আড়াই বছর পর মঞ্চে ফিরছে ম্যাড থেটারের ‘অ্যানা ফ্রাঙ্ক’
-5f6b50-480x270.webp)
ম্যাড থেটার প্রযোজিত ‘আনা ফ্রাঙ্ক’ নাটকের সবশেষ প্রদর্শনী হয়েছিল ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে, দিল্লিতে ভারতের ন্যাশনাল স্কুল অব ড্রামা (এনএসডি) আয়োজিত রঙ মহোৎসবে। আড়াই বছরেরও বেশি সময় পরে ফের মঞ্চে ফিরছে এই নাটক। ঢাকায় হবে একক অভিনয়নের এই নাটকের দুটি প্রদর্শনী।
ম্যাড থেটার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, আগামী শুক্রবার ও শনিবার (২৫ ও ২৬ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৭টা ১৫ মিনিটে বেইলি রোডের মহিলা সমিতি মিলনায়তনে রয়েছে ‘অ্যানা ফ্রাঙ্কে’র দুটি বিশেষ প্রদর্শনী। ২০২১ সালে প্রথম নাকটি মঞ্চায়িত হয়েছিল।
ম্যাড থেটার জানিয়েছে, ‘অ্যানা ফ্রাঙ্ক’ নাটকের একক চরিত্রের অভিনয় করেছেন আর্য মেঘদূত, যিনি মূলধারার বাংলানাট্যের সর্বকনিষ্ঠ একক নাটকের অভিনেত্রী। নাটকটির প্রথম মঞ্চায়নের সময় তিনি ছিলেন দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী। এরপর একে একে বাংলাদেশ ও ভারত মিলিয়ে এই নাটকের আটটি প্রদর্শনী করেন তিনি। এর মধ্যে ভারতের ডিব্রুগড় ও দিল্লি ছাড়াও গৌহাটিতে আন্তর্জাতিক নাট্য উৎসবে এর মঞ্চায়ন হয়েছে।
আর্য মেঘদূত অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে রসায়নশাস্ত্র নিয়ে পড়ার জন্য বৃত্তি নিয়ে ইংল্যান্ডে চলে যান ২০২৪ সালে। এরপরই ‘অ্যানা ফ্রাঙ্ক’ নাটকের মঞ্চায়ন স্থগিত হয়ে যায়। সম্প্রতি দ্বিতীয় বর্ষের চূড়ান্ত পরীক্ষা শেষে ছুটিতে দেশে এসেছেন তিনি। সেই ছুটির অবসরেই দুটি বিশেষ প্রদর্শনীতে অংশ নেবেন তিনি, দর্শকরাও প্রায় আড়াই বছর পরে নাটকটি দেখার সুযোগ পাবেন ঢাকার মঞ্চে।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ঐতিহাসিক চরিত্র অ্যানা ফ্রাঙ্ককে নিয়ে নির্মিত ম্যাড থেটারের এই প্রযোজনা। গল্পের সঙ্গেও জড়িয়ে রয়েছে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ইতিহাস। হিটলারের বাহিনী তখন হল্যান্ড (বর্তমানে নেদারল্যান্ডস) দখল করে নিয়েছে। ফ্রাঙ্ক পরিবার হিটলারের হাত থেকে বাঁচতে আত্মগোপন করে। ১৯৪২ সালের ৬ জুলাই তারা আশ্রয় নেয় সিক্রেট অ্যানেক্সে।
সেই ফ্রাঙ্ক পরিবারেরই ছোট মেয়ে অ্যানা ফ্রাঙ্ক। সিক্রেট অ্যানেক্সে ফ্রাঙ্ক পরিবারের সঙ্গে যোগ দেয় অ্যানা ফ্রাঙ্কের বাবার বন্ধুর পরিবার ও একজন ডাক্তার। সব মিলেয়ে সদস্য সংখ্যা দাঁড়ায় আটজনে।
সিক্রেট অ্যানেক্সের সেই ছোট্ট, স্যাঁতস্যাঁতে জায়গায় বাতাস নেই, আলো নেই। এসবের মধ্যে এতগুলো মানুষ। তবু অ্যানা নিঃসঙ্গ, তার মনের কথা বলার মতো সে কাউকে পায় না। তার সব কথা সে লিখে রাখে ডায়েরিতে, ডায়েরিটাই হয়ে ওঠে তার কাছে প্রিয় বন্ধু।
দিনের পর দিন, মাসের পর মাস লুকিয়ে থাকতে হয় অ্যানাকে। পুনরাবৃত্তিময় বন্দি জীবনে তার একটাই কল্পনা, একটাই আশা— একদিন বাইরে যাবে, শেষ বিকেলের আলোয় স্কার্টে ঢেউ তুলে, বোন মারগটের হাত ধরে বাড়ি ফিরবে।
অ্যানার ‘বন্দি’ জীবনের ৭৬১তম দিনে, ১৯৪৪ সালের ৪ আগস্ট হিটলারের বাহিনী সিক্রেট অ্যানেক্সের বাসিন্দাদের ধরে নিয়ে যায়। যুদ্ধ শেষ হওয়ার অপেক্ষা থেকে তাদের মুক্তি মেলে। কিন্তু শেষ বিকেলের আলোয় বোনের হাত ধরে স্কার্টে ঢেউ তুলে অ্যানা বাড়ি ফিরতে পেরেছিল কি?
শুক্র-শনিবারের সন্ধ্যায় সে প্রশ্নের উত্তর নিয়েই হাজির হবে ‘অ্যানা ফ্রাঙ্ক’।


















