রামিসা হত্যা মামলায় সাক্ষ্য দিলেন মা-বাবাসহ ১০ জন

প্রতিবেদক, রাজনীতি ডটকম
আপডেট : ০২ জুন ২০২৬, ১৫: ৩৪
সকালে মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানাকে ঢাকার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে আনা হয়। ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর পল্লবীতে ধর্ষণের পর সাত বছর বয়সী শিশু রামিসাকে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় শিশুটির মা-বাবাসহ ১০ জন আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন। আজ মঙ্গলবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ঢাকার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে তাদের সাক্ষ্য গ্রহণ হয়।

এর আগে গতকাল সোমবার মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচারকাজ শুরু হয়। একই সঙ্গে আদালত আজ মঙ্গলবার সাক্ষ্য গ্রহণের দিন নির্ধারণ করেছিলেন। আজ সকাল ৯টার দিকে আসামিদের কারাগার থেকে প্রিজন ভ্যানে করে এনে আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়।

পরে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে সকাল ১০টা ১২ মিনিটে সোহেলকে, আর সকাল ১০টা ২৪ মিনিটে স্বপ্নাকে আদালতের কাঠগড়ায় তোলা হয়। কাঠগড়ায় ওঠানোর পর স্বপ্না কাঁদতে শুরু করেন। এ সময় সোহেল তার সঙ্গে কথা বলতে চাইলে পুলিশ তাকে থামিয়ে দেয়।

সকাল ১০টা ৩৫ মিনিটে বিচারক আসেন এজলাসে। এরপর শুনানি শুরু করেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আজিজুর রহমান। তিনি শুরুতে আসামি সোহেলের গণমাধ্যমে এলোমেলো কথা বলার বিষয় তুলে ধরেন। তিনি আদালতের কাছে আবেদন জানান, আসামিরা যাতে যাতায়াতের সময় গণমাধ্যমে কথা বলার সুযোগ না পান।

এরপর আদালতে প্রথমেই সাক্ষ্য দেন হত্যাকাণ্ডের শিকার শিশু রামিসার বাবা। অসুস্থতার কারণে আদালতের অনুমতি নিয়ে তিনি বসে সাক্ষ্য দেন। তিনি বলেন, ঘটনার দিন সকালে তিনি অফিসে যাওয়ার উদ্দেশ্যে সকাল সাড়ে ৯টা নাগাদ বাসা থেকে বের হন। পথিমধ্যেই তাকে তার স্ত্রী ফোন করলে সকাল সোয়া ১০টার দিকে তিনি বাসায় ফিরে আসেন।

এরপর বাসার সামনে অনেক লোক জড়ো হয়েছে দেখে তিনি দৌড়ে তার ফ্ল্যাটের সামনে যান। তখন তার স্ত্রী বলেন, রামিসা পাশের ফ্ল্যাটে আটকা পড়ে আছে। পরে আশপাশ থেকে লোকজন জড়ো হয়ে ফ্ল্যাটের ভেতরে ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়া না পেলে তালা ভেঙে দরজা খোলা হয়। ভেতরে ঢুকে কমন রুমের দরজা খুলে দেখেন, চারদিকে শুধু রক্ত আর রক্ত।

রামিসা বাবা আরও বলেন, ভেতরে ঢুকে দেখেন, স্বপ্না (সোহেলের স্ত্রী) দাঁড়িয়ে আছেন রক্তের ওপর। স্বপ্নারা যে রুমে থাকেন, সেখানে গিয়েও দেখেন রক্ত। তাদের স্টিলের খাট। সেই খাটের নিচে তার মেয়ের খণ্ডিত লাশ ছিল। মাথা ছিল বিচ্ছিন্ন। এরপর আর কিছু তার মনে নেই। পরে তিনি থানায় গিয়ে মামলা করেন।

এক প্রশ্নের জবাবে রামিসার বাবা বলেন, মেয়ের খণ্ডিত মাথাটি ছিল বালতির ভেতরে। এ সময় আইনজীবী খণ্ডিত মাথার ছবি দেখালে কাঠগড়ায় বসে কেঁদে ফেলেন তিনি। এরপর শিশুটির বাবাকে জেরা করেন আসামিপক্ষের আইনজীবী।

রামিসার বাবার সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে বেলা ১১টার দিকে শিশুটির মায়ের সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। তিনি বলেন, সেদিন সকালে তিনি রান্না করছিলেন। সকাল ১০টার দিকে দুই মেয়ে তাদের চাচার বাসায় যাওয়ার জন্য প্রস্তুত হচ্ছিল। কিছুক্ষণ পর তিনি রান্নাঘর থেকে শব্দ শুনতে পান। একটু পর এক মেয়ে একা বাসায় আসে। অন্য মেয়ে কোথায় জানতে চাইলে ফিরে আসা মেয়েটি জানায়, অন্যজন তো তার সঙ্গে যায়নি। তখন তিনি নিচে চলে যান খুঁজতে। লোকজনকে জিজ্ঞাসা করেও হদিস পাচ্ছিলেন না।

খোঁজাখুঁজির পর রামিসাকে না পেয়ে বাসার বিভিন্ন তলায় থাকা ফ্ল্যাটের দরজায় ধাক্কা দেন তিনি। তিন তলায় আসামিরা যে ফ্ল্যাটে থাকেন, তার দরজার নিচের দিকে তাকিয়ে তিনি দেখেন, তার মেয়ের একটা জুতো সেখানে আছে। তখন তিনি চিৎকার শুনেছিলেন। এরপর আশপাশ থেকে লোকজন আসে। এর মধ্যে তিনি তার স্বামীকে ফোন দিতে থাকেন। অনেকবার দরজা খুলতে বললেও ভেতর থেকে খোলা হয়নি। পরে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে দেখেন রক্ত। তার মেয়ে নেই। মাথা এক জায়গায়, দেহ অন্য জায়গায়।

পরে আসামিপক্ষের আইনজীবী শিশুটির মাকে জেরা করেন। এ দিন রুদ্ধদ্বার কক্ষে শিশুটির বোনের সাক্ষ্যও গ্রহণ করা হয়। এ ছাড়া শিশুটির ফুপু ও চাচাসহ আরও কয়েকজন সাক্ষ্য দেন। মামলায় মোট ১৮ জন সাক্ষী রয়েছেন। আজ দুপুর পর্যন্ত ১০ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ সম্পন্ন হয়।

উল্লেখ্য, গত ১৯ মে পল্লবীর একটি ভবনের তৃতীয় তলার ফ্ল্যাট থেকে রামিসার খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পর সোহেল রানা পালিয়ে যান। বাসা থেকে তার স্ত্রীকে তখনই আটক করা হয়। পরে ওই দিনই সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন ২০ মে শিশুটির বাবা পল্লবী থানায় মামলা করেন। ওই দিন বিকেলে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে জবানবন্দি দেন আসামি সোহেল রানা। জবানবন্দিতে শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত্যার কথা স্বীকার করেন তিনি।

রাজনীতি/আরআইআর

ad
ad

খবরাখবর থেকে আরও পড়ুন

বেনজীরকে ফেরাতে ১৪৪ পৃষ্ঠার নথি পাঠানো হয়েছে আরব আমিরাতে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দুবাইয়ে আটকের পরই ১৪৪ পৃষ্ঠার মামলার নথি আরব আমিরাতের কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে দ্রুতই বেনজীর আহমেদকে দেশে ফেরত আনা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

৫ ঘণ্টা আগে

ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব আবদুস সাদেকের প্রয়াণ

বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র, খ্যাতিমান হকি খেলোয়াড় ও সংগঠক আবদুস সাদেক আর নেই। আজ শনিবার সকাল ৮টায় রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৮ বছর।

৫ ঘণ্টা আগে

বিভিন্ন ধর্মের অভিন্ন নৈতিক শিক্ষা [পর্ব ২]

জৈন ধর্ম মানুষের মুক্তির জন্য নৈতিকতার ওপর সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব আরোপ করেছে। এই ধর্ম অনুযায়ী, বন্দি অবস্থা থেকে আত্মার মুক্তির উপায় তিনটি— সম্যগ দর্শন বা সত্যের প্রতি অকৃত্রিম শ্রদ্ধা, সম্যগজ্ঞান বা সংশয়শূন্য ও ভ্রমমুক্ত বিশদ জ্ঞান এবং সম্যগ চারিত্র বা হিত আচরণে প্রবৃত্ত হওয়া এবং অহিতকর আচরণ থেকে সম্প

৯ ঘণ্টা আগে

নিজের নামে স্কুলের নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব, না করলেন প্রতিমন্ত্রী

স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের দুই ছেল এবং আত্মীয়ের নামের সঙ্গে মিল রেখে বগুড়ার মোকামতলা উপজেলায় নবগঠিত কয়েকটি ইউনিয়নের নামকরণের অভিযোগের পর এবার তার নামে একটি স্কুলের নামকরণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে শিক্ষা সচিবের কাছে পাঠানো এক পত্রে এই প্রস্তাব নাকচ করেছেন তিনি।

১৮ ঘণ্টা আগে