শেখ হাসিনার প্লট বরাদ্দে দুর্নীতির রায়ে সাত নির্দেশনা

প্রতিবেদক, রাজনীতি ডটকম

‎রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) এবং গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা ধারাবাহিকভাবে অনিয়মে জড়িত। দুটি প্রতিষ্ঠানই আইন ও বিধি লঙ্ঘন করে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের স্বার্থে বরাদ্দ প্রদান করেছে, যা সংবিধান ও রাষ্ট্রীয় নীতিমালাকে অবমাননা করে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্লট দুর্নীতির মামলার রায়ের পর্যবেক্ষণে এসব কথা উল্লেখ করেছেন আদালত।

‎‎বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) ঢাকার পঞ্চম বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন সরকারি আবাসন ও জমি বরাদ্দে অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতা ও দীর্ঘদিনের ধারাবাহিক দুর্নীতি রোধে রাজউক এবং গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়কে বিশেষ সিদ্ধান্ত ও নির্দেশনা দিয়েছেন।

নির্দেশনায় বলা হয় , রাজউক দীর্ঘদিন ধরে ইচ্ছাকৃতভাবে সরকারি জমি বরাদ্দের আইনি প্রক্রিয়া উপেক্ষা করেছে। চেয়ারম্যানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বাধ্যতামূলক নিয়ম না মেনে বিশেষ সুবিধাপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের আবেদনের অনুমোদন দিয়েছেন। বরাদ্দ প্রক্রিয়ায় প্রধানমন্ত্রী ও তার পরিবারের সদস্য, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী, মন্ত্রী-এমপি, ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মী, আমলা এবং প্রভাবশালী ব্যক্তিরাই বরাবর সুবিধা পেয়েছেন। বহুক্ষেত্রে নথিপত্র যাচাই না করে বা প্রয়োজনীয় যোগ্যতা যাচাই ছাড়াই বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যা ক্ষমতার অপব্যবহার এবং সাংবিধানিক দায়িত্বের লঙ্ঘন। তাই-

‎‎১। অনিয়মে জড়িত কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের দায়িত্ব থেকে অবিলম্বে অপসারণ করতে হবে এবং তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও ফৌজদারি মামলা করতে হবে।

‎‎২। ওই সময়ে দেওয়া সব বরাদ্দের ওপর স্বাধীন বিশেষজ্ঞদের নিয়ে ফরেনসিক অডিট করতে হবে।

‎‎৩। বরাদ্দের জন্য ডিজিটাল লটারি চালু করতে হবে। লাইভ সম্প্রচার, অডিট ট্রেইল ও এনক্রিপ্টেড সিস্টেম বাধ্যতামূলক করতে হবে।

‎‎৪। বেআইনি বরাদ্দ অনুমোদন করা কর্মকর্তারা যৌথভাবে দায়ী হবেন এবং চাকরি থেকে বরখাস্তসহ তাদের ফৌজদারি মামলার মুখোমুখি করতে হবে।

‎৫। দুর্নীতি প্রকাশকারী হুইসেল-ব্লোয়ারদের আইনি সুরক্ষা ও পুরস্কার দিতে হবে।

‎৬। গৃহহীন, নিম্ন আয়ের শ্রমিক ও অনিরাপদ পরিবেশে বসবাসকারী পরিবারকে অগ্রাধিকার দিয়ে পয়েন্ট-ভিত্তিক যোগ্যতা ব্যবস্থা চালু করতে হবে।

‎৭। একক মা (সিঙ্গেল মাদার), প্রতিবন্ধী , নিম্ন আয়ের পরিবার ও সরকারি চাকরি শেষে আবাসনহীনদের জন্য নির্দিষ্ট অংশ বরাদ্দ রাখতে হবে।

‎‎গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সম্পর্কে পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে-‎

‎মন্ত্রণালয়টি রাজউককে সঠিকভাবে তদারকি করতে ব্যর্থ হয়েছে। তাদের তদারকি ছিল নামমাত্র। বরং মন্ত্রণালয় নিজে “বিশেষ শ্রেণি” বরাদ্দ প্রক্রিয়ায় বেআইনি প্রভাব খাটিয়েছে। এতে নিয়ম ভঙ্গের পরিবেশ আরও দীর্ঘস্থায়ী হয়েছে। তাই-

‎ক) সরকারের বিশেষ সুপারিশ নীতিমালা বাতিল করতে হবে।

‎খ) বিশেষ শ্রেণির বরাদ্দ সংক্রান্ত কোন সুপারিশ চলমান থাকলে তা বাতিল এবং নতুন করে এই শ্রেণিতে কোন বরাদ্দ দেওয়া যাবে না।

‎গ) মন্ত্রণালয়কে রাজউকের ওপর পূর্ণাঙ্গ নিয়ন্ত্রণ ও তদারকি পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে হবে।

‎ঘ) স্বাধীন নজরদারি ইউনিট গঠন করতে হবে।

‎ঙ) অনিয়মে জড়িত মন্ত্রণালয়সহ রাজউকের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও ফৌজদারি ব্যবস্থা নিতে হবে।

‎চ) জাতীয় সম্পত্তি ডাটাবেস, ভূমি রেকর্ড, সিটি করপোরেশন হোল্ডিং, সাব-রেজিস্ট্রি ও টিআইএন নম্বরের সঙ্গে রাজউকের ডিজিটাল সংযোগ বাধ্যতামূলক করতে হবে।

‎ছ) আবেদনকারীর তালিকা, যোগ্যতার ভিত্তি, প্লট নম্বর ও সুবিধাভোগীর তথ্য অনলাইনে প্রকাশ করতে হবে।

‎জ) ডিজিটাল লটারি, পয়েন্ট-ভিত্তিক স্কোরিং ও কর্মকর্তাদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে কাঠামোগত সংস্কার বাধ্যতামূলক করতে হবে।

‎ঝ) দুর্নীতি উন্মোচনকারী কর্মীদের জন্য আইনি সুরক্ষা ও পুরস্কার নিশ্চিত করতে হবে।

‎‎বরাদ্দ পুনর্মূল্যায়ন ও পুনর্বিতরণ

‎‎আদালতের দেওয়া রায়ে অতীতের সব বরাদ্দ পর্যালোচনা করে বেআইনি বা একাধিক প্লট ভোগকারীদের শনাক্ত করার কথা বলা হয়েছে। এছাড়া পুনরুদ্ধার হওয়া সব প্লট শুধু ভূমিহীন নাগরিক ও যোগ্য আবেদনকারীদের পুনরায় বরাদ্দ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ad
ad

খবরাখবর থেকে আরও পড়ুন

ইউনিভার্সেল মেডিকেলে কিডনি ও বোন ম্যারো প্রতিস্থাপনবিষয়ক বৈজ্ঞানিক সেমিনার

রাজধানীর ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও ভারতের ম্যাক্স হেলথকেয়ারের যৌথ উদ্যোগে কিডনি প্রতিস্থাপন, বোন ম্যারো ট্রান্সপ্লান্টেশন এবং জটিল রক্তরোগের আধুনিক চিকিৎসা নিয়ে একটি বৈজ্ঞানিক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।

৫ ঘণ্টা আগে

আমাকে ফাঁসি দিয়ে দেন— হাজতখানায় নেওয়ার সময় লতিফ সিদ্দিকী

এরপর পুলিশ সদস্যরা তার কাছ থেকে মাইক্রোফোন সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে ট্রাইব্যুনালের এজলাসে তাদের সঙ্গে লতিফ সিদ্দিকীর উচ্চবাচ্য হয়। পরে ট্রাইব্যুনাল-২-এর কাঠগড়া থেকে তাকে হাজতখানায় নেওয়ার সময় এক সাংবাদিক জানতে চান, ট্রাইব্যুনালে তিনি কী বলতে চাচ্ছিলেন। জবাবে লতিফ সিদ্দিকী বলেন, ‘বলতে চাচ্ছিলাম যে আমা

৬ ঘণ্টা আগে

গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশে সুস্পষ্ট আইন বা নীতিমালা চান শিল্পখাতের প্রতিনিধিরা

টুথপেস্ট বা অন্যান্য পণ্যে মাইক্রোপ্লাস্টিক কিংবা ক্ষতিকর উপাদানের উপস্থিতি নিয়ে কোনো বেসরকারি সংস্থা গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থাকে অবহিত করা এবং বিষয়টি যাচাইয়ের সুযোগ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিরা। একই সঙ্গে এ ধরনের গবেষণা

৬ ঘণ্টা আগে

আরও ২৩ বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠাল যুক্তরাষ্ট্র

ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের তথ্য অনুযায়ী, ফেরত আসা ২৩ জনের মধ্যে ১৩ জন নোয়াখালীর বাসিন্দা। এ ছাড়া সিলেটের তিনজন এবং কক্সবাজার, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, মুন্সীগঞ্জ, কুমিল্লা, লক্ষ্মীপুর, ঢাকা ও অন্যান্য জেলার বাসিন্দারাও রয়েছেন।

৭ ঘণ্টা আগে