বিজ্ঞান

লজ্জাবতী লতা

ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম
লজ্জাবতী

গাছ-গাছালির গল্প শুনেছি নানি-দাদিদের কাছে। কিছু গল্প তো রূপকথাকেও হার মানায়। আমার অক্ষরজ্ঞানহীন দাদি-নানিরা পাথরকুচির গল্প শোনাতেন রূপকথার মত করে। আর লজ্জাবতী? এমন আশ্চর্য গাছ কোনদিন দেখতে পাব স্বপ্নেও ভাবিনি। কিন্তু স্বপ্নকে বাস্তবে ধরিয়ে দিল আমার এক বন্ধু। অমুক মাঠের অমুক বাঁশঝাড়ের নীচে নাকি আছে আমার আরাধ্য লজ্জাবতী গাছ।গাছ-গাছালির গল্প শুনেছি নানি-দাদিদের কাছে। কিছু গল্প তো রূপকথাকেও হার মানায়। আমার অক্ষরজ্ঞানহীন দাদি-নানিরা পাথরকুচির গল্প শোনাতেন রূপকথার মত করে। আর লজ্জাবতী? এমন আশ্চর্য গাছ কোনদিন দেখতে পাব স্বপ্নেও ভাবিনি। কিন্তু স্বপ্নকে বাস্তবে ধরিয়ে দিল আমার এক বন্ধু। অমুক মাঠের অমুক বাঁশঝাড়ের নীচে নাকি আছে আমার আরাধ্য লজ্জাবতী গাছ।

গেলাম, দেখলাম কিন্তু জয় করতে পারলাম না। লজ্জাবতী গাছের যে গল্প শুনেছি, তার যে রাজকীয় চেহারা মোহনীয় গুণের কথা শুনেছি এই লজ্জাবতী দেখার পর এক লহমায় তা উবে গেল। লজ্জাবতী গাছ বা লতা নাকি ১০/১২ ফুট লম্বা হয়, এ দেখি আধফুটি এক শীর্ণ চেহারার সামান্য এক গুল্ম—লতাও নয়। তবুও পরখ করে করে দেখার জন্য চিরল পাতায় হাত ছোঁয়ালাম। অমনি আমাকে অবাক করে বাসর রাতের নব পরিণতার মত নিজেকে গুটিয়ে নিল সেই গুল্ম পল্লব। যাই হোক, ওটা ছিল লজ্জাবতীর ভিন্ন এক প্রজাতির ভিন্ন এক সংস্করণ। আসল লজ্জাবতী গাছ দেখতে আমাকে ২৬ বছর অপেক্ষা করতে হয়েছে। বছর খানেক আগে সচলায়তনে এক নস্টালজিক উদ্ভিদ প্রেমিকের গল্প নামে একটা পোস্ট দিয়েছিলাম। সেখানে লজ্জাবতীর যে ছবিটা ছিল ওটাই আমার দেখা প্রথম লজ্জাবতী লতা। আজ যে ছবিগুলো দেখাচ্ছি এগুলোও একই গাছের, তবে সময়ের ব্যবধানে তিন বছর।

লজ্জাবতী লতা জাতীয় উদ্ভিদ। জানা মতে বাংলাদেশের মাঠে-ঘাটে যত্রএত্র এদের বসবাস ছিল। কিন্তু আজ প্রায় বিলুপ্তির পথে। বহুবর্ষজীবী উদ্ভিদ। সাধারণত বর্ষাকালেই জন্মায়। তবে উপযুক্ত পরিবেশ পেলে যেকোনো ঋতুতেই জন্মাতে পারে। ছবির এই চারাগুলো জন্মিয়েছে আমার স্কুল পড়ুয়া দুই খালাতো ভাই। ওপরের ছবিটি ১৫ মার্চ তোলা।

লজ্জাবতী লতানো উদ্ভিদ তাই সঠিক উচ্চতা নিরূপণ করা কষ্ট। সত্যি বলতে পরিবেশের অনুকূল-প্রতিকূল অবস্থার ওপর নির্ভর করে লতা জাতীয় উদ্ভিদ তাদের অঙ্গ বিস্তার করে। লতানো উদ্ভিদের আলাদা করে কাণ্ড চিহ্নিত না করাই ভাল। লজ্জাবতী লতা সবুজ রঙের। লতার গায়ে দেড় থেকে দুই ইঞ্চি পর পর ছ্ট্টো বাঁকানো কাঁটা থাকে।

লজ্জাবতীর বহুপত্রক উদ্ভিদ। পাতা চিরল-বিরল। পাতার বোটা তিন স্তরে সাজানো। প্রাথমিক স্তরে ৩/৪ ইঞ্চি লম্বা একটা বোঁটা থাকে। প্রতিটা প্রাথমিক বোঁটার আগা থেকে আবার দ্বিতীয় স্তরের বোঁটা বা চিকন শিরা থাকে। দ্বিতীয় স্তরের বোঁটার দুই পাশে চিরলভাবে ১৫-২০ জোড়া পাতা সাজানো থাকে।

পাতা উপবৃত্তকার, ছোট ছোট। অনেকটা তেঁতুল পাতার মত দেখতে। পাতার রঙ ও সবুজ। পাতা সর্বোচ্চ এক সেন্টিমিটার লম্বা হতে পারে।

লজ্জাবতীর ফুল অসাধারণ সুন্দর। বেগুনী রংয়ের; গোল গোল ফুলগুলো দেখতে মেয়েদের নাকফুলের মত। বাবলা ফুলের সাথেও মিল আছে। ফুল এক পুষ্পক। সরাসরি শান্ত থেকে পুষ্পমঞ্জরি বের হয়। ফুলের বোঁটা ১/১৫ ইঞ্চি পর্যন্ত লম্বা হয়। লজ্জাবতীর ফুলের পাপড়ি থাকে না। বরং ছোট্ট সবুজ বলের গায়ে অসংখ্য কিশোর পরপর সজ্জিত হয়ে ভীষণ সুন্দর এই ফুলটিকে পূর্ণাকৃতি দান করে। লজ্জাবতীর ফল দেখতে অনেকটা মাষকলইয়ের ফুলের মত। তবে আকারে অর্ধেক। কাঁচা ফুলের রং সবুজ। পাকা ফলের রং কালচে বাদামি। একটা মাত্র বোঁটায় একটা ফুল ফুটলেও ফল হয় অনেকগুলো। এক গুচ্ছ আরকী। আসলে ফুলে তো পাপড়ি নেই। আছে অসংখ্য কিশোর। প্রতিটা স্ত্রী কিশোর থেকেই একটা করে ফল বের হয়ে এক গুচ্ছ ফল গুচ্ছ তৈরি করে। লজ্জাবতীর কাঁচা ফল আমি দেখিনি এবার গ্রামে গিয়ে ফুল আর এক গুচ্ছ শুকনো ফলের দেখা পেলাম। ফুল যেহেতু ফাল্গুন মাসেই দেখলাম তাই ধরে নেযা যায়, লজ্জাবতী বাসন্তি ফুলের উদ্ভিদ বছরের অন্য সময় একটা কিনা জানা নেই। সেই ছবিগুলোও নিবেদন করলাম আপনাদের সামনে। তাই অসম্পূর্ণ পোস্টের ক্রুটি-বিচ্যুতি মার্জনার চোখে দেখবেন।

লজ্জাবতীর ফলের ভেতর চার পাঁচটা ছোট্ট ছোট্ট দ্বিবীজপত্রি বীজ থাকে। বিজ দেখতে বেগুন কিংবা মরিচের বীজের মতো।

লজ্জাবতীর বৈজ্ঞানিক নাম Mimosa pudica.

লজ্জাবতী গাছ আজ বিলুপ্তির পথে। এর পেছনে তিনটে কারণ মোটা দাগে চিহ্নিত করা যায়। প্রথমত, জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে বনজঙ্গল উজাড় করে বাসস্থান ও ফসলক্ষেত তৈরি।

দ্বিতীয় কারণ, জনসংখ্যা বৃদ্ধি পেলেও আরও অনেক বুনো উদ্ভিদ বহাল তরিয়তে বেঁচে-বর্তে আছে, কিন্তু লজ্জাবতীর প্রধান শত্রু বাংলাদেশের কবিরেজ সম্প্রদায়। এর কিছু ঔষধি গুণ আছে, সেগুলো আর উল্লেখ করতে চাই না। সেই ঔষধি গুণের লোভে কোবরেজরা মাঠকে মাঠ লজ্জাবতী গাছ উজাড় করেছেন, কিন্তু নিজের বাড়ির আঙিনায় বা বাগানে একটা লাগানোর প্রয়োজন মনে করেননি।

তৃতীয় কারণ, লজ্জাবতীর কাঁটা। যাহায় রক্ষক, তাহায় মৃত্যুর কারণ। তৃণভোজী পশুদের বিপক্ষে এই কাঁটা অব্যার্থ অস্ত্র, কিন্তু চাষির বিপক্ষে তা মোটেও কার্যকর নয়। লজ্জাবতী যেখানে আস্তানা গাড়ে, দ্রুত ডালাপালা বিস্তার করে চাষির ফসলের ক্ষেত দখল করে নেয়। ফলে বিরক্ত চাষি তাদের ওপর ধারালো দা ব্যবহার করতে কুণ্ঠাবোধ করেন না।

ad
ad

খবরাখবর থেকে আরও পড়ুন

ইউনিভার্সেল মেডিকেলে কিডনি ও বোন ম্যারো প্রতিস্থাপনবিষয়ক বৈজ্ঞানিক সেমিনার

রাজধানীর ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও ভারতের ম্যাক্স হেলথকেয়ারের যৌথ উদ্যোগে কিডনি প্রতিস্থাপন, বোন ম্যারো ট্রান্সপ্লান্টেশন এবং জটিল রক্তরোগের আধুনিক চিকিৎসা নিয়ে একটি বৈজ্ঞানিক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।

৭ ঘণ্টা আগে

আমাকে ফাঁসি দিয়ে দেন— হাজতখানায় নেওয়ার সময় লতিফ সিদ্দিকী

এরপর পুলিশ সদস্যরা তার কাছ থেকে মাইক্রোফোন সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে ট্রাইব্যুনালের এজলাসে তাদের সঙ্গে লতিফ সিদ্দিকীর উচ্চবাচ্য হয়। পরে ট্রাইব্যুনাল-২-এর কাঠগড়া থেকে তাকে হাজতখানায় নেওয়ার সময় এক সাংবাদিক জানতে চান, ট্রাইব্যুনালে তিনি কী বলতে চাচ্ছিলেন। জবাবে লতিফ সিদ্দিকী বলেন, ‘বলতে চাচ্ছিলাম যে আমা

৮ ঘণ্টা আগে

গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশে সুস্পষ্ট আইন বা নীতিমালা চান শিল্পখাতের প্রতিনিধিরা

টুথপেস্ট বা অন্যান্য পণ্যে মাইক্রোপ্লাস্টিক কিংবা ক্ষতিকর উপাদানের উপস্থিতি নিয়ে কোনো বেসরকারি সংস্থা গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থাকে অবহিত করা এবং বিষয়টি যাচাইয়ের সুযোগ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিরা। একই সঙ্গে এ ধরনের গবেষণা

৮ ঘণ্টা আগে

আরও ২৩ বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠাল যুক্তরাষ্ট্র

ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের তথ্য অনুযায়ী, ফেরত আসা ২৩ জনের মধ্যে ১৩ জন নোয়াখালীর বাসিন্দা। এ ছাড়া সিলেটের তিনজন এবং কক্সবাজার, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, মুন্সীগঞ্জ, কুমিল্লা, লক্ষ্মীপুর, ঢাকা ও অন্যান্য জেলার বাসিন্দারাও রয়েছেন।

৯ ঘণ্টা আগে