চিকিৎসাধীন শিশুর মাকে হাসপাতালে ধর্ষণের অভিযোগ, ৩ পরিচ্ছন্নতাকর্মী গ্রেপ্তার

নাটোর প্রতিনিধি
গ্রেপ্তার অমিত, অনিল ও প্রাঙ্গণ। ছবি: সংগৃহীত

নাটোর ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক শিশুর মাকে ধর্ষণের অভিযোগে হাসপাতালের তিন পরিচ্ছন্নতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন অমিত (২৩), অনিল (২৩) ও প্রাঙ্গণ (২৪)। মঙ্গলবার দুপুরে শহরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

নাটোর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুনসুর রহমান জানান, ভুক্তভোগী নারীর স্বামীর দায়ের করা অভিযোগ মামলা হিসেবে রেকর্ড করার পর অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালানো হয়। দুপুরের মধ্যেই তিনজনকে আটক করা সম্ভব হয়েছে। তাদের আদালতে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী নারীর দুই বছর বয়সী কন্যাশিশু অসুস্থ হয়ে পড়লে গত ৫ জুন তাকে নাটোর ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ৮ জুন সকালে শিশুটির বাবা হাসপাতালে এসে স্ত্রী ও সন্তানকে নির্ধারিত স্থানে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে জানতে পারেন, তাদের হাসপাতালের নার্সদের ব্যবহৃত একটি কক্ষে রাখা হয়েছে।

সেখানে গিয়ে তিনি স্ত্রীর কাছ থেকে জানতে পারেন, আগের দিন সকালে হাসপাতালের স্টাফ পরিচয়ে পরিচ্ছন্নতাকর্মী অমিত তাকে শিশুর জন্য ওষুধ আনার কথা বলে হাসপাতালের ষষ্ঠ তলায় নিয়ে যান। সেখানে অপর দুই পরিচ্ছন্নতাকর্মী অনিল ও প্রাঙ্গণের সহযোগিতায় তাকে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনাটির ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে অসুস্থ শিশুটি কান্নাকাটি শুরু করলে হাসপাতালের নার্সরা তার মাকে খুঁজতে থাকেন। খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজে ষষ্ঠ তলায় সন্দেহজনক পরিস্থিতি দেখতে পান তারা। পরে আনসার সদস্যরা সেখানে গিয়ে ওই নারীকে উদ্ধার করেন।

হাসপাতালে দায়িত্বরত আনসার সদস্য মো. সালাউদ্দিন জানান, নার্স ও ওয়ার্ডবয়দের কাছ থেকে তথ্য পেয়ে তারা অনুসন্ধান শুরু করেন। পরে ষষ্ঠ তলার সিঁড়ির কাছে সংশ্লিষ্টদের পাওয়া যায় এবং তাদের হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

আনসার প্লাটুন কমান্ডার মো. মোন্নাফ হোসেন বলেন, ঘটনার বিষয়ে ভুক্তভোগী নারী ও অভিযুক্তদের বক্তব্য মোবাইল ফোনে ধারণ করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী নারী অভিযোগ করেন, অমিত তাকে ধর্ষণ করেন এবং অপর দুই ব্যক্তি ঘটনার ভিডিও ধারণ করেন। পরে তারাও একই ধরনের অপকর্মের চেষ্টা করেছিল। তবে হাসপাতালের লোকজন সেখানে পৌঁছে গেলে তারা সরে যায়।

ঘটনার পর হাসপাতালে ভর্তি রোগী ও তাদের স্বজনদের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত চলছে এবং আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ad
ad

মাঠের রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

পাহাড়ি ঢলে ডুবল গোমতীর চরাঞ্চল, সহস্রাধিক কৃষকের ফসলহানি

সকালে বুড়িচং উপজেলার বালিখাড়া, ভান্তি ও কামারখাড়া এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, চরাঞ্চলের শত শত একর সবজি ক্ষেত পানির নিচে তলিয়ে গেছে। পানির ওপর ভেসে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের শাকসবজি। লোকসান কিছুটা কমাতে স্থানীয় কৃষকদের কোমর সমান পানিতে নেমে অপরিপক্ব ফসল কেটে ঘরে তোলার আপ্রাণ চেষ্টা করতে দেখা গেছে।

১ দিন আগে

ধলাই নদীর বাঁধ ভেঙে ভাসছে কমলগঞ্জ, পানিবন্দি ১৫ গ্রাম

রাতের আঁধারে প্রবল স্রোতে নদীর পানি লোকালয়ে প্রবেশ করতে শুরু করলে মুহূর্তের মধ্যে ইসলামপুর, মাধবপুর ও আদমপুর ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়। এতে মোখাবিল, গোলের হাওর, ভান্ডারিগাঁও, গঙ্গানগর, কোনাগাঁও, বেরীগাঁও, শ্রীপুর, পাতারিগাঁও, কালারায়বিল, আধকানী, ছনগাঁও, বন্দেরগাঁও, তেইতইগাঁও, ভানুবিল ও ঘোর

১ দিন আগে

কিশোরগঞ্জের হাওরে ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে ২টি নৌ ডাকাতি

ভুক্তভোগী সদরঞ্জন দাস জানান, তিনি সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলার যাত্রাপুর গ্রাম থেকে অন্য এক ব্যক্তিসহ নৌকায় করে হাঁসের বাচ্চা কিনতে কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলার দামিহা এলাকায় যাচ্ছিলেন। পথে বর্শিকুড়া-শেরপুর সেতু সংলগ্ন এলাকায় পৌঁছালে মাথায় হেলমেট পরিহিত সাতজনের একটি সশস্ত্র দল দেশীয় অস্ত্রের মুখে তাদের

১ দিন আগে

টানা বৃষ্টিতে প্লাবিত বান্দরবানের নিম্নাঞ্চল, আশ্রয়কেন্দ্রে শতাধিক পরিবার

টানা কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টিতে বান্দরবানের বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। সাঙ্গু নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় শহরের একাধিক এলাকায় পানি ঢুকে পড়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলার সাত উপজেলায় ২২০টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে।

২ দিন আগে