পটুয়াখালী-৪: নতুন সমীকরণে জমে উঠেছে ভোটের লড়াই

পটুয়াখালী প্রতিনিধি
(বাঁ থেকে) বিএনপির প্রার্থী এ বি এম মোশাররফ হোসেন, ১১ দলীয় জোটের খেলাফত মজলিসের প্রার্থী ডা. জহির উদ্দিন আহমেদ, ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান ও গণঅধিকার পরিষদের মো. রবিউল হাসান। ছবি: সংগৃহীত

কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত পটুয়াখালী-৪ (কলাপাড়া-রাঙ্গাবালী) আসনে এবারের নির্বাচনি চিত্র একেবারেই ভিন্ন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে এই আসনে তৈরি হয়েছে সম্পূর্ণ নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ। মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছে বিএনপি, জামায়াত-এনসিপি নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। পাশাপাশি গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থীর অংশগ্রহণ ভোটের অঙ্কে যোগ করেছে বাড়তি মাত্রা।

কলাপাড়া ও নদীবেষ্টিত রাঙ্গাবালী উপজেলা নিয়ে গঠিত এ আসনটি শুধু রাজনৈতিক নয়, বরং অর্থনৈতিক ও কৌশলগত দিক থেকেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এখানে রয়েছে দেশের তৃতীয় বৃহত্তম সমুদ্রবন্দর পায়রা, তিনটি তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র, শের-ই-বাংলা নৌঘাঁটি, সাবমেরিন কেবল ল্যান্ডিং স্টেশন এবং আন্তর্জাতিক পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটা। ফলে এই আসনের প্রতিনিধিত্ব মানেই জাতীয় উন্নয়ন ও নিরাপত্তার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ততা।

এবারের নির্বাচনে এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন— বিএনপি থেকে এ বি এম মোশাররফ হোসেন, ১১ দলীয় জোটের খেলাফত মজলিস থেকে ডা. জহির উদ্দিন আহমেদ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত মোস্তাফিজুর রহমান ও গণঅধিকার পরিষদের মো. রবিউল হাসান। প্রতিদ্বন্দ্বী চারজন হলেও স্থানীয় ভোটার ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভোটের লড়াইয়ে এগিয়ে রয়েছে বিএনপি, আর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে ইসলামী আন্দোলন ও ১১ দলীয় জোটের মধ্যে।

বর্তমানে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, পটুয়াখালীর এই আসনের আওয়ামী লীগ ভোটব্যাংক কার দিকে যাবে। বিএনপি, ১১ দলীয় জোট ও ইসলামী আন্দোলন— তিন পক্ষই সেই ভোট টানতে মরিয়া। তবে ইসলামি দল দুটির মধ্যে ভোট বিভাজন হলে সবচেয়ে সুবিধাজনক অবস্থানে থাকবে বিএনপি— এমনটাই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।

বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক এ বি এম মোশাররফ হোসেন প্রতীক বরাদ্দের আগেই মাঠে সাধারণ ভোটারদের সাথে যোগাযোগ শুরু করেছেন। ইতোমধ্যে ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠন করে মাঠ গোছানোর কাজও এরই মধ্যে শেষ করেছেন তিনি। এ ছাড়া দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে রয়েছে দৃশ্যমান সক্রিয়তা।

তিনি বলেন, ধানের শীষ নির্বাচিত হলে পায়রা বন্দর ও কুয়াকাটাকে ঘিরে বৃহৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে। উপকূলীয় জনপদের মানুষকে আর অবহেলিত থাকতে দেওয়া হবে না।

এদিকে ১১ দলীয় জোটের খেলাফত মজলিসের প্রার্থী ডা. জহির উদ্দিন আহমেদ অতীতে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর বিপরীতে রাঙ্গাবালী উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন। জোটের সমর্থন ও ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতা কাজে লাগিয়ে তিনিও নির্বাচনি মাঠে বেশ সক্রিয়।

অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিতে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিতের দাবি জানিয়ে খেলাফত প্রার্থী জহির উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘নির্বাচিত হলে রাঙ্গাবালীর দীর্ঘদিনের যোগাযোগ সংকট নিরসন, ফেরিসেবা চালু এবং স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নে হাসপাতালের কার্যক্রম শুরুকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেবো।’

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে আওয়ামী লীগ প্রার্থীকে পরাজিত করে কলাপাড়া উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন। মাঠপর্যায়ের তার স্বচ্ছ ব্যক্তিগত ইমেজ ও গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। তিনি এবার ‘হাতপাখা’ প্রতীক নিয়ে ভোটের লড়াইয়ে নেমেছেন। চরমোনাইপন্থি তিনজন ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান তার পক্ষে সরাসরি মাঠে কাজ করছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘আমি ব্যক্তি বা দলীয় স্বার্থে নয়, ইসলামি আদর্শ, সুশাসন ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য নির্বাচন করছি।’

অন্যদিকে সংস্কার ও বিকল্প রাজনৈতিক ধারার কথা বলছেন গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী মো. রবিউল হাসান। বিশ্লেষকদের মতে, তিনি সরাসরি মূল লড়াইয়ে না থাকলেও ভোট বিভাজনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন।

নির্বাচন সামনে রেখে পটুয়াখালী-৪ আসনে দিন দিন বাড়ছে ভোটের উত্তাপ, বাড়ছে কৌতূহল। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় ভোটে শেষ পর্যন্ত কে জিতবে, কার হাতে যাবে এই কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ আসন— তার জন্য অপেক্ষায় থাকতে হবে আর পাঁচ দিন।

ad
ad

মাঠের রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

হবিগঞ্জেও এনসিপির গাড়িবহর আটকে দিয়েছে পুলিশ, সড়কে বসে প্রতিবাদ

নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘কেন আমাদের গাড়ি আটকে দেওয়া হয়েছে? আমরা হবিগঞ্জে যেতে চাই। সেখানে গিয়ে আমরা আইনি পদক্ষেপ নেব।’

১ দিন আগে

ভ্রাম্যমাণ আদালতের জব্দ করা বালুভর্তি ২ ট্রলার ছিনতাই

জব্দ করা দুটি ট্রলার রাজীবপুর ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ওয়াদুদ জামান মানিক ও যুগ্ম আহ্বায়ক মোশাররফ হোসেন এবং উচাখিলা ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হাদীউল বাশার সুমনের জিম্মায় দিয়েছিল প্রশাসন। ট্রলারে ছিলেন ঈশ্বরগঞ্জ থানার এএসআই জীবন চন্দ্র বৈশ্য, কনস্টেবল বিমল চন্দ্র পাল এবং গ্রাম পুলিশ উজ্জ্বল ও

১ দিন আগে

শ্রীমঙ্গলে পুলিশের বাধা পেরিয়ে এনসিপি নেতারা হবিগঞ্জের পথে

একপর্যায়ে হাসনাত বলেন, তিনি নিজেসহ আরও দুই সংসদ সদস্য নাহিদ ইসলাম ও মাহমুদা মিতু (সংরক্ষিত আসনে) এবং এনসিপির দুজন কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সদস্য কেবল মামলা করতে যাবেন। প্রয়োজনে তারা গাড়ির চালককেও নেবেন না। পুলিশ চালক দিলে তাকে নিয়েই যাবেন তারা। তবে পুলিশ সে প্রস্তাবও মানেনি। পরে এনসিপি নেতারা ব্যারিক

১ দিন আগে

ধর্ষণের অভিযোগে জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে বিধবা নারীর মামলা

বুধবার (২২ জুলাই) পটুয়াখালী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতে বাদী হিসেবে মামলাটি দায়ের করেন ওই বিধবা। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে পটুয়াখালী সদর থানায় এজাহার রেকর্ড করে আসামির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

১ দিন আগে