পারমাণবিক শক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহারে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের চুক্তি
-c4b23c-480x270.webp)
পারমাণবিক শক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহারে সহযোগিতার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই করেছে বাংলাদেশ। নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনের ফাঁকে উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পর স্থানীয় সময় ২৫ সেপ্টেম্বর চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বিএনপি মিডিয়া সেলের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বাংলাদেশের পক্ষে প্রধানমন্ত্রীর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি (আইসিটি) বিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসাদ এবং যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে দেশটির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, জ্বালানি ও পরিবেশ বিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি জেকব হেলবার্গ সমঝোতা স্মারকে সই করেন।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পরমাণু শক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহারে সহযোগিতার ক্ষেত্রে এটি নতুন কোনো বিচ্ছিন্ন উদ্যোগ নয়। ১৯৮১ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাসনামলে এ বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতার যে প্রথম উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, বর্তমান সমঝোতা তারই ধারাবাহিকতা।
এর আগে ২৪ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে এক ব্রিফিংয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক ডেপুটি অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি বেথানি পৌলোস মরিসন দুই দেশের সম্পর্কে সাম্প্রতিক অগ্রগতির কথা জানান। তিনি বলেন, সফরকালে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। পাশাপাশি বিমান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের সঙ্গে একটি বড় বাণিজ্যিক চুক্তিও হয়েছে, যা নিয়ে ট্রাম্প তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ ইতিবাচক বার্তা দিয়েছেন।
ওই ব্রিফিংয়ে মরিসন আরও জানিয়েছিলেন, দুই দেশের মধ্যে পারমাণবিক শক্তির বেসামরিক ব্যবহার নিয়ে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হতে যাচ্ছে।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পারমাণবিক সহযোগিতার এই সমঝোতার খবরের মধ্যেই রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের ইউরেনিয়াম জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে সাময়িক অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার নতুন চালানটি ঢাকায় পৌঁছানোর কথা ছিল।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব শেখ মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে চালান গ্রহণের জন্য সব প্রস্তুতি থাকলেও আকাশপথের ছাড়পত্র না পাওয়ায় সেটি পাঠানো সম্ভব হয়নি।
তিনি বলেন, ‘আমরা বিমানবন্দরে পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়ে অপেক্ষা করছিলাম। কিন্তু রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু সংস্থা রসাটমের লিয়াজোঁ অফিসার আমাদের নিশ্চিত করেন যে সংশ্লিষ্ট এলাকার আকাশপথ উন্মুক্ত ছিল না। ফলে ফ্লাইটটি বাতিল করতে হয়েছে এবং পরবর্তী সময়সূচি পরে পুনর্নির্ধারণ করা হবে।’
তবে কোন দেশের আকাশপথ ব্যবহার করতে না পারায় বা কী ধরনের বাধার কারণে ফ্লাইটটি বিলম্বিত হয়েছে, সে বিষয়ে সরকারি পর্যায়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
রূপপুর প্রকল্পের অগ্রগতি
পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার পাকশী ইউনিয়নে পদ্মা নদীর তীরে নির্মাণাধীন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বাংলাদেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প। রাশিয়ার প্রযুক্তিগত সহায়তায় বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের তত্ত্বাবধানে প্রকল্পটির নির্মাণকাজ এগিয়ে চলছে।
কেন্দ্রটির দুটি ইউনিটে তৃতীয় প্রজন্মের ‘ভিভিইআর-১২০০’ রিঅ্যাক্টর স্থাপন করা হচ্ছে। প্রতিটি ইউনিট থেকে ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট করে মোট ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের কথা রয়েছে।
২০২৩ সালের অক্টোবরে প্রথম ইউনিটের জন্য ১৬৪টি ফ্রেশ ফুয়েল অ্যাসেম্বলি রাশিয়ার রসাটমের নোভোসিবির্স্ক কারখানা থেকে বিশেষ কার্গো বিমানে ঢাকায় আনা হয়। পরে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) নজরদারিতে বিমানবন্দর থেকে ৩০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সুরক্ষিত ‘গ্রিন করিডর’ দিয়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাহারায় এসব জ্বালানি রূপপুর প্রকল্পে নেওয়া হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন পারমাণবিক সহযোগিতা এবং রাশিয়ার প্রযুক্তিগত সহায়তায় নির্মাণাধীন রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্র—দুটি উদ্যোগই ভবিষ্যতে বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও কারিগরি সক্ষমতা বৃদ্ধিতে প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।











-c26956-256x144.webp)


-535698-256x144.webp)
