‘মার্চ ফর খিলাফা’র পরিকল্পনা, নিষিদ্ধ হিযবুতের ৩ সদস্য গ্রেপ্তার

ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম
আপডেট : ০৭ মার্চ ২০২৫, ১৬: ৩২

বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ এলাকায় শুক্রবার ‘মার্চ ফর খিলাফা’ সমাবেশ আয়োজনের পরিকল্পনায় যুক্ত থাকায় নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন হিযবুত তাহরীরের তিন সক্রিয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানা এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট।

বৃহস্পতিবার (৬ মার্চ) দিবাগত রাত আনুমানিক সোয়া ১২টার দিকে উত্তরা পশ্চিম থানার ১১ ও ১২ নম্বর সেক্টর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার তিনজন হলেন— মনিরুল ইসলাম (৪০), মোহতাসিন বিল্লাহ ও মাহমুদুল হাসান।

ডিএমপির মিডিয়া ও জনসংযোগ শাখার উপকমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান এক বার্তায় জানান, বৃহস্পতিবার রাতে সিটিটিসির একটি আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে, উত্তরা পশ্চিম থানার ১১ ও ১২ নম্বর সেক্টর এলাকায় নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন হিযবুত তাহরীরের কিছু সক্রিয় সদস্য শুক্রবার (৭ মার্চ) বায়তুল মোকাররাম মসজিদ এলাকায় ‘মার্চ ফর খিলাফা’ নামে সমাবেশ পালন নিয়ে গোপন পরিকল্পনা করছে।

সিটিটি জানিয়েছে, ওই তৎপরতা প্রতিরোধে সিটিটিসির আভিযানিক দল উত্তরা থানার ওই এলাকায় অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে। তাদের বিরুদ্ধে উত্তরা পশ্চিম থানায় সন্ত্রাস দমন আইন ২০০৯ (সংশোধনী ২০১৩)-এর অধীনে মামলা করা হয়েছে।

সিটিটিসি সূত্র আরও জানায়, গ্রেপ্তার তিনজন নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন হিযবুত তাহরীরের সক্রিয় সদস্য বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন। তাদের কাছ থেকে জব্দ করা আলামত থেকেও প্রাথমিকভাবে এর সত্যতা পাওয়া গেছে। গ্রেপ্তার তিনজনসহ তাদের অন্য সহযোগীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে সিটিটিসির প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

এর আগে বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে ডিএমপির গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান জানান, হিযবুত তাহরীরসহ নিষিদ্ধঘোষিত কোনো সংগঠন সভা, সমাবেশ কিংবা যেকোনো উপায়ে প্রচারণা চালালে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেবে ডিএমপি।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২০০৯ সালের ২২ অক্টোবর জননিরাপত্তার প্রতি হুমকি বিবেচনায় হিযবুত তাহরীরকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে বাংলাদেশ সরকার। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর নতুন করে তৎপর হয়ে উঠেছে ধর্মভিত্তিক এই সন্ত্রাসী সংগঠনটি। তাদের মূল লক্ষ্য ইসলামি খিলাফত প্রতিষ্ঠা ও শরিয়া বাস্তবায়ন।

বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে গোপনে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসা সংগঠনটি এখন অনেকটা প্রকাশ্যে তাদের কাজ চালাচ্ছে। শুক্রবার (৭ মার্চ) সংগঠনটি বায়তুল মোকাররমে ‘মার্চ ফর খিলাফা’ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। এই কর্মসূচির জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ ঢাকার বিভিন্ন স্থানে পোস্টার লাগিয়েছে এবং লিফলেটও বিলি করছে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের দিনই ঢাকায় মিছিল করে হিযবুত তাহরীর। এরপর আরও নানা দাবিতে মিছিলের পাশাপাশি ঢাকায় সংবাদ সম্মেলন করেছে সংগঠনটি। চট্টগ্রামেও পালন করেছে নানা কর্মসূচি।

সংগঠনটির মিডিয়া সমন্বয়ক ইমতিয়াজ সেলিম বিবিসি বাংলাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, সরকার পতন আন্দোলনে শুরু থেকেই তাদের কর্মীরা অংশ নেয়। তবে তারা কোনো ব্যানার ব্যবহার করেনি।

আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গুলশানের হোলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলায় নিহত পুলিশ কর্মকর্তার স্মরণে নির্মিত ভাস্কর্য ‘দীপ্ত শপথ’ গুঁড়িয়ে হিযবুত তাহরীরের পোস্টারও লাগানো হয়েছিল।

২০২৪ সালের ৯ সেপ্টেম্বর রাজধানী ঢাকার জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে হিযবুত তাহরীর। সংবাদ সম্মেলনে হিযবুত তাহরীরের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানান সংগঠনটির নেতারা। ২০০৯ সালে সংগঠনটির ওপর জারি করা নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে অন্তর্বর্তী সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ২০২৪ সালের ৫ সেপ্টেম্বর আবেদনও করা হয়েছে বলে জানানো হয় সংবাদ সম্মেলনে। তবে সরকার বলছে, সংগঠনটি এখনো নিষিদ্ধই রয়েছে।

এদিকে কেবল বাংলাদেশ নয়, জার্মানি, যুক্তরাজ্য, তুরস্ক ও পাকিস্তানেও হিযবুত তাহরীরকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ওই সব দেশও সন্ত্রাসবিরোধী আইন ব্যবহার করেই এই সংগঠনকে নিষিদ্ধ করেছে।

ad
ad

খবরাখবর থেকে আরও পড়ুন

‘ইকোস অব আর্থ’ পুরস্কার পেলেন ৬ ফটোসাংবাদিক

এবারের প্রতিযোগিতার বিষয়বস্তু ‘বায়ু, পানি ও মাটি দূষণ’ এবং ‘জ্বালানি ও পরিবেশ’। প্রতিযোগিতায় জমা পড়া ১৫০০টি ছবির মধ্য থেকে বিচারকদের রায়ে নির্বাচিত সেরা ৩৫টি ছবি প্রদর্শনীর জন্য মনোনীত হয় এবং বিজয়ী ছয়জন ফটোসাংবাদিককে পুরস্কৃত করা হয়।

৯ ঘণ্টা আগে

যমুনা এলাকায় সমাবেশ ছত্রভঙ্গ করতে কোনো আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহৃত হয়নি: ডিএমপি

যমুনা ও আশপাশের এলাকায় ‘বেআইনি’ সমাবেশ ছত্রভঙ্গ করতে কোনো প্রকার আগ্নেয়াস্ত্র বা গুলি ব্যবহার করা হয়নি বলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।

৯ ঘণ্টা আগে

প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ টিয়ার গ্যাসের শেল, জলকামান ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। এতে মিছিল ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। তবে কিছু সময় পর আবারও আন্দোলনকারীরা জড়ো হয়ে যমুনা অভিমুখে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করেন। ফলে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

১৫ ঘণ্টা আগে

সাউন্ড গ্রেনেড ও জলকামানে ছত্রভঙ্গ সরকারি কর্মচারীরা, বিজিবি মোতায়েন

১৬ ঘণ্টা আগে