স্পর্শকাতর অঙ্গে চেপে ধরার কাণ্ড: গ্রেপ্তার ২, লিটু দলের কেউ নন দাবি যুবদলের

বরিশাল প্রতিনিধি
আপডেট : ০৬ জুলাই ২০২৬, ০৯: ৫৯
ছবি: সংগৃহীত

বরিশালে এক ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যানকে কার্যালয়ে ঢুকে নির্যাতন এবং জোরপূর্বক স্ট্যাম্প ও চেকে স্বাক্ষর নেওয়ার ঘটনায় প্রধান দুই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। রোববার (৫ জুলাই) গ্রেপ্তার হওয়া এই দুই প্রধান অভিযুক্ত হলেন মোস্তাফিজুর রহমান লিটু ও আবুল কালাম আজাদ।

এদিকে প্রধান অভিযুক্ত লিটুকে যুবদল নেতা হিসেবে প্রচার করা হলেও বরিশাল যুবদল এক সংবাদ সম্মেলনে স্পষ্ট জানিয়েছে, অভিযুক্ত লিটুর সঙ্গে যুবদলের কোনো সাংগঠনিক সম্পৃক্ততা নেই এবং তিনি দলের কোনো পদেও ছিলেন না।

রোববার (৫ জুলাই) দুপুরে অভিযুক্ত মোস্তাফিজুর রহমান লিটু ও আবুল কালাম আজাদকে গ্রেপ্তার করা হয়।

বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. আশিক সাঈদ গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যবসায়ী আব্দুল আজিজ হাওলাদারকে নির্মম শারীরিক নির্যাতনের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন তৈরি হয়।

ভিডিওতে দেখা যায়, এক ব্যবসায়ীর কার্যালয়ে ঢুকে তাকে মারধর ও নির্যাতন করে জোরপূর্বক স্ট্যাম্প ও চেকে স্বাক্ষর নেওয়া হচ্ছে। ওই সময় তার গোপনাঙ্গও চেপে ধরা হয়। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

ভুক্তভোগী মো. আব্দুল আজিজ হাওলাদার, বাকলা ডেভেলপার্স প্রাইভেট লিমিটেডের চেয়ারম্যান এবং অগ্রণী হাউজিং কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি)।

আব্দুল আজিজ বলেন, গত ২৭ জুন রাতে মোস্তাফিজুর রহমান লিটু, আবুল কালাম আজাদ ও আব্দুল মালেক দুররানী তার কার্যালয়ে প্রবেশ করে তাকে মারধর করেন। একপর্যায়ে জোরপূর্বক একটি লিখিত দলিল, একটি ব্ল্যাংক চেক এবং ছয়টি স্ট্যাম্পে তার স্বাক্ষর নেওয়া হয়।

আদালতে দায়ের করা অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্তরা একসময় তার ব্যবসায়িক অংশীদার ছিলেন। ২০২৩ সালে তারা বাকলা ডেভেলপার্সের শেয়ার বিক্রি করে দেনা-পাওনা বুঝে নিলেও পরে আবার জোরপূর্বক অর্থ আদায়ের চেষ্টা করেন। মারধরের ঘটনায় আহত হয়ে চিকিৎসা নেওয়ার পর আব্দুল আজিজ আদালতের শরণাপন্ন হন এবং নিজের নিরাপত্তা নিয়েও শঙ্কা প্রকাশ করেন।

বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. আবদুল রশীদ খান বলেন, নির্যাতনের ভিডিও ফুটেজ আদালতে উপস্থাপনের পর আদালত অভিযোগটি এফআইআর হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন।

ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত মোস্তাফিজুর রহমান লিটু অভিযোগের বিষয়ে দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, পাওনা টাকা না পাওয়ার ক্ষোভ থেকেই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি ঘটেছে। আব্দুল আজিজ তাদের পাওনা অর্থ পরিশোধ করেননি।

এদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও কয়েকটি গণমাধ্যমে মোস্তাফিজুর রহমান লিটুকে যুবদল নেতা হিসেবে প্রচারের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছে বরিশাল মহানগর ও জেলা যুবদল।

কেন্দ্রীয় যুবদলের সহ-সভাপতি ও বরিশাল জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক এইচ এম তসলিম উদ্দিন বলেন, মোস্তাফিজুর রহমান লিটুর সঙ্গে যুবদলের কোনো সাংগঠনিক সম্পৃক্ততা নেই এবং তিনি দলের কোনো পদেও ছিলেন না।

বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মো. আশিক সাঈদ বলেন, মামলার অপর আসামিকে গ্রেপ্তার এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের বিষয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

এদিকে,আব্দুল আজিজকে মারধর ও অণ্ডকোষ চেপে ধরে জোরপূর্বক স্বাক্ষর আদায়ের ঘটনায় রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা বা চাঁদাবাজির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মামলার প্রধান অভিযুক্ত মোস্তাফিজুর রহমান লিটুর স্ত্রী মৌসুমি আক্তার লুবনা।

তিনি বলেন, এটি কোনো রাজনৈতিক বা চাঁদাবাজির ঘটনা নয়। দীর্ঘদিনের ব্যবসায়িক লেনদেনের টাকা ফেরত না পাওয়ার ক্ষোভ থেকেই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি ঘটেছে।

রোববার (৫ জুলাই) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় বরিশাল প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

রাজনীতি/এসআর

Ad
Ad
ad
ad
ad

মাঠের রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

সাতক্ষীরায় বিআরটিসি বাসের চাপায় বাইক আরোহী নিহত

ধাক্কায় শুভঙ্কর মোটরসাইকেল থেকে ছিটকে সড়কে পড়ে যান। এ সময় বাসটির পেছনের একটি চাকা তার মাথার ওপর দিয়ে চলে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয় বলে জানান এসআই অনিরুদ্ধ।

৫ ঘণ্টা আগে

সাবেক এমপি আজিজুল হককে ধরে পুলিশে দিল ছাত্রদল

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) তেজগাঁও বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার জুয়েল রানা বলেন, ছাত্রদলের স্থানীয় নেতাকর্মীদের সহযোগিতায় আজিজুল হককে আটক করা হয়। পরে তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে।

৬ ঘণ্টা আগে

চট্টগ্রামে ইসলামী ব্যাংকের চাকরিচ্যুতদের বিক্ষোভ, কর্ণফুলীতে সড়ক অবরোধ

কর্ণফুলী থানার ওসি নুর আহমদ জানান, রাত ৮টা ১৫ মিনিটের দিকে আন্দোলনকারীরা অবরোধ কর্মসূচি শেষ করে চলে যান। তিনি বলেন, “আন্দোলকারীরা তাদের কর্মসূচি শেষ করে চলে গেছেন। এখন যান চলাচল শুরু হয়েছে। যানজট কমাতে আমরা কাজ করছি।”

২১ ঘণ্টা আগে

আরামবাগে বিএসটিআইয়ের অভিযান, ৬ শতাধিক অস্বাস্থ্যকর পানির জার ধ্বংস

সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ না করে নোংরা জারে পানি সরবরাহ করছিল। পাশাপাশি বিএসটিআইয়ের মান সনদ ছাড়াই অস্বাস্থ্যকর ও নিম্নমানের পানি বাজারজাত করা হচ্ছিল। জনস্বাস্থ্য ও ভোক্তা নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে অভিযানে ৬ শতাধিক পানির জার ধ্বংস করা হয়।

১ দিন আগে
Advertisement