বিজ্ঞান

দিগন্তে কি আকাশ-মাটি মিশে যায়?

ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম
আপডেট : ১৫ এপ্রিল ২০২৫, ০০: ১০

খোলা প্রান্তরে দাঁড়িয়ে চারপাশে তাকালেই আমাদের চোখে পড়ে এক আশ্চর্য দৃশ্য। দূরে-বহুদূরে, আকাশ আর মাটি যেন এক বিন্দুতে এসে মিশে গেছে। প্রশ্ন জাগে—আসলেই কি আকাশ আর মাটি এক হয়ে যায়?

বাস্তবে এমন কিছু ঘটে না। এটা পুরোপুরি একটি দৃষ্টিভ্রম। আপনি যদি সেই মিশে যাওয়ার জায়গার দিকে হাঁটতে থাকেন, দেখবেন দিগন্তও আপনার পা ফেলে ফেলে এগিয়ে চলেছে। আপনি যত এগোবেন, দিগন্ত তত সরে যাবে। শেষমেশ, যখন আপনি পৌঁছে যাবেন সেই জায়গাটিতে, যেখান থেকে মনে হচ্ছিল আকাশ ও মাটি মিশে গেছে—দেখবেন, কিছুই মেশেনি। সেই জায়গাটা আর পাঁচটা জায়গার মতোই স্বাভাবিক।

আবার পেছনে তাকালেই মনে হবে, যেখান থেকে আপনি এসেছেন, সেখানেই যেন আকাশ আর মাটি মিলেমিশে এক হয়ে গেছে।

এই বিভ্রম কেন হয়?

এর পেছনে আছে বিজ্ঞানের ব্যাখ্যা।

আমাদের চোখ যে দূরত্ব পর্যন্ত দেখতে পারে, তাকে বলে দৃষ্টিসীমা। মহাশূন্যে, অর্থাৎ ওপরে তাকালে, চোখ অনেক দূর পর্যন্ত দেখতে পারে—তাই আমরা দূর-দূরান্তের নক্ষত্রও দেখতে পাই। কিন্তু ভূপৃষ্ঠে, অর্থাৎ মাটিতে দাঁড়িয়ে, আমাদের দৃষ্টিসীমা সীমিত হয়ে যায়। কারণ, পৃথিবী সমতল নয়, এটি গোলাকার।

গোলাকার হওয়ার ফলে একটা নির্দিষ্ট দূরত্বের বাইরে মাটির পৃষ্ঠ চোখের আড়ালে চলে যায়। সেই সীমান্তকে বলে হরাইজন, বাংলায় যাকে আমরা বলি দিগন্ত। এই দিগন্তেই মনে হয় আকাশ আর মাটি মিশে গেছে।

আসলে আকাশ আর মাটির মাঝখানে কোনো স্পষ্ট রেখা নেই। দুইয়ের রংও অনেক সময় কাছাকাছি হয়, বিশেষ করে যখন সূর্য ওঠে বা ডোবে। তখন সূর্যের আলো একভাবে প্রতিফলিত ও প্রতিসরিত হয়, যার ফলে আলো আমাদের চোখে বিভ্রম তৈরি করে।

বিশাল নদী বা সমুদ্রের পাশে দাঁড়িয়ে দেখলে দেখা যায়, পানির ওপর আকাশের প্রতিবিম্ব পড়ে। তাতে মনে হয়—আকাশ আর পানি যেন এক হয়ে গেছে। একইভাবে, ধুলোময় বাতাস বা কুয়াশায় আচ্ছন্ন পরিবেশেও আকাশ ও মাটির রং একরকম হয়ে যায়।

বিজ্ঞান কী বলে?

সূর্যের আলো যখন বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে, তখন তা বিভিন্ন কোণে প্রতিফলিত (reflection) ও প্রতিসরিত (refraction) হয়। এই আলো আমাদের চোখে এমনভাবে পৌঁছায় যে মনে হয়, আকাশ ও মাটি বা পানি একসঙ্গে মিশে গেছে।

এটা নিছক একটা দৃষ্টিভ্রম। আমরা যা দেখি, সব সময় তা বাস্তব নয়। চোখের সীমাবদ্ধতা, পৃথিবীর গঠন আর আলো-ছায়ার খেলা মিলেই এই ভ্রমের জন্ম দেয়।

সূত্র: হাউ ইট ওয়ার্কস

ad
ad

খবরাখবর থেকে আরও পড়ুন

রাষ্ট্রপতি পদে মির্জা ফখরুলই সবচেয়ে উপযুক্ত: আসিফ নজরুল

পরবর্তী রাষ্ট্রপতি কে হচ্ছেন-এ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা চলছে। এর মধ্যেই সাবেক উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল ফেসবুকে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে রাষ্ট্রপতি পদে যোগ্য প্রার্থী হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

৪ ঘণ্টা আগে

স্পিকারের আসনে কায়সার কামাল

সাংবিধানিক নিয়ম অনুযায়ী তিনি পদত্যাগ করায় ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। একই সঙ্গে স্পিকারের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

৪ ঘণ্টা আগে

যে জটিল রোগে অচেতন হয়ে যান বিদায়ী রাষ্ট্রপতি

পদত্যাগপত্রে বেশ কয়েকটি শারীরিক জটিলতায় আক্রান্ত বলে উল্লেখ করেছেন মো. সাহাবুদ্দিন। বলেছেন, তিনি ‘অটোনমিক নিউরোপ্যাথি’ নামে একটি রোগে আক্রান্ত বলে সম্প্রতি ধরা পড়েছে, যার কারণে তিনি কখনো কখনো অচেতন হয়ে পড়েন।

৫ ঘণ্টা আগে

পদত্যাগপত্রে যা লিখেছেন রাষ্ট্রপতি

শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকেলে জাতীয় সংসদ সচিবালয়ে স্পিকারের কার্যালয়ে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন রাষ্ট্রপতির একান্ত সচিব। এ অবস্থায় জরুরি সংবাদ সম্মেলন আহ্বান করেছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

৬ ঘণ্টা আগে