রমনায় ছায়ানটের বর্ষবরণ, ভয়হীন-শঙ্কামুক্ত সমাজের আকাঙ্ক্ষা

প্রতিবেদক, রাজনীতি ডটকম
মঙ্গলবার পহেলা বৈশাখে ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গেই রমনার বটমূলে শুরু হয় ছায়ানটের বর্ষবরণের অনুষ্ঠান। ছবি: সংগৃহীত

বরাবরের মতোই রাজধানীর রমনার বটমূলে সুরের মূর্ছনায় নতুন বঙ্গাব্দ ১৪৩৩ বরণ করে নিলো সাংস্কৃতিক সংগঠন ছায়ানট। নতুন বছরের প্রথম আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গেই ভৈরব ঠাঁটের রাগ রামকেলিতে সুরারোপিত ‘জাগো আলোক-লগনে’ গানের সুরে শুরু হয় এ আয়োজন। নানা পরিবেশনা ও বক্তব্যের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শেষ হয়েছে একটি ভয়হীন ও শঙ্কামুক্ত সমাজ ও যাপনের প্রত্যাশায়।

মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) ভোর ৬টা ১৫ মিনিটে শুরু হয় ছায়ানটের বর্ষবরণের অনুষ্ঠান। একক ও সমবেত সংগীতের পাশাপাশি আবৃত্তির পর জাতীয় সংগীতের মধ্য দিয়ে সকাল ৮টা ২৫ মিনিটে অনুষ্ঠান শেষ হয়।

ভোরের আলো ফোটার আগেই ছায়ানটের অনুষ্ঠানে অংশ নিতে রাজধানীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে গিয়েছিলেন ধর্ম-বর্ণ-লিঙ্গ নির্বিশেষে নানা বয়সী মানুষ। ‘চিত্ত যেথা ভয়শূন্য, উচ্চ যেথা শির’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে গান-কবিতার সঙ্গে গলা মিলিয়েছেন তারা। জানিয়েছেন একটি নির্বিঘ্ন সমাজের প্রত্যাশার কথা।

ছায়ানট সভাপতি সারওয়ার আলী বলেন, সমাজে অসহিষ্ণুতা বেড়েছে, বেড়েছে মত প্রকাশের ক্ষেত্রে দলবদ্ধ নিগ্রহের আশঙ্কা। মার্কিন-ইসরায়েলি নিগ্রহে আজ পারস্য সভ্যতাও ভয়াবহ বিপর্যয়ের সম্মুখীন। বিশ্ববাসী আজ বিপর্যস্ত ও আতঙ্কিত। স্বদেশে আজ নতুন বছরের আজ প্রথম প্রহরে কামনা করছেন বিশ্বশান্তি।

একটি ভয়হীন সমাজের প্রত্যাশা জানিয়ে বর্ষবরণের অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন ছায়ানট সভাপতি সারওয়ার আলী। ছবি: সংগৃহীত
একটি ভয়হীন সমাজের প্রত্যাশা জানিয়ে বর্ষবরণের অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন ছায়ানট সভাপতি সারওয়ার আলী। ছবি: সংগৃহীত

ছায়ানট সভাপতি আরও বলেন, আমরা সমাজের কাছে অভয় বাণী শুনতে চাই— সংবাদকর্মীরা যেন নির্ভয়ে প্রকৃত মত প্রকাশ করতে পারেন, আমরা যেন নির্ভয়ে গান গাইতে পারি, সংস্কৃতির সকল প্রকাশ যেন নির্বিঘ্নে হয়। বাঙালি যেন শঙ্কামুক্ত জীবন যাপন করতে পারে।

এর আগে অনুষ্ঠানের সূচায় অজয় ভট্টাচার্যের কথায় ও ভীষ্মদেব চট্টোপাধ্যায়ের সুরে ‘জাগো আলোক-লগনে’ যৌথভাবে পরিবেশন করেন মিরাজুল জান্নাত সোনিয়া, ঐশ্বর্য সমাদ্দার, প্রিয়ন্তু দেব ও সমুদ্র শুভম। এরপর একে একে আটটি সম্মেলক ও ১৪টি একক গান পরিবেশিত হয়, ছিল দুইটি পাঠ। সব মিলিয়ে অংশ নিয়েছেন প্রায় ২০০ শিল্পী। পাশাপাশি ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের প্রখ্যাত গণসঙ্গীতজ্ঞ সলিল চৌধুরী ও পাকিস্তানবিরোধী আন্দোলনের গীতিকার-সুরকার মতলুব আলীর প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি জানানো হয়।

অনুষ্ঠানে একক রবীন্দ্রসংগীত পরিবেশনকারীদের মধ্যে ছিলেন মাকছুরা আখতার অন্তরা, আজিজুর রহমান তুহিন, সেমন্তী মঞ্জরী, তানিয়া মান্নান ও লাইসা আহমদ লিসা। নজরুলগীতি পরিবেশন করেন বিটু কুমার শীল, বিজন চন্দ্র মিস্ত্রী, নাসিমা শাহীন ফ্যান্সি, খায়রুল আনাম শাকিল ও শারমিন সাথী ইসলাম ময়না। দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের গান গেয়ে শোনান শ্রাবন্তী ধর। লালন সাঁইয়ের গান পরিবেশন করেন চন্দনা মজুমদার।

অনুষ্ঠানে আবৃত্তি পরিবেশন করেন ভাস্বর বন্দোপাধ্যায়। সলিল চৌধুরীর ‘এক গুচ্ছ চাবি’ আবৃত্তি করেন খায়রুল আলম সবুজ। সম্মেলক পরিবেশনায় ছিল ‘ভয় হতে তব অভয় মাঝে’, ‘জগতে আজিকে যারা’, ‘পথে এবার নামো সাথী’, ‘এসো মুক্ত করো’ ও ‘সেদিন আর কত দূরে’সহ নানা গান। আবদুল লতিফ, মতলুব আলী ও সাধন চন্দ্র বর্মণের গানও পরিবেশিত হয় দলীয় কণ্ঠে।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে বক্তব্য দেন ছায়ানটের সভাপতি সারওয়ার আলী। তিনি বলেন, যে সংগীত বাঙালির আনন্দ-বেদনা- মিলন-বিরহ-সংকটের সঙ্গী, মুক্তিযুদ্ধ থেকে সব অধিকার অর্জনের অবলম্বন, সব ধর্ম-জাতির মানুষকে সম্প্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ করে, অপশক্তি ভয় দেখিয়ে সেই সংগীত থেকে শান্তিপ্রিয় মানুষকে দূরে রাখতে চায়। তারা আবহমান বাংলা গানকে তার সমৃদ্ধ উত্তরাধিকার থেকে শেকড়বিচ্ছিন্ন করতে উদ্যত।

ছায়ানট কর্মীদের সঙ্গে সেবায় যুক্ত ছিল থার্টিনথ হুসার্স ওপেন রোভার গ্রুপ ও এজিস সার্ভিসেস লিমিটেড। মঞ্চসজ্জায় ছিলেন ছায়ানটেরই দুই সাবেক শিল্পী— মমিনুল হক দুলু ও রণজিত রায়।

ad
ad

খবরাখবর থেকে আরও পড়ুন

তরুণদের সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে জাতীয় অগ্রগতিই লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী

এ বছরের বিশ্ব জনসংখ্যা দিবসের প্রতিপাদ্য, ‘তারুণ্যের আশা-আকাঙ্ক্ষার বাস্তবায়ন করি, আজকের প্রস্তুতিতে সুন্দর আগামী গড়ি’ আমাদের জাতীয় উন্নয়ন দর্শনের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘জনগণের জীবনমান উন্নয়ন ও প্রতিটি নাগরিকের জন্য সুস্থ, শিক্ষিত, দক্ষ ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করা বর্তমান

৪ ঘণ্টা আগে

তরুণরাই দেশের ভবিষ্যৎ ও প্রধান চালিকাশক্তি: রাষ্ট্রপতি

আগামীকাল (শনিবার, ১১ জুলাই) বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস উপলক্ষ্যে রাষ্ট্রপতি আজ (শুক্রবার, ১০ জুলাই) এক বাণীতে এসব কথা বলেন। রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও ‘বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস ২০২৬’ পালিত হচ্ছে জেনে আমি আনন্দিত।

৫ ঘণ্টা আগে

হাম ও উপসর্গে দেশে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ১২৮ জনের শরীরে ল্যাব পরীক্ষার মাধ্যমে হামের সংক্রমণ নিশ্চিত করা হয়েছে। একই সময়ে হামের সুনির্দিষ্ট উপসর্গ নিয়ে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন আরও ৯০১ জন। সব মিলিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশে হামের উপসর্গ দেখা দেওয়া মোট রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়ে

৫ ঘণ্টা আগে

প্রস্তুতি সম্পন্ন, শিগগিরই খুলছে জুলাই জাদুঘর: সংস্কৃতিমন্ত্রী

সংস্কৃতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী বলেছেন, জুলাই জাদুঘর পুনরায় দর্শনার্থীদের জন্য খুলে দেওয়ার সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। নতুন ব্যবস্থাপনা কমিটিও গঠন করা হয়েছে। শিগগিরই জাদুঘরটি আনুষ্ঠানিকভাবে খুলে দেওয়া হবে।

৬ ঘণ্টা আগে