বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটে মোবাইল নেটওয়ার্ক বিপর্যস্তের শঙ্কা অ্যামটবের

প্রতিবেদক, রাজনীতি ডটকম
আপডেট : ২০ এপ্রিল ২০২৬, ১৫: ৪৭
মোবাইল নেটওয়ার্ক টাওয়ার। ছবি: সংগৃহীত

দেশে বিদ্যুৎ বিভ্রাট এবং জ্বালানি সংকটে মোবাইল নেটওয়ার্ক ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হতে পারে বলে জানিয়েছে অ্যাসোসিয়েশন অফ মোবাইল টেলিকম অপারেটরস অফ বাংলাদেশ (অ্যামটব)। সংগঠনটি বলছে, বিদ্যুৎ ও জ্বালানির জন্য জরুরি ভিত্তিতে অগ্রাধিকারমূলক ব্যবস্থা না নিলে দেশব্যাপী মোবাইল টেলিকম সেবা বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

শনিবার (১৮ এপ্রিল) বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনকে (বিটিআরসি) পাঠানো এক জরুরি চিঠিতে অ্যামটব এই উদ্বেগের কথা জানায়।

বিটিআরসির চেয়ারম্যান বরাবর লেখা ওই চিঠিতে দেশের তিনটি বেসরকারি মোবাইল অপারেটর— গ্রামীণফোন, রবি ও বাংলালিংকের টাওয়ার (বিটিএস) ও ডেটা সেন্টার চালু রাখতে প্রতিদিন ৭৯ হাজার ৬২১ লিটার ডিজেল এবং ১৯ হাজার ৮৫৯ লিটার অকটেনের প্রয়োজনীয়তার কথা জানানো হয়।

অ্যামটব মহাসচিব মোহাম্মদ জুলফিকারের সই করা ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, একদিকে দীর্ঘস্থায়ী লোডশেডিং এবং অন্যদিকে ঘূর্ণিঝড়সহ প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে বাণিজ্যিক বিদ্যুৎ সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ফলে মোবাইল টাওয়ার ও ডাটা সেন্টার সচল রাখতে জেনারেটরের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।

বিটিআরসির চেয়ারম্যান বরাবর লেখা অ্যামটবের চিঠিটি দেখুন এখানে—

চিঠিতে দেশের বিভিন্ন স্থানে তিনটি মোবাইল অপারেটরের ২৭টি ডেটা সেন্টারের তালিকা রয়েছে। তালিকায় ডেটা সেন্টারগুলোর বিদ্যুৎ সরবরাহকারী কর্তৃপক্ষ, বিদ্যুতের চাহিদা (ডিমান্ড লোড) এবং বিদ্যুৎ না থাকলে জেনারেটর চালাতে প্রতি ঘণ্টায় ডিজেলের সম্ভাব্য চাহিদা তুলে ধরা হয়েছে।

ওই তালিকা অনুযায়ী রবির ১০টি ডেটা সেন্টারে জেনারেটর চালাতে এক ঘণ্টায় খরচ হয় ১ হাজার ৬২২ লিটার ডিজেল। একইভাবে গ্রামীণফোনের নয়টি ডেটা সেন্টারে লাগে ১ হাজার ৮০৭ লিটার ডিজেল। আর বাংলালিংকের আটটি ডেটা সেন্টার জেনারেটরে চালাতে এক ঘণ্টায় খরচ হয় ৯৮৫ লিটার ডিজেল। অর্থাৎ সব মিলিয়ে শুধু ডেটা সেন্টারগুলোতে এক ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকলে খরচ হয় ৪ হাজার ৪১৪ লিটার ডিজেল।

এ ছাড়া অ্যামটবের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গ্রামীণফোন, রবি ও বাংলালিংক তাদের মোবাইল টাওয়ারগুলো (বিটিএস সাইটের) সচল রাখতে প্রতিদিন প্রায় ৫২ হাজার ৪২৫ লিটার ডিজেল এবং ১৯ হাজার ৮৫৯ লিটার অকটেন ব্যবহার করছে। এ ছাড়া অপারেটরগুলোর ডাটা সেন্টার সচল রাখতে প্রতিদিন আরও ২৭ হাজার ১৯৬ লিটার ডিজেল খরচ হচ্ছে।

চিঠিতে বিদ্যুৎবিভ্রাট নিয়ে বলা হয়, ঝড়ের সময় অনেক অঞ্চলে প্রতিদিন ৫-৮ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকে না এবং বিদ্যুৎ পুনঃস্থাপন অনেক বিলম্বিত হয়। ফলে ডেটা সেন্টার, সুইচিং সুবিধা এবং ট্রান্সমিশন হাবসহ গুরুত্বপূর্ণ টেলিকম অবকাঠামো প্রায়ই গ্রিড বিদ্যুৎ ছাড়াই পরিচালিত হচ্ছে, যা নেটওয়ার্ক স্থিতিশীলতার জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করছে।

অ্যামটব বলছে, দীর্ঘ বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে সম্পূর্ণরূপে জেনারেটরের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। টাওয়ারের পাশাপাশি ডেটা সেন্টারগুলোও জেনারেটরে চলছে। একটি একক ডাটা সেন্টার চালাতেই প্রতি ঘণ্টায় ৫০০ থেকে ৬০০ লিটার ডিজেল প্রয়োজন, প্রতিদিন প্রায় ৪ হাজার লিটার। স্থানীয় পেট্রোল পাম্পগুলো এ পরিমাণ জ্বালানি সরবরাহ করতে পারছে না। এ ছাড়া আন্তঃজেলা জ্বালানি পরিবহনের সময় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বাধার কারণে পরিস্থিতি আরও খারাপ হচ্ছে।

অ্যামটব সতর্ক করে বলছে, মোবাইল নেটওয়ার্ক ব্যবস্থা অচল হয়ে পড়লে শুধু সাধারণ যোগাযোগই নয়, বরং জরুরি সেবা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বয়, ব্যাংকিং লেনদেন এবং ডিজিটাল গভর্ন্যান্সের মতো গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যাবে। এটি একটি জাতীয় সংকটের সৃষ্টি করতে পারে।

অপারেটরদের প্রস্তাব

পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিটিআরসিকে কয়েকটি প্রস্তাব দিয়েছে অ্যামটব:

১. প্রধান ডেটা সেন্টার ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা ।

২. সংকটকালে সারাদেশের সব মোবাইল বেস স্টেশনকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিদ্যুৎ সরবরাহের আওতায় আনা।

৩. প্রয়োজনে ডিপো থেকে সরাসরি জরুরি ভিত্তিতে জ্বালানি সরবরাহের ব্যবস্থা করা।

৪. জরুরি টেলিকম কার্যক্রমের জন্য জ্বালানি পরিবহন নির্বিঘ্ন রাখতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অবিলম্বে লিখিত নির্দেশনা দেওয়া।

এ ছাড়া চিঠিতে দ্রুত বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বিভাগ, বিপিসি এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে একটি উচ্চপর্যায়ের সমন্বয় সভা ডাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

ad
ad

খবরাখবর থেকে আরও পড়ুন

বিভিন্ন ধর্মের অভিন্ন নৈতিক শিক্ষা [পর্ব ২]

জৈন ধর্ম মানুষের মুক্তির জন্য নৈতিকতার ওপর সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব আরোপ করেছে। এই ধর্ম অনুযায়ী, বন্দি অবস্থা থেকে আত্মার মুক্তির উপায় তিনটি— সম্যগ দর্শন বা সত্যের প্রতি অকৃত্রিম শ্রদ্ধা, সম্যগজ্ঞান বা সংশয়শূন্য ও ভ্রমমুক্ত বিশদ জ্ঞান এবং সম্যগ চারিত্র বা হিত আচরণে প্রবৃত্ত হওয়া এবং অহিতকর আচরণ থেকে সম্প

৫ ঘণ্টা আগে

নিজের নামে স্কুলের নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব, না করলেন প্রতিমন্ত্রী

স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের দুই ছেল এবং আত্মীয়ের নামের সঙ্গে মিল রেখে বগুড়ার মোকামতলা উপজেলায় নবগঠিত কয়েকটি ইউনিয়নের নামকরণের অভিযোগের পর এবার তার নামে একটি স্কুলের নামকরণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে শিক্ষা সচিবের কাছে পাঠানো এক পত্রে এই প্রস্তাব নাকচ করেছেন তিনি।

১৫ ঘণ্টা আগে

পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদককে গ্রেপ্তারে প্রতিমন্ত্রী শাহে আলমের দুঃখপ্রকাশ

‘দৈনিক অগ্রযাত্রা প্রতিদিন’ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক রেজানুর ইসলামকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় দুঃখপ্রকাশ করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। একই সঙ্গে তিনি আশা প্রকাশ করেছেন, সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ পারস্পরিক আলোচনা ও আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিষয়টির শান্তিপূর্ণ সমাধানে পৌঁছা

১৫ ঘণ্টা আগে

প্রতিমন্ত্রীর বিরুদ্ধে সংবাদ করায় মামলা— পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক কারাগারে

এর আগে গত ১৫ জুন বগুড়া প্রেস ক্লাবের কোষাধ্যক্ষ এবং ‘দ্য নিউ নেশন’ পত্রিকার উত্তরাঞ্চলীয় প্রতিনিধি তানভীর আলম রিমন ‘দৈনিক অগ্রযাত্রা প্রতিদিন’ পত্রিকার সম্পাদক-প্রকাশকসহ ছয় জনের বিরুদ্ধে এই মামলা করেন। পরে বগুড়ার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদী হাসান বিবাদীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা এবং সদর থ

১৬ ঘণ্টা আগে