
পটুয়াখালী প্রতিনিধি

পটুয়াখালীতে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) অধীন অন্তত ২২টি উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ বন্ধ হয়ে আছে। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর ঠিকাদার পালিয়ে যাওয়ায় এসব প্রকল্পের ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। প্রকল্পের বেশির ভাগই সড়ক-সংশ্লিষ্ট হওয়ায় জেলা জুড়ে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।
স্থানীয়রা বলছেন, জেলা এলজিইডির অধীনে নির্মাণাধীন সড়কগুলো এখন জনগণের কাছে দুর্ভোগ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সদর উপজেলার করমজাতলা সড়ক থেকে বহালগাছিয়ার ড্রেনেজ— সবখানেই অর্ধসমাপ্ত কাজের চিহ্ন। গলাচিপার ছোনখোলা, কলাপাড়ার বালিয়াতলী কিংবা মির্জাগঞ্জের চরখালী— এসব এলাকার চিত্রও ভিন্ন কিছু নয়।
এলাকাবাসী বলছে, অর্ধসমাপ্ত থাকা সড়কগুলোতে এখন ধুলোর ঝড়। পায়ে কাঁদা না মেখে হাঁটার উপায় নেই। জেলার অনেক সড়ক, ড্রেন, সেতুর প্রকল্প কাগজে-কলমে জমজমাট। তবে বাস্তবে কোথাও ভাঙা সেতুর পাশে চলছে নৌকা পারাপার, কোথাও আবার অসমাপ্ত খোয়া বিছানো রাস্তায় থেমে আছে জীবনের গতি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পটুয়াখালীতে এলজিইডির অধীন এমন ২২টি প্রকল্প মুখ থুবড়ে পড়ে আছে। এসব প্রকল্পের কাজ বন্ধ এক বছর ধরে। যার প্রতিষ্ঠানের নামে প্রকল্পের কাজ বরাদ্দ হয়েছিল, সেই ঠিকাদার মিরাজুল ইসলাম পিরোজপুর-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মহিউদ্দিন মহারাজের ভাই। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর থেকে আত্মগোপনে আছেন তিনি।
মিরাজুলের প্রতিষ্ঠানের প্রকল্পগুলোর কাজও বন্ধ এখন। প্রভাবশালী এই ঠিকাদারের শত কোটি টাকার প্রকল্পগুলো এলজিইডির মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সাবেক সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগের নেতা মহিউদ্দিন মহারাজের ভাই মিরাজুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে এলজিইডির কাজ বাগিয়ে নেওয়ার অভিযোগে আলোচিত ছিলেন। দক্ষিণাঞ্চলের ঠিকাদারদের ভাষায়, এলজিইডির কাজ মানেই ‘মিরাজুল -মহারাজ সিন্ডিকেট’। মিরাজুল ইসলাম ও তাদের পরিবারের ঠিকাদারী লাইসেন্সে পিরোজপুর, পটুয়াখালীসহ আশপাশের জেলায় কার্যত একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ কায়েম করেছিলেন মিরাজুল।
এলজিইডি, পটুয়াখালী সূত্রে জানা যায়, ২০২১ থেকে ২০২৩ পর্যন্ত টানা তিন অর্থবছরে মিরাজুল ইসলামের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ইফতি ইটিসিএলের নামে ২২টি প্রকল্পের কাজ দেওয়া হয়। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ১২টি, গলাচিপায় তিনটি, মির্জাগঞ্জে তিনটি, কলাপাড়ায় দুটি, দুমকিতে একটি এবং রাঙ্গাবালীতে একটি প্রকল্প রয়েছে।
এই ২২টি প্রকল্পের মধ্যে সাতটি প্রকল্পের বিপরীতে ‘দেশের দক্ষিণাঞ্চলের আয়রন ব্রিজ পুনর্নির্মাণ বা পুনর্বাসন প্রকল্পে’র অধীন ২২টি আয়রন ব্রিজ পুনর্নির্মাণ করার কথা রয়েছে। এ প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছিল ৭৬ কোটি ৫৭ লাখ টাকা। এসব প্রকল্পের অগ্রগতি গড়ে ৪০ শতাংশের বেশি হয়নি। দুটি প্রকল্প শেষ হলেও বাকিগুলো মাঝপথে থেমে গেছে।
এদিকে এসব অসমাপ্ত সড়ক ও সেতুতে তৈরি হয়েছে চরম দুর্ভোগ। এলজিইডির একাধিক প্রকৌশলী পটুয়াখালী জেলা জুড়ে চষে বেড়িয়েছেন। তারা বলেছেন, সদর উপজেলার করমজাতলা সংযোগ সড়ক, বহালগাছিয়ার ড্রেনেজ, গলাচিপার ছোনখোলা ও লামনা, কলাপাড়ার বালিয়াতলী, মির্জাগঞ্জের চরখালী থেকে কেওয়াবুনিয়া— সবখানেই কাজ পড়ে আছে অর্ধসমাপ্ত অবস্থায়। অথচ কোনো কোনো প্রকল্প থেকে অর্ধেকর কাজের বিপরীতে টাকাও বেশি তুলে নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
সদর উপজেলার কালিকাপুর ইউনিয়নের পশুরবুনিয়ার গ্রামের বাসিন্দা রহিম বিশ্বাস ক্ষোভ জানিয়ে বলেন, ‘এই রাস্তায় চলতে গেলে আমাদের নিজেদেরই মাটি ফেলে নিতে হয়। এক বছর ধরে ঠিকাদারের দেখা নেই।’
একই এলাকার গৃহিণী হালিমা বেগম বলেন, ‘খোয়ার মধ্যে হাঁটতে গিয়ে জুতা নষ্ট হয়। মাসে তিন জোড়া জুতা লাগে। গরিব মানুষ এত টাকা পাব কই?’
করমজাতালা এলাকার ভ্যানচালক মিজানুর রহমানের ক্ষোভ আরও তীব্র। তিনি বললেন, ঠিকাদার টাকা খাইয়া পলাইছে। রাস্তাগুলো ভাইঙ্গা–চুইরা রইছে। নতুন কইরা কাজ করলে জনগণের উপকার হইত।
জানতে চাইলে এলজিইডি পটুয়াখালীর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. হোসেন আলী মীর বলেন, ইফতি ইটিসিএলের ২২টি প্রকল্পের গড়ে ৫০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। কিন্তু ঠিকাদারকে না পাওয়ায় জটিলতা তৈরি হয়েছে। স্থানীয় ঠিকাদাররা কাজ চালিয়ে যেতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

পটুয়াখালীতে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) অধীন অন্তত ২২টি উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ বন্ধ হয়ে আছে। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর ঠিকাদার পালিয়ে যাওয়ায় এসব প্রকল্পের ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। প্রকল্পের বেশির ভাগই সড়ক-সংশ্লিষ্ট হওয়ায় জেলা জুড়ে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।
স্থানীয়রা বলছেন, জেলা এলজিইডির অধীনে নির্মাণাধীন সড়কগুলো এখন জনগণের কাছে দুর্ভোগ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সদর উপজেলার করমজাতলা সড়ক থেকে বহালগাছিয়ার ড্রেনেজ— সবখানেই অর্ধসমাপ্ত কাজের চিহ্ন। গলাচিপার ছোনখোলা, কলাপাড়ার বালিয়াতলী কিংবা মির্জাগঞ্জের চরখালী— এসব এলাকার চিত্রও ভিন্ন কিছু নয়।
এলাকাবাসী বলছে, অর্ধসমাপ্ত থাকা সড়কগুলোতে এখন ধুলোর ঝড়। পায়ে কাঁদা না মেখে হাঁটার উপায় নেই। জেলার অনেক সড়ক, ড্রেন, সেতুর প্রকল্প কাগজে-কলমে জমজমাট। তবে বাস্তবে কোথাও ভাঙা সেতুর পাশে চলছে নৌকা পারাপার, কোথাও আবার অসমাপ্ত খোয়া বিছানো রাস্তায় থেমে আছে জীবনের গতি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পটুয়াখালীতে এলজিইডির অধীন এমন ২২টি প্রকল্প মুখ থুবড়ে পড়ে আছে। এসব প্রকল্পের কাজ বন্ধ এক বছর ধরে। যার প্রতিষ্ঠানের নামে প্রকল্পের কাজ বরাদ্দ হয়েছিল, সেই ঠিকাদার মিরাজুল ইসলাম পিরোজপুর-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মহিউদ্দিন মহারাজের ভাই। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর থেকে আত্মগোপনে আছেন তিনি।
মিরাজুলের প্রতিষ্ঠানের প্রকল্পগুলোর কাজও বন্ধ এখন। প্রভাবশালী এই ঠিকাদারের শত কোটি টাকার প্রকল্পগুলো এলজিইডির মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সাবেক সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগের নেতা মহিউদ্দিন মহারাজের ভাই মিরাজুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে এলজিইডির কাজ বাগিয়ে নেওয়ার অভিযোগে আলোচিত ছিলেন। দক্ষিণাঞ্চলের ঠিকাদারদের ভাষায়, এলজিইডির কাজ মানেই ‘মিরাজুল -মহারাজ সিন্ডিকেট’। মিরাজুল ইসলাম ও তাদের পরিবারের ঠিকাদারী লাইসেন্সে পিরোজপুর, পটুয়াখালীসহ আশপাশের জেলায় কার্যত একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ কায়েম করেছিলেন মিরাজুল।
এলজিইডি, পটুয়াখালী সূত্রে জানা যায়, ২০২১ থেকে ২০২৩ পর্যন্ত টানা তিন অর্থবছরে মিরাজুল ইসলামের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ইফতি ইটিসিএলের নামে ২২টি প্রকল্পের কাজ দেওয়া হয়। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ১২টি, গলাচিপায় তিনটি, মির্জাগঞ্জে তিনটি, কলাপাড়ায় দুটি, দুমকিতে একটি এবং রাঙ্গাবালীতে একটি প্রকল্প রয়েছে।
এই ২২টি প্রকল্পের মধ্যে সাতটি প্রকল্পের বিপরীতে ‘দেশের দক্ষিণাঞ্চলের আয়রন ব্রিজ পুনর্নির্মাণ বা পুনর্বাসন প্রকল্পে’র অধীন ২২টি আয়রন ব্রিজ পুনর্নির্মাণ করার কথা রয়েছে। এ প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছিল ৭৬ কোটি ৫৭ লাখ টাকা। এসব প্রকল্পের অগ্রগতি গড়ে ৪০ শতাংশের বেশি হয়নি। দুটি প্রকল্প শেষ হলেও বাকিগুলো মাঝপথে থেমে গেছে।
এদিকে এসব অসমাপ্ত সড়ক ও সেতুতে তৈরি হয়েছে চরম দুর্ভোগ। এলজিইডির একাধিক প্রকৌশলী পটুয়াখালী জেলা জুড়ে চষে বেড়িয়েছেন। তারা বলেছেন, সদর উপজেলার করমজাতলা সংযোগ সড়ক, বহালগাছিয়ার ড্রেনেজ, গলাচিপার ছোনখোলা ও লামনা, কলাপাড়ার বালিয়াতলী, মির্জাগঞ্জের চরখালী থেকে কেওয়াবুনিয়া— সবখানেই কাজ পড়ে আছে অর্ধসমাপ্ত অবস্থায়। অথচ কোনো কোনো প্রকল্প থেকে অর্ধেকর কাজের বিপরীতে টাকাও বেশি তুলে নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
সদর উপজেলার কালিকাপুর ইউনিয়নের পশুরবুনিয়ার গ্রামের বাসিন্দা রহিম বিশ্বাস ক্ষোভ জানিয়ে বলেন, ‘এই রাস্তায় চলতে গেলে আমাদের নিজেদেরই মাটি ফেলে নিতে হয়। এক বছর ধরে ঠিকাদারের দেখা নেই।’
একই এলাকার গৃহিণী হালিমা বেগম বলেন, ‘খোয়ার মধ্যে হাঁটতে গিয়ে জুতা নষ্ট হয়। মাসে তিন জোড়া জুতা লাগে। গরিব মানুষ এত টাকা পাব কই?’
করমজাতালা এলাকার ভ্যানচালক মিজানুর রহমানের ক্ষোভ আরও তীব্র। তিনি বললেন, ঠিকাদার টাকা খাইয়া পলাইছে। রাস্তাগুলো ভাইঙ্গা–চুইরা রইছে। নতুন কইরা কাজ করলে জনগণের উপকার হইত।
জানতে চাইলে এলজিইডি পটুয়াখালীর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. হোসেন আলী মীর বলেন, ইফতি ইটিসিএলের ২২টি প্রকল্পের গড়ে ৫০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। কিন্তু ঠিকাদারকে না পাওয়ায় জটিলতা তৈরি হয়েছে। স্থানীয় ঠিকাদাররা কাজ চালিয়ে যেতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

বৃহস্পতিবার স্থানীয়ভাবে গুজব ছড়িয়ে পড়ে, রিয়াজ মারা মারা গেছেন। এতে তার স্বজনসহ স্থানীয়রা ক্ষুব্ধ হয়ে থানায় হামলা চালান। প্রায় শতাধিক মানুষের হামলায় পুলিশ সদস্যরা কোণঠাসা হয়ে পড়েন। এ সময় হামলাকারীরা থানায় কর্তব্যরত সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আবদুল হালিমকে মারধর করেন।
১৯ ঘণ্টা আগে
সকালে বুড়িচং উপজেলার বালিখাড়া, ভান্তি ও কামারখাড়া এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, চরাঞ্চলের শত শত একর সবজি ক্ষেত পানির নিচে তলিয়ে গেছে। পানির ওপর ভেসে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের শাকসবজি। লোকসান কিছুটা কমাতে স্থানীয় কৃষকদের কোমর সমান পানিতে নেমে অপরিপক্ব ফসল কেটে ঘরে তোলার আপ্রাণ চেষ্টা করতে দেখা গেছে।
১ দিন আগে
রাতের আঁধারে প্রবল স্রোতে নদীর পানি লোকালয়ে প্রবেশ করতে শুরু করলে মুহূর্তের মধ্যে ইসলামপুর, মাধবপুর ও আদমপুর ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়। এতে মোখাবিল, গোলের হাওর, ভান্ডারিগাঁও, গঙ্গানগর, কোনাগাঁও, বেরীগাঁও, শ্রীপুর, পাতারিগাঁও, কালারায়বিল, আধকানী, ছনগাঁও, বন্দেরগাঁও, তেইতইগাঁও, ভানুবিল ও ঘোর
১ দিন আগে
ভুক্তভোগী সদরঞ্জন দাস জানান, তিনি সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলার যাত্রাপুর গ্রাম থেকে অন্য এক ব্যক্তিসহ নৌকায় করে হাঁসের বাচ্চা কিনতে কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলার দামিহা এলাকায় যাচ্ছিলেন। পথে বর্শিকুড়া-শেরপুর সেতু সংলগ্ন এলাকায় পৌঁছালে মাথায় হেলমেট পরিহিত সাতজনের একটি সশস্ত্র দল দেশীয় অস্ত্রের মুখে তাদের
১ দিন আগে