মেসির সাথে ছোট্ট লামিন—ভাইরাল সে ছবির পেছনের গল্প কী

ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম
মেসির সাথে ছোট্ট ইয়ামালের ছবিটি এখন আলোচনার কেন্দ্রে। ছবি: সংগৃহীত
মেসির সাথে ছোট্ট ইয়ামালের ছবিটি এখন আলোচনার কেন্দ্রে। ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপের ফাইনালে মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন লিওনেল মেসি ও লামিন ইয়ামাল। তবে এই দুই ফুটবলারের সম্পর্কের শুরু আজকের নয়। প্রায় ১৯ বছর আগে তোলা একটি ছবি নতুন করে আলোচনায় এসেছে, যেখানে মেসির কোলে দেখা যায় কয়েক মাস বয়সী এক শিশুকে। সেই শিশুই আজকের লামিন ইয়ামাল।

সময়টা ২০০৭ সাল। তখন বার্সেলোনার হয়ে খেলছেন ২০ বছর বয়সী মেসি। ইউনিসেফের একটি ক্যালেন্ডারের ফটোশুটে অংশ নিতে ক্যাম্প ন্যুতে গিয়েছিলেন তিনি। ওই আয়োজনের অংশ হিসেবে লটারির মাধ্যমে নির্বাচিত কয়েকটি পরিবারের শিশুদের সঙ্গে ছবি তোলার ব্যবস্থা করা হয়েছিল।

সেই লটারিতে নির্বাচিত হন ১৬ বছর বয়সী শিলা ইবানা। একুয়েটোরিয়াল গিনির বংশোদ্ভূত শিলা তখন কাতালোনিয়ায় ওয়েট্রেস হিসেবে কাজ করতেন। মরক্কো বংশোদ্ভূত মুনির নাসরাউইয়ের সঙ্গে তার সংসারে জন্ম নেওয়া শিশুপুত্রকে নিয়েই তিনি সেদিন ক্যাম্প ন্যুতে হাজির হন। সেই শিশুই ছিলেন লামিন ইয়ামাল।

ফটোশুটের সময় একটি ছোট প্লাস্টিকের পানিভর্তি টবে বসানো হয়েছিল ইয়ামালকে। স্বভাবগতভাবে লাজুক মেসি প্রথমে শিশুটিকে কীভাবে কোলে নেবেন, সেটিও বুঝে উঠতে পারছিলেন না। পরে সেই মুহূর্তগুলো ক্যামেরাবন্দি করেন অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের আলোকচিত্রী জোয়ান মনফোর্ট।

মনফোর্ট জানান, পুরো আয়োজনটি ছিল ইউনিসেফের ক্যালেন্ডারের জন্য। বার্সেলোনার একজন খেলোয়াড়ের সঙ্গে ছবি তোলার সুযোগ পেতেই পরিবারগুলো লটারিতে অংশ নিয়েছিল, আর ভাগ্য খুলেছিল ইয়ামালের পরিবারের।

ছবিগুলো তোলার পর সেগুলো নিয়ে তেমন আলোচনা হয়নি। প্রায় ১৭ বছর পর, ২০২৪ সালে ইউরোতে লামিন ইয়ামালের অভিষেকের সময় তার বাবা মুনির নাসরাউই ছবিগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন। ক্যাপশনে লেখেন, ‘দুই কিংবদন্তির যাত্রার শুরু।’

এরপরই ছবিটি বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে।

জোয়ান মনফোর্ট বলেন, ইয়ামালের বাবা ছবিটি প্রকাশ করার আগ পর্যন্ত তিনি জানতেনই না, সেই শিশুটি বড় হয়ে বিশ্বের অন্যতম প্রতিভাবান ফুটবলার হয়ে উঠেছে। এমন একটি মুহূর্তের সাক্ষী হতে পারাটা তার কাছে দারুণ এক অনুভূতি।

এখন সেই ছবির দুই চরিত্র বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় মঞ্চে প্রতিপক্ষ। একদিকে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় মেসি, অন্যদিকে নতুন প্রজন্মের সবচেয়ে আলোচিত তারকা লামিন ইয়ামাল। ২০০৭ সালের সেই ছবিটিই যেন দুই প্রজন্মের ফুটবলকে একই ফ্রেমে বেঁধে রেখেছে।

Ad
ad
Ad 300x250

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Ad 300x250
ad
Advertisement