অস্ত্রোপচারের পরও গুলি রয়ে গেছে শিশু হুজাইফার মস্তিষ্কে

প্রতিবেদক, রাজনীতি ডটকম
আপডেট : ১২ জানুয়ারি ২০২৬, ১৫: ২৯
গুলিবিদ্ধ শিশু হুজাইফা আফনান (বাঁয়ে) ও মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের নাফ সীমান্তে গোলাগুলি, আগুনের ধোঁয়ার দৃশ্য (ডানে)। ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে ছোড়া গুলিতে গুরুতর আহত শিশু হুজাইফা আফনান (১১) এখনো চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) রয়েছে। আইসিইউ সূত্র জানায়, গুলিটি শিশুটির মাথা ভেদ করে মস্তিষ্কে প্রবেশ করেছে। অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে কৃত্রিম শ্বাসপ্রশ্বাসে রাখা হয়েছে।

হাসপাতালের অ্যানেসথেসিয়া ও আইসিইউ বিভাগের প্রধান অধ্যাপক হারুন অর রশিদ আজ সোমবার (১২ জানুয়ারি) সকালে বলেন, ‘ভোর চারটা পর্যন্ত অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। তবে গুলিটি বের করা হয়নি। সেটি মস্তিষ্কে; বের করা হলে ঝুঁকি আছে। তবে মস্তিষ্কের চাপ কমানো হয়েছে।’

গতকাল রোববার (১১ জানুয়ারি) সকাল ৯টার দিকে বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে ছোড়া গুলিতে আহত হয় শিশু হুজাইফা। টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়নের তেচ্ছিব্রিজ সীমান্ত এলাকায় এ ঘটনা ঘটে । আহত শিশুটির বাবার নাম জসিম উদ্দিন।

প্রথমে শিশুটি মারা গেছে বলে খবর ছড়িয়ে পড়েছিল। এতে স্থানীয় লোকজন তাৎক্ষণিকভাবে সড়ক অবরোধ করেন। পরে জানা যায়, শিশুটি মারা যায়নি, গুরুতর আহত হয়েছে। এদিন সন্ধ্যা ৬টার দিকে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছে তাকে।

হুজাইফার চাচা মোহাম্মদ এরশাদ জানান, শনিবার সারা রাত সীমান্তের ওপারে গোলাগুলির শব্দে এলাকাবাসী আতঙ্কে ছিলেন। রোববার সকালে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত মনে হওয়ায় তিনি ঘর থেকে বের হন। কিছুক্ষণ পর শিশু হুজাইফাও খেলতে বের হয়ে সড়কের কাছে চলে আসে। এ সময় আবার সীমান্তের ওপারে গোলাগুলি শুরু হলে একটি গুলি তার মুখের পাশ দিয়ে মাথায় ঢুকে যায়।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) রাতে নাফ নদীর হোয়াইক্যং অংশে মাছ ধরার সময় মো. আলমগীর (৩০) নামে এক বাংলাদেশি জেলে গুলিবিদ্ধ হন। আহত অবস্থায় প্রথমে তাকে উখিয়া কুতুপালং এমএমএস হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

এদিকে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে চলমান সহিংসতা থামছেই না। বিমান হামলা, ড্রোন হামলা, মর্টার শেল নিক্ষেপ ও বোমা বিস্ফোরণে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠছে। টানা চার দিন ধরে রাখাইন রাজ্যের মংডু টাউনশিপের আশপাশে সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মির (এএ) অবস্থানে বিমান হামলা জোরদার করেছে সরকারি জান্তা বাহিনী।

অন্যদিকে, আরাকান আর্মির সঙ্গে স্থলভাগে সংঘর্ষে জড়িয়েছে রোহিঙ্গাদের তিনটি সশস্ত্র গোষ্ঠী। এতে সীমান্ত পরিস্থিতি দিন দিন আরও জটিল হয়ে উঠছে। ওপারের বিকট বিস্ফোরণে টেকনাফের সীমান্তবর্তী গ্রামগুলো কেঁপে উঠছে। মিয়ানমার থেকে ছোড়া গুলি এসে পড়ছে এপারের ঘরবাড়ি, চিংড়িঘের ও নাফ নদীতে, যা স্থানীয়দের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।

ad
ad

মাঠের রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

পরিত্যক্ত কূপে নেমে প্রাণ গেল বাবা-ছেলেসহ ৪ জনের

শনিবার (২০ জুন) সকালে উপজেলার টেলকি জলই এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে । নিহতরা হলেন জলই গ্রামের বাবুল হাদিমা (৪৮), তার ১০ বছর বয়সী ছেলে নেইমার ম্রং, রতন নকরেক (২৪) ও গাবরিয়েল নকরেক (৩২)। তারা সবাই ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সম্প্রদায়ের সদস্য।

৯ ঘণ্টা আগে

মেহেরপুর সীমান্তে ৪ জনকে পুশইনের চেষ্টা বিএসএফের, বিজিবির বাধায় ব্যর্থ

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে ওই চারজন আন্তর্জাতিক সীমান্ত পিলার ১৫ ও ১৬-এর মধ্যবর্তী এলাকায় নো-ম্যানস ল্যান্ডে অবস্থান করছেন। তাদের মধ্যে একজন পুরুষ ও তিনজন নারী রয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে এখন পর্যন্ত তাদের পরিচয় বা জাতীয়তা সম্পর্কে কোনো ধারণা পাওয়া যায়নি।

১ দিন আগে

শিশুসহ ৪ জনকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে রৌমারী সীমান্ত থেকে

স্থানীয়রা বলছেন, রৌমারীর গয়টাপাড়া সীমান্তে ছয়জন ও ইজলামারী ভন্দুরচর সীমান্তে তিনজনকে বুধবার (১৭ জুন) রাত পর্যন্ত অবস্থান করতে দেখা গেছে। তবে বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সকাল থেকে দুই শিশুসহ চারজনকে আর সেখানে দেখা যায়নি।

২ দিন আগে

সুনামগঞ্জে ইয়াবাসহ আটক ‘জুলাই যোদ্ধা’, গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ

সুনামগঞ্জে প্রায় এক হাজার পিস ইয়াবাসহ ‘জুলাই যোদ্ধা’ পরিচয় দেওয়া নাজমুল হাসান হিমেল নামে এক তরুণকে আটক করে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছেন স্থানীয়রা। পরে পুলিশ তাকে মাদক মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠিয়েছে। তাহিরপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী গ্রাম পুরান লাউড়েরগড়ে এ ঘটনা ঘটে।

২ দিন আগে