জুলাই সনদ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে জাতির বৃহত্তর স্বার্থ রক্ষা করব

সাইফুল হক

আমরা প্রথমেই বলি, আমাদের অবস্থান একটি গঠনমূলক রেসপন্স। কারণ দীর্ঘদিনের আলোচনা ও পর্যালোচনার মধ্য দিয়ে যে জুলাই খসড়া তৈরি হয়েছিল, সেটি আজ একটি চূড়ান্ত পর্যায়ে উন্নীত হয়েছে।

স্বাভাবিকভাবেই কিছু প্রশ্নে আমাদের ভিন্নমত আছে, ভিন্ন চিন্তা আছে। কিছু প্রশ্নে আপত্তিও রয়েছে। কিন্তু আমরা একটি কেন্দ্রীয় বোঝাপড়া এবং রাজনৈতিক সমঝোতা তৈরি করার লক্ষ্যে অনেক প্রশ্নে ছাড় দিয়েছি। সেই জায়গা থেকে, বহু প্রশ্নে আমরা মতের ভিত্তিতে একমত হয়েছি।

আর কিছু প্রশ্নে ভিন্নমত থেকে গেছে, যেগুলো ‘নোট অব ডিসেন্ট’ আকারে নথিভুক্ত করা হয়েছে। তবু আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে অগ্রসর হয়েছি।

যেমন— উচ্চকক্ষ প্রতিষ্ঠার প্রশ্ন। ১০০ জন প্রতিনিধির একটি উচ্চকক্ষ হবে—এতে আমরা একমত হয়েছি। কিন্তু উচ্চকক্ষের নির্বাচনি পদ্ধতি বা সংসদ গঠনে সরাসরি নির্বাচন ইত্যাদি বিষয়ে এখনো আমরা একক সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারিনি।

এসব প্রশ্নে ভিন্নমত রয়েছে এবং তা ‘নোট অব ডিসেন্ট’ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। আমরা এটাও উপলব্ধি করেছি, এক যাত্রায় সব অর্জন সম্ভব নয়। কিছু বিষয়ে আপত্তি ও মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও আমরা ঐকমত্যে পৌঁছেছি যে যতদূর সম্ভব আলোচনা ও বোঝাপড়ার ভিত্তিতে এগিয়ে যাওয়া প্রয়োজন।

এই জায়গা থেকেই একটি আঞ্চলিক ঐকমত্যভিত্তিক অঙ্গীকারনামা প্রণয়ন করা হয়েছে। এটি নিছক একটি কাগজ নয় বরং একটি রাজনৈতিক অঙ্গীকার, একটি দায়িত্বশীল ঘোষণা।

আগামীকাল (শুক্রবার) বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সংসদীয় প্রতিনিধিরা আনুষ্ঠানিকভাবে এই অঙ্গীকারনামায় স্বাক্ষর করবেন। আমরা মনে করি, এই চুক্তি যথেষ্ট এবং এ থেকেই ভবিষ্যতের সম্ভাবনা তৈরি হবে।

গণভোটের যে বিষয়টি এসেছে, সেটিও এক ধরনের কম্প্রোমাইজ। আমরা এটা জনগণের প্রতি আমাদের প্রায় তিন সাড়ে তিন বছর আগের প্রতিশ্রুতির ধারাবাহিকতা হিসেবেই দেখছি, যা গঠিত হয়েছিল ৩১ দফার যুগপৎ আন্দোলনের ভিত্তিতে, যেখানে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি এবং বিএনপি ও গণতন্ত্র মঞ্চসহ অন্যান্য দল যুক্ত ছিল।

আমরা আগামীকাল সনদ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করব এবং জাতির বৃহত্তর স্বার্থে স্বাক্ষর করব।

বাংলাদেশে তো বটেই, পৃথিবীর ইতিহাসেও এতগুলো রাজনৈতিক দল একসঙ্গে বসে এভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে— এমন ঘটনা সত্যিই বিরল।

লেখক: সাধারণ সম্পাদক, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি

ad
ad

মতামত থেকে আরও পড়ুন

জাকাতের গুরুত্ব ও তাৎপর্য: প্রেক্ষিত বাংলাদেশ

দারিদ্র্য বিমোচনে জাকাত একটি কার্যকর হাতিয়ার হতে পারে— এটি শুধু একটি তাত্ত্বিক ধারণা নয়, বরং বাস্তবতার প্রমাণ রয়েছে। ইতিহাসে খলিফা হযরত উমর (রা.) এবং হযরত উমর ইবনে আবদুল আজিজ (রহ.)-এর শাসনামলে এমন সময় এসেছে, যখন জাকাত গ্রহণ করার মতো মানুষ খুঁজে পাওয়া যায়নি।

৬ দিন আগে

জাকাতের অর্থনীতি ও সামাজিক ন্যায়

ইসলাম মানুষের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে নৈতিকতার সঙ্গে যুক্ত করতে চায়। অর্থ উপার্জন বৈধ, সম্পদ অর্জনও বৈধ। কিন্তু সেই সম্পদের ভেতরে সমাজের দুর্বল মানুষের অধিকার আছে। এই বোধ তৈরি করাই জাকাত ব্যবস্থার প্রধান উদ্দেশ্য। ফলে জাকাত শুধু আধ্যাত্মিক দায়িত্ব নয়, এটি একটি সামাজিক দায়িত্বও।

৭ দিন আগে

প্রথম শ্রেণিতেই ভর্তি পরীক্ষা সমতার পরিপন্থি, নিম্নবিত্তদের জন্য চ্যালেঞ্জ

হুটহাট করে প্রথম শ্রেণিতেই শিক্ষার্থীদের জন্য ভর্তি পরীক্ষা চালুর বদলে অংশীজনদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি নীতি-কৌশল প্রণয়ন করা গেলে সেটিই বরং শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কারে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

৭ দিন আগে

ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে কোচিং ব্যবসা ফিরে আসবে

যেখানে শিক্ষকের নৈতিকতার এমন অবক্ষয় বিদ্যমান, সেখানে এই ভর্তি পরীক্ষা মূলত নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত মানুষের সুযোগ কেড়ে নেয়। কারণ একজন রিকশাচালক বা সামান্য কর্মচারীর মেধাবী সন্তান এই টাকার লড়াইয়ে টিকে থাকতে পারে না। এমনকি কারও কারও পক্ষে তো অনেক স্কুলে ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার জন্য আবেদনপত্র সংগ্রহের

৭ দিন আগে