‘অভ্যুত্থানের পক্ষের শক্তিগুলোর মধ্যে বিরোধে হতাশাব্যাঞ্জক’

প্রতিবেদক, রাজনীতি ডটকম
আপডেট : ৩০ অক্টোবর ২০২৫, ১৯: ৪৭
বৃহস্পতিবার ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে ব্রিফ করেন আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল । ছবি: ভিডিও থেকে

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পক্ষ শক্তিগুলোর মধ্যে বিরোধ হতাশাব্যাঞ্জক জানিয়ে আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল বলেছেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের উপায় এবং গণভোটের সময় নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর বিরোধ তীব্রতম পর্যায়ে পৌঁছে গেছে।

বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক নিয়ে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বলেন, এটা দুর্ভাগ্যজনক। ২৭০ দিন যাবত আলাপ-আলোচনার পর প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর বক্তব্যের মধ্যে যে অনৈক্যের সুর দেখছি এটা হতাশাব্যঞ্জক। এই তীব্র বিরোধের মধ্যে কীভাবে সমঝোতার দলিল পাস; এটা খুব দুরূহ একটা চ্যালেঞ্জ আমাদের সামনে এনে দিয়েছে।

আসিফ নজরুল বলেন, ওনাদের (রাজনৈতিক দল) তো আসলে ঐকমত্য হয়নি। কিছু ভাইটাল (গুরুত্বপূর্ণ) প্রশ্নে এর আগে আমরা জেনেছিলাম কন্টেন্ট নিয়ে বিরোধ ছিল, যে সংস্কার হবে সেই বিষয়বস্তু নিয়ে বিরোধ ছিল। এখন আবার দেখলাম আরও দুই ধরনের বিরোধ তৈরি হয়েছে; একটা হচ্ছে এটা (জুলাই সনদ) কী পদ্ধতিতে পাস করা হবে, আরেকটা হচ্ছে এই জন্য গণভোট হলে সেটা কবে হবে।

তিনি বলেন, (রাজনৈতিক দলগুলোর বিরোধ) এত দৃঢ় এবং পরস্পরবিরোধী। কী বলব? যে উত্তেজিত ভূমিকা নিয়েছে রাজনৈতিক দলগুলো, যারা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পক্ষে ছিল, আপনারা যদি এরকম একটা ভূমিকা নেন তাহলে সরকার কী করবে? আমরা ঠিক বুঝতে পারছি না।

আইন উপদেষ্টা বলেন, এতদিন আলোচনার পর যদি আপনাদের ঐকমত্য না আসে, এখন আমরা আসলে কীভাবে কী করব, এটা নিয়ে সত্যি আমাদের একটু চিন্তা করতে হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে এ নিয়ে সাধারণ আলোচনা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, অনৈক্যের বিষয় একটা হচ্ছে- আপনারা জানেন ঐকমত্য কমিশন দুইটা বিকল্প দিয়েছে। একটা হচ্ছে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ তারপর গণভোট; তারপরে ২৭০ দিনের মধ্যে না হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংবিধান সংশোধন হয়ে যাবে। তো এরকম কোনো নজির আছে কি না বা এটা আদৌ সম্ভব কি না এটা আমরা দেখবো। আরেকটা হচ্ছে, এই দায়-দায়িত্ব নির্বাচিত সংসদের হাতে ছেড়ে দেওয়া। এই দুইটা বিকল্পের মধ্যে কোনটা আসলে বেশি গ্রহণযোগ্য সেটা নিয়ে রাজনৈতিক দলের মধ্যে তীব্র মতবিরোধ রয়েছে। আর গণভোট কবে হবে ওটা নিয়ে তো বিরোধ তীব্রতম পর্যায়ে পৌঁছে গেছে বোধ হয়।

জুলাই সনদ বাস্তবায়ন পদ্ধতি এবং গণভোটের সময় নিয়ে প্রধান উপদেষ্টা সিদ্ধান্ত নেবেন জানিয়ে আসিফ নজরুল বলেন, এসব ব্যাপারে একটা সময় আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে। সিদ্ধান্ত নেবেন প্রধান উপদেষ্টা। প্রধান উপদেষ্টার নেতৃত্বে আমরা থাকব। আমরা ওনাকে সহায়তা করার জন্য থাকব। সিদ্ধান্ত, এটা কোনো পার্টিকুলার কেউ নেবে না। এটা আপনারা নিশ্চিত থাকেন। এই সিদ্ধান্ত প্রধান উপদেষ্টা নেবেন। আমাদের সঙ্গে পরামর্শ করার প্রয়োজন হলে উনি পরামর্শ করবেন এবং আমরা যে সিদ্ধান্ত নেব সেখানে আমরা দৃৃঢ় থাকব। সিদ্ধান্ত খুব দ্রুত হবে।

রাজনৈতিক দলগুলোর আল্টিমেটাম নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে আইন উপদেষ্টা বলেন, কোনো রাজনৈতিক দল যদি এককভাবে তাদের অবস্থান নেওয়ার জন্য আমাদের আল্টিমেটাম বেঁধে দেয় বা জোর করে, তার মানে হচ্ছে ওনাদের মধ্যে ঐকমত্য নাই এবং ওনারা চাচ্ছেন ওনাদের দলীয় পজিশনটা যেন এই সরকার আপহোল্ড (সমুন্নত) করে। এটা দুর্ভাগ্যজনক। ওনাদের তো যথেষ্ট আলোচনার সময় দেওয়া হয়েছে। ওনারা যে অনৈক্য দেখাচ্ছেন, জুলাই স্পিরিটকে ওনারা কোথায় নিয়ে গেছেন এটা ওনাদের বিবেচনা করা উচিত।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে আসিফ নজরুল বলেন, আমরা তো কমিশনের সুপারিশ নিয়েছি, সুপারিশটা আমরা কীভাবে বাস্তবায়ন করব সেখানে সরকারের স্বাধীনতা রয়েছে। এটা আমাদের প্রধান উপদেষ্টা সিদ্ধান্ত নেবেন।

Ad
Ad
ad
ad
ad

খবরাখবর থেকে আরও পড়ুন

চার সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্কসংকেত, ঝোড়ো হাওয়ার পূর্বাভাস

পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ এবং তৎসংলগ্ন উত্তর উড়িষ্যা উপকূল ও উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থানরত সুস্পষ্ট লঘুচাপটি একই স্থানে অবস্থান করছে। এটি আরও পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে পারে। এর প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর, বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকা এবং দেশের চার সমুদ্রবন্দরের ওপর

৪ ঘণ্টা আগে

থার্ড টার্মিনালের ফ্লাইওভারে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পিকআপ নিচে, বিমানবাহিনীর ৩ সদস্য নিহত

সূত্র জানিয়েছে, হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনালে দায়িত্বরত ছিলেন বিমান বাহিনীর সদস্যরা। কর্তব্যরত অবস্থায় বিমানবাহিনীর পিকআপটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে থার্ড টার্মিনালের দ্বিতীয় তলায় অবস্থিত ফ্লাইওভার থেকে নিচে পড়ে গেলে হতাহতের ঘটনা ঘটে।

১৫ ঘণ্টা আগে

নতুন পে-স্কেলে কোন গ্রেডে বেতন বাড়ল কত

বিজ্ঞপ্তির তথ্য বলছে, নতুন পে-স্কেলে ১ম থেকে ১১তম গ্রেড পর্যন্ত ১১টি গ্রেডে প্রারম্ভিক মূল বেতন ১০০ শতাংশ করে বাড়ানো হয়েছে। অর্থাৎ এসব গ্রেডে প্রারম্ভিক মূল বেতন এখনকার চেয়ে বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে। ১২তম গ্রেড থেকে ২০তম গ্রেডে প্রারম্ভিক মূল বেতন বেড়েছে দ্বিগুণের বেশি।

১৬ ঘণ্টা আগে

নতুন পে-স্কেলের গেজেট এ সপ্তাহেই, বাস্তবায়ন হবে ৩ ধাপে

মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর সচিবালয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি। তিন ধাপে এই বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রথম ধাপে চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে মূল বেতন কার্যকর হবে। এরপর ছয় মাস পর দ্বিতীয় ধাপ ও পরে শেষ ধাপটি কার্যকর হবে। সব ভাতা একযোগে চালু হবে ২০২৮ সালের জানুয়ার

১৭ ঘণ্টা আগে
Advertisement