নির্বাচনি ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি ‘রাজনৈতিক ধোঁকাবাজি’: আনু মুহাম্মদ

প্রতিবেদক, রাজনীতি ডটকম
আপডেট : ২৯ জুন ২০২৬, ১৬: ০২

অর্থনীতিবিদ ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেছেন, নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক দলগুলো যে ইশতেহার ও প্রতিশ্রুতি দেয়, সেগুলো মূলত রাজনৈতিক ধোঁকাবাজির অংশ। তার ভাষায়, রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠান চালুর প্রতিশ্রুতি দলগুলো দিলেও বাস্তবে তা বাস্তবায়নের কোনো সদিচ্ছা তাদের থাকে না।

সোমবার (২৯ জুন) সকালে ঢাকার জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘রাষ্ট্রীয় মালিকানায় পাটকল চালুর দাবিতে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনা ও করণীয়’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। ‘রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল রক্ষা পরিষদ’-এর ব্যানারে এ সভার আয়োজন করা হয়।

আনু মুহাম্মদ বলেন, ‘এই যে নির্বাচনি ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি…এগুলো বললে তারা (রাজনৈতিক দল) একটু হাসবে হয়তো। কারণ, এগুলো তাদের অভ্যাস। এই ধোঁকাবাজিটা তাদের রাজনীতিরই একটা অংশ।’

তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে নানা বিষয়ে মতপার্থক্য থাকলেও রাষ্ট্রায়ত্ত কারখানা বন্ধ বা বেসরকারীকরণের প্রশ্নে তাদের অবস্থানের তেমন পার্থক্য নেই। তাঁর মতে, নির্বাচনের আগে এসব প্রতিষ্ঠান চালুর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও দলগুলো নিজেরাই জানে, রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থায় সেগুলো তারা চালু করবে না।

রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠান ব্যক্তিমালিকানায় হস্তান্তরের ধারা আশির দশক থেকে চলে আসছে উল্লেখ করে আনু মুহাম্মদ বলেন, এর পেছনে আন্তর্জাতিক সংস্থা, আমলাতন্ত্র ও বড় ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর একই কাঠামো কাজ করে। নীতি নির্ধারণকারীরা বদলায় না, শুধু বাস্তবায়নকারীদের চেহারা পরিবর্তন হয়। এ কারণেই সরকার বদলালেও রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল চালুর প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হয় না।

পাটকল শ্রমিকদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বেসরকারীকরণের পুরো প্রক্রিয়ায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন শ্রমিকরা। তাদের প্রাপ্য মজুরি পরিশোধ করা কঠিন ছিল না, কিন্তু তা ইচ্ছাকৃতভাবেই দেওয়া হয়নি।

পাটকল বেসরকারীকরণের পক্ষে দেওয়া যুক্তিগুলোও প্রত্যাখ্যান করেন আনু মুহাম্মদ। তাঁর ভাষায়, পাটের চাহিদা নেই, লোকসান হচ্ছে বা পাটকল চালানো সম্ভব নয়—এসব বক্তব্য ‘প্রতারণা ও মিথ্যাচার’।

উন্নয়ন অর্থনীতিবিষয়ক গবেষক মাহা মির্জা বলেন, শ্রমিক, কর্মসংস্থান ও দেশীয় শিল্পের প্রশ্নে সব সরকার প্রায় একই ধরনের দৃষ্টিভঙ্গি অনুসরণ করে। তার মতে, উন্নয়নের বড় বড় কথা বলা হলেও শ্রমিকের দৃষ্টিকোণ থেকে রাষ্ট্র কখনো অর্থনীতিকে বিবেচনা করে না; বরং ব্যবসায়িক দৃষ্টিভঙ্গিই প্রাধান্য পায়।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ মূলত শ্রমনির্ভর দেশ। সবাইকে প্রকৌশলী, প্রোগ্রামার বা কম্পিউটার বিজ্ঞানী বানানো সম্ভব নয়। তাই কোটি কোটি শ্রমিকের কর্মসংস্থানের কথা মাথায় রেখেই শিল্পায়নের পরিকল্পনা করা সরকারের দায়িত্ব।

সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ শ্রমিক কর্মচারী ফেডারেশনের সভাপতি জহিরুল ইসলাম। এতে আরও বক্তব্য রাখেন সিপিবির সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ ক্বাফী রতন এবং জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের সভাপতি ফয়জুল হাকিম লালা।

রাজনীতি/আরআইআর

ad
ad

খবরাখবর থেকে আরও পড়ুন

‘নাম নয়, বিরোধী দল কামের কাঙাল’

তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন ইস্যুতে পানিসম্পদমন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানির বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে বিরোধী দলীয় নেতা শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘আমরা নামের কাঙাল নয়, আমরা কামের কাঙাল।’ একই সঙ্গে তিনি শিগগিরই পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নের আশা প্রকাশ করেছেন।

২ ঘণ্টা আগে

সংসদকে ‘২ টায়ারের গাড়ি’র সঙ্গে তুলনা করলেন বিরোধী দলীয় নেতা

বাজেট আলোচনায় অংশ নেওয়া সংসদ সদস্যদের ধন্যবাদ জানিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, ‘এই সংসদেরও দুইটা টায়ার। একটা সরকারি দল, আরেকটা বিরোধী দল। যেকোনো একটা টায়ার অকেজো হয়ে গেলে যান চলবে না। এক টায়ারে আপনি পিন লাগাবেন, পেরেক মারবেন, তাহলে কিন্তু ওই টায়ারটা ফুটো হয়ে যাবে। ওইটা ফুটো হয়ে গেলে ওই টায়ার (দ্বিতীয়ট) চলব

২ ঘণ্টা আগে

‘শক্তিশালী বন্ধুদেশে’র সঙ্গে তিস্তা ইস্যু আলোচনায় প্রধানমন্ত্রীকে বিরোধী দলীয় নেতার অভিনন্দন

বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, ‘পানিসম্পদমন্ত্রী (মোঃ শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি) গতকাল তার বক্তব্যে আশ্বস্ত করেছেন যে, ইনশাল্লাহ যে নামেই হোক, কাজ (তিস্তা মহাপরিকল্পনার) শুরু হয়ে যাবে।’ তিনি বলেন, ‘আমরা নামের কাঙাল নয়, আমরা কামের কাঙাল।’

৩ ঘণ্টা আগে

বাজেট পাসের পর হার্টে রিং বসানোর খরচ অর্ধেক কমে যাবে: প্রধানমন্ত্রী

হার্টে স্টেন্ট (রিং) বসানোর খরচ বাজেট পাসের পর প্রায় অর্ধেকে নেমে আসবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, বর্তমানে হার্টে স্টেন্ট করতে যেখানে প্রায় ১ লাখ টাকা লাগে, বাজেট কার্যকর হওয়ার পর সেই খরচ প্রায় ৫০ শতাংশ কমে যাবে।

৩ ঘণ্টা আগে