
প্রতিবেদক, রাজনীতি ডটকম

রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিতে শরিয়া আইন ও ইসলামকে বাস্তবায়নসহ রাষ্ট্র গঠনে নীতিগত আট দফা ঘোষণা করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির চরমোনাই পির মুফতি সৈয়দ মোহাম্মদ রেজাউল করিম। জনগণের উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি রাষ্ট্র গঠনে ছয় দফার পাশাপাশি তার দলের নির্বাচনি ইশতেহারের মৌলিক ৩০ দফাও তুলে ধরেন।
মুফতি সৈয়দ রেজাউল করিম বলেন, শরিয়া কেবলই একটি আইনের নাম নয়; বরং শরিয়া হলো মানুষের বিশ্বাস, জীবনবোধ, সংস্কৃতি, অভ্যাস ও আইনের সমষ্টি। আমরা এ অঞ্চলের অধিকাংশ মানুষ বিশ্বাস হিসাবে, জীবনবোধ হিসেবে এবং সংস্কৃতিতে অভ্যাসে ইসলামকে ধারণ করি। এখন যদি রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিতে ইসলামকে বাস্তবায়ন করতে পারি, তাহলেই বাংলাদেশ তার প্রত্যাশিত সমৃদ্ধি ও লক্ষ্য খুঁজে পাবে ইনশাআল্লাহ।
রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা ৬টায় বাংলাদেশ টেলিভিশনে দেওয়া নির্বাচনি ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলকে জনগণের উদ্দেশে নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরার সুযোগ দিতে বিটিভি এ ভাষণ প্রচারের আয়োজন করেছে।
দেশবাসীর উদ্দেশে দেওয়া ভাষণের শুরুতেই আল্লাহ তায়ালার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান চরমোনাই পির। ব্রিটিশবিরোধী সংগ্রাম থেকে শুরু করে একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং মানুষের মুক্তি ও সমৃদ্ধির জন্য সংগঠিত সব আন্দোলন ও সংগ্রামে অংশ নেওয়া জাতির সাহসী সন্তানদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
১৯৮৭ সালে ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলন নামে যাত্রা শুরুর পর থেকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ নাম ধারণ করাসহ দলটির গত প্রায় চার দশকের যাত্রার একটি সংক্ষিপ্ত চিত্র মুফতি রেজাউল করিম তুলে ধরেন ভাষণে। তিনি বলেন, আজকের বাংলাদেশে সবাই একমত যে সংবিধানই প্রধানতম সমস্যা। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে আমরা সংবিধান সংস্কারসহ রাষ্ট্রের সামগ্রিক সংস্কার করার একটি সুযোগ পেয়েছি।
সেই সুযোগকে বাস্তবে পরিণত করার জন্য আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সংবিধান সংশোধন সংক্রান্ত প্রস্তাবনার গণভোটকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে অভিহিত করেছেন চরমোনাই পির। তিনি বলেন, আপনার একটি ভোট মহান স্বাধীনতা ও চব্বিশের জুলাইয়ের প্রত্যাশাকে বাস্তবায়িত করতে সহায়তা করবে ইনশাআল্লাহ।
স্বাধীনতার পর ৫৪ বছর অতিক্রান্ত হলেও বাংলাদেশের জনগণের জন্য কাঙ্ক্ষিত সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি বলে ভাষণে বলেন সৈয়দ রেজাউল করিম। তিনি বলেন, আর্থিক সমৃদ্ধি আসেনি, নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়নি। বরং দারিদ্র্য, সন্ত্রাস, রাজনৈতিক হানাহানি, অবিচার, সীমাহীন বৈষম্য, বেকারত্ব আমাদের দেশকে কুঁড়ে কুঁড়ে খেয়েছে। অতীতে যারাই দেশ পরিচালনা করেছে তাদের কেউই এই দায় এড়াতে পারবে না। এখানে ভোটার হিসাবে আমার-আপনার দায়ও রয়েছে। ভুল নীতি ও নেতাকে ভোট দেওয়ার মাধ্যমে এর দায় আমাদের ওপরও বর্তায়।
দেশ পরিচালনায় দুটি বড় সমস্যা চিহ্নিত করে রেজাউল করিম বলেন, আমাদের সমস্যা ছিল দুটি। এক— রাষ্ট্র পরিচালনার নীতি হিসেবে ভুল নীতি গ্রহণ করা এবং দুই— ভুল নেতা বাছাই করা। ভুল নীতির কারণে অনেক ভালো নেতাও দেশকে কাঙ্ক্ষিত মানে নিয়ে যেতে পারেননি। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এই ভূখণ্ডের মানুষের হাজার বছরের চর্চিত বিশ্বাস ও জীবনাচারের নীতি ইসলামকে রাষ্ট্র পরিচালনা নীতি হিসেবে উপস্থাপন করেছে।
তিনি বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনায় ইসলামের মৌলিক নীতিমালার মধ্যে রয়েছে— আদালত, ইনসাফ, নাগরিকের স্বার্থের প্রতি সংবেদনশীলতা, দায়বদ্ধতা, সামাজিক নিরাপত্তা, আইনের শাসন এবং সব ধর্মের মানুষের ধর্মীয় আচার পালনের অধিকার ও সমান সম্মান মর্যাদা প্রদান করা। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ রাষ্ট্র ক্ষমতায় গেলে এই মৌলিক নীতিমালার পূর্ণ প্রতিপালন করবে।
ভোটারদের ভোট দেওয়ার দায়িত্ব স্মরণ করিয়ে দিয়ে চরমোনাই পির বলেন, ভোট অর্থ হলো কাউকে আপনার হয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া। ভোট অর্থ কাউকে রাষ্ট্র পরিচালনায় যোগ্যতর বলে সাক্ষ্য দেওয়া। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন— ‘যে ভালো সুপারিশ করবে তা থেকে তার জন্য একটি অংশ থাকবে এবং যে মন্দ সুপারিশ করবে তার জন্য তা থেকে একটি অংশ থাকবে।’ (সূরা আন-নিসা, ৮৫)
কোরআনের এ আয়াতের ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, অর্থ খুবই স্পষ্ট— আপনি যদি ভোটের মাধ্যমে কোনো ভালো নীতি ও ব্যক্তির জন্য সুপারিশ করেন তাহলে সেই ভালো নীতি ও ব্যক্তির কৃত ভালো কাজের নেকি আপনি পাবেন। আর যদি আপনি কোনো খারাপ নীতি ও ব্যক্তির জন্য সুপারিশ করেন তাহলে সেই খারাপ নীতি ও ব্যক্তির করা অপরাধের পাপের ভাগ আপনার আমলনামাতেও যুক্ত হবে।
এ আয়াতের আলোকে ভোট দিতে সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানিয়ে মুফতি রেজাউল করিম বলেন, কোনো দুর্নীতি, সন্ত্রাস ও টাকা পাচার না করেও কেবল ভুল জায়গায় ভোট দেওয়ার কারণে আপনার আমলনামায় দুর্নীতি ও সন্ত্রাসের পাপ যুক্ত হতে পারে। তাই ভোট প্রদান কেবল ইহকালীন বিষয়ই নয়, বরং একই সঙ্গে একটি পরকালীন বিষয়ও বটে। তাই ভোট প্রদানে সতর্ক থাকতে হবে।
‘জনপ্রত্যাশার ইশতেহার’ শিরোনামে দলীয় ইশতেহারের কথা তুলে ধরে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির বলেন, ইশতেহারকে আমরা তিনটি অধ্যায়ে উপস্থাপন করছি— রাষ্ট্র গঠনে আমাদের নীতিগত অবস্থান, রাষ্ট্র সংস্কারে আমাদের পরিকল্পনা ও খাতভিত্তিক উন্নয়ন পরিকল্পনা এবং মৌলিক ইশতেহার শিরোনামে ৩০টি বিষয় তুলে ধরা হয়েছে।
ভাষণে রাষ্ট্র গঠনে নীতিগত আট দফা ঘোষণা তুলে ধরেন সৈয়দ রেজাউল করিম। এ আট দফা হলো—
এ সময় রাষ্ট্র গঠনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ছয় দফা তুলে ধরেন তিনি। এ ছয় দফা হলো—
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নির্বাচনি ইশতেহারের মৌলিক ৩০টি পয়েন্টও ভাষণে তুলে ধরেন মুফতি সৈয়দ রেজাউল করিম। এগুলো হলো—
ইসলামী আন্দোলনের আমির নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারলে ১২ দফা বিশেষ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করবে বলে ঘোষণা দেন। এই ১২ দফা হলো—
তরুণদের কাছে দলীয় প্রতীক হাতপাখার পক্ষে ভোট চেয়ে চরমোনাই পির বলেন, প্রিয় তারুণ্য, তোমরা এবার প্রথম ভোট দিতে যাচ্ছ। তোমাদের প্রথম ভোট হোক পরিবর্তনের পক্ষে, হাতপাখা প্রতীকে। আমি কথা দিচ্ছি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ তোমাদের ভোট নিয়ে নিজেদের আখের গুছাবে না; বরং তোমাদের জন্য উন্নত শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করবে।
গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে ভোট চেয়ে মুফতি রেজাউল করিম বলেন, প্রিয় দেশবাসী, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পরে দেশ থেকে স্বৈরতন্ত্রের স্থায়ী বিলোপ নিশ্চিত করতে আমরা সংস্কার কমিশনে জোর প্রচেষ্টা চালিয়েছি। জুলাই সনদ কোনো দলের বিপক্ষে না। তাই আগামী ১২ তারিখে জুলাই সনদের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ ভোট প্রদান করুন।
প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন ও দেশবাসীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির বলেন, আপনারা রাষ্ট্রের সেবায় নিয়োজিত। ভীতি ও প্রলোভনের ঊর্ধ্বে উঠে জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে ভূমিকা রাখুন। প্রিয় দেশবাসী, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে দলে দলে ভোট কেন্দ্রে আসুন। সৎ, যোগ্য ও আল্লাহভীরু মানুষের প্রতীক হাতপাখা প্রতীকে ভোট দিন। কথা দিচ্ছি, শান্তি ও মুক্তি আসবে ইনশাআল্লাহ।

রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিতে শরিয়া আইন ও ইসলামকে বাস্তবায়নসহ রাষ্ট্র গঠনে নীতিগত আট দফা ঘোষণা করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির চরমোনাই পির মুফতি সৈয়দ মোহাম্মদ রেজাউল করিম। জনগণের উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি রাষ্ট্র গঠনে ছয় দফার পাশাপাশি তার দলের নির্বাচনি ইশতেহারের মৌলিক ৩০ দফাও তুলে ধরেন।
মুফতি সৈয়দ রেজাউল করিম বলেন, শরিয়া কেবলই একটি আইনের নাম নয়; বরং শরিয়া হলো মানুষের বিশ্বাস, জীবনবোধ, সংস্কৃতি, অভ্যাস ও আইনের সমষ্টি। আমরা এ অঞ্চলের অধিকাংশ মানুষ বিশ্বাস হিসাবে, জীবনবোধ হিসেবে এবং সংস্কৃতিতে অভ্যাসে ইসলামকে ধারণ করি। এখন যদি রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিতে ইসলামকে বাস্তবায়ন করতে পারি, তাহলেই বাংলাদেশ তার প্রত্যাশিত সমৃদ্ধি ও লক্ষ্য খুঁজে পাবে ইনশাআল্লাহ।
রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা ৬টায় বাংলাদেশ টেলিভিশনে দেওয়া নির্বাচনি ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলকে জনগণের উদ্দেশে নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরার সুযোগ দিতে বিটিভি এ ভাষণ প্রচারের আয়োজন করেছে।
দেশবাসীর উদ্দেশে দেওয়া ভাষণের শুরুতেই আল্লাহ তায়ালার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান চরমোনাই পির। ব্রিটিশবিরোধী সংগ্রাম থেকে শুরু করে একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং মানুষের মুক্তি ও সমৃদ্ধির জন্য সংগঠিত সব আন্দোলন ও সংগ্রামে অংশ নেওয়া জাতির সাহসী সন্তানদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
১৯৮৭ সালে ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলন নামে যাত্রা শুরুর পর থেকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ নাম ধারণ করাসহ দলটির গত প্রায় চার দশকের যাত্রার একটি সংক্ষিপ্ত চিত্র মুফতি রেজাউল করিম তুলে ধরেন ভাষণে। তিনি বলেন, আজকের বাংলাদেশে সবাই একমত যে সংবিধানই প্রধানতম সমস্যা। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে আমরা সংবিধান সংস্কারসহ রাষ্ট্রের সামগ্রিক সংস্কার করার একটি সুযোগ পেয়েছি।
সেই সুযোগকে বাস্তবে পরিণত করার জন্য আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সংবিধান সংশোধন সংক্রান্ত প্রস্তাবনার গণভোটকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে অভিহিত করেছেন চরমোনাই পির। তিনি বলেন, আপনার একটি ভোট মহান স্বাধীনতা ও চব্বিশের জুলাইয়ের প্রত্যাশাকে বাস্তবায়িত করতে সহায়তা করবে ইনশাআল্লাহ।
স্বাধীনতার পর ৫৪ বছর অতিক্রান্ত হলেও বাংলাদেশের জনগণের জন্য কাঙ্ক্ষিত সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি বলে ভাষণে বলেন সৈয়দ রেজাউল করিম। তিনি বলেন, আর্থিক সমৃদ্ধি আসেনি, নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়নি। বরং দারিদ্র্য, সন্ত্রাস, রাজনৈতিক হানাহানি, অবিচার, সীমাহীন বৈষম্য, বেকারত্ব আমাদের দেশকে কুঁড়ে কুঁড়ে খেয়েছে। অতীতে যারাই দেশ পরিচালনা করেছে তাদের কেউই এই দায় এড়াতে পারবে না। এখানে ভোটার হিসাবে আমার-আপনার দায়ও রয়েছে। ভুল নীতি ও নেতাকে ভোট দেওয়ার মাধ্যমে এর দায় আমাদের ওপরও বর্তায়।
দেশ পরিচালনায় দুটি বড় সমস্যা চিহ্নিত করে রেজাউল করিম বলেন, আমাদের সমস্যা ছিল দুটি। এক— রাষ্ট্র পরিচালনার নীতি হিসেবে ভুল নীতি গ্রহণ করা এবং দুই— ভুল নেতা বাছাই করা। ভুল নীতির কারণে অনেক ভালো নেতাও দেশকে কাঙ্ক্ষিত মানে নিয়ে যেতে পারেননি। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এই ভূখণ্ডের মানুষের হাজার বছরের চর্চিত বিশ্বাস ও জীবনাচারের নীতি ইসলামকে রাষ্ট্র পরিচালনা নীতি হিসেবে উপস্থাপন করেছে।
তিনি বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনায় ইসলামের মৌলিক নীতিমালার মধ্যে রয়েছে— আদালত, ইনসাফ, নাগরিকের স্বার্থের প্রতি সংবেদনশীলতা, দায়বদ্ধতা, সামাজিক নিরাপত্তা, আইনের শাসন এবং সব ধর্মের মানুষের ধর্মীয় আচার পালনের অধিকার ও সমান সম্মান মর্যাদা প্রদান করা। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ রাষ্ট্র ক্ষমতায় গেলে এই মৌলিক নীতিমালার পূর্ণ প্রতিপালন করবে।
ভোটারদের ভোট দেওয়ার দায়িত্ব স্মরণ করিয়ে দিয়ে চরমোনাই পির বলেন, ভোট অর্থ হলো কাউকে আপনার হয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া। ভোট অর্থ কাউকে রাষ্ট্র পরিচালনায় যোগ্যতর বলে সাক্ষ্য দেওয়া। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন— ‘যে ভালো সুপারিশ করবে তা থেকে তার জন্য একটি অংশ থাকবে এবং যে মন্দ সুপারিশ করবে তার জন্য তা থেকে একটি অংশ থাকবে।’ (সূরা আন-নিসা, ৮৫)
কোরআনের এ আয়াতের ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, অর্থ খুবই স্পষ্ট— আপনি যদি ভোটের মাধ্যমে কোনো ভালো নীতি ও ব্যক্তির জন্য সুপারিশ করেন তাহলে সেই ভালো নীতি ও ব্যক্তির কৃত ভালো কাজের নেকি আপনি পাবেন। আর যদি আপনি কোনো খারাপ নীতি ও ব্যক্তির জন্য সুপারিশ করেন তাহলে সেই খারাপ নীতি ও ব্যক্তির করা অপরাধের পাপের ভাগ আপনার আমলনামাতেও যুক্ত হবে।
এ আয়াতের আলোকে ভোট দিতে সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানিয়ে মুফতি রেজাউল করিম বলেন, কোনো দুর্নীতি, সন্ত্রাস ও টাকা পাচার না করেও কেবল ভুল জায়গায় ভোট দেওয়ার কারণে আপনার আমলনামায় দুর্নীতি ও সন্ত্রাসের পাপ যুক্ত হতে পারে। তাই ভোট প্রদান কেবল ইহকালীন বিষয়ই নয়, বরং একই সঙ্গে একটি পরকালীন বিষয়ও বটে। তাই ভোট প্রদানে সতর্ক থাকতে হবে।
‘জনপ্রত্যাশার ইশতেহার’ শিরোনামে দলীয় ইশতেহারের কথা তুলে ধরে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির বলেন, ইশতেহারকে আমরা তিনটি অধ্যায়ে উপস্থাপন করছি— রাষ্ট্র গঠনে আমাদের নীতিগত অবস্থান, রাষ্ট্র সংস্কারে আমাদের পরিকল্পনা ও খাতভিত্তিক উন্নয়ন পরিকল্পনা এবং মৌলিক ইশতেহার শিরোনামে ৩০টি বিষয় তুলে ধরা হয়েছে।
ভাষণে রাষ্ট্র গঠনে নীতিগত আট দফা ঘোষণা তুলে ধরেন সৈয়দ রেজাউল করিম। এ আট দফা হলো—
এ সময় রাষ্ট্র গঠনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ছয় দফা তুলে ধরেন তিনি। এ ছয় দফা হলো—
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নির্বাচনি ইশতেহারের মৌলিক ৩০টি পয়েন্টও ভাষণে তুলে ধরেন মুফতি সৈয়দ রেজাউল করিম। এগুলো হলো—
ইসলামী আন্দোলনের আমির নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারলে ১২ দফা বিশেষ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করবে বলে ঘোষণা দেন। এই ১২ দফা হলো—
তরুণদের কাছে দলীয় প্রতীক হাতপাখার পক্ষে ভোট চেয়ে চরমোনাই পির বলেন, প্রিয় তারুণ্য, তোমরা এবার প্রথম ভোট দিতে যাচ্ছ। তোমাদের প্রথম ভোট হোক পরিবর্তনের পক্ষে, হাতপাখা প্রতীকে। আমি কথা দিচ্ছি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ তোমাদের ভোট নিয়ে নিজেদের আখের গুছাবে না; বরং তোমাদের জন্য উন্নত শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করবে।
গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে ভোট চেয়ে মুফতি রেজাউল করিম বলেন, প্রিয় দেশবাসী, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পরে দেশ থেকে স্বৈরতন্ত্রের স্থায়ী বিলোপ নিশ্চিত করতে আমরা সংস্কার কমিশনে জোর প্রচেষ্টা চালিয়েছি। জুলাই সনদ কোনো দলের বিপক্ষে না। তাই আগামী ১২ তারিখে জুলাই সনদের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ ভোট প্রদান করুন।
প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন ও দেশবাসীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির বলেন, আপনারা রাষ্ট্রের সেবায় নিয়োজিত। ভীতি ও প্রলোভনের ঊর্ধ্বে উঠে জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে ভূমিকা রাখুন। প্রিয় দেশবাসী, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে দলে দলে ভোট কেন্দ্রে আসুন। সৎ, যোগ্য ও আল্লাহভীরু মানুষের প্রতীক হাতপাখা প্রতীকে ভোট দিন। কথা দিচ্ছি, শান্তি ও মুক্তি আসবে ইনশাআল্লাহ।

শামসুজ্জামান দুদু বলেন, একটি মহল আছে, যারা মিথ্যা ছাড়া অন্য কোনো ভালো জিনিস চিন্তা করতে পারে না। কখনোই তারা মানুষের আস্থা-বিশ্বাসের সঙ্গে থাকতে পারে নাই বলে সরকারে যাওয়া দূরে থাক উল্লেখযোগ্য কোনো মানুষের সমর্থনও নেই। এরা ইসলামকে ব্যবহার করে ইসলামের বিরুদ্ধে ভূমিকা পালন করে। রাজনীতিতে এরা এমনই একটি অ
৪ দিন আগে
বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, সাম্প্রতিক ধর্ষণ, শিশু নির্যাতন ও হত্যার ঘটনাগুলো কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং বহু বছর ধরে চলতে থাকা নৈতিক অবক্ষয়, সামাজিক দায়িত্বহীনতা এবং মানবিক মূল্যবোধের দ্রুত পতনের ভয়াবহ প্রতিফলন।
৪ দিন আগে
শারীরিক অবস্থা এখন কেমন— জানতে চাইলে মির্জা আব্বাস বলেন, 'আছি মোটামুটি। এখনও চিকিৎসার মধ্যে আছি, থেরাপিউটিক সেশনগুলো চলছে। দেশবাসীকে আমার জন্য দোয়া করতে বলবেন। সবার কাছে আমি দোয়া চাই। আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের কাছে শুকরিয়া আদায় করছি।'
৫ দিন আগে
জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় আসন্ন বাজেটে তামাকপণ্যে কার্যকরভাবে করারোপের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে পানিসম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেছেন, প্রস্তাবিত তামাক কর বাস্তবায়নের মাধ্যমে অর্জিত রাজস্ব দেশের স্বাস্থ্য খাত শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
৫ দিন আগে