দিনের সঙ্গে মিলিয়ে কেউ কেউ মজা করে বলছিলেন, তারেক রহমান বড়দিনে বাংলাদেশের জন্য ‘সান্তা ক্লজ’ হয়েই উপস্থিত হয়েছেন।

০৮: ০০

দুপাশে নেতাকর্মীদের ভিড়, হাত নেড়ে এগিয়ে চলেছেন তারেক রহমান

দুপাশে নেতাকর্মীদের ভিড়, হাত নেড়ে এগিয়ে চলেছেন তারেক রহমান
বাসের সামনে বসে সবার উদ্দেশে হাত নেড়ে অভিবাদন জানাচ্ছেন তারেক রহমান। ছবি: ভিডিও থেকে

তিনি দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। দলের ছোট-বড় নানা অনুষ্ঠানেই অংশ নেন। তবে ১৭ বছর ধরে তিনি দেশের বাইরে। তার উপস্থিতি কেবলই ভার্চুয়াল।

এভাবেই চলছিল বিএনপির কার্যক্রম। শেষ পর্যন্ত দলের কার্যত প্রধানকে ভার্চুয়াল গণ্ডি ভেঙে বাস্তবে কাছে পেতে বিএনপির নেতাকর্মীদর আকাঙ্ক্ষার অবসান ঘটতে চলেছে। তারেক রহমান পৌঁছেছেন বাংলাদেশে।

বিমানবন্দর থেকে এরই মধ্যে তিনি রওয়ানা হয়েছেন ৩৬ জুলাই এক্সপ্রেসওয়ের দিকে, যেখানে তার জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে সংবর্ধনা মঞ্চ। ভালোবাসায় তাকে বরণ করে নিতে অপেক্ষমাণ হাজার হাজার নেতাকর্মী, যাদের কেউ কেউ গতকাল থেকেই অবস্থান নিয়েছেন সেখানে।

এর আগে বিমানবন্দর সড়কের পুরোটাই এখন বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের দখলে চলে যায়। সড়কের পাশে তারা অবস্থান নিয়েছেন, প্রিয় নেতাকে একনজর দেখার জন্য। নেতা যাবেন রাজপথ দিয়ে, হাত নেড়ে ভালোবাসা জানাবেন— এটুকুই প্রত্যাশা তাদের।

কর্মী-সমর্থক-অনুসারীদের সে প্রত্যাশা পূরণ করে এগিয়ে চলেছেন তারেক রহমান। বিমানবন্দর থেকে বিশেষ বাসে করে তাকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে ৩৬ জুলাই এক্সপ্রেসওয়ে তথা পূর্বাচল ৩০০ ফিট সড়কে। বাসের সামনে বসেছেন তিনি। সেখান থেকে হাত নাড়ছেন নেতাকর্মীদের উদ্দেশে। অভিবাদন-ভালোবাসা নিচ্ছেন সবার কাছ থেকে, জানাচ্ছেন অভিবাদন-ভালোবাসা।

অত্যন্ত ধীরগতিতে এগিয়ে চলেছে তারেক রহমানের গাড়িবহর। বিমানবন্দর থেকে খিলক্ষেত পর্যন্ত মাত্র দুই কিলোমিটারের মতো সড়ক অতিক্রম করতেই সময় লেগেছে এক ঘণ্টার বেশি। এই সড়ক পেরিয়ে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন তারেক রহমান, যেখানে বিএনপির সব শীর্ষ নেতা উপস্থিত থাকলেও বক্তব্য দেবেন কেবল তারেক রহমানই।

৩৬ জুলাই এক্সপ্রেসওয়ে এর আগে বুধবার মধ্যরাতেই কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে ওঠে। তবু বৃহস্পতিবার সকাল থেকে আরও আরও নেতাকর্মী দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে সেখানে জড়ো হতে থাকেন। বিএনপির নেতাকর্মীরা বলছেন, সেখানে কয়েক লাখ মানুষ জড়ো হয়েছেন তারেক রহমানকে দেশে বরণ করে নিতে।

দুপুর ঠিক ২টা নাগাদ তারেক রহমানকে বহনকারী বাসটি কুড়িল ফ্লাইওভারে ওঠার মুহূর্তে রয়েছে।

০৭: ৪৫

তারেক রহমানকে দেশে স্বাগত জামায়াত আমিরের

এক লাইনের সংক্ষিপ্ত বার্তায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে স্বাগত জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজের এক পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘জনাব তারেক রহমান, সপরিবারে সুস্বাগতম!’

০৭: ৩৬

তারেক রহমানের অপেক্ষায় ৩৬ জুলাই এক্সপ্রেসওয়ে

তারেক রহমানের অপেক্ষায় ৩৬ জুলাই এক্সপ্রেসওয়ে
তারেক রহমানের জন্য ৩৬ জুলাই এক্সপ্রেসওয়েতে অপেক্ষমাণ বিএনপি কর্মী-সমর্থকরা। ছবি: রাজনীতি ডটকম

১৭ বছর পর দেশের মাটিতে অবতরণ করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এরই মধ্যে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সব আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে রওয়ানা দিয়েছেন বিশেষ বাসে করে। তার জন্য ৩৬ জুলাই এক্সপ্রেসওয়ে তথা পূর্বাচলের ৩০০ ফিট সড়কের সংবর্ধনাস্থলে অপেক্ষমাণ হাজার হাজার বিএনপি নেতাকর্মী-সমর্থক।

তারেক রহমানের গাড়ি বহরটি বিমানবন্দর থেকে বের হয়ে এখন ৩০০ ফিট সড়কের দিকে যাচ্ছে। বিমানবন্দর থেকে ৩০০ ফিট সড়ক পর্যন্ত পুরো সড়কে দুই পাশে দাঁড়িয়ে রয়েছেন হাজার হাজার মানুষ। একনজর তারেক রহমানকে বহন করে নিয়ে যাওয়া বাসটিকে দেখার জন্য অপেক্ষমাণ তারা।

তারেক রহমানও রয়েছেন বাসের একদম সামনে। সেখান থেকে সবার উদ্দেশে হাত নাড়াচ্ছেন তিনি। তার সঙ্গে বাসে রয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ স্থায়ী কমিটির সদস্য ও শীর্ষ নেতারা।

০৭: ৩৬

‘নতুন বাংলাদেশে’ তারেক রহমানকে স্বাগত: সারজিস

১৭ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটেছে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের, লন্ডন থেকে ফিরেছেন দেশে। তার প্রত্যাবর্তন ঘিরে তাকে দেশে স্বাগত জানিয়ে ফেসুবকে বিশেষ বার্তা দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম।

বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) এক ফেসবুক পোস্টে তিনি তারেক রহমানকে ‘চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশে’ স্বাগত জানান। একইসঙ্গে আগামীর রাজনীতিতে বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষায় এবং আধিপত্যবাদবিরোধী লড়াইয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

০৭: ১৬

দেশে নেমেই প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে ফোনালাপ তারেক রহমানের

দেশে নেমেই প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে ফোনালাপ তারেক রহমানের
শাহজালালের ভিআইপি লাউঞ্জে অপেক্ষা করার সময় প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে ফোনে কথা বলেন তারেক রহমান। ছবি: ভিডিও থেকে

দীর্ঘ ১৭ বছর পর সপরিবারে দেশে ফিরেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দেশে নেমেই প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন তিনি।

বিএনপি সূত্র জানিয়েছে, এ সময় প্রধান উপদেষ্টা দেশে ফেরার জন্য তারেক রহমানকে স্বাগত জানান, শুভেচ্ছা জানান। প্রধান উপদেষ্টা তারেক রহমানের সুস্বাস্থ্য কামনা করেন এবং রাজনৈতিক ঐক্যের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

তারেক রহমানও প্রধান উপদেষ্টাকে ধন্যবাদ জানান। তিনি জানিয়েছেন, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় দেশকে এগিয়ে নিতে তার দল সরকারকে সব ধরনের সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।

ফোনালাপে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও স্থিতিশীলতা নিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা হয় বলে জানা গেছে।

এর আগে বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) সকাল ১১টা ৪০ মিনিটে শাহজালাল বিমানবন্দরে অবতরণ করে তারেক রহমানকে বহনকারী বিমান বাংলাদেশের ফ্লাইট। তার সঙ্গে রয়েছেন স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান ও মেয়ে জাইমা রহমান।

০৭: ১১

তারেক রহমানকে শাশুড়ির আবেগঘন অভ্যর্থনা

তারেক রহমানকে শাশুড়ির আবেগঘন অভ্যর্থনা
বিমানবন্দরে তারেক রহমানকে শাশুড়ির উষ্ণ অভ্যর্থনা।

দীর্ঘ নির্বাসিত জীবনের অবসান ঘটিয়ে সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে দেশের মাটিতে পা রেখেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

বিমান থেকে নেমে তারেক রহমান ভিআইপি লাউঞ্জে প্রবেশ করলে এক আবেগঘন পরিবেশ তৈরি হয়। সেখানে তাকে গোলাপ ফুলের মালা পরিয়ে অভ্যর্থনা জানান শাশুড়ি সৈয়দা ইকবাল মান্দ বানু।

দীর্ঘ সময় পর পরিবারের সদস্যদের কাছে পেয়ে উপস্থিত সবার চোখে আনন্দের অশ্রু দেখা যায়। এ সময় তারেক রহমানের পাশে ছিলেন স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান ও মেয়ে জাইমা রহমানসহ পরিবারের ঘনিষ্ঠ সদস্যরা।

বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) সকাল ১১টা ৩০ মিনিটে তারেক রহমানকে বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বিশেষ ফ্লাইট ‘বিজি-২০২’ রাজধানীর হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।

০৭: ০৪

দেশে ফিরেছে ‘সেলিব্রেটি বিড়াল’ জেবুও

দেশে ফিরেছে ‘সেলিব্রেটি বিড়াল’ জেবুও
বিমানবন্দরে তারেক রহমানের পারিবারিক পোষা বিড়াল জেবু। ছবি: বিএনপির ফেসবুক পেজ থেকে

দীর্ঘ ১৭ বছর পর দেশে ফিরেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। স্ত্রী জুবাইদা রহমান ও মেয়ে জাইমা রহমান রয়েছেন তার সঙ্গে। কেবল পরিবারের সদস্যরাই নয়, তার সঙ্গে দেশে ফিরেছে ‘জেবু’ও, যেটি মূলত তার পরিবারের পোষা বেড়াল।

বিভিন্ন সময় তারেক রহমান লাইভে থাকার সময় এ বিড়ালটিকে দেখা গেছে, যা রীতিমতো ‘সেলিব্রেটি বিড়ালে’র তকমা পেয়েছে অনলাইনে। তারেক রহমানের দেশে ফেরার খবর চূড়ান্ত হলে তার সঙ্গে ‘জেবু’ও ফিরবে কি না, তা নিয়ে অনলাইনে বেশ আলোচনাও হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) তারেক রহমান দেশে ফেরার পর বিএনপির ফেসবুক পেজ থেকে ‘জেবু’র একটি ছবি পোস্ট করা হয়েছে। ক্যাপশনে লেখা হয়েছে ‘দেশে ফিরেছে জেবু’।

ছবিতে দেখা যায়, হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দুজন ব্যক্তি একটি খাঁচায় করে জেবুকে নিয়ে যাচ্ছেন।

এর আগে বৃহস্পতিবার (২৫ ‍ডিসেম্বর) সকাল ১১টা ৪০ মিনিটে বিমানটি শাহজালালে অবতরণ করে। মিনিট দশেকের মধ্যেই বিমান থেকে সপরিবারে বেরিয়ে আসেন তারেক রহমান। অবস্থান করেন শাহজালালের ভিআইপি লাউঞ্জে।

দুপুর ১২টা ২০ মিনিট নাগাদ জুবাইদা রহমান ও জাইমা রহমান তাদের জন্য রাখা বিশেষ গাড়িতে করে বিমানবন্দর ত্যাগ করেন। ১২টা ৩০ মিনিট নাগাদ বিমানবন্দর থেকে বের হন তারেক রহমান। ১২টা ৪০ মিনিট নাগাদ বিশেষ বাসে করে তিনিও বিমানবন্দর ত্যাগ করেন।

০৬: ৪৫

শাহজালাল থেকে ঢাকার পথে তারেক রহমান

শাহজালাল থেকে ঢাকার পথে তারেক রহমান
বিশেষ বাসে তারেক রহমান, নেমেছেন ঢাকার পথে।

শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বেরিয়েছেন তারেক রহমান। বিশেষ বুলেট প্রুফ বাসে করে তিনি রওয়ানা দিয়েছেন তার জন্য আয়োজন করা সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের দিকে। এর মধ্য দিয়ে ১৭ বছর পর ঢাকায় পা রাখলেন বিএনপির এই ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান।

এর কিছু সময় আগে তার স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান ও মেয়ে জাইমা রহমান ভিন্ন একটি গাড়িতে করে রওয়ানা দিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) দুপুর ১২টা ২০ মিনিটে জুবাইদা রহমান ও জাইমা রহমান তাদের জন্য নির্ধারিত গাড়িতে ওঠেন। ১২টা ২৭ মিনিটে তাদের গাড়িটি বিমানবন্দর প্রাঙ্গণ ত্যাগ করে।

এর কিছুক্ষণ পর দুপুর ঠিক ১২টা ৩০ মিনিটে বিমানবন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জ থেকে গেট দিয়ে বেরিয়ে আসেন তারেক রহমান। বের হয়েই বিমানবন্দরের সামনে দাঁড়িয়ে খুলে ফেলেন জুতা-মোজা। খালি পায়ে তিনি স্পর্শ নেন দেশের মাটির। হাতে তুলে নেন দেশের মাটি।

দুপুর ১২টা ৪২ মিনিটে তাকে বহনকারী বাসটি শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করে। এ সময় বাসের একদম সামনেই অবস্থান করছিলেন তারেক রহমান। সবার প্রতি হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানাচ্ছিলেন তিনি।

০৬: ৩৮

জুতা খুলে দেশের মাটির স্পর্শ নিলেন তারেক রহমান

জুতা খুলে দেশের মাটির স্পর্শ নিলেন তারেক রহমান
শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের গেট দিয়ে বেরিয়েই জুতা খুলে খালি পায়ে দেশের মাটির স্পর্শ নেন তারেক রহমান।

সিলেট বিমানবন্দরে নেমেছেন ঘণ্টা দুয়েকেরও বেশি সময় আগে। নিরাপত্তা ও প্রটোকলসহ নানা কারণে বিমান থেকে নামতে পারেননি।

ঘণ্টা দুয়েক পরে অবশেষে তার ফ্লাইট অবতরণ করল ঢাকায়, শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে। সেখানেও নানা প্রটোকল, নানা আনুষ্ঠানিকতা। স্বজনরা এসেছেন স্বাগত জানাতে, এসেছেন বিএনপি নেতারাও।

সবকিছু পেরিয়ে শেষ পর্যন্ত যখন শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বহির্গমন দরজা দিয়ে বের হলেন মুক্ত বাতাসে, ঘড়ির কাঁটায় তখন দুপুর ১২টা ৩০ মিনিট। সামনে থাকা সবার প্রতি হাত নাড়লেন, অনেকের সঙ্গে কর্মরদন করলেন।

সামনে তখন অপেক্ষমাণ বিশেষ বাস, যেটাতে চড়ে তাকে নিয়ে যাওয়া হবে বিমানবন্দর থেকে। কিন্তু সে বাসের দিকে গেলেন না তারেক রহমান। পাশেই ছোট্ট একটু ঘাসের লন। সোজা চলে গেলেন সেখানে। একটু সামনের দিকে ঝুঁকে হাত দিয়ে স্পর্শ করলেন দেশের মাটি।

সবার নজর তখন তার দিকে। কিন্তু তার মনোযোগ যেন কোথাও নেই। খুলে ফেললেন জুতা-মোজা। খালি পায়ে স্পর্শ করলেন দেশের মাটি। অনেকক্ষণই থাকলেন সেখানে খালি পায়ে দাঁড়িয়ে। এরপর হাতে তুলে নিলেন এক মুঠো মাটি। হাতে ধরেই রাখলেন সেই মাটি।

১৭ বছর পর দেশের মাটি স্পর্শ করার সুযোগ পেয়ে যেন কিছুটা বিহ্বলই হয়ে পড়লেন তারেক রহমান। তার সে বিহ্বল মুহূর্তটিতে আবেগঘন হয়ে ওঠেন আশপাশের সবাইও।

০৬: ১২

বিএনপি নেতারা শাহজালালে, তারেক রহমানকে উষ্ণ আলিঙ্গন

বিএনপি নেতারা শাহজালালে, তারেক রহমানকে উষ্ণ আলিঙ্গন
শাহজালালের লাউঞ্জে তারেক রহমানের সঙ্গে আলিঙ্গন করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি: ভিডিও থেকে

তারেক রহমানকে স্বাগত জানাতে বিএনপির শীর্ষ নেতারা পৌঁঁছেছেন হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে। তারেক রহমান বিমানবন্দরের যে লাউঞ্জে অপেক্ষা করছেন, সেখানে দুপুর ১২টা নাগাদ পৌঁছেছেন তারা।

মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যরা উপস্থিত হয়েছেন শাহজালালে। তাদের মধ্যে রয়েছেন আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, নজরুল ইসলাম খান, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, মঈন খান, সেলিমা রহমান, সালাহউদ্দিন আহমেদ। রয়েছেন সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভীও।

০৬: ০০

দেশের মাটিতে পা রাখলেন তারেক রহমান

দেশের মাটিতে পা রাখলেন তারেক রহমান
বিমান থেকে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নেমেছেন তারেক রহমান। ছবি: ভিডিও থেকে

শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বিজি-২০২ ফ্লাইট। এর মাধ্যমে ১৭ বছর পর দেশে ফিরেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

বৃহস্পতিবার (২৫ ‍ডিসেম্বর) সকাল ১১টা ৪০ মিনিটে বিমানটি শাহজালালে অবতরণ করে। মিনিট দশেকের মধ্যেই বিমান থেকে বেরিয়ে আসেন তারেক রহমান। পা রাখেন বাংলাদেশের মাটিতে।

তারেক রহমানের সঙ্গে আছেন তার স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান ও মেয়ে জাইমা রহমান।

০৫: ৫৬

তারেক রহমানের অপেক্ষায় হাজারও নেতাকর্মী

তারেক রহমানের অপেক্ষায় হাজারও নেতাকর্মী
পূর্বাচল ৩০০ ফুট সড়কে তারেক রহমানকে স্বাগত জানাতে বিএনপির নেতাকর্মীদের ভিড়। ছবি: রাজনীতি ডটকম
০৫: ৪৭

তারেক রহমানের ফ্লাইট অবতরণ করল শাহজালালে

সিলেট থেকে ঢাকায় অবতরণ করেছে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে বহনকারী বিমান বাংলাদেশের ফ্লাইট। বিমানটি হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ল্যান্ড করে রানওয়েতে রয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) সকাল ১১টা ৪০ মিনিটে বিমানের ফ্লাইটটি স্পর্শ করে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রানওয়েতে।

বিএনপির সিনিয়র নেতারা তাকে বিমানবন্দরে স্বাগত জানাবেন। তারেক রহমানকে বরণ করে নিতে বিএনপির সারা দেশের হাজার হাজার নেতাকর্মী জড়ো হয়েছেন ঢাকায়।

০৫: ২৬

সিলেট থেকে ঢাকার পথে তারেক রহমান

সিলেট থেকে ঢাকার পথে তারেক রহমান
বিমানের ফ্লাইটে স্ত্রী জুবাইদা রহমান ও মেয়ে জাইমা রহমানের সঙ্গে তারেক রহমান। ছবি: জাইমা রহমানের ফেসবুক থেকে

সিলেটে ফ্লাইট অবতরণের মাধ্যমে ১৭ বছর পর দেশের মাটিতে পা রেখেছিলেন তারেক রহমান। এবার সিলেট থেকে রওয়ানা দিলেন ঢাকার পথে। ২০০৮ সালে ছেড়ে যাওয়ার পর এই প্রথম তিনি ফিরবেন আবার ঢাকায়।

বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) সকাল সোয়া ১১টার দিকে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিমান বাংলাদেশের বিজি-২০২ ফ্লাইটটি ঢাকার পথে রওয়ানা দেয়।

ঢাকায় এ ফ্লাইট অবতরণের কথা রয়েছে দুপুর পৌনে ১২টায়। বিএনপির সিনিয়র নেতারা তাকে বিমানবন্দরে স্বাগত জানাবেন।

তারেক রহমানকে বরণ করে নিতে বিএনপির সারা দেশের হাজার হাজার নেতাকর্মী জড়ো হয়েছেন ঢাকায়। গতকাল বুধবার মধ্যরাতেই ৩০০ ফুট সড়কে সংবর্ধনা মঞ্চের স্থান কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। এখনো বিমানবন্দর থেকে থেকে শুরু করে সংবর্ধনাস্থল পর্যন্ত সড়কে রয়েছে নেতাকর্মীদের ঢল।

০৫: ২৬

এক নজরে তারেক রহমানের দেশে ফেরার যাত্রা

  • বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) বাংলাদেশ সময় দিবাগত রাত সোয়া ১২টার দিকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দর থেকে রওয়ানা দেন তারেক রহমান।
  • দেশের পথে যাত্রায় তারেক রহমানের সঙ্গী স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান ও মেয়ে জাইমা রহমান।
  • হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তারেক রহমানকে স্বাগত জানাবেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতারা।
  • ঢাকায় নামার পর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মা খালেদা জিয়াকে দেখতে যাবেন তারেক রহমান।
  • তারেক রহমানের জন্য ৩৬ জুলাই এক্সপ্রেসওয়ে তথা পূর্বাচলের ৩০০ ফিট সড়কে সংবর্ধনার আয়োজন করেছে বিএনপি।
  • সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তারেক রহমান থাকবেন প্রধান অতিথি। সংবর্ধনায় তিনি একাই বক্তব্য দেবেন বলে জানিয়েছে বিএনপি সূত্র।