মিরাজের নিখোঁজকে জুলাই অভ্যুত্থানের পর প্রথম ‘গুম’ দাবি, কোস্টগার্ডের অস্বীকার

প্রতিবেদক, রাজনীতি ডটকম
মিরাজ শেখের সন্ধান চেয়ে সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে তার পরিবার, এইচআরএসএস ও ব্লাস্ট। ছবি: সংগৃহীত

বাগেরহাটের মোংলার জেলে ও মোটরসাইকেলচালক মিরাজ শেখের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনাকে ২০২৪ সালের জুলাইয়ের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশের ‘প্রথম গুমের ঘটনা’ বলে দাবি করেছে তার পরিবার, হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস) ও বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট)। প্রায় সাড়ে চার মাস ধরে নিখোঁজ মিরাজকে খুঁজে বের করে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিও জানিয়েছে তারা।

সোমবার (২৪ আগস্ট) জাতীয় প্রেস ক্লাবে মিরাজের পরিবার, এইচআরএসএস ও ব্লাস্টের যৌথ এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি করা হয়। তবে যে বাহিনীর বিরুদ্ধে মিরাজকে ‘গুম’ করার অভিযোগ উঠেছে, সেই কোস্টগার্ড এক বিবৃতিতে দিয়ে তাকে আটক, হেফাজতে নেওয়া বা গুম করার অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, গত ১০ এপ্রিল সন্ধ্যায় বাগেরহাটের মোংলার জয়মনি এলাকা থেকে সাদা পোশাকে থাকা দুই কোস্টগার্ড সদস্য মিরাজকে প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ গজ দূরে অবস্থিত কোস্টগার্ডের (হারবারিয়া কোস্টগার্ড স্টেশন) পন্টুনে তুলে নিয়ে যান। পরে তাকে কোস্টগার্ডের একটি স্পিডবোটে নেওয়া হয়।

মিরাজের পরিবারের সদস্যরা বলেন, মিরাজ শেখকে তুলে নেওয়ার কিছু সময়ের মধ্যে মোংলার দিক থেকে একটি কোস্টগার্ড স্পিড বোট আসে, যেখানে সাত-আটজন ইউনিফর্ম পরিহিত সদস্য ছিলেন। তারা পন্টুনে উঠে মিরাজ শেখের সঙ্গে ছবি ও ভিডিও ধারণ করেন এবং পরে তাকে তাদের সঙ্গে করে বোটে নিয়ে চলে যান।

সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়েছে, এ ঘটনাটি সেখানে উপস্থিত গ্রামবাসীসহ মিরাজের স্ত্রীর সামনেই ঘটেছে। এরপর পরিবারের সদস্যরা কোস্টগার্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করলে প্রথম দিকে তারা জানায়, মিরাজ তাদের হেফাজতে রয়েছে। পরে তাকে আটকের বিষয়টি অস্বীকার করে কোস্টগার্ড।

এ ঘটনায় গত ২৩ এপ্রিল মোংলা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে পরিবার। পরে মিরাজের সন্ধান চেয়ে হাইকোর্টে রিট করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত ১২ জুলাই হাইকোর্ট কোস্টগার্ডকে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে মিরাজকে খুঁজে বের করে আদালতে হাজির করার নির্দেশ দেন। তবে এখনো তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

হাইকোর্টের আদেশ অনুযায়ী জীবিত ও সুস্থ অবস্থায় খুঁজে বের করে অবিলম্বে মিরাজকে আদালতে হাজির করার দাবি জানানো হয় সংবাদ সম্মেলনে। পাশাপাশি ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।

এদিকে মিরাজ শেখকে আটক, হেফাজতে নেওয়া বা গুম করার অভিযোগ অস্বীকার করে সোমবার এক বিবৃতি দিয়েছে বাংলাদেশ কোস্টগার্ড। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, অভিযোগ পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট ইউনিটের অপারেশনাল রেকর্ড, টহল কার্যক্রম ও দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্যদের উপস্থিতিসহ বিভিন্ন তথ্য যাচাই করা হয়েছে। সে অনুসন্ধানে বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের মিরাজকে আটক, জিজ্ঞাসাবাদ বা হেফাজতে নেওয়ার কোনো তথ্য বা প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

সংবাদ সম্মেলনে ১০ এপ্রিল মিরাজকে নিয়ে যাওয়ার যে অভিযোগ করা হয়েছে, সে বিষয়ে কোস্টগার্ড বিবৃতিতে বলেছে, ওই দিন জয়মনির ঘোল এলাকায় তাদের কোনো বিশেষ অভিযান ছিল না। সেদিন শুধু হারবারিয়া ইকো ট্যুরিজম এলাকায় নিয়মিত টহল পরিচালনা করা হয়েছিল।

বিবৃতিতে আরও দাবি করা হয়, মিরাজ শেখ নিখোঁজ হওয়ার ১৩ দিন পর করা জিডিতেও কোস্টগার্ড বা অন্য কোনো ব্যক্তি বা সংস্থার বিরুদ্ধে তাকে আটক, অপহরণ বা গুম করার অভিযোগ ছিল না।

কোস্টগার্ডের দাবি, স্থানীয় সূত্র থেকে তারা জানতে পেরেছে, মিরাজ সুন্দরবনকেন্দ্রিক বনদস্যু চক্রের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। ওই চক্রের মুক্তিপণ ও চাঁদার প্রায় ছয় লাখ টাকা আত্মসাতের ঘটনাকে কেন্দ্র করে তার সঙ্গে বাহিনীর অভ্যন্তরীণ বিরোধ তৈরি হয়েছিল। এ ছাড়া মিরাজ শেখের বাবা আগে একটি বনদস্যু বাহিনীর সক্রিয় সদস্য ছিলেন, পরে আত্মসমর্পণ করেন। পিসিপিআর যাচাইয়ে মিরাজের বিরুদ্ধে তিনটি মামলা পাওয়া গেছে, যার মধ্যে দুটি মামলায় তিনি গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত আসামি।

বিবৃতিতে কোস্টগার্ড অভিযোগ করেছে, কিছু ‘স্বার্থান্বেষী মহল’ রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিল করার উদ্দেশ্যে মিরাজের পরিবারকে ব্যবহার করে সংবাদ সম্মেলন, মানববন্ধন ও অপপ্রচার পরিচালনায় সহায়তা করছে এবং মিরাজকে নিয়ে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ) এবং আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) মাধ্যমে কোস্টগার্ডের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অপপ্রচার এবং আন্তর্জাতিক মহলেও সরকারবিরোধী গুজব ছড়ানো হচ্ছে।

কোস্টগার্ড আরও বলেছে, বাংলাদেশ কোস্টগার্ড সবসময় ইউনিফর্ম পরে দায়িত্ব পালন করে এবং তাদের কখনো সাদা পোশাকে অভিযান পরিচালনা বা আইনবহির্ভূত কাজে জড়িত হতে দেখা যায়নি।

Ad
Ad
ad
ad
ad

খবরাখবর থেকে আরও পড়ুন

মালিবাগ-মহাখালী-যাত্রাবাড়ী ও আগারগাঁওয়ে ককটেল বিস্ফোরণ

নগরজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ ও জড়িতদের শনাক্তে কাজ শুরু করেছে পুলিশ।

১৭ ঘণ্টা আগে

শ্রেণিকক্ষের জনমিতিক পরিবর্তনের জন্য প্রস্তুত দক্ষিণ এশিয়ার শিক্ষাব্যবস্থা?

বিশ্বব্যাংকের মতে, দক্ষিণ এশিয়ার জনমিতিক পরিবর্তন নীতিগত পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য একটি সুযোগ তৈরি করেছে। সরকারগুলো যদি এখনই স্কুলব্যবস্থার পরিকল্পনা করে এবং এই পরিবর্তন থেকে পাওয়া সুবিধা আবার শিক্ষায় বিনিয়োগ করে, তাহলে শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমে যাওয়াকে প্রতিটি শিশুর জন্য আরও উন্নতমানের শিক্ষা নিশ্চিত করার স

১৭ ঘণ্টা আগে

সব জেলা পরিষদের স্থাপনায় ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ বাধ্যতামূলক

নির্দেশনায় বলা হয়, স্থানীয় সরকার বিভাগের আওতাধীন জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সব দাপ্তরিক মূল ভবন এবং জেলা পরিষদের আওতাধীন স্থাপনাগুলোতে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করতে হবে।

১৮ ঘণ্টা আগে

উন্নয়ন থেকে বাদ যাবে না কোনো অঞ্চল: পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী

জোনায়েদ সাকি উল্লেখ করেন, প্রকল্পের মেয়াদ বাড়লে ব্যয়ও বাড়ে এবং এতে রাষ্ট্রের অর্থের অপচয় হয়। তাই নির্ধারিত সময়ে, সাশ্রয়ী ব্যয়ে ও যথাযথভাবে প্রকল্প বাস্তবায়ন করার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন তিনি।

১৯ ঘণ্টা আগে
Advertisement