
ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম

শুরু হলো ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের উচ্চ মাধ্যমিক (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষা। আজ বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকাল থেকে সারা দেশের ২ হাজার ৬৯৭টি কেন্দ্রে একযোগে এই পরীক্ষা শুরু হয়। তবে এবারের পরীক্ষায় অংশ নেওয়া মোট ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন নিয়মিত ও অনিয়মিত পরীক্ষার্থীর সংখ্যার চেয়েও বড় হয়ে উঠেছে এক উদ্বেগের চিত্র। শিক্ষা-সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, এবার নিয়মিত শিক্ষার্থীদের প্রায় ৩৬ শতাংশই পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে না, যা ঝরে পড়ার হারে এক অস্বাভাবিক রেকর্ড। বাল্যবিবাহ, কোভিড-পরবর্তী দারিদ্র্য এবং পর্যাপ্ত প্রস্তুতির অভাবকে এই বিশাল অনুপস্থিতির প্রধান কারণ হিসেবে মনে করা হচ্ছে।
পরীক্ষার্থীরা সকাল সাড়ে ৮টা থেকে কেন্দ্রে প্রবেশ করেছে। পরীক্ষার দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যরা দেহে ধারণযোগ্য ক্যামেরা ব্যবহার করবেন।
লিখিত পরীক্ষা ২১ দিনের মধ্যে শেষ হবে। যেসব দিনে পরীক্ষা থাকবে না, সেসব দিন পরীক্ষাকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে নিয়মিত ক্লাস চলবে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও শিক্ষা বোর্ডগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রায় ১৫ লাখ শিক্ষার্থী একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হয়েছিল।
তাদের মধ্যে প্রায় সাড়ে ৯ লাখ শিক্ষার্থী এ বছরের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফরম পূরণ করেছে। অর্থাৎ প্রায় সাড়ে ৫ লাখ নিয়মিত শিক্ষার্থী এবার পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে না।
গত বছর নিয়মিত শিক্ষার্থীদের মধ্যে ২৯ শতাংশের কিছু বেশি পরীক্ষায় অংশ নেয়নি। অর্থাৎ, মাত্র এক বছরের ব্যবধানে অনুপস্থিতির হার প্রায় ৭ শতাংশ পয়েন্ট বেড়েছে।
বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে নিয়মিত শিক্ষার্থীদের ৫৪ শতাংশেরও বেশি এ বছর পরীক্ষার ফরম পূরণ করেনি।
নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এ বছর ৩৩ দশমিক ০৪ শতাংশ নিয়মিত শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে না। গত বছর এই হার ছিল প্রায় ২৭ শতাংশ।
মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে নিবন্ধিত আলিম শিক্ষার্থীদের ৪৪ দশমিক ০৭ শতাংশ পরীক্ষার ফরম পূরণ করেনি। গত বছর এ হার ছিল প্রায় ৩৯ শতাংশ।
বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে নিয়মিত কারিগরি শিক্ষার্থীদের ৫৪ দশমিক ৫৮ শতাংশ এ বছরের পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে না। গত বছর এই হার ছিল প্রায় ৪০ শতাংশ।
অনুপস্থিতির হার হঠাৎ এত বেড়ে যাওয়ার নির্দিষ্ট কারণ এখনো জানাতে পারেনি শিক্ষা কর্তৃপক্ষ।
তবে গত বছর এসএসসি পরীক্ষায় অনুপস্থিত শিক্ষার্থীদের নিয়ে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের এক বিশ্লেষণে দেখা যায়, তাদের প্রায় ৪১ শতাংশের ইতোমধ্যে বিয়ে হয়ে গেছে। ফলে বাল্যবিবাহকে অনুপস্থিতির প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
এ ছাড়া পর্যাপ্ত প্রস্তুতির অভাব এবং দারিদ্র্যকেও গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
চলতি বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষাতেও দুই বছর আগে নিবন্ধন করা নিয়মিত শিক্ষার্থীদের ২৩ শতাংশেরও বেশি পরীক্ষায় অংশ নেয়নি।
এ ছাড়া সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ফরম পূরণ করার পরও পরীক্ষায় অনুপস্থিত থাকা শিক্ষার্থীর সংখ্যাও বেড়েছে।
শিক্ষা-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাল্যবিবাহ, দারিদ্র্য এবং এসএসসি পাস করার পর অনেক শিক্ষার্থীর কর্মজীবনে যুক্ত হয়ে যাওয়া—এসব কারণেই শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়ার প্রবণতা বাড়ছে।
তাদের মতে, এ বছর নিয়মিত এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের অনুপস্থিতির হার অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়া উদ্বেগের বিষয়।
গতকাল (১ জুলাই) এক সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে শিক্ষা উপদেষ্টা এ এন এম এহসানুল হক মিলন বলেন, এই প্রবণতার পেছনের কারণগুলো খুঁজে বের করার কাজ চলছে। তদন্তে যা পাওয়া যাবে, তার ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের সচিব এস এম কামাল উদ্দিন হায়দার বলেন, অনেক শিক্ষার্থী পর্যাপ্ত প্রস্তুতি না থাকায় নির্ধারিত বছরে পরীক্ষায় অংশ নেয় না। তারা পরের বছর পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে।
শিক্ষা উপদেষ্টা জানান, এ বছর নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, 'আগামী বছর থেকে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অভিন্ন বিষয়গুলোর পরীক্ষাও অভিন্ন প্রশ্নপত্রে অনুষ্ঠিত হবে।'
তিনি আরও বলেন, পরীক্ষা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ালে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রাজনীতি/এসআর

শুরু হলো ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের উচ্চ মাধ্যমিক (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষা। আজ বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকাল থেকে সারা দেশের ২ হাজার ৬৯৭টি কেন্দ্রে একযোগে এই পরীক্ষা শুরু হয়। তবে এবারের পরীক্ষায় অংশ নেওয়া মোট ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন নিয়মিত ও অনিয়মিত পরীক্ষার্থীর সংখ্যার চেয়েও বড় হয়ে উঠেছে এক উদ্বেগের চিত্র। শিক্ষা-সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, এবার নিয়মিত শিক্ষার্থীদের প্রায় ৩৬ শতাংশই পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে না, যা ঝরে পড়ার হারে এক অস্বাভাবিক রেকর্ড। বাল্যবিবাহ, কোভিড-পরবর্তী দারিদ্র্য এবং পর্যাপ্ত প্রস্তুতির অভাবকে এই বিশাল অনুপস্থিতির প্রধান কারণ হিসেবে মনে করা হচ্ছে।
পরীক্ষার্থীরা সকাল সাড়ে ৮টা থেকে কেন্দ্রে প্রবেশ করেছে। পরীক্ষার দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যরা দেহে ধারণযোগ্য ক্যামেরা ব্যবহার করবেন।
লিখিত পরীক্ষা ২১ দিনের মধ্যে শেষ হবে। যেসব দিনে পরীক্ষা থাকবে না, সেসব দিন পরীক্ষাকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে নিয়মিত ক্লাস চলবে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও শিক্ষা বোর্ডগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রায় ১৫ লাখ শিক্ষার্থী একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হয়েছিল।
তাদের মধ্যে প্রায় সাড়ে ৯ লাখ শিক্ষার্থী এ বছরের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফরম পূরণ করেছে। অর্থাৎ প্রায় সাড়ে ৫ লাখ নিয়মিত শিক্ষার্থী এবার পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে না।
গত বছর নিয়মিত শিক্ষার্থীদের মধ্যে ২৯ শতাংশের কিছু বেশি পরীক্ষায় অংশ নেয়নি। অর্থাৎ, মাত্র এক বছরের ব্যবধানে অনুপস্থিতির হার প্রায় ৭ শতাংশ পয়েন্ট বেড়েছে।
বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে নিয়মিত শিক্ষার্থীদের ৫৪ শতাংশেরও বেশি এ বছর পরীক্ষার ফরম পূরণ করেনি।
নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এ বছর ৩৩ দশমিক ০৪ শতাংশ নিয়মিত শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে না। গত বছর এই হার ছিল প্রায় ২৭ শতাংশ।
মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে নিবন্ধিত আলিম শিক্ষার্থীদের ৪৪ দশমিক ০৭ শতাংশ পরীক্ষার ফরম পূরণ করেনি। গত বছর এ হার ছিল প্রায় ৩৯ শতাংশ।
বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে নিয়মিত কারিগরি শিক্ষার্থীদের ৫৪ দশমিক ৫৮ শতাংশ এ বছরের পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে না। গত বছর এই হার ছিল প্রায় ৪০ শতাংশ।
অনুপস্থিতির হার হঠাৎ এত বেড়ে যাওয়ার নির্দিষ্ট কারণ এখনো জানাতে পারেনি শিক্ষা কর্তৃপক্ষ।
তবে গত বছর এসএসসি পরীক্ষায় অনুপস্থিত শিক্ষার্থীদের নিয়ে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের এক বিশ্লেষণে দেখা যায়, তাদের প্রায় ৪১ শতাংশের ইতোমধ্যে বিয়ে হয়ে গেছে। ফলে বাল্যবিবাহকে অনুপস্থিতির প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
এ ছাড়া পর্যাপ্ত প্রস্তুতির অভাব এবং দারিদ্র্যকেও গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
চলতি বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষাতেও দুই বছর আগে নিবন্ধন করা নিয়মিত শিক্ষার্থীদের ২৩ শতাংশেরও বেশি পরীক্ষায় অংশ নেয়নি।
এ ছাড়া সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ফরম পূরণ করার পরও পরীক্ষায় অনুপস্থিত থাকা শিক্ষার্থীর সংখ্যাও বেড়েছে।
শিক্ষা-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাল্যবিবাহ, দারিদ্র্য এবং এসএসসি পাস করার পর অনেক শিক্ষার্থীর কর্মজীবনে যুক্ত হয়ে যাওয়া—এসব কারণেই শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়ার প্রবণতা বাড়ছে।
তাদের মতে, এ বছর নিয়মিত এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের অনুপস্থিতির হার অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়া উদ্বেগের বিষয়।
গতকাল (১ জুলাই) এক সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে শিক্ষা উপদেষ্টা এ এন এম এহসানুল হক মিলন বলেন, এই প্রবণতার পেছনের কারণগুলো খুঁজে বের করার কাজ চলছে। তদন্তে যা পাওয়া যাবে, তার ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের সচিব এস এম কামাল উদ্দিন হায়দার বলেন, অনেক শিক্ষার্থী পর্যাপ্ত প্রস্তুতি না থাকায় নির্ধারিত বছরে পরীক্ষায় অংশ নেয় না। তারা পরের বছর পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে।
শিক্ষা উপদেষ্টা জানান, এ বছর নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, 'আগামী বছর থেকে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অভিন্ন বিষয়গুলোর পরীক্ষাও অভিন্ন প্রশ্নপত্রে অনুষ্ঠিত হবে।'
তিনি আরও বলেন, পরীক্ষা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ালে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রাজনীতি/এসআর

জনগণের ওপর একটি অকার্যকর ও সরকারনিয়ন্ত্রিত মানবাধিকার কমিশন চাপিয়ে দেওয়া হলে তা সরকারের জন্যই আত্মঘাতী হবে বলে মন্তব্য করেছেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান।
৩ ঘণ্টা আগে
চিফ হুইপ বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া ও চীন সফর ভারত কীভাবে নিয়েছে, সেটা তাদের কর্মকাণ্ডে নজর দিলেই সবাই বুঝতে পারবে।
৪ ঘণ্টা আগে
শিক্ষামন্ত্রী উল্লেখ করেন, শিক্ষকরা সরাসরি নির্বাচনে জড়িয়ে পড়লে তার নেতিবাচক প্রভাব পড়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার ওপর। আর তাই কোনো শিক্ষক যদি জনপ্রতিনিধি হিসেবে প্রার্থী হতে চান, তবে তাকে অবশ্যই আগে শিক্ষকতার চাকরি ছাড়তে হবে।
৪ ঘণ্টা আগে
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিনের মতো বৃহস্পতিবার ভোরেও শ্রমিকরা খাদানে পাথর উত্তোলনের কাজ করছিলেন। এ সময় হঠাৎ করেই প্রায় ৪০ ফুট ওপর থেকে একটি বিশাল শিলাখণ্ড ভেঙে নিচে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যেই সেখানে কর্মরত কয়েকজন শ্রমিক শিলাখণ্ডের নিচে চাপা পড়েন এবং ঘটনাস্থলেই সাতজনের মৃত্যু হয়
৪ ঘণ্টা আগে