সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে ভোট পড়েছে ৩৬%

প্রতিবেদক, রাজনীতি ডটকম
আপডেট : ১৫ মে ২০২৬, ০১: ০৬
সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় দিনের মতো ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। ছবি: সংগৃহীত

সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির (বার) নির্বাচনে দুই দিনের ভোটগ্রহণ বৃহস্পতিবার শেষ হয়েছে। এ দিন সমিতির মিলনায়তনে সকালে থেকে শুরু হয়ে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলে। গতকাল বুধবারও একই সময়ে ভোটগ্রহণ হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে আইনজীবীদের উপস্থিতি ছিল বিগত বছরগুলোর তুলনায় অনেক কম। ১১ হাজার ৯৭ জন ভোটারের মধ্যে দুই দিনে ভোট দিয়েছেন ৪ হাজার ৪৮ জন৷ এ হিসেবে ভোট পড়েছে মাত্র ৩৬ দশমিক ৪৮ শতাংশ।

এর আগে ২০১৯ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত টানা চার বছর মোট ভোটার ছিল ৭ হাজার ৭০০ থেকে ৮ হাজার ৬০০-এর মধ্যে। এ নির্বাচনগুলোতে গড়ে সাড়ে ৫ হাজার থেকে ৬ হাজারের কাছাকাছি ভোট পড়েছে। এর মধ্যে ২০২০-২০২১ মেয়াদে ৭ হাজার ৭৮১ জন ভোটারের মধ্যে সর্বোচ্চ ৫ হাজার ৯৪০টি ভোট পড়ে।

পরে ২০২৩-২০২৪ মেয়াদের নির্বাচনে ভোট পড়ার হার কমে যায়। ওই নির্বাচনে ৮ হাজার ৬০২ জন ভোটারের মধ্যে ভোট দেন ৪ হাজার ১৩৭ জন। তবে ২০২৪-২০২৫ মেয়াদে তা আবার কিছুটা বাড়ে, ৭ হাজার ৮৮৩ জনের মধ্যে ভোট দেন ৫ হাজার ৩১৯ জন।

এবারের ২০২৬-২০২৭ মেয়াদে ভোটার সংখ্যা বেড়ে ১১ হাজার ৯৭ জন হলেও ভোট পড়েছে মাত্র ৪ হাজার ৪৮টি। এর মধ্যে প্রথম দিন ১ হাজার ৭৭১ জন এবং দ্বিতীয় দিন ২ হাজার ২৭৭ জন ভোট দিয়েছেন।

নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্বে আছেন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি মিফতাহ উদ্দিন চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন নির্বাচন উপ-কমিটি। একটি প্যানেলের ভোট বর্জনের ঘোষণা এবং কম ভোটার উপস্থিতি নিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার মিফতাহ উদ্দিন বলেন, 'আগে এই সিস্টেম ছিল না, এখন তো অন্য সিস্টেম হইছে। আগে হালকা আওয়াজ ছিল, আনন্দ ফুর্তি ছিল। আমরা সারা রাতই ফুর্তি করতাম। কিন্তু এই মারামারি, হাউকাউ ছিল না।'

বিগত কয়েক বছরের নির্বাচনের সমালোচনা করে তিনি আরও বলেন, 'বিশেষ করে লাস্ট যে ইলেকশনটা, আমরা তো বাইরে, ভিডিওতে দেখছি। ভিতরে মারামারি, এবং ওই যে দুইজনরে সেক্রেটারি ডিক্লেয়ার করতে হইছে। ইলেকশনের যিনি দায়িত্বে ছিলেন উনি বাধ্য হইয়া এগুলা করছেন। তো যাক, আমাদের তো সেই সিচুয়েশনটা হয় নাই, আশা করি ভবিষ্যতেও হবে না।'

ভোট বর্জন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, 'আমাদের কাছে কোনো পক্ষ নাই, সবাই সহকর্মী। যারা বর্জনকারী পক্ষ হিসেবে পরিচিত, তাদের অনেকে ভোট দিতে এসেছেন। সুতরাং, ওই নোংরামিটা তারাও পছন্দ করে না। নানা জনের নানা মত থাকে, অনেকে মনে করতেছে ধুর, আজকে ভোট না গেলে কী হবে।'

এদিকে ভোটারদের পক্ষ থেকে ওঠা অভিযোগ নির্বাচন সাব-কমিটি উড়িয়ে দিয়েছে মন্তব্য করেছেন সহসম্পাদক প্রার্থী মোস্তফা আসগর শরীফী। তিনি বলেন, 'অভিযোগগুলো যথাযথ প্রক্রিয়ায় লিখিতভাবে নিষ্পত্তি করা উচিত। এ ব্যাপারে নির্বাচন কমিশন অফিশিয়ালি কোনো জবাব দেয়নি, যা সাধারণ ভোটারের জানাটা জরুরি ছিল।'

ভোটার উপস্থিতির হার নিয়ে তিনি বলেন, 'ভোটের হার কম ছিল, তবে যতটুকু কম মনে করা হয়েছিল, আসলে ততটুকু কম হয়নি। ৪ হাজারের বেশি ভোট পড়েছে, এটা মোটামুটি সন্তোষজনক।'

ভোটের পরিবেশ 'ভালো' দাবি করে সবুজ প্যানেলের সহসভাপতি প্রার্থী মহিউদ্দিন ফারুকী বলেন, 'পরিবেশ খারাপ মনে হয় নাই। উপস্থিতি তো খুব কম না, এর আগের বারও এরকমই হইছে।' একজনের সাতটি ভোট দেওয়ার যে গুঞ্জন উঠেছে, তা তিনি শুনেছেন, তবে এখনও বিস্তারিত খবর নেননি।

আওয়ামী লীগ সমর্থক আইনজীবীদের উপস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, 'যারা পরিচিত মুখ বা যাদের ওপরে ক্ষোভ আছে, তারা আসে নাই। যারা সাইলেন্ট আওয়ামী লীগার বা অত বেশি অ্যাক্টিভিস্ট না, তারা দিছে।'

জুলাই অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর ২০২৫-২০২৬ মেয়াদে আইনজীবী সমিতির নির্বাচন হয়নি। প্রায় দুই বছরের বিরতির পর এবারের নির্বাচনে ১৪টি পদের বিপরীতে তিনটি প্যানেল থেকে ৪০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

প্যানেলগুলো হলো— বিএনপি সমর্থিত জাতীয়তাবাদী আইনজীবী নীল প্যানেল, জামায়াত সমর্থিত সবুজ প্যানেল এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সমর্থিত লাল-সবুজ প্যানেল।

Ad
Ad
ad
ad
ad

খবরাখবর থেকে আরও পড়ুন

ডাকসু সংগ্রহশালার সামনে জিন্নাহ-আযমের ছবি পদদলন করে প্রতিবাদ

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বেলা আড়াইটার দিকে প্রতিবাদকারীরা ডাকসু সংগ্রহশালার ফটকের সামনের মেঝেতে দুটি এবং ভেতরের মেঝেতে দুটি ছবি সাঁটিয়ে দেন। এ সময় তারা জিন্নাহ ও গোলাম আযমের ছবি পদদলন করে প্রতিবাদ জানান।

২ ঘণ্টা আগে

আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে অভিযোগ মনগড়া নয়, বলছে দুদক

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের অভিযোগ মনগড়া নয় বলে জানিয়েছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সচিব সাইদুর রহমান খান।

৩ ঘণ্টা আগে

হামের উপসর্গে আরও ৬ জনের মৃত্যু, প্রাণহানি বেড়ে ১০৩৬

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর গত ১৫ মার্চ থেকে হামে আক্রান্ত ও হামের উপসর্গ নিয়ে অসুস্থ রোগীদের তথ্য নিয়মিত প্রকাশ করছে। সেই হিসাব অনুযায়ী, এ সময়ের মধ্যে নিশ্চিত হামে ১০০ জন এবং হামের উপসর্গ নিয়ে ৯৩৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। সব মিলিয়ে প্রায় ছয় মাসে প্রাণ গেছে ১ হাজার ৩৬ জনের। দেশের ইতিহাসে হামে এত মৃত্যুর ঘটনা আগে ঘ

৩ ঘণ্টা আগে

এয়ারবাস কেনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিতের আশ্বাস বিমানমন্ত্রীর

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বহর সম্প্রসারণে এয়ারবাস কেনার ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। তিনি বলেন, যেকোনো ক্রয় প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা হবে। উচ্চপর্যায়ের আলোচনা কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে

৪ ঘণ্টা আগে
Advertisement