মিরপুরে উচ্ছেদ অভিযানে হামলা: চার মামলায় আসামি ২০০০, গ্রেপ্তার ৫০

রাজধানীর মিরপুর-১০ নম্বরে ফুটপাত উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় চারটি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় অন্তত দুই হাজার জনকে আসামি করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত ৫০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
চার মামলার তিনটি হয়েছে মিরপুর মডেল থানায় এবং অন্যটি কাফরুল থানায়। পুলিশ বলছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে যাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে, তাদের জিজ্ঞাসাবাদ ও আইনি প্রক্রিয়া চলছে।
এদিকে আজ বৃহস্পতিবার মিরপুর-১০ ও মিরপুর-২ নম্বর এলাকায় ফুটপাতে কোনো হকারকে দেখা যায়নি। উচ্ছেদ অভিযানের পর পড়ে থাকা ভাঙা চৌকি ও আবর্জনা পরিষ্কার করতে দেখা গেছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের।
মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বর থেকে ১৩ নম্বর পর্যন্ত সড়কের দুই পাশের ফুটপাতও হকারমুক্ত ছিল। তবে সেখানে হকারদের ঝোলানো তার, লাইটের ফোল্ডার ও ভাঙা চৌকি পড়ে থাকতে দেখা যায়। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বর থেকে মিরপুর-২ নম্বরের দিকে যাওয়া সড়কের ফুটপাতেও কোনো হকার ছিলেন না। তবে মিরপুর মডেল থানার প্রধান ফটকের সামনে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের স্বজনদের ভিড় দেখা যায়। তাদের কয়েকজনকে থানার ভেতরে থাকা স্বজনদের খোঁজ নিতে অপেক্ষা করতে দেখা যায়।
হানিফ নামে এক ব্যক্তি অভিযোগ করেন, বুধবার রাতে তার জামাই রুবেলকে বাসা থেকে ধরে নিয়ে গেছে পুলিশ। পরে তাকে একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। রুবেল থানার ভেতরে থাকায় তার খোঁজ নিতে থানার সামনে অপেক্ষা করছেন বলে জানান হানিফ।
আরেক ব্যক্তি জানান, তার ছেলে সেলিমকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। ছেলের বিষয়ে খোঁজ নিতে তিনি থানায় এসেছেন। এ সময় থানার সামনে কয়েকজন নারীকে কাঁদতে দেখা যায়। পরে একটি প্রিজন ভ্যান থানা থেকে বের হলে স্বজনরা সেটির পেছনে ছুটতে থাকেন। কেউ কেউ প্রিজন ভ্যানে থাকা স্বজনদের নাম ধরে ডাকছিলেন।

মামলাগুলোর বিষয়ে মিরপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হাফিজুর রহমান বলেন, সিটি করপোরেশন বাদী হয়ে গাড়ি পোড়ানোর অভিযোগে একটি মামলা করেছে। পুলিশ বাদী হয়ে পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগে আরেকটি মামলা করেছে। ট্রাফিক পুলিশ বাদী হয়ে আরও একটি মামলা করেছে। তিন মামলায় ৪০০ থেকে ৫০০ জন করে আসামি করা হয়েছে।
অন্যদিকে কাফরুল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, সিটি করপোরেশনের গাড়ি পোড়ানোর অভিযোগে সিটি করপোরেশন থানায় একটি এজাহার দিয়েছে। ওই মামলায় ৪০০ থেকে ৫০০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
এর আগে বুধবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বর থেকে হোপ মার্কেটের দিকে ফুটপাতের অবৈধ দখল উচ্ছেদে অভিযান শুরু করে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। ডিএনসিসির নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মারুফা বেগম নেলীর নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হকার উচ্ছেদের সময় ডিশ লাইনের তার খুলে ফেলার একপর্যায়ে একটি বৈদ্যুতিক তার ছিঁড়ে যায়। সেখান থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে তা পাশের বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমারে ছড়িয়ে পড়ে। পরে ট্রান্সফরমারটিতে বিস্ফোরণ হলে আগুন আরও ছড়িয়ে পড়ে।
আগুনে মার্কেটের পাঁচটি দোকান পুড়ে যায়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় ১৫ থেকে ২০ মিনিট চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
এরপর বিক্ষুব্ধ হকারদের সঙ্গে সিটি করপোরেশনের কর্মীদের সংঘর্ষ শুরু হয়। একপর্যায়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে তাদের সঙ্গেও হকারদের সংঘর্ষ বাধে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, এ সময় সিটি করপোরেশনের তিনটি গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়। একটি পুলিশের গাড়ির কাচও ভাঙচুর করা হয়।
ঢাকা মহানগর পুলিশের মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) হাসান মোহাম্মদ নাছের রিকাবদার বলেন, ‘পুলিশের একটি গাড়ির গ্লাস ভাঙচুরের খবর পেয়েছি৷ সেই সঙ্গে সিটি করপোরেশনের গাড়িতে আগুনের ঘটনাও আছে।’
পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে ডিএনসিসির প্রশাসক মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘রাষ্ট্রীয় কাজে যারা বাধা দেয়, তারা ফ্যাসিহজমের দোসর। এ ছাড়া সাংবাদিক, সিটি করপোরেশনের কর্মীদের ওপর হামলাকারীরাও ফ্যাসিবাদের দোসর। তারা দীর্ঘদিন ধরে এসব জায়গা দখল করে আছে৷ কাউকে অবৈধভাবে ফুটপাত দখল করতে দেওয়া হবে না।’



















