রাব্বানীর ছাত্রত্ব বাতিল, ২০১৯ সালের ডাকসু নির্বাচনে রাশেদকে জিএস ঘোষণা

ঢাবি প্রতিনিধি
মুহাম্মদ রাশেদ খাঁন। ছবি: ফেসবুক পেজ
মুহাম্মদ রাশেদ খাঁন। ছবি: ফেসবুক পেজ

২০১৯ সালে অনুষ্ঠিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে মো. রাশেদ খাঁনকে নির্বাচিত ঘোষণা করেছে বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট। ওই নির্বাচনে বিজয়ী ঘোষিত গোলাম রাব্বানীর ছাত্রত্ব বাতিল হওয়ায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

নির্বাচনের সময় ছাত্রলীগ (বর্তমানে নিষিদ্ধ) নেতা গোলাম রাব্বানী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) এমফিলের শিক্ষার্থী ছিলেন। সিন্ডিকেট সূত্র জানিয়েছে, ঢাবি কর্তৃপক্ষের গঠন করা তদন্ত কমিটিতে তার সেই ছাত্রত্ব অবৈধ প্রমাণিত হয়েছে।

পরে এ বিষয়ে রাব্বানীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হলেও তিনি এর উপযুক্ত জবাব না দিতে পারলে সিন্ডিকেট তার ছাত্রত্ব বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আর সে কারণেই ডাকসুর জিএস পদে রাশেদকে বিজয়ী ঘোষণার সিদ্ধান্ত হয়েছে ঢাবি সিন্ডিকেটে।

সোমবার (৩১ আগস্ট) উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম সিন্ডিকেট সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর মাধ্যমে নির্বাচনের সাত বছর পাঁচ মাস পর রাশেদ ডাকসুর জিএস পদে বিজয়ী ঘোষিত হলেন।

রাশেদ খাঁন নিজেই ফেসবুকে এক পোস্টে তাকে বিজয়ী ঘোষণার খবর দিয়েছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সিন্ডিকেট সদস্যও এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

প্রায় তিন দশক পরে অনুষ্ঠিত ২০১৯ সালের ডাকসু নির্বাচনে জিএস পদে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী ১০ হাজার ৪৮৪ ভোট পেয়েছিলেন। মো. রাশেদ খাঁন ওই নির্বাচনে পেয়েছিলেন ৬ হাজার ৬৩ ভোট।

রাশেদ খাঁন ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, আলহামদুলিল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ। নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীর এমফিলের ছাত্রত্ব বিশ্ববিদ্যালয় গঠিত তদন্ত কমিটি কর্তৃক অবৈধ প্রমাণিত হওয়ায় এবং সিন্ডিকেট কর্তৃক শোকজ নোটিশের উপযুক্ত জবাব দিতে না পারায় একাডেমিক কাউন্সিলের সভায় গোলাম রাব্বানীর ছাত্রত্ব বাতিল হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে ডাকসু পদ বাতিল করা হয়েছে এবং ২০১৯ সালের ডাকসু নির্বাচনে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ভোট প্রাপ্ত মো. রাশেদ খাঁনকে জিএস ঘোষণা করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট।

২০১৯ সালের ওই ডাকসু নির্বাচনে সহসভাপতি (ভিপি) নির্বাচিত হয়েছিলেন নুরুল হক নুর। পরে তিনি গণঅধিকার পরিষদ নামে রাজনৈতিক দল গঠন করলে রাশেদ সাধারণ সম্পাদক হন।

এ বছর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে রাশেদ বিএনপিতে যোগ দেন। ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে তিনি ঝিনাইদহ-৪ আসন থেকে নির্বাচন করে জামায়াত প্রার্থীর কাছে হেরে যান। বর্তমানে তিনি সচিব পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী হিসেবে নিযুক্ত আছেন।

Ad
ad
Ad 300x250

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Ad 300x250
ad
Advertisement