
ফেনী প্রতিনিধি

টানা বৃষ্টি ও ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাড়াড়ি ঢলে স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যায় প্লাবিত হয়ে ফেনীতে ভেসে গেছে ১৮ হাজার পুকুর ও দিঘির মাছ। এতে ২৮ কোটি ৯ লাখ ২০ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন অন্তত ২০ হাজার মানুষ।
মৎস্য বিভাগের তথ্যমতে জেলায় সরকারি-বেসরকারি পুকুর ও দিঘির সংখ্যা ৪৬ হাজার ৯৯৬টি। যার মধ্যে চলতি বছরে কয়েক দফায় বন্যায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে মৎস্যখাত। এবারের বন্যায় জেলার অধিকাংশ পুকুর ও ঘেরের মাছ পানিতে ভেসে গেছে।
জুলাই মাসে বন্যার পর গত ২২ আগস্ট উজানের ঢলের পানিতে তলিয়ে যায় পুরো ফেনী জেলা। স্মরণকালের ভয়াবহ এই বন্যার পানি নেমে যাচ্ছে ধীরগতিতে। সঙ্গে দৃশ্যমান হচ্ছে বন্যার ক্ষত।
জেলা মৎস্য বিভাগ সূত্র জানায়, বন্যার পানিতে ভেসে গেছে একক ও যৌথ মালিকানাধীন ১৮ হাজার ৭৬০টি পুকুর-দিঘি। বন্যায় জেলার ছয়টি উপজেলায় মৎস্য চাষিদের ২৮ কোটি ৯ লাখ ২০ হাজার টাকা ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এ সংশ্লিষ্ট অন্তত ২০ হাজার মানুষ। এসব পুকুর থেকে ২২ কোটি ৬৪ লাখ টাকার বড় মাছ এবং ৯৭ লাখ টাকার মাছের পোনা ভেসে গেছে। এছাড়া জেলায় খামারিদের ৫৪ লাখ টাকার অবকাঠামো ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
এর আগে, জুলাই মাসের বন্যায় পরশুরাম উপজেলায় ৮০টি পুকুর ভেসে ১৭ লাখ ২৫ হাজার টাকার মাছ ও ৩০ লাখ ৭০ হাজার টাকার মাছের পোনা ভেসে যায়। উপজেলায় মৎস্য চাষিদের অবকাঠামোগত ক্ষতি হয়েছে প্রায় আড়াই লাখ টাকা। সবমিলিয়ে পরশুরামের মৎস্য খাতে প্রায় সাড়ে ৫০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছিল। জেলার ফুলগাজী উপজেলায় ২৬৫টি পুকুর ভেসে সাড়ে ৪০ লাখ টাকার মাছ ও সাড়ে ৭ লাখ টাকার মাছের পোনা ভেসে যায়। উপজেলায় মাছ চাষিদের ২০ লাখ টাকার আসবাবপত্র নষ্ট হয়। সবমিলিয়ে ফুলগাজীতে ৬৮ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করা হয়েছিল।
দেড় মাসের মধ্যে কয়েকদফায় বন্যায় বেশকয়েকবার ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে মাছচাষিরা। তারা বলছেন, এবারের বন্যায় তাদের সব শেষ। ক্ষতির ভার না নিতে পেরে মাছ চাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন অধিকাংশ কৃষক।
জেলার ছাগলনাইয়া উপজেলার নিজকুঞ্জরা গ্রামের মাছচাষি জসিম উদ্দিন। একটি দিঘি ইজারা নিয়ে মাছ চাষ করেছিলেন তিনি। এক মাস পরেই মাছ বিক্রির সময় ছিল। কিন্তু বন্যার পানিতে তার সব শেষ। চারপাশে ঘেরাও দিয়েও মাছ রক্ষা করতে পারেননি তিনি।
নিজের ক্ষতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, নদীর পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পুকুরের চারপাশে নেট জাল দিয়ে ঘিরে রেখেছিলাম। কিন্তু বাঁধ ভেঙে পানির তীব্র স্রোতে এটি কোনো কাজে আসেনি। সবকিছু পানিতে ভেসে গেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যদি আমাদের পাশে না দাঁড়ায় তাহলে কোনোভাবেই ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব নয়।
ফুলগাজীর মাছচাষি আব্দুর রহমান বলেন, আগের বন্যার চেয়ে এবার পানির চাপ অনেক বেশি ছিল। মাত্র দেড়মাসের ব্যবধানে তৃতীয় দফায় বন্যার পানিতে সব ভেসে গেছে। ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার আগেই বারবার লোকসান গুনতে হচ্ছে। অনেকেই ব্যবসা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে।
ঘোপাল ইউনিয়নের মাছচাষি আলাউদ্দিন চৌধুরী বলেন, ২ লাখ টাকার রেণু ছেড়েছিলাম কয়েক মাস আগে। বিক্রির সময় ছিল। এর আগে অতিবৃষ্টিতে পানি বেড়ে একবার ক্ষতির মুখোমুখি হয়েছি। জাল দিয়ে চেষ্টা করেছি বাঁচানোর। তবে এবারের বন্যা তো সব শেষ করে দিয়েছে। পানির স্রোত দেখে আর চেষ্টাও করিনি। সব শেষ।
বন্যার সময় দেখা যায়, বাড়ির উঠান, দরজার সামনে, জমিতে মাছ পাওয়া যাচ্ছে। জাল মেরে অনেককেই ১০ থেকে ২০ কেজি মাছ ধরতে দেখা যায়। তারা বলছেন, দিঘি-পুকুরের সব মাছ বেরিয়ে গেছে। ঘরের সামনেও মাছ পাওয়া গেছে। সবার অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে গেছে।
এ ব্যাপারে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম বলেন, বন্যার পানিতে অপূরণীয় ক্ষতির মুখোমুখি হয়েছে মৎস্য খাত। খামারিরা মাত্র দেড় মাসের মাথায় তৃতীয় দফার বন্যায় আর্থিকভাবে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। তবে অন্যান্য দফতরের মতো মৎস্য বিভাগের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্তদের পরামর্শ ব্যতিত কোনো ধরনের আর্থিক সহায়তা বা প্রণোদনার সুযোগ নেই বলে জানান তিনি।

টানা বৃষ্টি ও ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাড়াড়ি ঢলে স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যায় প্লাবিত হয়ে ফেনীতে ভেসে গেছে ১৮ হাজার পুকুর ও দিঘির মাছ। এতে ২৮ কোটি ৯ লাখ ২০ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন অন্তত ২০ হাজার মানুষ।
মৎস্য বিভাগের তথ্যমতে জেলায় সরকারি-বেসরকারি পুকুর ও দিঘির সংখ্যা ৪৬ হাজার ৯৯৬টি। যার মধ্যে চলতি বছরে কয়েক দফায় বন্যায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে মৎস্যখাত। এবারের বন্যায় জেলার অধিকাংশ পুকুর ও ঘেরের মাছ পানিতে ভেসে গেছে।
জুলাই মাসে বন্যার পর গত ২২ আগস্ট উজানের ঢলের পানিতে তলিয়ে যায় পুরো ফেনী জেলা। স্মরণকালের ভয়াবহ এই বন্যার পানি নেমে যাচ্ছে ধীরগতিতে। সঙ্গে দৃশ্যমান হচ্ছে বন্যার ক্ষত।
জেলা মৎস্য বিভাগ সূত্র জানায়, বন্যার পানিতে ভেসে গেছে একক ও যৌথ মালিকানাধীন ১৮ হাজার ৭৬০টি পুকুর-দিঘি। বন্যায় জেলার ছয়টি উপজেলায় মৎস্য চাষিদের ২৮ কোটি ৯ লাখ ২০ হাজার টাকা ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এ সংশ্লিষ্ট অন্তত ২০ হাজার মানুষ। এসব পুকুর থেকে ২২ কোটি ৬৪ লাখ টাকার বড় মাছ এবং ৯৭ লাখ টাকার মাছের পোনা ভেসে গেছে। এছাড়া জেলায় খামারিদের ৫৪ লাখ টাকার অবকাঠামো ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
এর আগে, জুলাই মাসের বন্যায় পরশুরাম উপজেলায় ৮০টি পুকুর ভেসে ১৭ লাখ ২৫ হাজার টাকার মাছ ও ৩০ লাখ ৭০ হাজার টাকার মাছের পোনা ভেসে যায়। উপজেলায় মৎস্য চাষিদের অবকাঠামোগত ক্ষতি হয়েছে প্রায় আড়াই লাখ টাকা। সবমিলিয়ে পরশুরামের মৎস্য খাতে প্রায় সাড়ে ৫০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছিল। জেলার ফুলগাজী উপজেলায় ২৬৫টি পুকুর ভেসে সাড়ে ৪০ লাখ টাকার মাছ ও সাড়ে ৭ লাখ টাকার মাছের পোনা ভেসে যায়। উপজেলায় মাছ চাষিদের ২০ লাখ টাকার আসবাবপত্র নষ্ট হয়। সবমিলিয়ে ফুলগাজীতে ৬৮ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করা হয়েছিল।
দেড় মাসের মধ্যে কয়েকদফায় বন্যায় বেশকয়েকবার ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে মাছচাষিরা। তারা বলছেন, এবারের বন্যায় তাদের সব শেষ। ক্ষতির ভার না নিতে পেরে মাছ চাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন অধিকাংশ কৃষক।
জেলার ছাগলনাইয়া উপজেলার নিজকুঞ্জরা গ্রামের মাছচাষি জসিম উদ্দিন। একটি দিঘি ইজারা নিয়ে মাছ চাষ করেছিলেন তিনি। এক মাস পরেই মাছ বিক্রির সময় ছিল। কিন্তু বন্যার পানিতে তার সব শেষ। চারপাশে ঘেরাও দিয়েও মাছ রক্ষা করতে পারেননি তিনি।
নিজের ক্ষতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, নদীর পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পুকুরের চারপাশে নেট জাল দিয়ে ঘিরে রেখেছিলাম। কিন্তু বাঁধ ভেঙে পানির তীব্র স্রোতে এটি কোনো কাজে আসেনি। সবকিছু পানিতে ভেসে গেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যদি আমাদের পাশে না দাঁড়ায় তাহলে কোনোভাবেই ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব নয়।
ফুলগাজীর মাছচাষি আব্দুর রহমান বলেন, আগের বন্যার চেয়ে এবার পানির চাপ অনেক বেশি ছিল। মাত্র দেড়মাসের ব্যবধানে তৃতীয় দফায় বন্যার পানিতে সব ভেসে গেছে। ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার আগেই বারবার লোকসান গুনতে হচ্ছে। অনেকেই ব্যবসা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে।
ঘোপাল ইউনিয়নের মাছচাষি আলাউদ্দিন চৌধুরী বলেন, ২ লাখ টাকার রেণু ছেড়েছিলাম কয়েক মাস আগে। বিক্রির সময় ছিল। এর আগে অতিবৃষ্টিতে পানি বেড়ে একবার ক্ষতির মুখোমুখি হয়েছি। জাল দিয়ে চেষ্টা করেছি বাঁচানোর। তবে এবারের বন্যা তো সব শেষ করে দিয়েছে। পানির স্রোত দেখে আর চেষ্টাও করিনি। সব শেষ।
বন্যার সময় দেখা যায়, বাড়ির উঠান, দরজার সামনে, জমিতে মাছ পাওয়া যাচ্ছে। জাল মেরে অনেককেই ১০ থেকে ২০ কেজি মাছ ধরতে দেখা যায়। তারা বলছেন, দিঘি-পুকুরের সব মাছ বেরিয়ে গেছে। ঘরের সামনেও মাছ পাওয়া গেছে। সবার অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে গেছে।
এ ব্যাপারে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম বলেন, বন্যার পানিতে অপূরণীয় ক্ষতির মুখোমুখি হয়েছে মৎস্য খাত। খামারিরা মাত্র দেড় মাসের মাথায় তৃতীয় দফার বন্যায় আর্থিকভাবে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। তবে অন্যান্য দফতরের মতো মৎস্য বিভাগের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্তদের পরামর্শ ব্যতিত কোনো ধরনের আর্থিক সহায়তা বা প্রণোদনার সুযোগ নেই বলে জানান তিনি।

সড়ক, রেল এবং নৌ পরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেছেন, আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে আন্তনগর ট্রেনে নারীদের জন্য আলাদা কোচ চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। প্রাথমিকভাবে আজ থেকে সোনার বাংলা এবং জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস দুটি আন্তনগর ট্রেনে একটি করে কোচ শুধুমাত্র নারী যাত্রীদের জন্য সংরক্ষিত রাখা হয়েছে। এছাড়া ঈদের প
৩ ঘণ্টা আগে
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, বিভিন্ন গন্তব্যের যাত্রী ও যানবাহন চালকদের জানানো যাচ্ছে, ফেরিঘাটে বাস পৌঁছানোর পর যাত্রীরা অবশ্যই বাস থেকে নেমে ফেরিতে উঠবেন। একইভাবে ঘাটে পৌঁছানোর পর ফেরি থেকে গাড়ি নামানোর পর যাত্রীরা বাসে উঠবেন।
৬ ঘণ্টা আগে
ঈদুল আজহার আগে গতকাল রোববার (২৪ মে) ছিল শেষ কর্মদিবস। এ দিন বিকেলে অফিস ছুটি হতেই ভিড় শুরু বাস, রেল আর লঞ্চ টার্মিনালে। অবশ্য যারা বাড়তি ছুটি নিয়েছেন, গত শুক্রবার থেকেই তারা ছুটতে শুরু করেছেন বাড়ির পথে।
৮ ঘণ্টা আগে
এতে বলা হয়, রোববার রাত ১টার মধ্যে রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম ও সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে পশ্চিম অথবা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫-৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া, বৃষ্টি ও বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এসব অঞ্চলের নদীবন্দরকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
২০ ঘণ্টা আগে