‘লেজ কুকুরকে নাড়াচ্ছে’, মধ্যপ্রাচ্যে হামলা প্রসঙ্গে ইরানের রাষ্ট্রদূত

কূটনৈতিক প্রতিবেদক, রাজনীতি ডটকম
আপডেট : ০১ এপ্রিল ২০২৬, ১৫: ১৮
ইরানি রাষ্ট্রদূত জলিল রহিমি জাহনাবাদি। ফাইল ছবি

মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন হামলা প্রসঙ্গে ঢাকায় নিযুক্ত ইরানি রাষ্ট্রদূত জলিল রহিমি জাহনাবাদি বলেছেন, ‘ফার্সিতে একটা প্রবাদ আছে যে, কুকুর লেজ নাড়ায়, কিন্তু এখানে আমরা দেখতে পাচ্ছি যে লেজ কুকুরকে নাড়াচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘যখন আমরা আলোচনার টেবিলে ছিলাম, তখন তারা (যুক্তরাষ্ট্র ‍ও ইসরায়েল) যুদ্ধটা শুরু করে। ওমানের মধ্যস্থতায় এই আলোচনা ফলপ্রসূ এবং ইতিবাচকভাবে এগোচ্ছিল। আলোচনার মাঝামাঝিতে ইসরায়েলের অনুপ্রেরণা ও উসকানিতে আমেরিকানরা হঠাৎ আমাদের ওপর আক্রমণ করে।’

বুধবার (১ এপ্রিল) সকালে ঢাকায় ইরান দূতাবাসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে গণমাধ্যমকর্মীদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘প্রকৃতপক্ষে আমেরিকা পুরো মধ্যপ্রাচ্য এবং এই পুরো অঞ্চলটাকেই যুদ্ধের আওতায় নিয়ে এসেছে। আমেরিকার আগের প্রেসিডেন্ট অনেকটা বুদ্ধিমান ছিলেন এবং তিনি ইসরায়েলের কোনো কুপ্ররোচনার ফাঁদে পা দেননি। ট্রাম্প এই ফাঁদে পা দিলেন এবং যুদ্ধ শুরু করলেন। এখন যুদ্ধ থেকে পালানোর রাস্তা খুঁজছেন। আমাদের ওপর ইসরায়েল ও আমেরিকার হামলাকে শুধু যদি একটা যুদ্ধ বলি, তাহলে সেটা কম হবে। এটা আসলে মানবিকতা, ভূ-রাজনৈতিক, পুরো সভ্যতা ও সংস্কৃতির বিরুদ্ধে আগ্রাসন।’

আমেরিকা ও ইসরায়েল ইরানের সরকার ব্যবস্থাকে পরিবর্তন করতে চাচ্ছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘মূল উদ্দেশ্য সেটা হলেও, বাস্তবে তারা ইরানের বেসামরিক জনগণ, স্কুল-কলেজ, হাসপাতাল, বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কেন্দ্র এবং এমনকি শিশুদের ওপরেও এ রকম নৃশংসভাবে হামলা করেছে...যুদ্ধেরও একটা নীতি থাকে, এটা হতে পারে না যে যুদ্ধের নামে স্কুল-কলেজ, সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে নিরীহ শিশুদের ওপর হামলা করবেন! এটা কোনো নৈতিকতার মধ্যে পড়ে না। তাদের এবারের আক্রমণ এটাই প্রমাণ করে যে, তাদের উদ্দেশ্য শুধু যুদ্ধ নয়। তাদের অন্য উদ্দেশ্য রয়েছে।’

হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন স্থাপনার ছবি দেখিয়ে রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘আমি প্রশ্ন করতে চাই, আমাদের ঐতিহাসিক স্থানগুলো, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো, সেখানেও কি আমরা অস্ত্র বানাচ্ছিলাম? আর এই সমস্ত প্রতিষ্ঠানগুলোতে কি কোনো সামরিক স্থাপনা ছিল? ইরানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং স্কুল-কলেজে কি ইউরেনিয়াম ছিল যে আপনারা সেখানে হামলা করেছেন? যে সমস্ত শিশুকে তারা হত্যা করেছে, তারা কি টেরোরিস্ট ছিল? তারা কি আইআরজিসি সদস্য ছিল? নিষ্পাপ শিশুগুলো কি হুমকি ছিল? আমেরিকা ও ইসরায়েল যে মানবাধিকারের কথা বলে, সেই মানবাধিকার কি শিশুদের হত্যা করার অনুমতি দেয়? মুসলমান হওয়া কি কোনো অপরাধ? নিজের পায়ে দাঁড়ানো এবং নিজের স্বাধীনতা রক্ষা করা, আমেরিকাকে প্রভু হিসেবে না মানা কি কোনো অপরাধ? যে শিশুদের হত্যা করা হলো, মধ্যপ্রাচ্যে তারা কি আমেরিকার স্বার্থের জন্য হুমকি সৃষ্টি করেছিল?’

পরমাণু কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ইরানের ওপর হামলাকে ‘বাহানা’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, “একটা প্রবাদ আছে, ‘ভালো কোনো রেড ইন্ডিয়ান নাই, যারা মরে গেছে শুধু তারা ছাড়া’, তাদের (যুক্তরাষ্ট্র ‍ও ইসরায়েল) দৃষ্টিতে কোনো ভালো মুসলমান নাই, শুধুমাত্র যারা মরে গেছে তারা ছাড়া। তারা আমাদের মসজিদগুলোকে তাদের জন্য হুমকি মনে করে। কেউ যদি নামাজ পড়ে, তাহলে তাকে বলে টেরোরিস্ট।”

যুক্তরাষ্ট্র সব মুসলিম দেশগুলোকে শরণার্থী শিবিরে পরিণত করতে চায় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। বলেন, ‘মজার বিষয় হচ্ছে যে, আমেরিকা নামক এই পরাশক্তি আমাদের ওপর হামলা শুরু করে এক মাস পরে এই যুদ্ধ থেকে পালানোর রাস্তা খুঁজতে শুরু করেছে।’

রাষ্ট্রদূত জলিল রহিমি জাহনাবাদি বলেন, ‘যুদ্ধ শুরুর আগে আমরা প্রতিবেশী সব দেশগুলোকে অনুরোধ করেছিলাম যে আপনারা এই শয়তানি শক্তিকে প্রশ্রয় দেবেন না, আশ্রয় দেবেন না। কিন্তু দুঃখজনক বিষয় হচ্ছে, আমরা যখন দেখতে পাই, প্রতিবেশী আরব দেশগুলোর ঘাঁটি থেকে বিমান উঠছে, ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করছে এবং সেই বিমানের বোমা ও ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে আমাদের দেশের নারী-শিশু, নিরীহ মানুষ নিহত হচ্ছে— এগুলো নির্লিপ্তভাবে এরিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়।’

যুক্তরাষ্ট্রের প্রাথমিক উদ্দেশ্য ‘ব্যর্থ’ হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন রাষ্ট্রদূত। তিনি আরও বলেন, ‘যেসব আরব দেশ যুক্তরাষ্ট্রকে সামরিক ঘাঁটির অনুমতি দিয়েছে বা ইসরায়েলের সাথে সম্পর্ক করেছে, এই দিনের জন্য তাদের চিন্তা করা উচিত ছিল।’

Ad
Ad
ad
ad
ad

খবরাখবর থেকে আরও পড়ুন

ফৌজদারি অপরাধ তদন্তের ক্ষমতা দিয়ে এপিবিএন বিল পাস সংসদে

‘আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নস অর্ডিন্যান্স’ রহিত করে নতুন আইন প্রণয়নের লক্ষ্যে বিলটি উত্থাপন করা হয়। এই বিলের মাধ্যমে এপিবিএনকে প্রথমবারের মতো ফৌজদারি অপরাধ তদন্তের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।

১০ ঘণ্টা আগে

সংসদে প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাস— গ্যাস-বিদ্যুতের সংকট কেটে যাবে

সংকট উত্তরণে সৌরবিদ্যুতের ওপর গুরুত্ব আরোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এতদিন আমরা আমদানিনির্ভর উৎস থেকে উৎপাদিত বিদ্যুতের গ্রাহক ছিলাম। বর্তমান সরকার সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের যে পরিকল্পনা গ্রহণ করতে যাচ্ছে, তা সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করতে পারলে আমরা কেবল গ্রাহক থাকব না, বরং সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদক হব।’

১১ ঘণ্টা আগে

আত্মপ্রকাশ করল জুলাই জার্নালিস্ট ইউনিটি

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে জেজেইউ আহ্বায়ক সাইফুর সাগর বলেন, অভ্যুত্থানের আড়াই বছরেও এমন সংগঠন হয়নি। এখন কেন হয়েছে? হয়েছে সময়ের প্রয়োজনে। জুলাইপন্থি সব সাংবাদিকের জন্য এটি উন্মুক্ত। গণমাধ্যমকে সঠিক পথে রাখতে জুলাইয়ের সাংবাদিকরা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে যাবে।

১১ ঘণ্টা আগে

আ.লীগ নেতারা স্থানীয় সরকার নির্বাচন করলে কী করবে বিএনপি— জানালেন প্রতিমন্ত্রী

আওয়ামী লীগ নেতারা স্থানীয় নির্বাচনে এলে বিএনপির অবস্থান কী হবে— সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম বলেন, এখানে তো আওয়ামী লীগ হিসেবে নির্বাচন করছে না। দলীয়ভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগই নেই।

১২ ঘণ্টা আগে
Advertisement