সৌদি আরবকে ৪ গোল দিয়ে জয়ে ফিরল স্পেন, পেলের পাশে ইয়ামাল

ক্রীড়া ডেস্ক
সৌদি আরবের বিপক্ষে ম্যাচে প্রথম গোলটি আসে লামিনে ইয়ামালের পা থেকে। ছবি: সংগৃহীত
সৌদি আরবের বিপক্ষে ম্যাচে প্রথম গোলটি আসে লামিনে ইয়ামালের পা থেকে। ছবি: সংগৃহীত

নবাগত কেপ ভার্দের সঙ্গে বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচ ড্র করে হতাশায় পুড়ছিল স্পেন। বিশ্বকাপে হট ফেভারিট হওয়ায় সেই ড্র যেন ছিল হারের সমান। দ্বিতীয় ম্যাচে তাই তাদের কাছে ভক্ত-সমর্থকদের চাহিদা ছিল বিশেষ কিছু। সৌদি আরবের সঙ্গে সেই কাজটিই করলেন লুইস দে লা ফুয়েন্তের শিষ্যরা। প্রতিপক্ষকে ৪-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে জয়ের ধারায় ফিরল স্পেন।

একই সঙ্গে এ ম্যাচে গোল করে ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি পেলের পাশে জায়গা করে নিয়েছেন ফ্রান্সের তরুণ সেনসেশন লামিনে ইয়ামাল। এই গোল করার সময় তার বয়স ছিল ১৮ বছর ৩৪৩ দিন। ১৯৫৮ বিশ্বকাপে পেলের পর দ্বিতীয় কোনো ১৮ বা এর কম বয়সী খেলোয়াড় হিসেবে বিশ্বকাপের কোনো ম্যাচে প্রথম গোল করার কীর্তি গড়লেন ইয়ামাল।

আটলান্টা স্টেডিয়ামে খেলা শুরুর প্রথম মিনিট থেকেই সৌদি আরবকে চেপে ধরে স্পেন। এমনকি প্রথম মিনিট পার হতে না হতেই এগিয়ে যাওয়ার সুযোগও পেয়েছিল দলটি, তকে লক্ষ্যভেদ হয়নি। লক্ষ্যভেদ হতে খুব একটা সময় অবশ্য আর লাগেওনি। মাত্র ১০ মিনিটের মাথায় মিকেল ওইয়ারসাবালের নিখুঁত ক্রস পেয়ে স্লাইড করে বল জালে পাঠান তরুণ সেনসেশন লামিনে ইয়ামাল।

এরপর ওইয়ারসাবাল নিজেই গোল করার দায়িত্ব তুলে নেন নিজের কাঁধে। ২১ মিনিটে লাপোর্তের অ্যাসিস্টে দেখা পান গোলের। তিন মিনিটের মাথায় ম্যাচের ২৪ মিনিটে মার্ক কুকুরেয়া ও দানি অলমোর পাস থেকে পূর্ণ করেন জোড়া গোল।

১৯৩৪ সালের ২৭ মে ব্রাজিলের বিপক্ষে হোসে ইরারাগোরির ২৫ মিনিটের মধ্যেই দুটি গোল করেছিলেন। স্পেনের হয়ে কোনো ম্যাচে এত দ্রুতগতিতে জোড়া গোলের সে রেকর্ড অক্ষত ছিল ৯২ বছর! ওইয়ারসাবালের জোড়া গেল ৯২ বছরের পুরনো সে রেকর্ডও ভাঙল। ম্যাচের ৩৬ মিনিটে তার একটি শট গোলবারে লাগলে হ্যাটট্রিক না পাওয়ার আফসোসেও পুড়েছেন ওইয়ারসাবাল।

৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকায় দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ইয়ামাল ও ওইয়ারসাবালকে তুলে নেন কোচ, বদলি হিসেবে নামান ফেরান তোরেস ও ইয়েরেমি পিনোকে। খেলোয়াড় বদল হলেও আক্রমণের ধারায় বদল হয়নি। অব্যাহত আক্রমণের মুখে ৪৯ মিনিটে কুকুরেয়ার একটি দুর্দান্ত ভলি সৌদি গোলরক্ষকের পর ডিফেন্ডার হাসান আল-তামবাক্তির পায়ে গায়ে লেগে জালে ঢুকে যায়। আত্মঘাতী গোলে স্পেন এগিয়ে যায় ৪-০ ব্যবধানে।

ম্যাচের ৬০ মিনিটের মাথায় দানি অলমো আর অ্যালেক্স বায়েনাকে তুলে নেয় স্পেন, মাঠে নামেন মিকেল মেরিনো আর নিকো উইলিয়ামস। ৭০ মিনিটে পেদ্রিকেও তুলে নেন স্প্যানিশ কোচ, মাঠে নামান ফাবিয়ান রুইজকে। এ সময় স্পেনের আক্রমণের গতি কিছুটা কমলেও সৌদি আরব বিপরীতে কোনো সুযোগই তৈরি করতে পারেনি। স্পেনের জমাট রক্ষণভাগে কোনো আঁচড়ই লাগেনি।

এর মধ্যে ইনজুরি টাইমের দ্বিতীয় মিনিটে রুইজের পাস থেকে দারুণ টাচে বল জালে জড়িয়েছিলেন বদলি ফরোয়ার্ড তোরেস। প্রায় তিন মিনিট পর শেষ পর্যন্ত অফসাইডের কারণে গোলটি বাতিল করা হয়। ৪-০ ব্যবধানে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে স্পেন। এ দিন ছিল স্প্যানিশ কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তের ৬৫তম জন্মদিন। বড় জয়ে সে জন্মদিনকেই আরও রঙিন করে দিলেন স্প্যানিশ ফুটবলাররা।

Ad
ad
Ad 300x250

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Ad 300x250
ad
Advertisement