
ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম

দেশের সবচেয়ে বড় ও ঐতিহ্যবাহী নারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ইডেন কলেজে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধের দাবিতে আন্দোলন ঘিরে মুখোমুখি অবস্থান নিয়েছে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবির।
ক্ষমতাসীন দল বিএনপির ছাত্রসংগঠন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের দাবি, ছাত্রশিবিরের মদতেই ‘ছাত্ররাজনীতি বন্ধে’র ইস্যু সামনে আনা হচ্ছে। তাদের অভিযোগ, শিবির-সমর্থকরা দলীয় পরিচয় আড়াল করে ক্যাম্পাসে প্রভাব বিস্তারের কৌশল হিসেবে এ দাবি উসকে দিচ্ছে।
অন্যদিকে সংসদের বিরোধী দল জামায়াতের ছাত্রসংগঠন ইসলামী ছাত্রশিবিরের বক্তব্য, সাম্প্রতিক সময়ে ছাত্রদলের ‘বিভিন্ন অপকর্ম’ ঘিরে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে, তারই প্রতিফলন হিসেবে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধের দাবি উঠছে। তবে সংগঠনটি বলছে, তারা নিজেরা ছাত্ররাজনীতি বন্ধের পক্ষে নয়।
শনিবার (৯ মে) রাতে ইডেন কলেজের ছাত্রীদের একাংশ ক্যাম্পাসের মধ্যে বিক্ষোভ করেন। এর আগে গত মঙ্গলবার তিতুমীর কলেজের নারী শিক্ষার্থীদের একটি দলও আবাসিক হলে রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবিতে হলের তালা ভেঙে বিক্ষোভ করেছিলেন। এর মধ্য দিয়ে ক্যাম্পাসগুলোতে ‘ছাত্ররাজনীতি বন্ধ’র বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসছে।
ছাত্রীরা জানান, শনিবার রাত ১১টার দিকে ঢাকার আজিমপুর এলাকায় অবস্থিত ইডেন মহিলা কলেজের ক্যাম্পাসের ভেতরে বিক্ষোভ শুরু করেন একদল ছাত্রী। একপর্যায়ে তারা হলের প্রধান গেটের তালা ভেঙে ফেলেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই তাদের বিক্ষোভের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
ভিডিওতে দেখা যায়, একদল শিক্ষার্থী জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করছেন। কোনো কোনো ভিডিওতে বিক্ষোভে অংশ নেওয়াদের মধ্যে কয়েকজনকে সেখানে থাকা ছাত্রদলের পোস্টার ও ব্যানার ছিঁড়ে ফেলতে দেখা গেছে।
ইডেন কলেজের এক শিক্ষার্থী বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন, কলেজের ছয়টি হল থেকেই ছাত্রীরা বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন। তাদের দাবি একটাই, ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতি বন্ধ করা হোক।
ওই শিক্ষার্থী বলেন, “আমাদের কলেজের গেটের সামনে ‘রাজনীতিমুক্ত’ শব্দগুলো লেখা ছিল। শনিবার সন্ধ্যায় সেটি ছাত্রদলের নেতারা মুছে ফেললে উত্তেজনা তৈরি হয়। এর জের ধরে বিভিন্ন হল থেকে কিছু ছাত্রী এসে বিক্ষোভ শুরু করে।”
পরে রাতে কলেজের শিক্ষকরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ছাত্রীদের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করেন। এ সময় শিক্ষার্থীরা বহু বছর ধরে হলে আছেন— কলেজের এমন কয়েকজন ছাত্রদল নেত্রীর হলে থাকার বৈধতা নিয়ে আপত্তি জানান। একই সঙ্গে তারা ইডেন কলেজের ক্যাম্পাসের ভেতরে ছাত্ররাজনীতি বন্ধের দাবি জানান।
এ ঘটনার কথা ছড়িয়ে পড়লে ছাত্রদলের নেতারা তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান। ফেসবুক পোস্টে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন লিখেছেন, ‘ছাত্ররাজনীতিতে অংশগ্রহণের সুযোগ, ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা, রাজনৈতিক মতপ্রকাশের স্বাধীনতা একজন শিক্ষার্থীর মৌলিক অধিকার।’

নাছির উদ্দীন আরও লিখেছেন, ‘এর আগে আমরা দেখেছি, গুপ্ত সংগঠন শিবির তাদের গুপ্ত শাখার কর্মীদের লেলিয়ে দিয়ে ছাত্ররাজনীতি বন্ধ করার জন্য বিভিন্ন ক্যাম্পাসে মব তৈরি করেছিল। যারা এই মবের নেতৃত্ব দিয়েছে, পরে তারাই গুপ্ত সংগঠনের শীর্ষ নেতা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। শিবির গুপ্ত রাজনীতির করে ছাত্ররাজনীতিকে দুর্গন্ধময় করে ফেলেছে।’
ছাত্ররাজনীতি বন্ধের এ দাবিতে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানিয়ে নাছির লিখেছিলেন, ‘কলেজ প্রশাসনের কাছে দাবি জানাচ্ছি, আপনারা সবার রাজনৈতিক অধিকার ও সুরক্ষা নিশ্চিত করুন। আপনারা শিবিরের কূটচালের সামনে মাথা নত করবেন না। ধোঁকাবাজির শিকার হবেন না। অন্যথায়, সমগ্র দেশ থেকে গুপ্ত রাজনীতির অবসান ঘটানো হবে।’
ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকেও জবাব আসতে দেরি হয়নি। ফেসবুকে ছাত্রশিবিরের সভাপতি নূরুল ইসলাম সাদ্দাম লিখেছেন, “বিভিন্ন ক্যাম্পাসে আবার রাজনীতিমুক্ত ক্যাম্পাসের স্লোগান উঠেছে। এর দায় সম্পূর্ণ ছাত্রদলকেই নিতে হবে। আর মতের সঙ্গে না মিললেই ‘গুপ্ত’ ট্যাগিং খেলার এক অপরিণামদর্শী রাস্তা তারা বেছে নিয়েছে। এই ট্যাগিং পলিটিক্সের কারণে তাদের কত বড় পতন নেমে আসতে পারে, তা তারা চিন্তাও করছে না।”
এর আগে গত মাসেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বাংলাদেশের কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ক্ষমতাসীন ছাত্র সংগঠন ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্র শিবিরের মধ্যে হামলা, সংঘর্ষ ও অস্থিরতার ঘটনা ঘটে। তখনো উভয় সংগঠন একে অন্যের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো এবং বিভিন্ন কৌশলে ক্যাম্পাস ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ করে।
ছাত্রদল সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির বিবিসি বাংলাকে বলেন, ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পতনের পর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ‘ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধে’র দাবিতে মানববন্ধন হয়, যেসব কর্মসূচির নেতৃত্বে থাকা অনেকেই পরে শিবিরের নেতৃত্বে এসেছে।
নাছির বলেন, “তিতুমীর কলেজ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী মেডিকেলসহ অনেক জায়গায় এটি ঘটেছে। তিতুমীরে যিনি আন্দোলন করেছেন, তিনি সেখানকার শিবিরের সভাপতি হয়েছেন। রাজশাহী মেডিকেলে ‘নো পলিটিক্স ইন ক্যাম্পাস’ আন্দোলনের নেতা হয়েছেন সেখানকার শিবিরের সভাপতি। এখন ইডেনেও সেই একই খেলা শুরু হয়েছে।”
পালটা দাবি তুলে ছাত্রদলকে দোষারোপ করে ইসলামি ছাত্রশিবিরের সভাপতি নূরুল ইসলাম সাদ্দাম বিবিসি বাংলাকে বলেন, ছাত্রদলের ‘নোংরা রাজনীতি’র জন্যই শিক্ষার্থীরা রাজনীতি বিমুখ হয়ে যাচ্ছে। ইডেনে ১৬/১৭ বছর ধরে তাদের নেতারা সিট দখল করে রেখেছে। সেগুলো শিক্ষার্থীদের ক্ষুব্ধ করে তুলেছে। সেখানে শিবির নেই। আর আমরা চাই ছাত্র রাজনীতি থাকুক। তবে একটা কোড অব কন্টাক্ট থাকতে হবে যে ক্যাম্পাসের ছাত্র রাজনীতি কেমন হবে।
ছাত্রশিবিরের সভাপতির দাবি, ছাত্রদলের ‘নোংরা রাজনীতি’র খেসারত পুরো ছাত্ররাজনীতির ওপর এসে পড়ছে এবং এ জন্য শিক্ষার্থীরা ছাত্র রাজনীতি নিয়ে ভীত হয়ে পড়েছে।
নূরুল ইসলাম সাদ্দাম অভিযোগ করে বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের জন্য কাজ না করে চাঁদাবাজি, স্ট্যান্ড দখল, টেন্ডারবাজি, সন্ত্রাস, দখলদারি ও নিষিদ্ধ লীগকে কমিটিতে পুনর্বাসনসহ সারা দেশে কমিটি দেওয়াকে কেন্দ্র করে চলমান সংঘর্ষের কারণে শিক্ষার্থীরা আবার আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে। এর ফলে বিভিন্ন ক্যাম্পাসে আবার রাজনীতিমুক্ত ক্যাম্পাসের স্লোগান উঠেছে। এর দায় সম্পূর্ণ ছাত্রদলকেই নিতে হবে।’

দেশের সবচেয়ে বড় ও ঐতিহ্যবাহী নারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ইডেন কলেজে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধের দাবিতে আন্দোলন ঘিরে মুখোমুখি অবস্থান নিয়েছে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবির।
ক্ষমতাসীন দল বিএনপির ছাত্রসংগঠন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের দাবি, ছাত্রশিবিরের মদতেই ‘ছাত্ররাজনীতি বন্ধে’র ইস্যু সামনে আনা হচ্ছে। তাদের অভিযোগ, শিবির-সমর্থকরা দলীয় পরিচয় আড়াল করে ক্যাম্পাসে প্রভাব বিস্তারের কৌশল হিসেবে এ দাবি উসকে দিচ্ছে।
অন্যদিকে সংসদের বিরোধী দল জামায়াতের ছাত্রসংগঠন ইসলামী ছাত্রশিবিরের বক্তব্য, সাম্প্রতিক সময়ে ছাত্রদলের ‘বিভিন্ন অপকর্ম’ ঘিরে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে, তারই প্রতিফলন হিসেবে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধের দাবি উঠছে। তবে সংগঠনটি বলছে, তারা নিজেরা ছাত্ররাজনীতি বন্ধের পক্ষে নয়।
শনিবার (৯ মে) রাতে ইডেন কলেজের ছাত্রীদের একাংশ ক্যাম্পাসের মধ্যে বিক্ষোভ করেন। এর আগে গত মঙ্গলবার তিতুমীর কলেজের নারী শিক্ষার্থীদের একটি দলও আবাসিক হলে রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবিতে হলের তালা ভেঙে বিক্ষোভ করেছিলেন। এর মধ্য দিয়ে ক্যাম্পাসগুলোতে ‘ছাত্ররাজনীতি বন্ধ’র বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসছে।
ছাত্রীরা জানান, শনিবার রাত ১১টার দিকে ঢাকার আজিমপুর এলাকায় অবস্থিত ইডেন মহিলা কলেজের ক্যাম্পাসের ভেতরে বিক্ষোভ শুরু করেন একদল ছাত্রী। একপর্যায়ে তারা হলের প্রধান গেটের তালা ভেঙে ফেলেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই তাদের বিক্ষোভের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
ভিডিওতে দেখা যায়, একদল শিক্ষার্থী জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করছেন। কোনো কোনো ভিডিওতে বিক্ষোভে অংশ নেওয়াদের মধ্যে কয়েকজনকে সেখানে থাকা ছাত্রদলের পোস্টার ও ব্যানার ছিঁড়ে ফেলতে দেখা গেছে।
ইডেন কলেজের এক শিক্ষার্থী বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন, কলেজের ছয়টি হল থেকেই ছাত্রীরা বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন। তাদের দাবি একটাই, ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতি বন্ধ করা হোক।
ওই শিক্ষার্থী বলেন, “আমাদের কলেজের গেটের সামনে ‘রাজনীতিমুক্ত’ শব্দগুলো লেখা ছিল। শনিবার সন্ধ্যায় সেটি ছাত্রদলের নেতারা মুছে ফেললে উত্তেজনা তৈরি হয়। এর জের ধরে বিভিন্ন হল থেকে কিছু ছাত্রী এসে বিক্ষোভ শুরু করে।”
পরে রাতে কলেজের শিক্ষকরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ছাত্রীদের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করেন। এ সময় শিক্ষার্থীরা বহু বছর ধরে হলে আছেন— কলেজের এমন কয়েকজন ছাত্রদল নেত্রীর হলে থাকার বৈধতা নিয়ে আপত্তি জানান। একই সঙ্গে তারা ইডেন কলেজের ক্যাম্পাসের ভেতরে ছাত্ররাজনীতি বন্ধের দাবি জানান।
এ ঘটনার কথা ছড়িয়ে পড়লে ছাত্রদলের নেতারা তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান। ফেসবুক পোস্টে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন লিখেছেন, ‘ছাত্ররাজনীতিতে অংশগ্রহণের সুযোগ, ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা, রাজনৈতিক মতপ্রকাশের স্বাধীনতা একজন শিক্ষার্থীর মৌলিক অধিকার।’

নাছির উদ্দীন আরও লিখেছেন, ‘এর আগে আমরা দেখেছি, গুপ্ত সংগঠন শিবির তাদের গুপ্ত শাখার কর্মীদের লেলিয়ে দিয়ে ছাত্ররাজনীতি বন্ধ করার জন্য বিভিন্ন ক্যাম্পাসে মব তৈরি করেছিল। যারা এই মবের নেতৃত্ব দিয়েছে, পরে তারাই গুপ্ত সংগঠনের শীর্ষ নেতা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। শিবির গুপ্ত রাজনীতির করে ছাত্ররাজনীতিকে দুর্গন্ধময় করে ফেলেছে।’
ছাত্ররাজনীতি বন্ধের এ দাবিতে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানিয়ে নাছির লিখেছিলেন, ‘কলেজ প্রশাসনের কাছে দাবি জানাচ্ছি, আপনারা সবার রাজনৈতিক অধিকার ও সুরক্ষা নিশ্চিত করুন। আপনারা শিবিরের কূটচালের সামনে মাথা নত করবেন না। ধোঁকাবাজির শিকার হবেন না। অন্যথায়, সমগ্র দেশ থেকে গুপ্ত রাজনীতির অবসান ঘটানো হবে।’
ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকেও জবাব আসতে দেরি হয়নি। ফেসবুকে ছাত্রশিবিরের সভাপতি নূরুল ইসলাম সাদ্দাম লিখেছেন, “বিভিন্ন ক্যাম্পাসে আবার রাজনীতিমুক্ত ক্যাম্পাসের স্লোগান উঠেছে। এর দায় সম্পূর্ণ ছাত্রদলকেই নিতে হবে। আর মতের সঙ্গে না মিললেই ‘গুপ্ত’ ট্যাগিং খেলার এক অপরিণামদর্শী রাস্তা তারা বেছে নিয়েছে। এই ট্যাগিং পলিটিক্সের কারণে তাদের কত বড় পতন নেমে আসতে পারে, তা তারা চিন্তাও করছে না।”
এর আগে গত মাসেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বাংলাদেশের কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ক্ষমতাসীন ছাত্র সংগঠন ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্র শিবিরের মধ্যে হামলা, সংঘর্ষ ও অস্থিরতার ঘটনা ঘটে। তখনো উভয় সংগঠন একে অন্যের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো এবং বিভিন্ন কৌশলে ক্যাম্পাস ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ করে।
ছাত্রদল সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির বিবিসি বাংলাকে বলেন, ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পতনের পর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ‘ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধে’র দাবিতে মানববন্ধন হয়, যেসব কর্মসূচির নেতৃত্বে থাকা অনেকেই পরে শিবিরের নেতৃত্বে এসেছে।
নাছির বলেন, “তিতুমীর কলেজ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী মেডিকেলসহ অনেক জায়গায় এটি ঘটেছে। তিতুমীরে যিনি আন্দোলন করেছেন, তিনি সেখানকার শিবিরের সভাপতি হয়েছেন। রাজশাহী মেডিকেলে ‘নো পলিটিক্স ইন ক্যাম্পাস’ আন্দোলনের নেতা হয়েছেন সেখানকার শিবিরের সভাপতি। এখন ইডেনেও সেই একই খেলা শুরু হয়েছে।”
পালটা দাবি তুলে ছাত্রদলকে দোষারোপ করে ইসলামি ছাত্রশিবিরের সভাপতি নূরুল ইসলাম সাদ্দাম বিবিসি বাংলাকে বলেন, ছাত্রদলের ‘নোংরা রাজনীতি’র জন্যই শিক্ষার্থীরা রাজনীতি বিমুখ হয়ে যাচ্ছে। ইডেনে ১৬/১৭ বছর ধরে তাদের নেতারা সিট দখল করে রেখেছে। সেগুলো শিক্ষার্থীদের ক্ষুব্ধ করে তুলেছে। সেখানে শিবির নেই। আর আমরা চাই ছাত্র রাজনীতি থাকুক। তবে একটা কোড অব কন্টাক্ট থাকতে হবে যে ক্যাম্পাসের ছাত্র রাজনীতি কেমন হবে।
ছাত্রশিবিরের সভাপতির দাবি, ছাত্রদলের ‘নোংরা রাজনীতি’র খেসারত পুরো ছাত্ররাজনীতির ওপর এসে পড়ছে এবং এ জন্য শিক্ষার্থীরা ছাত্র রাজনীতি নিয়ে ভীত হয়ে পড়েছে।
নূরুল ইসলাম সাদ্দাম অভিযোগ করে বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের জন্য কাজ না করে চাঁদাবাজি, স্ট্যান্ড দখল, টেন্ডারবাজি, সন্ত্রাস, দখলদারি ও নিষিদ্ধ লীগকে কমিটিতে পুনর্বাসনসহ সারা দেশে কমিটি দেওয়াকে কেন্দ্র করে চলমান সংঘর্ষের কারণে শিক্ষার্থীরা আবার আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে। এর ফলে বিভিন্ন ক্যাম্পাসে আবার রাজনীতিমুক্ত ক্যাম্পাসের স্লোগান উঠেছে। এর দায় সম্পূর্ণ ছাত্রদলকেই নিতে হবে।’

সাংবাদিকদের সঙ্গে এ মতবিনিময় সভায় দেশের সমসাময়িক রাজনৈতিক পরিস্থিতি, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং সরকারের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনাসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। তবে অনুষ্ঠান শেষে বিশ্বকাপ ফুটবল নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সংক্ষিপ্ত মন্তব্য সাংবাদিকদের মধ্যে বেশ আগ্রহ ও হাস্যরসের জন্ম দেয়।
৪ দিন আগে
বিএনপির মহাসচিব বলেন, দুর্ভিক্ষপীড়িত একটি রাষ্ট্রকে টেনে তুলেছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। দেশে স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং গণতন্ত্রকে নিজস্ব প্রক্রিয়ায় চলতে দেওয়ার লক্ষ্য ছিল তার। তিনি আরও ১০ বছর বেঁচে থাকলে আজকে বাংলাদেশ একটি অনন্য দেশ হিসেবে গড়ে উঠতো এবং সমাজে এতো নেতিবাচকতা তৈরি হতো না
৬ দিন আগে
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার বাজেটের মাধ্যমে জনগণকে স্বস্তি দিতে চাইলেও বিরোধীদল তা মানছে না; তবে ভোটের কালি শুকানোর আগেই সরকার নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন শুরু করেছে।
৭ দিন আগে
প্রস্তাবিত এ বাজেট নিয়ে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় দলটি বলছে, বজেটের আকার বড় দেখানোর জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা প্রাক্কলন করা হয়েছে। এই বিশালাকৃতির বাজেট অবাস্তব এবং কোনোভাবেই অর্জনযোগ্য নয়।
৯ দিন আগে