
ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম

ফুসফুস ক্যান্সারের চিকিৎসায় নতুন এক ধরনের ভ্যাকসিনের প্রথম ডোজ পেয়েছেন যুক্তরাজ্যের মার্সিসাইডের ৬৮ বছর বয়সী এক নারী। চিকিৎসকেরা আশা করছেন, পরীক্ষামূলক এই ভ্যাকসিন কিছু অগ্রসর পর্যায়ের ফুসফুস ক্যান্সারে ইমিউনোথেরাপির কার্যকারিতা বাড়াতে পারে।
মার্সিসাইডের হোয়েলেক, উইরাল এলাকার বাসিন্দা ক্রিস জোন্স লিভারপুলের ক্ল্যাটারব্রিজ ক্যান্সার সেন্টারে চলমান একটি প্রাথমিক পর্যায়ের ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে অংশ নিয়েছেন। এই ট্রায়ালে তিনিই বিশ্বের প্রথম রোগী, যিনি নতুন এই ভ্যাকসিন পেয়েছেন।
বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, ক্রিসের অ্যাডভান্সড নন-স্মল-সেল লাং ক্যান্সার বা অগ্রসর পর্যায়ের নন-স্মল-সেল ফুসফুস ক্যান্সার রয়েছে। ফুসফুসের ক্যান্সারের ৮০ শতাংশেরও বেশি ক্ষেত্রে এ ধরনের ক্যান্সার দেখা যায়।
বর্তমানে ইমিউনোথেরাপি নিচ্ছেন। চিকিৎসকেরা বলছেন, এতে কিছুটা সাড়া পাওয়া গেলেও তার ক্ষেত্রে চিকিৎসাটি যথেষ্ট কার্যকর হয়নি। নতুন ভ্যাকসিনের লক্ষ্য হলো শরীরের রোগপ্রতিরোধী ব্যবস্থাকে আরও সক্রিয় করে ক্যান্সার কোষ শনাক্ত ও ধ্বংস করার ক্ষমতা বাড়ানো।
কেন দরকার নতুন এই ভ্যাকসিন?
ক্ল্যাটারব্রিজ ক্যান্সার সেন্টারের মেডিকেল অনকোলজি কনসালট্যান্ট ডা. কার্লেস এসক্রিউ বলেন, ইমিউনোথেরাপি নেওয়া অনেক রোগীর ক্ষেত্রেই শুরুতে ভালো সাড়া পাওয়া গেলেও পরে ক্যান্সার চিকিৎসার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে।
তার ভাষায়, কিছু রোগীর ক্ষেত্রে ইমিউনোথেরাপি শুরুতে কাজ করলেও পরে ক্যান্সার ‘কীভাবে প্রতিরোধী হয়ে উঠতে হয় তা শিখে ফেলে’। ফলে প্রাথমিক সাড়া পাওয়ার পরও দীর্ঘমেয়াদে চিকিৎসার কার্যকারিতা কমে যায়।
নতুন ভ্যাকসিনের উদ্দেশ্য ঠিক এখানেই— রোগীর রোগপ্রতিরোধী ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করা, যেন ক্যান্সার কোষকে দীর্ঘসময় ধরে আক্রমণ করা সম্ভব হয়।
এসক্রিউ বলেন, এই ধরনের গবেষণা ‘বিশাল এক অগ্রগতি’ এবং এতে কাজ করার সুযোগ পাওয়া অত্যন্ত রোমাঞ্চকর।
রোগীর নিজের ক্যান্সার থেকেই তৈরি হচ্ছে ভ্যাকসিন
এই ভ্যাকসিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো— এটি সবার জন্য একইভাবে তৈরি করা হয় না। ক্রিস জোন্সের জন্য ভ্যাকসিনটি তৈরি করা হয়েছে তার নিজের টিউমারের নমুনা ব্যবহার করে।
প্রথমে তার টিউমার থেকে বায়োপসি নেওয়া হয়। সেই নমুনার মাধ্যমে তার ক্যান্সারের জেনেটিক বা ডিএনএ বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ করা হয়। এরপর সেই তথ্য ব্যবহার করে তৈরি করা হয় একটি কৃত্রিম ডিএনএভিত্তিক ভ্যাকসিন।
এই কৃত্রিম ডিএনএর একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো এর আকৃতি। গবেষকেরা এটিকে ‘ডগিবোন’ ডিএনএ নামে উল্লেখ করছেন, কারণ এর গঠন দেখতে অনেকটা কুকুরের হাড়ের মতো।
গবেষকদের দাবি, প্রচলিত ব্যাকটেরিয়াল ডিএনএর তুলনায় এ ধরনের ডিএনএ দ্রুত ও তুলনামূলক কম খরচে উৎপাদন করা সম্ভব। ভবিষ্যতে যদি ব্যক্তিভেদে আলাদা আলাদা ক্যান্সার ভ্যাকসিন তৈরির প্রয়োজন হয়, তাহলে এ পদ্ধতি তা আরও বাস্তবসম্মত করে তুলতে পারে।
তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো— এখনো এটি পরীক্ষামূলক প্রযুক্তি। প্রাথমিক পর্যায়ের এই ট্রায়ালের ফলাফল থেকে এখনই এর কার্যকারিতা বা দীর্ঘমেয়াদি সুফল নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।
অন্যান্য ভ্যাকসিনের সঙ্গে পার্থক্য
নাম ‘ভ্যাকসিন’ হলেও এটি সাধারণ প্রতিরোধমূলক টিকার মতো নয়। হাম, ইনফ্লুয়েঞ্জা বা কোভিড-১৯-এর টিকার মতো সুস্থ মানুষের শরীরে রোগ প্রতিরোধের জন্য দেওয়া হচ্ছে না এই ভ্যাকসিন। বরং এটি ক্যান্সারে আক্রান্ত একজন রোগীর শরীরে ইমিউন সিস্টেমকে ক্যান্সার কোষের বিরুদ্ধে আরও কার্যকরভাবে কাজ করতে উৎসাহিত করার জন্য তৈরি করা হয়েছে।
অর্থাৎ, এটি ক্যান্সার প্রতিরোধের টিকা নয়, বরং ক্যান্সারের চিকিৎসায় ব্যবহারের জন্য পরীক্ষাধীন একটি ব্যক্তিভিত্তিক ইমিউনোথেরাপি পদ্ধতি।
কীভাবে দেওয়া হচ্ছে?
ক্রিসকে ভ্যাকসিনের ডোজ দিতে প্রচলিত সূঁচ ব্যবহার করা হয়নি। একটি সূঁচবিহীন ডিভাইসের মাধ্যমে দুই হাতে একটি করে শট দেওয়া হয়েছে। এরপর তিনি তার নিয়মিত ইমিউনোথেরাপির ইনফিউশন নিয়েছেন।
গবেষণা নার্স উইল ম্যাককেইগ প্রতিটি ডোজ দেওয়ার আগে তা পরীক্ষা করে নেন। তার ভাষায়, এই পর্যায়ে পৌঁছাতে অনেক কাজ করতে হয়েছে এবং পুরো প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত থাকতে পেরে তিনি অত্যন্ত গর্বিত।
ক্রিস নিজেও প্রথম ডোজ নেওয়ার আগে স্বীকার করেছেন, তিনি কিছুটা নার্ভাস ছিলেন। তবে পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্তের পেছনে তার ব্যক্তিগত একটি গভীর কারণও রয়েছে।
মেয়েকে হারানোর অভিজ্ঞতা থেকেই সিদ্ধান্ত
প্রায় ১০ বছর আগে ক্রিসের বড় মেয়ে অ্যালেক্স সেকেন্ডারি স্তন ক্যান্সারে মারা যান।
ক্রিস বলেন, তার মেয়ের সময়ে এ ধরনের কোনো চিকিৎসা বা গবেষণার সুযোগ থাকলে হয়তো পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারত। সেই অভিজ্ঞতাই তাকে নতুন এই ট্রায়ালে অংশ নিতে আরও উৎসাহিত করেছে।
তিনি বলেন, তিনি এ পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন কারণ তিনি যতটাসম্ভব বেশি সময় বাঁচতে চান। একই সঙ্গে তার চিকিৎসা অন্য মানুষের জন্য ভবিষ্যতে কাজে লাগলে সেটিও হবে বাড়তি পাওয়া।
ক্রিসের ভাষায়, ‘আমি মনে করি, ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল অসাধারণ।’
বহু প্রতিষ্ঠানের যৌথ উদ্যোগ
এই ট্রায়ালটি কোনো একটি প্রতিষ্ঠান এককভাবে পরিচালনা করছে না। ইউনিভার্সিটি অব লিভারপুল, ক্ল্যাটারব্রিজ ক্যান্সার সেন্টার, এনএইচএস ব্লাড অ্যান্ড ট্রান্সপ্লান্টসহ জেনেটিকস ও ইমিউনোথেরাপি নিয়ে কাজ করা কয়েকটি বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন ধরে এই উদ্যোগে সমন্বিতভাবে কাজ করছে।
চিকিৎসক এসক্রিউ বলেন, এটি অত্যন্ত জটিল একটি গবেষণা, যেখানে বিপুল পরিমাণ সমন্বয় প্রয়োজন। বিশ্বে খুব কম ক্যান্সার সেন্টারই এ ধরনের গবেষণা পরিচালনার সক্ষমতা বা প্রস্তুতি রাখে।
প্রাথমিক এই ট্রায়ালে মোট ১০ জন রোগী অংশ নেবেন। প্রত্যেককে আগামী ২৪ সপ্তাহে মোট সাতটি ডোজ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
এ গবেষণার যৌথ নেতৃত্বে আছেন অধ্যাপক ক্রিশ্চিয়ান ওটেনস্মায়ার ও অধ্যাপক নাটালিয়া সাভেলিয়েভা।
লক্ষ্য— ক্যানসার কোষকে ‘দেখতে’ শেখানো
গবেষকদের মূল লক্ষ্য হলো শরীরের রোগপ্রতিরোধী ব্যবস্থাকে এমনভাবে সক্রিয় করা, যেন সেটি আগে ইমিউন সিস্টেমের নজর এড়িয়ে যাওয়া ক্যান্সার কোষকে শনাক্ত করতে পারে এবং সেগুলোর বিরুদ্ধে আক্রমণ চালাতে পারে।
অধ্যাপক ওটেনস্মায়ারের আশা, এই গবেষণা অগ্রসর পর্যায়ের ফুসফুস ক্যান্সারের ভ্যাকসিন ব্যবহারের নতুন পথ খুলে দিতে পারে।
তবে এটি এখনো গবেষণার একেবারে শুরুর দিক। মাত্র ১০ জন রোগীকে নিয়ে পরিচালিত এই ট্রায়ালের মাধ্যমে মূলত চিকিৎসাটি কতটা নিরাপদ, কীভাবে দেওয়া যায় এবং এর প্রাথমিক কার্যকারিতার কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যায় কি না— সেসব বিষয়ে ধারণা নেওয়া হবে। বড় পরিসরে কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে পরবর্তী ধাপে আরও ব্যাপক গবেষণা প্রয়োজন হবে।
ছয় সপ্তাহ পর জানা যাবে প্রাথমিক ফল
ক্রিসের জন্য এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অপেক্ষা আগামী কয়েক সপ্তাহ। প্রথম ভ্যাকসিন নেওয়ার প্রায় ছয় সপ্তাহ পর তার স্ক্যান করা হবে। তখন চিকিৎসকেরা দেখবেন, তার টিউমার ছোট হয়েছে কি না এবং নতুন চিকিৎসায় তার শরীর কেমন সাড়া দিচ্ছে।
ক্রিস অবশ্য ভবিষ্যৎ নিয়ে এখনো আশাবাদী। তিনি বলেন, তিনি যতটাসম্ভব অবসর নিয়ে জীবন উপভোগ করতে চান, মজা করতে চান। তার কথায়, ‘আমি এখনো চলে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত নই। আমার অনেক কিছু করার বাকি।’
জনস্বাস্থ্যের দৃষ্টিতে কেন গুরুত্বপূর্ণ
ফুসফুস ক্যান্সার বিশ্ব জুড়ে ক্যান্সারজনিত মৃত্যু ও অসুস্থতার অন্যতম বড় কারণ। বিশেষ করে অগ্রসর পর্যায়ের রোগীদের ক্ষেত্রে চিকিৎসা দীর্ঘদিন কার্যকর রাখা বড় চ্যালেঞ্জ। ইমিউনোথেরাপি কিছু রোগীর ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ফল দিলেও সবার ক্ষেত্রে তা দীর্ঘমেয়াদে কাজ করে না। সেই জায়গায় রোগীর নিজের টিউমারের জেনেটিক বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী তৈরি ব্যক্তিভিত্তিক ভ্যাকসিন ভবিষ্যতে নতুন চিকিৎসা-পদ্ধতির সুযোগ তৈরি করতে পারে।
তবে এই মুহূর্তে এটিকে যুগান্তকারী বা নিশ্চিত সফল চিকিৎসা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বিশ্বে প্রথম রোগী ভ্যাকসিন পেয়েছেন— এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ গবেষণাগত মাইলফলক, যার কার্যকারিতা এখনো প্রমাণিত হয়নি। ট্রায়ালের পরবর্তী ফলাফলই বলে দেবে, এই ভ্যাকসিন বাস্তবে অগ্রসর ফুসফুস ক্যান্সারের চিকিৎসায় কতটা কার্যকর হতে পারে।

ফুসফুস ক্যান্সারের চিকিৎসায় নতুন এক ধরনের ভ্যাকসিনের প্রথম ডোজ পেয়েছেন যুক্তরাজ্যের মার্সিসাইডের ৬৮ বছর বয়সী এক নারী। চিকিৎসকেরা আশা করছেন, পরীক্ষামূলক এই ভ্যাকসিন কিছু অগ্রসর পর্যায়ের ফুসফুস ক্যান্সারে ইমিউনোথেরাপির কার্যকারিতা বাড়াতে পারে।
মার্সিসাইডের হোয়েলেক, উইরাল এলাকার বাসিন্দা ক্রিস জোন্স লিভারপুলের ক্ল্যাটারব্রিজ ক্যান্সার সেন্টারে চলমান একটি প্রাথমিক পর্যায়ের ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে অংশ নিয়েছেন। এই ট্রায়ালে তিনিই বিশ্বের প্রথম রোগী, যিনি নতুন এই ভ্যাকসিন পেয়েছেন।
বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, ক্রিসের অ্যাডভান্সড নন-স্মল-সেল লাং ক্যান্সার বা অগ্রসর পর্যায়ের নন-স্মল-সেল ফুসফুস ক্যান্সার রয়েছে। ফুসফুসের ক্যান্সারের ৮০ শতাংশেরও বেশি ক্ষেত্রে এ ধরনের ক্যান্সার দেখা যায়।
বর্তমানে ইমিউনোথেরাপি নিচ্ছেন। চিকিৎসকেরা বলছেন, এতে কিছুটা সাড়া পাওয়া গেলেও তার ক্ষেত্রে চিকিৎসাটি যথেষ্ট কার্যকর হয়নি। নতুন ভ্যাকসিনের লক্ষ্য হলো শরীরের রোগপ্রতিরোধী ব্যবস্থাকে আরও সক্রিয় করে ক্যান্সার কোষ শনাক্ত ও ধ্বংস করার ক্ষমতা বাড়ানো।
কেন দরকার নতুন এই ভ্যাকসিন?
ক্ল্যাটারব্রিজ ক্যান্সার সেন্টারের মেডিকেল অনকোলজি কনসালট্যান্ট ডা. কার্লেস এসক্রিউ বলেন, ইমিউনোথেরাপি নেওয়া অনেক রোগীর ক্ষেত্রেই শুরুতে ভালো সাড়া পাওয়া গেলেও পরে ক্যান্সার চিকিৎসার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে।
তার ভাষায়, কিছু রোগীর ক্ষেত্রে ইমিউনোথেরাপি শুরুতে কাজ করলেও পরে ক্যান্সার ‘কীভাবে প্রতিরোধী হয়ে উঠতে হয় তা শিখে ফেলে’। ফলে প্রাথমিক সাড়া পাওয়ার পরও দীর্ঘমেয়াদে চিকিৎসার কার্যকারিতা কমে যায়।
নতুন ভ্যাকসিনের উদ্দেশ্য ঠিক এখানেই— রোগীর রোগপ্রতিরোধী ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করা, যেন ক্যান্সার কোষকে দীর্ঘসময় ধরে আক্রমণ করা সম্ভব হয়।
এসক্রিউ বলেন, এই ধরনের গবেষণা ‘বিশাল এক অগ্রগতি’ এবং এতে কাজ করার সুযোগ পাওয়া অত্যন্ত রোমাঞ্চকর।
রোগীর নিজের ক্যান্সার থেকেই তৈরি হচ্ছে ভ্যাকসিন
এই ভ্যাকসিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো— এটি সবার জন্য একইভাবে তৈরি করা হয় না। ক্রিস জোন্সের জন্য ভ্যাকসিনটি তৈরি করা হয়েছে তার নিজের টিউমারের নমুনা ব্যবহার করে।
প্রথমে তার টিউমার থেকে বায়োপসি নেওয়া হয়। সেই নমুনার মাধ্যমে তার ক্যান্সারের জেনেটিক বা ডিএনএ বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ করা হয়। এরপর সেই তথ্য ব্যবহার করে তৈরি করা হয় একটি কৃত্রিম ডিএনএভিত্তিক ভ্যাকসিন।
এই কৃত্রিম ডিএনএর একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো এর আকৃতি। গবেষকেরা এটিকে ‘ডগিবোন’ ডিএনএ নামে উল্লেখ করছেন, কারণ এর গঠন দেখতে অনেকটা কুকুরের হাড়ের মতো।
গবেষকদের দাবি, প্রচলিত ব্যাকটেরিয়াল ডিএনএর তুলনায় এ ধরনের ডিএনএ দ্রুত ও তুলনামূলক কম খরচে উৎপাদন করা সম্ভব। ভবিষ্যতে যদি ব্যক্তিভেদে আলাদা আলাদা ক্যান্সার ভ্যাকসিন তৈরির প্রয়োজন হয়, তাহলে এ পদ্ধতি তা আরও বাস্তবসম্মত করে তুলতে পারে।
তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো— এখনো এটি পরীক্ষামূলক প্রযুক্তি। প্রাথমিক পর্যায়ের এই ট্রায়ালের ফলাফল থেকে এখনই এর কার্যকারিতা বা দীর্ঘমেয়াদি সুফল নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।
অন্যান্য ভ্যাকসিনের সঙ্গে পার্থক্য
নাম ‘ভ্যাকসিন’ হলেও এটি সাধারণ প্রতিরোধমূলক টিকার মতো নয়। হাম, ইনফ্লুয়েঞ্জা বা কোভিড-১৯-এর টিকার মতো সুস্থ মানুষের শরীরে রোগ প্রতিরোধের জন্য দেওয়া হচ্ছে না এই ভ্যাকসিন। বরং এটি ক্যান্সারে আক্রান্ত একজন রোগীর শরীরে ইমিউন সিস্টেমকে ক্যান্সার কোষের বিরুদ্ধে আরও কার্যকরভাবে কাজ করতে উৎসাহিত করার জন্য তৈরি করা হয়েছে।
অর্থাৎ, এটি ক্যান্সার প্রতিরোধের টিকা নয়, বরং ক্যান্সারের চিকিৎসায় ব্যবহারের জন্য পরীক্ষাধীন একটি ব্যক্তিভিত্তিক ইমিউনোথেরাপি পদ্ধতি।
কীভাবে দেওয়া হচ্ছে?
ক্রিসকে ভ্যাকসিনের ডোজ দিতে প্রচলিত সূঁচ ব্যবহার করা হয়নি। একটি সূঁচবিহীন ডিভাইসের মাধ্যমে দুই হাতে একটি করে শট দেওয়া হয়েছে। এরপর তিনি তার নিয়মিত ইমিউনোথেরাপির ইনফিউশন নিয়েছেন।
গবেষণা নার্স উইল ম্যাককেইগ প্রতিটি ডোজ দেওয়ার আগে তা পরীক্ষা করে নেন। তার ভাষায়, এই পর্যায়ে পৌঁছাতে অনেক কাজ করতে হয়েছে এবং পুরো প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত থাকতে পেরে তিনি অত্যন্ত গর্বিত।
ক্রিস নিজেও প্রথম ডোজ নেওয়ার আগে স্বীকার করেছেন, তিনি কিছুটা নার্ভাস ছিলেন। তবে পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্তের পেছনে তার ব্যক্তিগত একটি গভীর কারণও রয়েছে।
মেয়েকে হারানোর অভিজ্ঞতা থেকেই সিদ্ধান্ত
প্রায় ১০ বছর আগে ক্রিসের বড় মেয়ে অ্যালেক্স সেকেন্ডারি স্তন ক্যান্সারে মারা যান।
ক্রিস বলেন, তার মেয়ের সময়ে এ ধরনের কোনো চিকিৎসা বা গবেষণার সুযোগ থাকলে হয়তো পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারত। সেই অভিজ্ঞতাই তাকে নতুন এই ট্রায়ালে অংশ নিতে আরও উৎসাহিত করেছে।
তিনি বলেন, তিনি এ পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন কারণ তিনি যতটাসম্ভব বেশি সময় বাঁচতে চান। একই সঙ্গে তার চিকিৎসা অন্য মানুষের জন্য ভবিষ্যতে কাজে লাগলে সেটিও হবে বাড়তি পাওয়া।
ক্রিসের ভাষায়, ‘আমি মনে করি, ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল অসাধারণ।’
বহু প্রতিষ্ঠানের যৌথ উদ্যোগ
এই ট্রায়ালটি কোনো একটি প্রতিষ্ঠান এককভাবে পরিচালনা করছে না। ইউনিভার্সিটি অব লিভারপুল, ক্ল্যাটারব্রিজ ক্যান্সার সেন্টার, এনএইচএস ব্লাড অ্যান্ড ট্রান্সপ্লান্টসহ জেনেটিকস ও ইমিউনোথেরাপি নিয়ে কাজ করা কয়েকটি বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন ধরে এই উদ্যোগে সমন্বিতভাবে কাজ করছে।
চিকিৎসক এসক্রিউ বলেন, এটি অত্যন্ত জটিল একটি গবেষণা, যেখানে বিপুল পরিমাণ সমন্বয় প্রয়োজন। বিশ্বে খুব কম ক্যান্সার সেন্টারই এ ধরনের গবেষণা পরিচালনার সক্ষমতা বা প্রস্তুতি রাখে।
প্রাথমিক এই ট্রায়ালে মোট ১০ জন রোগী অংশ নেবেন। প্রত্যেককে আগামী ২৪ সপ্তাহে মোট সাতটি ডোজ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
এ গবেষণার যৌথ নেতৃত্বে আছেন অধ্যাপক ক্রিশ্চিয়ান ওটেনস্মায়ার ও অধ্যাপক নাটালিয়া সাভেলিয়েভা।
লক্ষ্য— ক্যানসার কোষকে ‘দেখতে’ শেখানো
গবেষকদের মূল লক্ষ্য হলো শরীরের রোগপ্রতিরোধী ব্যবস্থাকে এমনভাবে সক্রিয় করা, যেন সেটি আগে ইমিউন সিস্টেমের নজর এড়িয়ে যাওয়া ক্যান্সার কোষকে শনাক্ত করতে পারে এবং সেগুলোর বিরুদ্ধে আক্রমণ চালাতে পারে।
অধ্যাপক ওটেনস্মায়ারের আশা, এই গবেষণা অগ্রসর পর্যায়ের ফুসফুস ক্যান্সারের ভ্যাকসিন ব্যবহারের নতুন পথ খুলে দিতে পারে।
তবে এটি এখনো গবেষণার একেবারে শুরুর দিক। মাত্র ১০ জন রোগীকে নিয়ে পরিচালিত এই ট্রায়ালের মাধ্যমে মূলত চিকিৎসাটি কতটা নিরাপদ, কীভাবে দেওয়া যায় এবং এর প্রাথমিক কার্যকারিতার কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যায় কি না— সেসব বিষয়ে ধারণা নেওয়া হবে। বড় পরিসরে কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে পরবর্তী ধাপে আরও ব্যাপক গবেষণা প্রয়োজন হবে।
ছয় সপ্তাহ পর জানা যাবে প্রাথমিক ফল
ক্রিসের জন্য এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অপেক্ষা আগামী কয়েক সপ্তাহ। প্রথম ভ্যাকসিন নেওয়ার প্রায় ছয় সপ্তাহ পর তার স্ক্যান করা হবে। তখন চিকিৎসকেরা দেখবেন, তার টিউমার ছোট হয়েছে কি না এবং নতুন চিকিৎসায় তার শরীর কেমন সাড়া দিচ্ছে।
ক্রিস অবশ্য ভবিষ্যৎ নিয়ে এখনো আশাবাদী। তিনি বলেন, তিনি যতটাসম্ভব অবসর নিয়ে জীবন উপভোগ করতে চান, মজা করতে চান। তার কথায়, ‘আমি এখনো চলে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত নই। আমার অনেক কিছু করার বাকি।’
জনস্বাস্থ্যের দৃষ্টিতে কেন গুরুত্বপূর্ণ
ফুসফুস ক্যান্সার বিশ্ব জুড়ে ক্যান্সারজনিত মৃত্যু ও অসুস্থতার অন্যতম বড় কারণ। বিশেষ করে অগ্রসর পর্যায়ের রোগীদের ক্ষেত্রে চিকিৎসা দীর্ঘদিন কার্যকর রাখা বড় চ্যালেঞ্জ। ইমিউনোথেরাপি কিছু রোগীর ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ফল দিলেও সবার ক্ষেত্রে তা দীর্ঘমেয়াদে কাজ করে না। সেই জায়গায় রোগীর নিজের টিউমারের জেনেটিক বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী তৈরি ব্যক্তিভিত্তিক ভ্যাকসিন ভবিষ্যতে নতুন চিকিৎসা-পদ্ধতির সুযোগ তৈরি করতে পারে।
তবে এই মুহূর্তে এটিকে যুগান্তকারী বা নিশ্চিত সফল চিকিৎসা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বিশ্বে প্রথম রোগী ভ্যাকসিন পেয়েছেন— এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ গবেষণাগত মাইলফলক, যার কার্যকারিতা এখনো প্রমাণিত হয়নি। ট্রায়ালের পরবর্তী ফলাফলই বলে দেবে, এই ভ্যাকসিন বাস্তবে অগ্রসর ফুসফুস ক্যান্সারের চিকিৎসায় কতটা কার্যকর হতে পারে।

গত ১৮ জুন অধ্যাপক রেজাউল ইসলামের বিরুদ্ধে এক ছাত্রীকে মেসেঞ্জারে অশালীন মেসেজ পাঠানো ও ‘কুপ্রস্তাব’ দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। পরে তাকে ডিসিপ্লিনের প্রধানের পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। এবার তাকে চাকরিচ্যুত করা হলো।
১৪ ঘণ্টা আগে
মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় চালুর বিষয়ে দুই দেশ নীতিগতভাবে একমত হয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর মাহদী আমিন বলেন, আমরা অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে জানাতে চাই, আমাদের দুই দেশই অবিলম্বে এই শ্রমবাজার পুনরায় চালু করার বিষয়ে নীতিগতভাবে একমত হয়েছে। একটি নতুন ও আধুনিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করে যত দ্রুতসম্ভব আমরা এই শ্রমবা
১ দিন আগে
ঢাবির সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ও জবির সাবেক উপাচার্য ড. সাদেকা হালিম প্রসঙ্গে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শ্রেণিকক্ষ ও শ্রেণিকক্ষের বাইরে অশিক্ষকসুলভ আচরণ ও নৈতিক স্খলনজনিত অপরাধসহ বিভিন্ন অভিযোগে তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।
১ দিন আগে