বিশেষ সাক্ষাৎকার /এমপিকে পদত্যাগ করতে বলা ইতিবাচক, দলে শুদ্ধি অভিযান অপরিহার্য: ইফতেখারুজ্জামান

মিরপুরের রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনায় সম্পৃক্ততার অভিযোগ ওঠায় বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়ার ঘটনাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বিকেলে রাজনীতি ডটকমকে দেওয়া বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, এ ঘটনাটি সরকারের জন্য শিক্ষা নেওয়ার বড় সুযোগ। এখান থেকে শিক্ষা নিয়ে বিএনপিকে দলীয়ভাবে আত্মশুদ্ধির পথে হাঁটতে হবে। নৈতিক আচরণবিধির দিকে এখন বিএনপিকে মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
এর আগে দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী রাজনীতি ডটকমকে জানান, এমপি মিষ্টিকে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গত বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে মিরপুর-১ নম্বরে অবস্থিত মিরপুরে মা ও শিশুস্বাস্থ্য কেন্দ্র রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনায় এমপি মিষ্টির সম্পৃক্ততার অভিযোগ ওঠে।
ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। এ ঘটনার জের ধরে গতকাল বুধবার তার নেতৃত্বাধীন ৫১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি বিলুপ্ত করে বিএনপি। এ দিন সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এ ঘটনায় স্থানীয় সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।
ড. ইফতেখারুজ্জামান রাজনীতি ডটকমকে বলেন, ‘সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের হস্তক্ষেপে সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যকে পদত্যাগের কথা বলা হয়েছে। খবর অনুযায়ী তিনি পদত্যাগপত্র জমা দিতে গিয়েছেন। আমি একে ইতিবাচক হিসেবে দেখি। তবে এটুকুই যথেষ্ট নয়। এখান থেকে আমরা কী শিক্ষা নিচ্ছি, প্রশ্নটা সেখানেই।’

রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্র ভাঙচুর ছাড়াও ক্ষমতাসীন বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্থানে হামলা, চাঁদাবাজির অভিযোগ ওঠে। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা হয়। বিরোধী দলগুলোও এ নিয়ে বক্তব্য-বিবৃতি দিয়ে যাচ্ছে।
গত ২৭ সেপ্টেম্বর টিআইবিও একটি বিবৃতি দিয়েছিল। ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘এ ঘটনাসহ দেশ জুড়ে দখলবাজি ও চাঁদাবাজির অভিযোগ নিয়ে টিআইবি যে বিবৃতি দিয়েছিল সেটি ছিল একটি প্রক্রিয়ার সূচনা মাত্র। এরপর বিষয়টি ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়েছে। নাগরিক সমাজের অনেকে প্রতিবাদ জানিয়েছে, উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ঘটনাটি ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়েছে এবং অভিযুক্তদের সংশ্লিষ্টতা অত্যন্ত স্পষ্ট ও সরাসরি।’
‘আমার ধারণা, সেই কারণে দল ও সরকারের শীর্ষ পর্যায় বিব্রত হয়েছে। আর সেই বিব্রতবোধ থেকেই (পদত্যাগ করতে বলার) এই সিদ্ধান্ত। এর ফলে রাজনৈতিকভাবে কী সুবিধা বা অসুবিধা হলো, সেটা ভিন্ন আলোচনা, তা অন্যভাবে আলোচিত হতেই পারে,’— বলেন ড. ইফতেখারুজ্জামান।
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক আরও বলেন, ‘বিব্রত হলে এ ধরনের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়, এটা স্বাভাবিক। কিন্তু আসল কথা হলো সঠিক শিক্ষা নেওয়া। দেশব্যাপী যেসব ঘটনা ঘটছে এবং সারা দেশে আলোচিত হচ্ছে, তার প্রায় প্রতিটিতেই সহিংসতা বা দখলবাজি, বিশেষ করে চাঁদাবাজির সঙ্গে ক্ষমতাসীন দলেরই সম্পৃক্ততা দেখা যাচ্ছে। তাই সরকারকে ভাবতে হবে, যেন আর এমন বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে না হয়। বিব্রতবোধকে প্রতিরোধ করতে হবে।’

এর জন্য সরকারের নিজের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন জরুরি বলে জানান ড. ইফতেখারুজ্জামান। তিনি বলেন, ‘সরকার তার নির্বাচনি ইশতেহার ও নেতৃত্বাধীন ফ্রন্ট অনুযায়ী রাষ্ট্র সংস্কারের মাধ্যমে গণকল্যাণমুখী রাষ্ট্র ও জবাবদিহিমূলক সরকারব্যবস্থা গড়তে চায়। কিন্তু যে সরকার রাষ্ট্র সংস্কার করবে, তারা নিজেদের সংস্কার না করলে বাস্তব সংস্কার হবে না। কারণ রাষ্ট্র পরিচালনায় মূল প্রতিরোধ আসছে রাজনৈতিক দলের ভেতর থেকেই।’
বিএনপির জন্য এখন সংস্কার ও আত্মশুদ্ধি অপরিহার্য মন্তব্য করে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, ‘আমরা মনে করি, এ ঘটনা থেকে সঠিক শিক্ষা নিয়ে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে রাজনৈতিক দলের জন্য অবিলম্বে নিজেদের সংস্কার, অর্থাৎ আত্মশুদ্ধিমূলক কার্যক্রম গ্রহণ করা অপরিহার্য। এই উদ্যোগ যেন শুধু এ ঘটনায় জড়িতদের ঘিরে সীমিত না থাকে। পুরো দলের সুশাসন, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও দুর্নীতিমুক্ত সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠার জন্য উপযুক্ত পদক্ষেপ নিতে হবে। তা না হলে সামনে এমন সময় আসবে, যখন চাইলেও আর নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে না।’
রাজনৈতিক দলের জন্য অবিলম্বে আত্মশুদ্ধিমূলক কার্যক্রম গ্রহণ করা অপরিহার্য। এ উদ্যোগ যেন শুধু এ ঘটনায় জড়িতদের ঘিরে সীমিত না থাকে। পুরো দলের সুশাসন, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও দুর্নীতিমুক্ত সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠার জন্য উপযুক্ত পদক্ষেপ নিতে হবে। তা না হলে সামনে এমন সময় আসবে, যখন চাইলেও আর নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে না।
তিনি আরও বলেন, ‘এ পর্যন্ত যা দেখা যাচ্ছে, তাতে আমার মনে হয় সরকার অন্তত আপাতদৃষ্টিতে উপলব্ধি করেছে যে এসব বিষয় আর গ্রহণযোগ্য নয়। তাই এক বা একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে সেগুলো বিচ্ছিন্ন।’
‘প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া হিসেবে এটা ঠিকই আছে। যাদের নাম আলোচনায় এসেছে, যারা সরাসরি জড়িত, তাদের অপসারণ করা হচ্ছে বা তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। কিন্তু এর ওপর ভিত্তি করে আরও কৌশলগতভাবে দলের ভেতরে শুদ্ধি অভিযান চালাতে হবে। দলের পক্ষ থেকে এমন বার্তা দিতে হবে যে এ ধরনের আচরণ দলের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। তা না হলে পদক্ষেপগুলো বিক্ষিপ্ত ও অ্যাডহক থাকবে, আর দুদিন পর সমস্যাটি আবার ফিরে আসবে।’
টিআইবিসহ বিভিন্ন মহল থেকে জনপ্রতিনিধির জন্য নৈতিক আচরণবিধি প্রণয়নের দাবি রয়েছে দীর্ঘদিন ধরেই। চলমান ঘটনাপ্রবাহের সঙ্গে সে প্রসঙ্গও সামনে নিয়ে এসেছেন ইফতেখারুজ্জামান।

তিনি বলেন, ‘সংসদ সদস্য ও সব স্তরের জনপ্রতিনিধির জন্য একটি নৈতিক আচরণবিধি প্রণয়ন দীর্ঘদিনের কাঙ্ক্ষিত বিষয়, যা আজও হয়নি। বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালে একবার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। পরে আওয়ামী লীগের সময়ও যৌথ কমিটির মাধ্যমে উদ্যোগের কথা প্রকাশ পেয়েছিল। কিন্তু তা বাস্তবে আলোর মুখ দেখেনি।’
‘আমরা মনে করি, পরিস্থিতি এখন এমন চূড়ান্ত পর্যায়ে এসেছে যে সংসদ সদস্য ও সব পর্যায়ের জনপ্রতিনিধির জন্য নৈতিক আচরণবিধি প্রণয়ন এবং তার কার্যকর প্রয়োগ হওয়া উচিত। এ কথা শুধু সরকারি দলের জন্য নয়, সব রাজনৈতিক দলের জন্য প্রযোজ্য। এ ক্ষেত্রে সবাই নেতিবাচক দৃষ্টান্তই স্থাপন করেছে।’
এ প্রসঙ্গে বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কৃত সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের ঘটনাটিকে নজির হিসেবে উল্লেখ করেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক।
তিনি বলেন, ‘গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রীর মৃত্যুর পর আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে করা মামলায় তিনি এখন আটক ও বিচারাধীন। এটি দখলবাজি-চাঁদাবাজির আওতায় পড়ে না, তবে দলবাজি তো আছেই। এর সঙ্গে ক্ষমতার অপব্যবহার ও চূড়ান্ত নৈতিক স্খলনের দৃষ্টান্তও রয়েছে। এ কারণেই একটি ব্যাপক, বহুমুখী ও শক্তিশালী নৈতিক আচরণবিধি প্রণয়ন অপরিহার্য।’
দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে নেতিবাচকতার প্রাদুর্ভাব নিয়ে ড. ইফতেখার বলেন, ‘আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে কোন দল ক্ষমতায়, কোন দল বিরোধী দলে, সেটা বিষয় নয়। রাজনৈতিক অবস্থানকেই ক্ষমতার অপব্যবহার, নৈতিক স্খলন, দলবাজি, দখলবাজি ও চাঁদাবাজির সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করা হয়। বিজয়ী বা ক্ষমতাবানরা সবকিছু পাবে, এই চর্চাই চলে আসছে। এ থেকে উত্তরণের জন্য সংসদীয় প্রক্রিয়ায় একটি শক্তিশালী ও সমন্বিত আইন করতে হবে, যার মূল উদ্দেশ্য হবে নৈতিক আচরণ নিশ্চিত করা।’

এমপি গাজী নজরুলের ঘটনায় দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন ইফতেখারুজ্জামান। তিনি বলেন, ‘জামায়াত তার (গাজী নজরুল) দলের সদস্যপদ বাতিল করেছে এবং সংসদ ও সম্ভবত নির্বাচন কমিশনকে তা জানিয়েছে। আমি এর আইনি ব্যাখ্যা সঠিক জানি না। কিন্তু আদর্শগতভাবে আমরা চাইতাম, তারা আরও এক ধাপ এগোক, শুধু দলের সদস্যপদ বাতিল না করে তার সংসদ সদস্যপদও শূন্য ঘোষণা করুক। তাহলে বিষয়টি যথাযথ হতো।’
এ ক্ষেত্রে দেশের বিদ্যমান আইনের সীমাবদ্ধতার কথাও তুলে ধরেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক। টিআইবির গত ২৭ সেপ্টেম্বরের বিবৃতিতেও এটি উল্লেখ করা হয়েছে।
ড. ইফতেখার বলেন, ‘বিদ্যমান আইনি কাঠামোয় নৈতিক স্খলনের কারণে কারও সংসদ সদস্যপদ বাতিল হয় না। দুই বছর বা তার বেশি সশ্রম কারাদণ্ড হলে সংসদ সদস্যপদ বাতিল হয়। এর আগে নির্বাচিত সংসদ সদস্য স্বেচ্ছায় পদত্যাগ না করলে কেউ তাকে পদত্যাগ করাতে পারে না। দুর্ভাগ্যজনক হলেও এটিই আমাদের আইনি সীমাবদ্ধতা। এর মাধ্যমে নৈতিকতার সীমারেখা নির্ধারণ করে দেওয়া আমি গ্রহণযোগ্য মনে করি না।’
দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর অবস্থানকে অনেকটা ‘সাপও মরবে, লাঠিও ভাঙবে না’ ধরনের বলে অভিহিত করেন ইফতেখারুজ্জামান। তিনি বলেন, ‘গাজী নজরুলের বিরুদ্ধে সেক্সটর্শনের মতো অভিযোগ এবং আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে দলটি প্রাতিষ্ঠানিকভাবে নিশ্চুপ। অথচ তিনি এখন সাবেক হলেও দলটির এমপি ছিলেন এবং এখনো সেই হিসেবে তার একটি পদ আছে।’
‘এ অবস্থায় জামায়াতের উচিত আরও স্পষ্টভাবে নিজেদের অবস্থান খোলসা করা। তারা তা করছে না। এতে মনে হচ্ছে, একদিকে রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা চলছে, অন্যদিকে নির্বাচনি এলাকার রাজনীতিকেও হাতের কাছে রাখতে চাওয়া হচ্ছে।’

রাজনীতি ডটকমের সঙ্গে আলাপচারিতায় ইউটিউবার ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনার প্রসঙ্গও তুলে ধরেন ড. ইফতেখার। তিনি বলেন, ‘সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে ভাঙচুর ও লুটপাটের পর তিনি প্রকাশ্যে সরকারি দলের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন। এ নিয়ে সরকারের সঙ্গে তার অবস্থান ক্রমে মুখোমুখি রূপ নিয়েছে। রাকিন আবসারের মতো আরও কয়েকজন কনটেন্ট ক্রিয়েটরও এতে যোগ দিয়েছেন। বিষয়টি শুধু ইনফ্লুয়েন্সারদের নয়। তবে তাদের ফলোয়ার আছে, ডিজিটাল পরিসরে জোরালো অবস্থান আছে, তাই এ ক্ষেত্রে আলোচনা আরও জোরালো হচ্ছে।’
‘প্রচলিত নাগরিক পরিসরে যে আলোচনা-সমালোচনা হয়, তার সঙ্গে এটি যুক্ত হয়ে সরকারের ওপর অতিরিক্ত চাপ ও চাহিদা তৈরি করছে। ফলে সরকার আরও জোরালো অবস্থান নিতে বাধ্য হচ্ছে। এটিকে অবশ্য আমি মুখোমুখি অবস্থান হিসেবে দেখি না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের বাড়তি সুবিধা বা লেভারেজ আছে, তারা সেটাই কাজে লাগাচ্ছেন। এতে সরকারের ওপর চাপ বাড়ছে, যা ইতিবাচক,’— বলেন ড. ইফতেখারুজ্জামান।
টিআইবির এই নির্বাহী পরিচালক এ প্রসঙ্গে আরও বলেন, ‘এটা কতদিন করা যাবে, আমরা জানি না। সাইবার স্পেস-সংক্রান্ত কিছু আইন হয়েছে, যেগুলো এ ধরনের মত প্রকাশের পথে বড় অন্তরায় হওয়ার ঝুঁকি তৈরি করেছে। তা সত্ত্বেও বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।’
‘ক্ষমতায় থাকা সরকারগুলোর আত্মপক্ষ সমর্থনের প্রবণতা থাকে। অনেক সময় বার্তার গুরুত্বের চেয়ে বার্তাদাতার ওপর আক্রমণ বেশি আসে। সেই প্রবণতা এখনো দেখা যাচ্ছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ফলাফলটাই দেখতে হবে। এখন পর্যন্ত ফল হলো— অন্তত এক বা একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। আমরা এখন চাইব, পদক্ষেপগুলো যেন আরও বৃহত্তর পরিসরে এবং আরও কৌশলগতভাবে নেওয়া হয়,’— বলেন ড. ইফতেখারুজ্জামান।























