
টিম রাজনীতি ডটকম

৫৫ মিনিটের গোলে এগিয়ে ইংল্যান্ড। সে লিড ইংলিশরা ধরে রাখল ৮৫ মিনিট পর্যন্ত। ততক্ষণে আক্রমণ করতে করতে আর্জেন্টিনা রীতিমতো মরিয়া, সমর্থকদের উঠে গেছে নাভিশ্বাস। সেখান থেকেই আবার প্রত্যাবর্তনের মহাকাব্য লিখল আর্জেন্টিনা।
মেসি সম্পূর্ণ চলে গেলেন প্লেমেকার কাম রাইট উইংগারের রোলে। মাত্র ৭ মিনিটের ব্যবধানে সেই মেসি গড়ে দিলেন দুটি অ্যাসিস্ট। তা থেকে লক্ষ্যভেদ করলেন এনজো ফের্নান্দেস ও লাউতারো মার্টিনেজ। ইংলিশদের ৬০ বছরের অপেক্ষাকে আরও দীর্ঘায়িত করে টানা দ্বিতীয়বার ফাইনালে উঠে গেল আলবিসেলেস্তেরা।
পূর্ণাঙ্গ ম্যাচ রিপোর্ট পড়ুন এখানে—

৯ মিনিটের ইনজুরি টাইমের পর খেলা চলল আরও ৩ মিনিট। কিন্তু ইংল্যান্ডের পক্ষে আর ফেরা হয়নি ম্যাচে। রেফারি বাজালেন শেষ বাঁশি। ২-১ গোলে ম্যাচ জিতে নিলো আর্জেন্টিনা।
মাঝমাঠে ফাউলের শিকার মেসি। সেই সুযোগে আর্জেন্টিনা কিছুটা সময়ক্ষেপণও করে নিচ্ছে।
শেষ মুহূর্তে খেলায় পিছিয়ে পড়ে এবার মরিয়া ইংল্যান্ড। দুটি সাবস্টিটিউশন করিয়েছেন টমাস টুখেল। রক্ষণ থেকে স্টোনসকে তুলে নিয়ে নামিয়েছেন স্ট্রাইকার ইভান টনিকে। আরেক ডিফেন্ডার স্পেন্সকে তুলে নিয়ে নামিয়েছেন আরেক স্ট্রাইকার মার্কাস রাশফোর্ডকে। শেষ ৩ মিনিটে তারা কতটুকু ভূমিকা রাখতে পারবেন!

আর্জেন্টিনা একের পর এক আক্রমণে ব্যতিব্যস্ত করে রেখেছিল ইংল্যান্ডকে। ইনজুরি টাইমের প্রথম মিনিটেই ম্যাক আলিস্টার দারুণ এক নিচু শট নিয়েছিলেন। এবার তৃতীয়বারের মতো গোলবারে লেগে গোলবঞ্চিত তিনি।
তবে ফিরতি বল পেয়ে যান আবার মেসি। আবারও ডান প্রান্ত থেকে অসাধারণ এক ক্রস। সেটি খুঁজে নেয় ফাঁকায় দাঁড়িয়ে থাকা লাউতারো মার্টিনেজকে। মাপা হেডে বল জালে জড়িয়ে দেন।
স্কোরলাইন: আর্জেন্টিনা ২ - ইংল্যান্ড ১
নির্ধারিত ৯০ মিনিটের খেলা শেষ। রেফারি ইনজুরি টাইম দিয়েছেন ৯ মিনিট।

এবার আর রক্ষা পায়নি ইংল্যান্ড। টানা আক্রমণের ফল পেল আর্জেন্টিনা।
মেসি ডানপ্রান্ত থেকে একটি শর্ট কর্নার নেন। ফিরতি বল পেয়ে খুঁজে নেন গোলপোস্ট থেকে ২৫ গজ দূরে ফাঁকা জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকা এনজোকে। আরও কয়েকবারের মতো এবারও সেখান থেকেই শট নিলেন। এবার ছিল একদম লক্ষ্যে। পিকফোর্ড ডান দিকে ঝাঁপিয়ে পড়েও বলের ধারেকাছে যেতে পারেননি। দারুণ গোলে স্বস্তি ফিরল আর্জেন্টিনা শিবিরে।
এনজো ফের্নান্দেস ফের চেষ্টা করেছিলেন ডি-বক্সের বাইরে থেকে। অল্পের জন্য কর্নারের বিনিময়ে বাঁচিয়ে দিয়েছেন পিকফোর্ড।
কোনোকিছুতেই কাজ হচ্ছে না আর্জেন্টিনার। ম্যাচের বাকি আর মাত্র ৭ মিনিট। আর্জেন্টিনা এখনো পিছিয়ে। বলা যায় ফাইনালের সুবাস পেতে শুরু করেছে ইংল্যান্ড।
আক্রমণে জোর বাড়াতে এবার তালিয়াফিকোকে তুলে স্কালোনি মাঠে নামিয়েছেন লাউতারো মার্টিনেজকে।
ইংল্যান্ড এনেছে দুটি পরিবর্তন। রিস জেমস আর ডেকলান রাইস উঠে গেছেন। নেমেছেন ড্যান বার্ন ও নিকো ও’রেলি।
আবার মাঝমাঠ থেকে দারুণ আক্রমণ আর্জেন্টিনার। এনজোর কাছ থেকে বল পেয়ে মেসি শুরু করেছিলেন আক্রমণ। ডি-বক্সে দারুণ ক্রস করলে গঞ্জালেস ব্যাক ভলি করতে গিয়ে ফাউল করে বসেন।
মাঝ মাঠে নিজেদের অর্ধে মেসির কাছ থেকে বল কেড়ে নিয়েছিলেন বেলিংহাম। আক্রমণে ওঠার চেষ্টা করলেও আর্জেন্টিনার রক্ষণে প্রতিহত হতে হয়েছে তাকে।
২৫ গজ দূরে থেকে দারুণ ক্রস তুলেছিলেন মেসি। গঞ্জালেস হেড করতে পারেননি। পরে অবশ্য লাইন্সম্যান অফসাইডের পতাকা তুলেছিলেন।
নেমেই দারুণ আক্রমণ ডি পলের। ডি-বক্সের বাইরে ডান প্রান্ত থেকে দারুণ ক্রস তুলেছিলেন। ম্যাক আলিস্টার হেড করলেও গোলবারে লাগলে গোলবঞ্চিত হয়েছে আর্জেন্টিনা।
ফিরতি বল পেয়ে আবার আক্রমণ করেছিল আর্জেন্টিনা। এবারও ডি-বক্সে ক্রস। পরে বল ধরে ফেলেন পিকফোর্ড।
হাইড্রেশন ব্রেকের পর ম্যাচ শুরু। ইংল্যান্ড তাদের গোলস্কোরার গর্ডনকে তুলে নিয়েছে। তার বদলে নেমেছেন কোনসা। অন্যদিকে আর্জেন্টিনা তুলে নিয়েছে সিমিওনি, মলিনা ও লিসান্দ্রোকে। তাদের বদলে মাঠে নেমেছেন যথাক্রমে রদ্রিগো ডি পল, গনজালো মন্টিয়েল ও নিকোলাস ওটামেন্ডি।
দ্বিতীয় হাইড্রেশন ব্রেক চলছে ম্যাচে। ১ গোলের লিড ধরে রেখেছে ইংল্যান্ড। ম্যাচে ফিরতে আর্জেন্টিনার সময় রয়েছে ২০ মিনিট।
শেষ পর্যন্ত গোলের প্রায় নিশ্চিত একটি সুযোগ তৈরি করতে সক্ষম হয়েছিল আর্জেন্টিনা। মেসিই দারুণ ক্রস বাড়িয়েছিলেন। নিকো গঞ্জালেস দারুণ হেড করেছিলেন। কিন্তু পিকফোর্ড অসাধারণ দক্ষতায় সেটি ফিরিয়ে দিলে গোলবঞ্চিত হয়েছে আর্জেন্টিনা।
এর মধ্যে দিয়ে দুই দল গেছে দ্বিতীয় হাইড্রেশন ব্রেকে।
ম্যাচে সমতায় ফিরতে মরিয়া আর্জেন্টিনা টানা আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু গোলের সুযোগ তৈরি হচ্ছে না। এর মধ্যে দুই মিনিটে দুটি কর্নার পেলেও লাভ হয়নি।
অনেকক্ষণ পর ইংল্যান্ডের আক্রমণের চেষ্টা। ডি-বক্সের বাইরে থেকে শট নিয়েছিলেন ডেকলান রাইস। এমি মার্টিনেজ সহজেই ধরে নেন।
বল পেয়ে দারুণভাবে ডি-বক্সে বাড়িয়েছিলেন মেসি। নিকো গঞ্জালেস হেড করে গোলবারের মাঝামাঝি পাঠিয়ে দেন। স্টোনস বল ক্লিয়ার করেন।
প্রথম পরিবর্তন আর্জেন্টিনার একাদশে। পারদেসকে তুলে নিয়েছেন কোচ লিওনেল স্কালোনি। আক্রমণভাগকে শক্তিশালী করতে মাঠে নেমেছেন নিকো গঞ্জালেস।
ইংল্যান্ডের আক্রমণ থেকে বল পেয়ে গিয়েছিলেন মেসি। কিছুটা টেনে দারুণ পাস বাড়িয়েছিলেন সিমিওনিকে। স্পেন্স ডি-বক্সের মধ্যে দারুণভাবে ট্যাকল করে কর্নারের বিনিময়ে রক্ষা করেছেন দলকে।

রজার্সের দারুণ পাস থেকে অ্যান্থনি গর্ডন গোল করে এগিয়ে নিয়ে গেছেন ইংল্যান্ডকে। সমন্বিত আক্রমণ থেকে রজার্স বল টেনে নিয়ে যান ডি-বক্সের সামান্য বাইরে ডান পাশে। বাঁ দিকে ডি-বক্সে ছিলেন গর্ডন। দারুণ পাস বাড়িয়ে দেন রজার্স। গর্ডনের সামনে মলিনা থাকলেও তিনি বল আটকাতে পারেননি। আলতো টোকায় বল জালে জড়ান গর্ডন।
দলীয় প্রচেষ্টায় আর্জেন্টিনার আক্রমণের চেষ্টা। সিমিওনি-মলিনা হয়ে বল ক্রস গিয়েছিল ইংল্যান্ডের ডি-বক্সে। তবে সেখানে কেউ পা বাড়াতে পারেনি। ইংল্যান্ড ক্লিয়ার করলে আবার বল পেয়ে যায় আর্জেন্টিনা। পারদেস আবারও পাস দিলেও কেউ ধরার মতো ছিল না।
আর্জেন্টিনার আক্রমণের চেষ্টা থেকে বল পেয়ে যায় ইংল্যান্ড। বল বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল বেলিংহামের কাছে। বেলিংহাম ছুটতে চাইলে ফাউল করেন রোমেরো। হলুদ কার্ড পেয়েছেন তিনি।
আর্জেন্টিনার কর্নার ইংল্যান্ড ফিরিয়ে দিলে পরে আবার বল পেয়ে যায় আর্জেন্টিনা। মেসি ছিলেন আক্রমণভাগে। তার দিকে বল বাড়ানো হয়েছিল। অনসাইডেও ছিলেন। কিন্তু রক্ষণের কড়া পাহাড়ায় বল পাওয়া হয়নি মেসির।
দারুণ আক্রমণ আর্জেন্টিনার, বলতে গেলে ম্যাচের প্রথম যুৎসই কোনো আক্রমণ। সিমিওনের কাছ থেকে বল পেয়ে আলভারেজ ডি-বক্সে ঢুকে পড়েছিলেন। শটও নিয়েছিলেন, পিকফোর্ড তা ফিরিয়ে দেন। দ্বিতীয় চেষ্টায় আবার শট করলে কোনোমতে কর্নারের বিনিময়ে রক্ষা পেয়েছে ইংল্যান্ড।
গোল না পাওয়ার ডেডলক ভাঙতে দ্বিতীয়ার্ধের খেলা শুরু। দুই দলের কেউই কোনো পরিবর্তন আনেনি হাফটাইমে।

ইংল্যান্ডের একটি শট ক্রসবারের অনেক বাইরে দিয়ে বেরিয়ে গোলকিক হওয়ার মধ্য দিয়ে দ্বিতীয় সেমিফাইনালের প্রথমার্ধের খেলা শেষ হয়েছে। এ অর্ধে কোনো দলই নিশ্চিত সুযোগ তৈরি করতে পারেনি। বলের দখলেও দুই দলই কাছাকাছি— আর্জেন্টিনার ৫৬ শতাংশের বিপরীতে ইংল্যান্ডের ৪৪ শতাংশ।
এ অর্ধে দুই দলই মাত্র দুটি করে শট নিতে পেরেছে প্রতিপক্ষের গোলপোস্ট লক্ষ্য করে। তবে এর মধ্যে ইংল্যান্ড লক্ষ্যে রাখতে পেরেছিল মাত্র একটি শট, আর্জেন্টিনার দুটি শটই ছিল লক্ষ্যের বাইরে।
আর্জেন্টিনা ১২টি ফাউল করেছে, ইংল্যান্ড করেছে ৭টি। দুই দল হলুদ কার্ডও পেয়েছে একটি করে। আর্জেন্টিনা অফসাইড হয়েছে দুবার, ইংল্যান্ড একবার। দুল কর্নার পেয়েছে একটি করে।
ইংল্যান্ডের এক্সজি তথা গোলের সুযোগ শূন্য দশমিক শূন্য ৫, আর্জেন্টিনার শূন্য দশমিক শূন্য ৩।
আক্রমণের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে ইংল্যান্ড। কিন্তু আর্জেন্টিনার রক্ষণ ভাঙতে পারেনি। খানিক পরে পিকফোর্ড লম্বা পাস বাড়িয়েছিলেন। কিন্তু রজার অফসাইডে থাকার কারণে সে বল কাজে আসেনি।
প্রথমার্ধের নির্ধারিত ৪৫ মিনিটের খেলা শেষ। রেফারি ইনজুরি টাইম দিয়েছেন ৩ মিনিট। কোনো দলই গোল বের করতে পারেনি, নিশ্চিত গোলের সুযোগও তৈরি করতে পারেনি।
ইংল্যান্ডের রজারকে বাজে ফাউল করলেন লিসান্দ্রো মার্টিনেজ। হলুদ কার্ড পেতে হয়েছে তাকে এ ফাউলের জন্য।
মেসির পাওয়া ফ্রি-কিক থেকে পাসের মাধ্যমে আক্রমণের চেষ্টা। ডি-বক্সের অনেক বাইরে বল পেয়ে এনজো ফের্নান্দেস দূরপাল্লার শট নেন। তবে তা গোলবারের মধ্যে রাখতে পারেননি। ২৫ গজ দূর থেকে তার শট ক্রসবারের সামান্য ওপর দিয়ে বল বেরিয়ে যায়। আর্জেন্টিনাও কোনো বিপদ তৈরি করতে পারেনি।
ইংল্যান্ডের জেমসের ফ্রি-কিক পাঞ্চ করে দেন এমি। সেখান থেকে বল পেয়ে গিয়েছিলেন আলভারেজ। তিনি বল বাড়িয়ে দেন মেসিকে। মেসি দারুণ গতিতে এগিয়ে যাচ্ছিলেন। স্পেন্স ও হ্যারি কেইনসহ চারজনকে কাটিয়েও ফেলেছিলেন। উপায়ন্তর না দেখে অ্যান্ডারসনকে ফাউল করতে হয়েছে তাকে আটকানোর জন্য। সেই ফাউলের জন্য অ্যান্ডারসনকে হলুদ কার্ড পেতে হয়েছে।
ইংল্যান্ড আক্রমণের চাপ বাড়িয়েছে। বাঁ দিক থেকে ঢুকে পড়ছিলেন বেলিংহাম। সেটি ঠিকমতো ক্লিয়ার করতে পারেনি আর্জেন্টিনার রক্ষণ। পরে ডি-বক্সের লাগোয়া বাঁ পাশে ফ্রি-কিক পেয়েছে ইংল্যান্ড।
ডি-বক্সের কিছুটা বাইরে বাঁ দিক থেকে ফ্রি-কিক নেয় ইংল্যান্ড। জন স্টোনস হেড করেছিলেন। তবে তা গোলবারের বাইরে চলে গেলে বিপদের কারণ হতে পারেনি।
জুড বেলিংহাম বল নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছিলেন। ডি-বক্সের কিছুটা বাইরে বাঁ দিকে তাকে ফাউল করেন রোমেরো। ফ্রি-কিক পেয়েছে ইংল্যান্ড।

শুরুতে ইংল্যান্ডকে আক্রমণাত্মক দেখালেও প্রথম হাইড্রেশন ব্রেকের আগে আর্জেন্টিনাও উঠে এসেছে আক্রমণে। কোনো দলের আক্রমণই অবশ্য বড় কোনো সুযোগ তৈরি করতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত গোলশূন্য অবস্থাতেই প্রথম হাইড্রেশন ব্রেকে গেছে দুই দল।
এ পর্যন্ত বল দখলে এগিয়ে রয়েছে আর্জেন্টিনা। ৫৭ শতাংশ সময় বল দখলে ছিল তাদের। বিপরীতে ইংল্যান্ডের দখলে ছিল ৪৩ শতাংশ সময়। দুই দলই সমান ৬টি করে ফাউল করেছে।
আর্জেন্টিনা নিজেদের মধ্যে বল আদান-প্রদান করছিল। এর মধ্যে ম্যাক আলিস্টারকে ফাউল করেন বেলিংহাম। ফ্রি-কিক পায় আর্জেন্টিনা। মাঝমাঠ থেকে নেওয়া সে ফ্রি-কিক পরে কর্নারের বিনিময়ে রক্ষা করে ইংল্যান্ডের রক্ষণ।
নিজেদের মধ্যে পাস বিনিময় করতে করতে ডি-বক্সের কিছুটা বাইরে দারুণ বল পেয়ে গিয়েছিলেন হ্যারি কেইন। রজার্সকে বাড়িয়ে দিয়েছিলেন বল। তার শট সহজেই তালুবন্দি করেন এমি মার্টিনেজ।
বিপজ্জনকভাবে বল নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছিল ইংল্যান্ড। রোমেরো দলকে বিপদমুক্ত করেন।
সিমিওনে বল নিয়ে এগিয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু অফসাইড হওয়ায় তার দৌড় কাজে লাগনি।
ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড কেউ কাউকে ছেড়ে কথা বলছে না। ইংল্যান্ডকেই অবশ্য বেশি আক্রমণাত্মক দেখাচ্ছে। সে তুলনায় আর্জেন্টিনা অফ দ্য বল খেলার দিকেই বেশি মনোযোগী মনে হচ্ছে।
খেলায় অবশ্য উত্তেজনা ছড়িয়েছে দুদলের মধ্যেই। এরই মধ্যে ছয়টি ফাউল হয়েছে। আর্জেন্টিনা ফাউল করেছে চারটি, ইংল্যান্ড দুটি।
ইএসপিএন ইনসাইটের তথ্য বলছে, ১০ মিনিটে এত বেশি ফাউল এবারের বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ। এর আগে ফ্রান্স-সুইডেন ম্যাচেও প্রথম ১০ মিনিটে ছয়টি ফাউল হয়েছিল।
৩ খেলোয়াড় বদলালেও ফরমেশন বদলায়নি ইংল্যান্ড। আগের ম্যাচের মতোই তারা এ ম্যাচেও ৪-২-১-৩ ফরমেশনে মাঠে নেমেছে।
সেমিফাইনালের লাইনআপে ইংল্যান্ডের গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ড। তার সামনে রক্ষণে রয়েছেন রিস জেমস, জন স্টোনস, মার্ক গেহি ও জেড স্পেনস।
মাঝমাঠে ডিফেন্সিভ মিড হিসেবে রয়েছেন ডেকলান রাইস ও এলিয়ট অ্যান্ডারসন। তাদের সামনে আক্রমণাত্মক তিন মিডফিল্ডার মরগান রজার্স, জুড বেলিংহাম ও অ্যান্থনি গর্ডন।
আক্রমণে রয়েছেন ইংলিশ ক্যাপ্টেন হ্যারি কেইন।
কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে ৪-১-৩-২ ফরমেশনের মাঠে নেমেছিল আর্জেন্টিনা। এ ম্যাচে আবার তারা ফিরে এসেছে ৪-৪-২ ফরমেশনে।
সেমিফাইনালের লাইনআপে গোলরক্ষক হিসেবে রয়েছেন এমিলিয়ানো মার্তিনেজ। তার সামনে রক্ষণে রয়েছেন চার সেনানী নাহুয়েল মলিনা, ক্রিস্টিয়ান রোমেরো, লিসান্দ্রো মার্তিনেজ ও নিকোলাস তাগলিয়াফিকো।
মাঝমাঠে রয়েছেন জুলিয়ানো সিমিওনে, এনজো ফার্নান্দেজ, লিয়ান্দ্রো পারেদেসও আলেক্সিস ম্যাক আলিস্টার।
আর আক্রমণের দায়িত্বে রয়েছেন লিওনেল মেসি ও হুলিয়ান আলভারেজ।
ইংল্যান্ড একাদশে তিনটি পরিবর্তন এনেছেন কোচ টমাস টুখেল। এজরি কনসা, নিকো ও’রাইলি ও ননি মাদুয়েকের জায়গায় একাদশে এসেছেন রিস জেমস, জেড স্পেনস ও মরগান রজার্স।
গোলরক্ষক: জর্ডান পিকফোর্ড
রক্ষণ: রিস জেমস, জন স্টোনস, মার্ক গেহি, জেড স্পেনস
মাঝমাঠ: ডেকলান রাইস, এলিয়ট অ্যান্ডারসন, মরগান রজার্স, জুড বেলিংহাম, অ্যান্থনি গর্ডন
আক্রমণ: হ্যারি কেইন
বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে একাদশে একটি পরিবর্তন এনেছে আর্জেন্টিনা। সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে খেলা একাদশ থেকে মিডফিল্ডে রদ্রিগো ডি পলকে বাদ দিয়ে কোচ লিওনেল স্কালোনি। তার জায়গায় শুরু থেকেই খেলবেন জুলিয়ানো সিমিওনে।
গোলরক্ষক: এমিলিয়ানো মার্তিনেজ
রক্ষণ: নাহুয়েল মলিনা, ক্রিস্টিয়ান রোমেরো, লিসান্দ্রো মার্তিনেজ, নিকোলাস তাগলিয়াফিকো
মাঝমাঠ: জুলিয়ানো সিমিওনে, এনজো ফার্নান্দেজ, লিয়ান্দ্রো পারেদেস, আলেক্সিস ম্যাক আলিস্টার
আক্রমণ: লিওনেল মেসি, হুলিয়ান আলভারেজ
১০৪ ম্যাচের বিশ্বকাপে ১০১ ম্যাচ শেষ। শেষ চার ম্যাচের মধ্যে প্রথম সেমিফাইনালও শেষ। এবার দ্বিতীয় সেমিফাইনালে মুখোমুখি আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড, যারা ফিফা র্যাংকিংয়ের যথাক্রমে দ্বিতীয় ও চতুর্থ দল। এ ম্যাচে জয়ী দলই উঠবে ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে, যেখানে তারা মুখোমুখি হবে দ্বিতীয়বার শিরোপার অপেক্ষায় থাকা স্পেনের।
আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ডের ফুটবল ম্যাচের এ দ্বৈরথ ঘিরে ফের ফিরে এসেছে ফকল্যান্ড দ্বীপ নিয়ে যুদ্ধ, ১৯৮৬ বিশ্বকাপসহ নানা ঘটনা। দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর ইতিহাস-রাজনীতি তাই উত্তাপ ছড়াতে পারে ম্যাচেও।
হাইভোল্টেজ এ ম্যাচের সবশেষ আপডেট পেতে সঙ্গে থাকুন রাজনীতি ডটকমের।