
প্রতিবেদক, রাজনীতি ডটকম

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষ্যে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে পূর্বানুমোদিত সাংস্কৃতিক সমাবেশের অনুমতি বাতিল করায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সমালোচনা করেছে বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী। সংগঠনটির অভিযোগ, এক মাস আগে বৈধভাবে অনুমোদন পাওয়ার পরও কোনো গ্রহণযোগ্য কারণ ছাড়াই তাদের বরাদ্দ বাতিল করে একই ভেন্যু গণসংহতি আন্দোলনকে দেওয়া হয়েছে, যা ‘অন্যায্য, অযৌক্তিক ও বৈষম্যমূলক’।
উদীচী এই পরিস্থিতিতে ‘প্রতিবাদস্বরূপ’ ৩১ জুলাইয়ের পূর্বঘোষিত সাংস্কৃতিক সমাবেশ স্থগিত করতে বাধ্য হচ্ছে বলে জানিয়েছে। সংগঠনটি বলেছে, আগামী ৫ আগস্ট বিকেল ৫টায় উদীচী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বার্ষিকী পালন করা হবে।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) এক যৌথ বিবৃতিতে উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হাবিবুল আলম ও সাধারণ সম্পাদক জামসেদ আনোয়ার তপন পূর্বানুমোদিত সাংস্কৃতিক সমাবেশের অনুমতি বাতিলে প্রতিবাদ জানান। একই সঙ্গে তারা পুরো ঘটনার পটভূমি তুলে ধরেন।
বিবৃতিতে বলা হয়, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষ্যে আগামী ৩১ জুলাই কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার ব্যবহারের অনুমতি চেয়ে গত ২২ জুন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের কাছে আবেদন করে উদীচী। পরদিন ২৩ জুন প্রক্টর অফিস থেকে তাদের জানানো হয়, আবেদন অনুমোদন করা হয়েছে। পরে প্রায় এক মাস পর, ২৩ জুলাই সংগঠনটি আনুষ্ঠানিক অনুমতিপত্র সংগ্রহ করে। ওই সময় পর্যন্ত একই তারিখে অন্য কোনো সংগঠনের আবেদন বা অনুমোদনের বিষয়ে তাদের কিছুই জানানো হয়নি।
উদীচীর নেতারা বলেন, যারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অফিস থেকে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার, স্বোপার্জিত স্বাধীনতা চত্বর বা ক্যাম্পাসের অন্য কোনো ভেন্যু ব্যবহারের অনুমতি নেওয়ার অভিজ্ঞতা রাখেন, তারা জানেন— বুকিং তালিকা যাচাই না করে প্রক্টর অফিস কখনোই কোনো ভেন্যু বরাদ্দ দেয় না। সাধারণত এক বা দুই দিন সময় নিয়ে আবেদন যাচাই-বাছাই শেষে সংশ্লিষ্ট ভেন্যু খালি থাকলেই অনুমোদন দেওয়া হয়। ফলে অনুমোদন প্রক্রিয়ায় প্রক্টর অফিসের কথিত ‘ভুল’-এর যে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে, তা যেমন যুক্তিগতভাবে দুর্বল, তেমনি নিজেদের দায় এড়িয়ে যাওয়ার প্রচেষ্টাও বটে।
বিবৃতিতে বলা হয়, উদীচীকে দেওয়া অনুমতি বাতিল করে গণসংহতি আন্দোলনকে একই ভেন্যুর অনুমতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত অন্যায্য ও অযৌক্তিক। গণসংহতি আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে উদীচী জানায়, গণতান্ত্রিক সংগ্রামে মত ও পথের কিছু পার্থক্য থাকলেও প্রায় অভিন্ন রাজনৈতিক লক্ষ্য নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে গণসংহতি আন্দোলনসহ অনেক সংগঠনকে তারা সহযোদ্ধা হিসেবেই বিবেচনা করেছে। কিন্তু সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ, গণসংহতির বিবৃতি এবং পুরো ঘটনায় তাদের সহানুভূতিহীন অবস্থান উদীচীকে হতাশ করেছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, গণসংহতি আন্দোলন জানিয়েছে তারা ৩ জুলাই ৩১ জুলাইয়ের কর্মসূচির সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। কিন্তু তারা কবে আনুষ্ঠানিকভাবে ভেন্যুর জন্য আবেদন করেছে, সে বিষয়ে কোনো তথ্য দেয়নি। উদীচীর ধারণা, আনুষ্ঠানিক অনুমোদন পাওয়ার আগেই তারা কর্মসূচির প্রচার শুরু করেছিল। অন্যথায় ৩ জুলাই কিংবা তার পরপরই প্রক্টর অফিসে যোগাযোগ করলে সহজেই জানতে পারত যে ওই তারিখে শহিদ মিনার ইতোমধ্যেই উদীচীর নামে বরাদ্দ রয়েছে।
উদীচীর ভাষ্য, ‘যদি সে সময় গণসংহতি আন্দোলন তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করত, তাহলে পরিস্থিতি বিবেচনায় পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে কর্মসূচির স্থান বা সময় পুনর্বিবেচনা করা সম্ভব ছিল। সেই রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক উদারতা উদীচীর রয়েছে।’
বিবৃতিতে বলা হয়, তবে বাস্তবে গণসংহতির পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হয় ২৮ জুলাই বিকেল ৩টার দিকে। আর সেদিনই সন্ধ্যা ৭টার দিকে প্রক্টর অফিস হঠাৎ করে ৩১ জুলাইয়ের জন্য উদীচীর বরাদ্দ বাতিলের নোটিশ জারি করে। এ নিয়ে প্রশ্ন তুলে উদীচী জানতে চেয়েছে, ‘হঠাৎ কেন এই সিদ্ধান্ত?’
উদীচীর নেতারা বলেন, প্রক্টর অফিসের নোটিশে বলা হয়েছিল, ‘অনিবার্য কারণে’ ভেন্যুর বরাদ্দ বাতিল করা হয়েছে এবং ‘খালি থাকা সাপেক্ষে’ উদীচীকে ক্যাম্পাসের অন্য কোনো স্থানে কর্মসূচি আয়োজনের অনুমতি দেওয়া যেতে পারে। এ নিয়ে তারা প্রশ্ন তোলেন, “‘খালি থাকা সাপেক্ষে ক্যাম্পাসের অন্য কোন স্থানে কর্মসূচি আয়োজনের অনুমতি দেয়া যেতে পারে’— এই নীতিটি কি শুধু উদীচীর ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য? গণসংহতি যখন একই ভেন্যুর জন্য আবেদন করল, তখন কি প্রক্টর অফিস দেখেনি যে সেটি এক মাস আগেই অন্য একটি সংগঠনের জন্য বরাদ্দ হয়ে গেছে?”
তাদের মতে, এক মাস আগে বৈধভাবে অনুমোদন পাওয়া একটি সংগঠনের বরাদ্দ বাতিল করে কয়েক দিন আগে আবেদনকারী আরেকটি সংগঠনকে একই ভেন্যু বরাদ্দ দেওয়ার ঘটনায় ক্ষমতার প্রভাব কাজ করেছে কি না, সেই প্রশ্নও উঠছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, প্রক্টর অফিসের প্রশাসনিক ক্ষমতা থাকলেও কোনো কারণ দর্শানো ছাড়াই এ ধরনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ ন্যায্য হয়নি। ‘যদি ‘অনিবার্য কারণ’-এর জন্য উদীচীর কর্মসূচি বাতিল করা হয়ে থাকে, তবে সেই একই ভেন্যুতে কীভাবে গণসংহতি আন্দোলনকে অনুমতি দেওয়া হলো? যদি ভেন্যুটি প্রশাসনিক বা সরকারি প্রয়োজনে ব্যবহৃত হতো, কিংবা খালি রাখা হতো, তবে ‘অনিবার্য কারণ’-এর যুক্তি অন্তত কিছুটা গ্রহণযোগ্য হতে পারত। কিন্তু বাতিল হওয়া সেই একই স্থানে অন্য একটি সংগঠনের কর্মসূচির অনুমোদন পাওয়া প্রমাণ করে যে ‘অনিবার্য কারণ’-এর আড়ালে ক্ষমতার প্রভাবই কার্যকর হয়েছে।”
বিবৃতিতে উদীচীর নেতারা বলেন, ক্ষমতার এ ধরনের চর্চা শুধু প্রশাসনিক অন্যায়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না; এটি সহযোদ্ধা, মিত্র ও সমমুখী সংগ্রামের শক্তিগুলোর প্রতিও ন্যূনতম সহমর্মিতা ও দায়বোধকে অস্বীকার করে। অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে আমরা গণসংহতি আন্দোলনের আচরণে সেই বাস্তবতাই প্রত্যক্ষ করলাম।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বুধবার সারাদিন চেষ্টা করেও তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের সঙ্গে দেখা করতে পারেননি। পরে সহকারী প্রক্টরের সঙ্গে আলোচনায় জানা যায়, উদীচীকে অনুমতি দেওয়ার পর বুকিং তালিকা পুনরায় যাচাই না করেই ভুলবশত গণসংহতিকেও একই ভেন্যুর অনুমতি দেওয়া হয়েছিল।
উদীচীর মতে, এটি নিঃসন্দেহে একটি অপ্রত্যাশিত ও গুরুতর প্রশাসনিক ভুল। তবে ভুল ধরা পড়ার পর ন্যায্য সিদ্ধান্ত হওয়া উচিত ছিল— যে সংগঠন আগে বৈধভাবে অনুমতি পেয়েছে, তাদের অনুমোদন বহাল রাখা। পরিবর্তে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর উদীচীর অনুমোদনই বাতিল করেছেন। ফলে এই সিদ্ধান্তের পেছনে প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা উপেক্ষা করা হয়েছে এবং ক্ষমতার প্রভাবই অধিক কার্যকর ছিল বলে মনে করার যথেষ্ট কারণ রয়েছে।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এ সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে উদীচী বলেছে, ভেন্যু বরাদ্দের ক্ষেত্রে অন্যায্যভাবে ক্ষমতার বলয়ের যে প্রভাব বিস্তারের চর্চা শুরু হয়েছে, তাতে ভবিষ্যতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষে নিরপেক্ষতা বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, জুলাই মাস সেইসব শহিদের আত্মত্যাগের স্মারক, যারা বৈষম্যহীন সমাজ ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার স্বপ্নে জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। সেই মাসেই এমন একটি বৈষম্যমূলক সিদ্ধান্ত তাদের আত্মত্যাগের চেতনাকেই অবমাননা করে। এ পরিস্থিতিতে প্রতিবাদ হিসেবে ৩১ জুলাইয়ের পূর্বঘোষিত সাংস্কৃতিক সমাবেশ স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছে উদীচী।
উদীচী জানিয়েছে, আগামী ৫ আগস্ট বিকেল ৫টায় উদীচী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বার্ষিকী পালন করা হবে। এ আয়োজনে সব শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষ, সংস্কৃতিকর্মী ও গণতান্ত্রিক শক্তিকে সংহতি জানিয়ে অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষ্যে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে পূর্বানুমোদিত সাংস্কৃতিক সমাবেশের অনুমতি বাতিল করায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সমালোচনা করেছে বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী। সংগঠনটির অভিযোগ, এক মাস আগে বৈধভাবে অনুমোদন পাওয়ার পরও কোনো গ্রহণযোগ্য কারণ ছাড়াই তাদের বরাদ্দ বাতিল করে একই ভেন্যু গণসংহতি আন্দোলনকে দেওয়া হয়েছে, যা ‘অন্যায্য, অযৌক্তিক ও বৈষম্যমূলক’।
উদীচী এই পরিস্থিতিতে ‘প্রতিবাদস্বরূপ’ ৩১ জুলাইয়ের পূর্বঘোষিত সাংস্কৃতিক সমাবেশ স্থগিত করতে বাধ্য হচ্ছে বলে জানিয়েছে। সংগঠনটি বলেছে, আগামী ৫ আগস্ট বিকেল ৫টায় উদীচী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বার্ষিকী পালন করা হবে।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) এক যৌথ বিবৃতিতে উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হাবিবুল আলম ও সাধারণ সম্পাদক জামসেদ আনোয়ার তপন পূর্বানুমোদিত সাংস্কৃতিক সমাবেশের অনুমতি বাতিলে প্রতিবাদ জানান। একই সঙ্গে তারা পুরো ঘটনার পটভূমি তুলে ধরেন।
বিবৃতিতে বলা হয়, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষ্যে আগামী ৩১ জুলাই কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার ব্যবহারের অনুমতি চেয়ে গত ২২ জুন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের কাছে আবেদন করে উদীচী। পরদিন ২৩ জুন প্রক্টর অফিস থেকে তাদের জানানো হয়, আবেদন অনুমোদন করা হয়েছে। পরে প্রায় এক মাস পর, ২৩ জুলাই সংগঠনটি আনুষ্ঠানিক অনুমতিপত্র সংগ্রহ করে। ওই সময় পর্যন্ত একই তারিখে অন্য কোনো সংগঠনের আবেদন বা অনুমোদনের বিষয়ে তাদের কিছুই জানানো হয়নি।
উদীচীর নেতারা বলেন, যারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অফিস থেকে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার, স্বোপার্জিত স্বাধীনতা চত্বর বা ক্যাম্পাসের অন্য কোনো ভেন্যু ব্যবহারের অনুমতি নেওয়ার অভিজ্ঞতা রাখেন, তারা জানেন— বুকিং তালিকা যাচাই না করে প্রক্টর অফিস কখনোই কোনো ভেন্যু বরাদ্দ দেয় না। সাধারণত এক বা দুই দিন সময় নিয়ে আবেদন যাচাই-বাছাই শেষে সংশ্লিষ্ট ভেন্যু খালি থাকলেই অনুমোদন দেওয়া হয়। ফলে অনুমোদন প্রক্রিয়ায় প্রক্টর অফিসের কথিত ‘ভুল’-এর যে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে, তা যেমন যুক্তিগতভাবে দুর্বল, তেমনি নিজেদের দায় এড়িয়ে যাওয়ার প্রচেষ্টাও বটে।
বিবৃতিতে বলা হয়, উদীচীকে দেওয়া অনুমতি বাতিল করে গণসংহতি আন্দোলনকে একই ভেন্যুর অনুমতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত অন্যায্য ও অযৌক্তিক। গণসংহতি আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে উদীচী জানায়, গণতান্ত্রিক সংগ্রামে মত ও পথের কিছু পার্থক্য থাকলেও প্রায় অভিন্ন রাজনৈতিক লক্ষ্য নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে গণসংহতি আন্দোলনসহ অনেক সংগঠনকে তারা সহযোদ্ধা হিসেবেই বিবেচনা করেছে। কিন্তু সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ, গণসংহতির বিবৃতি এবং পুরো ঘটনায় তাদের সহানুভূতিহীন অবস্থান উদীচীকে হতাশ করেছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, গণসংহতি আন্দোলন জানিয়েছে তারা ৩ জুলাই ৩১ জুলাইয়ের কর্মসূচির সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। কিন্তু তারা কবে আনুষ্ঠানিকভাবে ভেন্যুর জন্য আবেদন করেছে, সে বিষয়ে কোনো তথ্য দেয়নি। উদীচীর ধারণা, আনুষ্ঠানিক অনুমোদন পাওয়ার আগেই তারা কর্মসূচির প্রচার শুরু করেছিল। অন্যথায় ৩ জুলাই কিংবা তার পরপরই প্রক্টর অফিসে যোগাযোগ করলে সহজেই জানতে পারত যে ওই তারিখে শহিদ মিনার ইতোমধ্যেই উদীচীর নামে বরাদ্দ রয়েছে।
উদীচীর ভাষ্য, ‘যদি সে সময় গণসংহতি আন্দোলন তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করত, তাহলে পরিস্থিতি বিবেচনায় পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে কর্মসূচির স্থান বা সময় পুনর্বিবেচনা করা সম্ভব ছিল। সেই রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক উদারতা উদীচীর রয়েছে।’
বিবৃতিতে বলা হয়, তবে বাস্তবে গণসংহতির পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হয় ২৮ জুলাই বিকেল ৩টার দিকে। আর সেদিনই সন্ধ্যা ৭টার দিকে প্রক্টর অফিস হঠাৎ করে ৩১ জুলাইয়ের জন্য উদীচীর বরাদ্দ বাতিলের নোটিশ জারি করে। এ নিয়ে প্রশ্ন তুলে উদীচী জানতে চেয়েছে, ‘হঠাৎ কেন এই সিদ্ধান্ত?’
উদীচীর নেতারা বলেন, প্রক্টর অফিসের নোটিশে বলা হয়েছিল, ‘অনিবার্য কারণে’ ভেন্যুর বরাদ্দ বাতিল করা হয়েছে এবং ‘খালি থাকা সাপেক্ষে’ উদীচীকে ক্যাম্পাসের অন্য কোনো স্থানে কর্মসূচি আয়োজনের অনুমতি দেওয়া যেতে পারে। এ নিয়ে তারা প্রশ্ন তোলেন, “‘খালি থাকা সাপেক্ষে ক্যাম্পাসের অন্য কোন স্থানে কর্মসূচি আয়োজনের অনুমতি দেয়া যেতে পারে’— এই নীতিটি কি শুধু উদীচীর ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য? গণসংহতি যখন একই ভেন্যুর জন্য আবেদন করল, তখন কি প্রক্টর অফিস দেখেনি যে সেটি এক মাস আগেই অন্য একটি সংগঠনের জন্য বরাদ্দ হয়ে গেছে?”
তাদের মতে, এক মাস আগে বৈধভাবে অনুমোদন পাওয়া একটি সংগঠনের বরাদ্দ বাতিল করে কয়েক দিন আগে আবেদনকারী আরেকটি সংগঠনকে একই ভেন্যু বরাদ্দ দেওয়ার ঘটনায় ক্ষমতার প্রভাব কাজ করেছে কি না, সেই প্রশ্নও উঠছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, প্রক্টর অফিসের প্রশাসনিক ক্ষমতা থাকলেও কোনো কারণ দর্শানো ছাড়াই এ ধরনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ ন্যায্য হয়নি। ‘যদি ‘অনিবার্য কারণ’-এর জন্য উদীচীর কর্মসূচি বাতিল করা হয়ে থাকে, তবে সেই একই ভেন্যুতে কীভাবে গণসংহতি আন্দোলনকে অনুমতি দেওয়া হলো? যদি ভেন্যুটি প্রশাসনিক বা সরকারি প্রয়োজনে ব্যবহৃত হতো, কিংবা খালি রাখা হতো, তবে ‘অনিবার্য কারণ’-এর যুক্তি অন্তত কিছুটা গ্রহণযোগ্য হতে পারত। কিন্তু বাতিল হওয়া সেই একই স্থানে অন্য একটি সংগঠনের কর্মসূচির অনুমোদন পাওয়া প্রমাণ করে যে ‘অনিবার্য কারণ’-এর আড়ালে ক্ষমতার প্রভাবই কার্যকর হয়েছে।”
বিবৃতিতে উদীচীর নেতারা বলেন, ক্ষমতার এ ধরনের চর্চা শুধু প্রশাসনিক অন্যায়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না; এটি সহযোদ্ধা, মিত্র ও সমমুখী সংগ্রামের শক্তিগুলোর প্রতিও ন্যূনতম সহমর্মিতা ও দায়বোধকে অস্বীকার করে। অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে আমরা গণসংহতি আন্দোলনের আচরণে সেই বাস্তবতাই প্রত্যক্ষ করলাম।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বুধবার সারাদিন চেষ্টা করেও তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের সঙ্গে দেখা করতে পারেননি। পরে সহকারী প্রক্টরের সঙ্গে আলোচনায় জানা যায়, উদীচীকে অনুমতি দেওয়ার পর বুকিং তালিকা পুনরায় যাচাই না করেই ভুলবশত গণসংহতিকেও একই ভেন্যুর অনুমতি দেওয়া হয়েছিল।
উদীচীর মতে, এটি নিঃসন্দেহে একটি অপ্রত্যাশিত ও গুরুতর প্রশাসনিক ভুল। তবে ভুল ধরা পড়ার পর ন্যায্য সিদ্ধান্ত হওয়া উচিত ছিল— যে সংগঠন আগে বৈধভাবে অনুমতি পেয়েছে, তাদের অনুমোদন বহাল রাখা। পরিবর্তে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর উদীচীর অনুমোদনই বাতিল করেছেন। ফলে এই সিদ্ধান্তের পেছনে প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা উপেক্ষা করা হয়েছে এবং ক্ষমতার প্রভাবই অধিক কার্যকর ছিল বলে মনে করার যথেষ্ট কারণ রয়েছে।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এ সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে উদীচী বলেছে, ভেন্যু বরাদ্দের ক্ষেত্রে অন্যায্যভাবে ক্ষমতার বলয়ের যে প্রভাব বিস্তারের চর্চা শুরু হয়েছে, তাতে ভবিষ্যতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষে নিরপেক্ষতা বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, জুলাই মাস সেইসব শহিদের আত্মত্যাগের স্মারক, যারা বৈষম্যহীন সমাজ ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার স্বপ্নে জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। সেই মাসেই এমন একটি বৈষম্যমূলক সিদ্ধান্ত তাদের আত্মত্যাগের চেতনাকেই অবমাননা করে। এ পরিস্থিতিতে প্রতিবাদ হিসেবে ৩১ জুলাইয়ের পূর্বঘোষিত সাংস্কৃতিক সমাবেশ স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছে উদীচী।
উদীচী জানিয়েছে, আগামী ৫ আগস্ট বিকেল ৫টায় উদীচী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বার্ষিকী পালন করা হবে। এ আয়োজনে সব শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষ, সংস্কৃতিকর্মী ও গণতান্ত্রিক শক্তিকে সংহতি জানিয়ে অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।

ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের তথ্য অনুযায়ী, ফেরত আসা ২৩ জনের মধ্যে ১৩ জন নোয়াখালীর বাসিন্দা। এ ছাড়া সিলেটের তিনজন এবং কক্সবাজার, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, মুন্সীগঞ্জ, কুমিল্লা, লক্ষ্মীপুর, ঢাকা ও অন্যান্য জেলার বাসিন্দারাও রয়েছেন।
২ ঘণ্টা আগে
হবিগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) গাড়িবহরে হামলা, ভাঙচুর ও নেতাকর্মীদের মারধরের ঘটনায় জেলা ছাত্রদলের সভাপতি শাহ রাজিব আহমেদকে প্রধান আসামি করে ১১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। মামলায় ১১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও ১০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
৬ ঘণ্টা আগে
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, রোহিঙ্গাদের দুটি সশস্ত্র সংগঠন আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি (আরসা) ও রোহিঙ্গা সলিডারিটি অর্গানাইজেশনের (আরএসও) মধ্যে চলমান অভ্যন্তরীণ বিরোধ ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়ে থাকতে পারে। তবে বিষয়টি তদন্তাধীন থাকায় ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো নিশ্চিত হও
৮ ঘণ্টা আগে
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সকালে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নিজ কার্যালয়ে প্রবেশের সময় প্রধানমন্ত্রী তাদের হাতে নিয়োগপত্র তুলে দেন। প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সচিব জুলফিকার হাসান শিপলু বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
৯ ঘণ্টা আগে