ইরান যুদ্ধে আরব দেশগুলোর সম্ভাব্য ক্ষতি ২০,০০০ কোটি ডলার: ইউএনডিপি

ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম
ইরান যুদ্ধের প্রভাবে অর্থনৈতিকভাবেও ব্যাপক ক্ষতির মুখে আরব দেশগুলো। প্রতীকী ছবি

ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধের জের ছড়িয়ে পড়েছে গোটা মধ্যপ্রাচ্যে। জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) এক প্রতিবেদন বলছে, এই সংঘাতের ফলে আরব দেশগুলোর সম্ভাব্য ক্ষতির পরিমাণ হতে পারে প্রায় ২০ হাজার কোটি মার্কিন ডলার, যা গোটা অঞ্চলের অর্থনীতিকেই প্রভাবিত করবে, গুরুতর আঘাত হানবে প্রবৃদ্ধিতে।

মার্কিন গণমাধ্যম ব্লুমবার্গের খবরে ইউএনডিপির এই প্রতিবেদনের তথ্য উদ্ধৃত করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনা যদি স্বল্পমেয়াদিও হয়, সেটিও আরব অঞ্চলে গভীর ও ব্যাপক সামাজিক-অর্থনৈতিক প্রভাব তৈরি করবে।

ইউএনডিপির প্রতিবেদনে প্রাক্কলন করা হয়েছে, ইরান যুদ্ধ ঘিরে সৃষ্ট সংঘাতের ফলে আরব দেশগুলোতে বেকারত্বের হার বেড়ে যেতে পারে প্রায় ৪ শতাংশ পর্যন্ত। এর ফলে প্রায় ৩৬ লাখ মানুষ চাকরি হারাতে পারেন। এ ছাড়া নতুন করে দরিদ্র হয়ে পড়তে পারেন আরও প্রায় ৪০ লাখ মানুষ।

ইরানের ড্রোন হামলায় বাহরাইনের একটি ভবনে আগুন ধরে যায়। ছবি: সংগৃহীত
ইরানের ড্রোন হামলায় বাহরাইনের একটি ভবনে আগুন ধরে যায়। ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের ছয় দেশ গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিলের (জিসিসি) সদস্য। দেশগুলো হলো— বাহরাইন, কাতার, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ওমান ও সৌদি আরব। ইউএনডিপি বলছে, এসব দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৫ দশমিক ২ শতাংশেরও বেশি ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারে সংঘাতের জের ধরে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর ইরান পালটা হামলায় প্রতিক্রিয়া জানালে শুরু হয় যুদ্ধ। এক মাসেরও বেশি সময় ধরে চলমান এ যুদ্ধে ইরানের রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন শহর ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, হতাহতের শিকার হয়েছেন হাজারও মানুষ।

ইরানও ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে একের পর এক হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েলে। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের যেসব দেশে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি রয়েছে, ইরান হামলা চালিয়েছে সেসব দেশেও। বাহরাইন, জর্ডান, ইরাক, কাতার, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরব— সব দেশই মার্কিন সামরিক স্থাপনাসহ জ্বালানি খাতের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় হামলার শিকার হয়েছে।

আঞ্চলিক দেশগুলো আক্রান্ত হওয়া ছাড়াও এ যুদ্ধের ফলে বৈশ্বিকভাবেই জ্বালানি খাতে ব্যাপক প্রভাব পড়েছে। যুদ্ধ শুরুর পরই ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়, যেটি বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল পরিবহন করে। এতে তেলের বাজার অস্থির হয়ে উঠেছে। এক মাসের ব্যবধানে প্রতি ব্যারেল অপরিশোধিত তেলের (ব্রেন্ট ক্রুড) দাম ৬৫ ডলার থেকে বেড়ে ছাড়িয়ে গেছে ১১০ ডলার।

কেবল আরব দেশগুলো নয়, জ্বালানি তেলের সঙ্গে সঙ্গে বৈশ্বিকভাবেই অর্থনীতি প্রভাবিত হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে বিশ্বব্যাপী জিডিপি ২ শতাংশ কমে যেতে পারে। এমনকি বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দাও দেখা দিতে পারে আশঙ্কা করছেন অর্থনীতিবিদরা।

ad
ad

অর্থের রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

দিনে দুদফায় সোনার দাম বাড়ল ৬৫৯০ টাকা

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের যুদ্ধের কারণে চলতি মাসের শুরু থেকে বিশ্ব বাজারে সোনার দাম ঊর্ধ্বমুখী ছিল। এরপর মূল্য সমন্বয় দর ওঠানামা করতে থাকে। বিশ্বজুড়ে স্বর্ণ ও রুপার দামের নির্ভরযোগ্য ওয়েবসাইট গোল্ডপ্রাইস.ওআরজি সূত্রে জানা যায়, এখন আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম বেড়ে ৪ হাজার ৪৯৪ ডলার উ

৩ দিন আগে

চট্টগ্রাম বন্দরে এলএনজি নিয়ে আসছে আরও ৩ জাহাজ

বাংলাদেশে এলএনজি আমদানির প্রায় ৭০ শতাংশ আসে কাতার থেকে। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর পর এই সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। কাতার থেকে এ মাসের মাঝামাঝি সময়ে দুটি এলএনজি ট্যাংকার আসার কথা থাকলেও তা হয়নি। এর মধ্যে একটি ট্যাংকার রাস লাফান বন্দর থেকে এলএনজি বোঝাই অবস্থায় এখনো আটকে রয়েছে।

৪ দিন আগে

স্বর্ণের দামে ফের বড় পতন

দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) সোনার দাম কমানো হয়েছে ৬ হাজার ৫৯০ টাকা। এতে এক ভরি সোনার দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৩৪ হাজার ৮৫৫ টাকা।

৫ দিন আগে

জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ৩ লাখ টন ডিজেল কিনছে সরকার

অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আজকের সভায় সভাপতিত্ব করেন অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির আহ্বায়ক, অর্থ এবং পরিকল্পনা মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

৫ দিন আগে