নতুন কর্মসূচি ঘোষণা হেফাজতে ইসলামের

প্রতিবেদক, রাজনীতি ডটকম
আপডেট : ০৩ মে ২০২৫, ১৪: ৫৭

নারীদের অধিকার আদায় ও নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। আজ ঢাকায় সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মহাসমাবেশ এ কর্মসূচির ঘোষণা দেন হেফাজতের মহাসচিব সাজিদুর রহমান।

তিনি বলেন, নারীর ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে তিন মাসের মধ্যে বিভাগীয় সম্মেলন করা হবে। ২৩ মে বাদ জুমা চার দফা দাবিতে সারাদেশে বিক্ষোভ মিছিল করা হবে।

সমাবেশ থেকে ১২ দফা দাবি তুলে ধরেন সাজিদুর রহমান।

এগুলো হলো:

১. নারীবিষয়ক সংস্কার কমিশন ও তাদের কোরআনবিরোধী প্রতিবেদন অবিলম্বে বাতিলপূর্বক আলেম-ওলামার পরামর্শক্রমে ধর্মপ্রাণ বৃহত্তর নারীসমাজের প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত করে নতুন কমিশন গঠন করতে হবে। নারীর সামাজিক উন্নয়নে পশ্চিমা মূল্যবোধ নয়, বরং আমাদের নিজস্ব সামাজিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধ, ইতিহাস ও ঐতিহ্যের আলোকেই বাস্তবমুখী সংস্কারের দিকে যেতে হবে।

২. সংবিধানে ‘আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস’ পুনঃস্থাপন করতে হবে এবং ধর্মপ্রাণ গণমানুষের ঈমান-আমল রক্ষার্থে ‘বহুত্ববাদ’ নামক আত্মঘাতী ধারণা থেকে সরকারকে সরে আসতে হবে। এ ছাড়া ‘লিঙ্গ পরিচয়’, ‘লিঙ্গ বৈচিত্র্য’, ‘লিঙ্গ সমতা’, ‘লিঙ্গ বৈষম্য’, ‘তৃতীয় লিঙ্গ’ (বা থার্ড জেন্ডার), ‘অন্যান্য লিঙ্গ’ ইত্যাদি শব্দের মারপ্যাঁচে, ‘কাউকে বাদ দিয়ে নয়’ এমন ধোঁয়াশাপূর্ণ শ্লোগানের অন্তরালে এবং অসংজ্ঞায়িত ‘অন্তর্ভুক্তিমূলক’ (বা ‘ইনক্লুসিভ’) ইত্যাদি শব্দের আড়ালে এলজিবিটি ও ট্রান্সজেন্ডারবাদের স্বীকৃতি ও অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে সমাজবিধ্বংসী ও ধর্মবিরুদ্ধ সমকামী-বান্ধব সমাজ প্রতিষ্ঠার পাঁয়তারা বন্ধ করতে হবে।

৩. আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (সা.)-এর নামে কটূক্তি ও বিষোদ্‌গার বন্ধে সর্বোচ্চ শাস্তির আইন করতে হবে। এছাড়া গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের পক্ষ থেকে ধর্মা অবমাননার শাস্তি সংক্রান্ত আইনি ধারাগুলো বাতিলের সুপারিশ বাদ দিতে হবে। এ ব্যাপারে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।

৪. চট্টগ্রামে উগ্র হিন্দুত্ববাদীদের হাতে শহিদ সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যার উসকানিদাতা চিন্ময় দাসের জামিন প্রত্যাহারপূর্বক তার দৃষ্টান্তমূলক বিচার করতে হবে।

৫. ফ্যাসিস্ট হাসিনার শাসনামলে সারাদেশে প্রতিবাদী আলেম-ওলামা, মাদ্রাসা শিক্ষার্থী ও ইসলামমনা তরুণদের বিরুদ্ধে হওয়া মিথ্যা ও বানোয়াট মামলাগুলো অতিসত্বর প্রত্যাহার বা নিষ্পত্তি করতে হবে অন্তর্বর্তী সরকারকে। সেইসঙ্গে ‘জঙ্গি নাটক’ বা ‘জঙ্গি কার্ড’ খেলে বাংলাদেশের ইসলামপন্থি ও আলেম-ওলামার ওপর যারা গত পনেরো বছর নির্যাতন ও গুম-খুন চালিয়েছে, তাদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করতে হবে।

৬. গাজার মুসলমানদের ওপর অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইলের চলমান গণহত্যা ও ভারতে সংখ্যালঘু মুসলিম নির্যাতনের বিরুদ্ধে আমাদের গণ-অভ্যুত্থানের সরকারকে কূটনৈতিকভাবে আরও উচ্চকণ্ঠ হতে হবে এবং দেশের সর্বস্তরে জনতাকে ইসরাইলি ও ভারতীয় পণ্য বয়কট করতে হবে।

৭. শাপলা ও জুলাই গণহত্যার বিচারে গতি আনতে ট্রাইব্যুনালের সক্ষমতা আরো বৃদ্ধি করতে হবে। জাতীয় নির্বাচনের আগেই ফ্যাসিস্ট হাসিনা ও তার চিহ্নিত দোসরদের বিচার সম্পন্ন করতে হবে।

৮. গণহত্যাকারী ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগকে সন্ত্রাসী দল হিসেবে ঘোষণা পূর্বক বিচার নিশ্চিত করতে হবে। দলটির বিচার সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত তাদের সব ধরনের কার্যক্রম ও তৎপরতা নিষিদ্ধ করতে হবে।

৯. শিক্ষার সর্বস্তরে ইসলামি শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করতে হবে।

১০. রাখাইনকে 'মানবিক করিডোর' প্রদানে সরকারের সম্মত হওয়া সম্পূর্ণরূপে আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত। আমাদের ভৌগোলিক নিরাপত্তার স্বার্থে এ অদূরদর্শী সিদ্ধান্ত থেকে সরকারকে ফিরে আসতে হবে।

১১. চট্টগ্রামের পার্বত্য অঞ্চলে ভিনদেশি মিশনারিদের অপতৎপরতা ও দৌরাত্ম্য বন্ধ করতে সরকারকে উদ্যোগ নিতে হবে। বাংলাদেশের ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষায় সেখানে নিরাপত্তা সংকট কমাতে আলেমসমাজের দাওয়াতি কার্যক্রমকে আরো নিরাপদ ও সুযোগ করে দিতে হবে। সেখানে সামরিক নিরাপত্তাব্যবস্থা আরো বৃদ্ধি করা ছাড়াও পাহাড়ি বাঙালি ও নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীগুলোর মধ্যে সামাজিক ও রাজনৈতিক সমঝোতা ও স্থিতি নির্মাণে রাষ্ট্রীয় তৎপরতা আরও বাড়াতে হবে।

১২. কাদিয়ানীদের রাষ্ট্রীয়ভাবে 'অমুসলিম' ঘোষণা করতে হবে এবং সাধারণ মুসলমানদের ঈমান-আকিদা রক্ষার্থে এদের অপতৎপরতা বন্ধ করতে হবে।

Ad
Ad
ad
ad
ad

রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

কয়েকদিনের মধ্যে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হবে: প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা তিতুমীর

তিতুমীর বলেন, দেশে মোট গ্যাসের চাহিদা ৩৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট (এমএমসিএফটি)। বর্তমানে সরবরাহ রয়েছে ২৬শ থেকে ২৭শ এমএমসিএফটি। এর মধ্যে ১৬শ এমএমসিএফটি আসে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে এবং এলএনজি থেকে পাওয়া যায় ১ হাজার এমএমসিএফটি।

১ দিন আগে

সঠিক সময়ে প্রধানমন্ত্রীর দিল্লি সফর— ‘আত্মবিশ্বাসী’ ভারতীয় দূত

দুই দেশের সম্পর্ক প্রসঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, ‘বাংলাদেশ ও ভারতের ইচ্ছা একই, তা হলো সত্যিকারের ভালো প্রতিবেশী হিসেবে থাকা। আমরা সবসময় বলি, কেবল বর্ডার শেয়ার করি না, শেয়ার করি একই স্বপ্ন। দুটো দেশই স্বাধীন, সার্বভৌম ও প্রাণবন্ত গণতন্ত্রের ওপর প্রতিষ্ঠিত।’

১ দিন আগে

রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ায় অর্থনীতি-অবকাঠামো-ব্যবস্থাপনায় বাড়তি চাপ: প্রধানমন্ত্রী

সাক্ষাতে সাসাকাওয়াকে বাংলাদেশ সফরের জন্য ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের মানবিক কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করেন তিনি। রোহিঙ্গা সংকট বাংলাদেশের অন্যতম বড় সংকট উল্লেখ করে তা মোকাবিলায় বাংলাদেশের পাশে থাকার জন্য জাপান সরকারকে ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী।

১ দিন আগে

‘সুসময়ের চূড়া’য় বসেও যে ৫ চ্যালেঞ্জ জামায়াতের সামনে

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, চ্যালেঞ্জগুলো একে অন্যের সঙ্গে যুক্ত। ঐতিহাসিক ভাবমূর্তি সংকট দলটির আদর্শিক অবস্থানকে অস্পষ্ট করে তুলেছে। সে অস্পষ্টতা তাদের মাঠের রাজনীতিকেই কেবল নয়, জোটগত রাজনীতিকেও কঠিন করেছে। এর সূত্র ধরেই ভাঙনের মুখেও রয়েছে তাদের নেতৃত্বাধীন জোট।

২ দিন আগে
Advertisement