বিএনপি বিভাজনের রাজনীতি করতে চায় না: মির্জা ফখরুল

প্রতিবেদক, রাজনীতি ডটকম
আপডেট : ০৪ জুন ২০২৬, ১৮: ৫৮
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ফাইল ছবি

দেশকে এগিয়ে নিতে বিএনপি কোনো নতুন বিভাজনের রাজনীতি করতে চায় না বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, বিএনপি উদার গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে এবং সেই গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে চায়। দেশের স্বার্থকেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বিএনপি এগোচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) রাজধানীর শান্তিনগরে প্রেস ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশে (পিআইবি) শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, বাংলাদেশের জন্মের যে আকাঙ্ক্ষা ও চেতনা, সেটিকেই আরও দৃঢ় ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠা করতে চায় বিএনপি। এ কারণেই দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগান দিয়েছেন।

মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণ করে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ১৯৭১ সালের যুদ্ধ ছিল বাংলাদেশের মানুষের অস্তিত্বের লড়াই। সেই যুদ্ধের ভয়াবহতা তিনি খুব কাছ থেকে দেখেছেন। পাকিস্তানি বাহিনীর হত্যাযজ্ঞ, গ্রাম জ্বালিয়ে দেওয়া এবং নারীদের ওপর নির্যাতনের ঘটনা প্রত্যক্ষ করার অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে অন্য কোনো ঘটনার তুলনা করা যায় না।

তিনি বলেন, ১৯৭০ সালের নির্বাচনে মানুষ কোনো রাজনৈতিক দলের প্রতি আনুগত্য থেকে নয়, বরং নিজেদের আকাঙ্ক্ষা ও অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশা থেকে ভোট দিয়েছিল। তখন জনগণের প্রধান লক্ষ্য ছিল পাকিস্তানি শাসন থেকে মুক্ত হওয়া।

জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক ভূমিকার প্রসঙ্গ তুলে মির্জা ফখরুল বলেন, স্বাধীনতার পর একটি বিধ্বস্ত রাষ্ট্র ও অর্থনীতির দায়িত্ব নিয়েছিলেন জিয়াউর রহমান। তিনি বিভক্তির পরিবর্তে জাতীয় ঐক্যের রাজনীতি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেন এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক শক্তিকে এক ছাতার নিচে আনার উদ্যোগ নেন। পরবর্তীতে বিএনপি গঠনের মধ্য দিয়ে জাতীয় পুনর্মিলনের সেই প্রচেষ্টাকে আরও এগিয়ে নেওয়া হয়।

তিনি দাবি করেন, মুক্তিযুদ্ধের ঘোষণা দিয়ে জিয়াউর রহমান দেশের মানুষকে স্বাধীনতার সংগ্রামে উদ্বুদ্ধ করেছিলেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশের মানুষের জন্য একটি স্বতন্ত্র জাতীয় পরিচয়ের ভিত্তি নির্মাণ করেছিলেন, যা পরবর্তীতে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের ধারণায় প্রতিফলিত হয়েছে।

মির্জা ফখরুল বলেন, জিয়াউর রহমান কোনো দেশের সঙ্গে বৈরিতা নয়, বরং সবার সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলার নীতি অনুসরণ করেছিলেন। বিদেশি প্রভাব ও আধিপত্যের বাইরে থেকে বাংলাদেশকে আত্মনির্ভরশীল রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলাই ছিল তাঁর লক্ষ্য।

দেশের পররাষ্ট্রনীতি ও জাতীয় মনোভাব ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি ক্রিকেটের উদাহরণ টেনে বলেন, পাকিস্তান কিংবা ভারতের বিপক্ষে খেলায় বাংলাদেশি সমর্থকেরা নিজেদের দেশকেই সমর্থন করে। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের মানুষ যে স্বাধীন ও স্বতন্ত্র অবস্থানকে গুরুত্ব দেয়, সেটিই প্রতিফলিত হয়।

সাম্প্রতিক নির্বাচন প্রসঙ্গে বিএনপির মহাসচিব বলেন, নির্বাচনকে ঘিরে বিভিন্ন মহলে জামায়াতে ইসলামীর উত্থান নিয়ে আলোচনা ছিল। তবে শেষ পর্যন্ত ভোটাররা তাদের সিদ্ধান্তের মাধ্যমে বিএনপির পক্ষেই রায় দিয়েছেন।

পিআইবির মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন ব্রেইনের নির্বাহী পরিচালক ড. সফিকুর রহমান, বাংলাদেশ ডিফেন্স জার্নালের সম্পাদক আবু রূশ্দ, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজের সভাপতি মেজর জেনারেল (অব.) এ এন এম মুনিরুজ্জামান এবং অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. মুশতাক খানসহ অন্যরা।এখানে বক্তব্যগুলোকে সরাসরি কপি না করে রিপোর্টারের ভাষায় রিরাইট করা হয়েছে, যাতে এটি সংবাদপত্রের রিপোর্টের মতো পড়ে।

রাজনীতি/আরআইআর

ad
ad

রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগই যথেষ্ট নয়, গ্রেপ্তার দাবি মামুনুল হকের

বিবৃতিতে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর মাওলানা মামুনুল হক ও মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ বলেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন (চুপ্পু)-এর পদত্যাগ অনেক আগেই হওয়া উচিত ছিল।

১ দিন আগে

বিএনপি পরিকল্পনামাফিক রাষ্ট্রপতিকে পদত্যাগ করিয়েছে: নাহিদ ইসলাম

নাহিদ ইসলাম বলেন, শারীরিক অসুস্থতার অজুহাতে সাহাবুদ্দিনকে সেফ এক্সিট দেওয়া যাবে না। তিনি যাতে বিদেশে পালিয়ে যেতে না পারেন, সে জন্য সরকারকে সজাগ থাকতে হবে এবং অনতিবিলম্বে তাকে গ্রেপ্তার করতে হবে।

১ দিন আগে

সদ্য সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনকে গ্রেপ্তার করে বিচারের দাবি এনসিপির

১ দিন আগে

রাষ্ট্রপতির পদত্যাগে স্বৈরাচারের কালো ছায়া সরে গেছে: জামায়াত আমির

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম দাবি ছিল, সাহাবুদ্দিন চুপ্পু রাষ্ট্রপতির পদে থাকবেন না। তিনি একসময় স্পষ্টভাবে বলেছিলেন, শেখ হাসিনা তার কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছিলেন। পরে সেই বক্তব্য অস্বীকার করে মিথ্যাচার করেছেন, যা রাষ্ট্রপতি হিসেবে নেয়া শপথের লঙ্ঘন। দেরিতে হলেও জাতির ঘাড় থেকে ফ্যাসি

১ দিন আগে