মালয়েশিয়ার পর সিঙ্গাপুরের কাছে ১-০ গোলে হার বাংলাদেশের

ক্রীড়া ডেস্ক
বল লক্ষ্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন হামজা চৌধুরী। ছবি: সংগৃহীত
বল লক্ষ্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন হামজা চৌধুরী। ছবি: সংগৃহীত

ফিফা আসিয়ান কাপে টানা দ্বিতীয় ম্যাচে হারল বাংলাদেশ। ‘এ’ গ্রুপে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে সিঙ্গাপুরের কাছে ১-০ গোলে হেরেছে টমাস ডুলির দল। ৩৫ মিনিটে রায়ান স্টুয়ার্টের হেডে করা গোলটিই ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দেয়। দ্বিতীয়ার্ধে গোল শোধের জন্য বাংলাদেশ একাধিকবার আক্রমণে উঠলেও শেষ পর্যন্ত সিঙ্গাপুরের রক্ষণ ভাঙতে পারেনি।

এই হারে দুই ম্যাচে কোনো পয়েন্ট পেল না বাংলাদেশ। এর আগে প্রথম ম্যাচে মালয়েশিয়ার কাছে ৩-০ গোলে হেরেছিল দলটি। দুই ম্যাচে এক জয় ও এক হার নিয়ে ৩ পয়েন্ট পেয়েছে সিঙ্গাপুর। বাংলাদেশের গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচ ১ অক্টোবর ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে। আজ সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়ার ম্যাচটি ড্র হলে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে খেলার সুযোগও হারাবে বাংলাদেশ।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) জাকার্তায় অনুষ্ঠিত ম্যাচের শুরুটা অবশ্য বাংলাদেশেরই ভালো ছিল। দ্বিতীয় মিনিটে কর্নার পায় দলটি। জামাল ভূঁইয়ার নেওয়া কর্নার বক্সে পৌঁছালেও তা কাজে লাগাতে পারেনি বাংলাদেশ। প্রথম ১৫ মিনিটে বলের দখল ও আক্রমণে এগিয়েও ছিল তারা। ১৫ মিনিটে বেশ কিছুটা পথ বল পায়ে এগিয়ে বক্সে ঢুকে পড়েছিলেন রাকিব হোসেন। কিন্তু তার বাড়ানো বল নেওয়ার মতো সতীর্থ সেখানে ছিলেন না।

ষষ্ঠ মিনিটে অবশ্য হলুদ কার্ড দেখেন শমিত সোম। সিঙ্গাপুরের জুলকিফলিকে আটকাতে পেছন থেকে জার্সি ধরে টানায় তাকে কার্ড দেখান রেফারি। এরপর ১৬ মিনিটে প্রথম ভালো আক্রমণ করে সিঙ্গাপুর। বাঁ দিক থেকে ইলহান ফান্দির নেওয়া শট ঝাঁপিয়ে ঠেকান বাংলাদেশের গোলকিপার মেহেদী হাসান। ওই আক্রমণ থেকে দুটি কর্নারও পায় সিঙ্গাপুর, তবে কোনোটিই কাজে লাগাতে পারেনি।

৩০ মিনিটে কুলিং ব্রেকের সময় ম্যাচ ছিল গোলশূন্য। প্রথম ১৫ মিনিটে বাংলাদেশের চাপ থাকলেও এরপর ধীরে ধীরে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় সিঙ্গাপুর। কুলিং ব্রেকের পর তাদের আক্রমণের চাপ আরও বাড়ে। ৩৩ মিনিটে বক্সের সামান্য বাইরে ডান দিকে ফ্রি কিক পায় সিঙ্গাপুর। বিপজ্জনক জায়গা থেকে নেওয়া শট দুর্দান্তভাবে ঠেকিয়ে বাংলাদেশকে গোল হজম থেকে বাঁচান মেহেদী। তবে দুই মিনিট পর আর রক্ষা হয়নি।

৩৫ মিনিটে ডান দিক থেকে আসা ক্রসে হেড করে বল জালে পাঠান রায়ান স্টুয়ার্ট। এগিয়ে যায় সিঙ্গাপুর। গোলের দুই মিনিট পরই ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগও তৈরি করে তারা। ডান দিক থেকে নেওয়া শট ক্রসবারে লেগে প্রতিহত হয়। প্রথমার্ধের শেষ দিকে তাই বেশ চাপে ছিল বাংলাদেশ।

বিরতির পরও আক্রমণের ধার ধরে রাখে সিঙ্গাপুর। ৪৭ মিনিটে নেওয়া একটি শট লাফিয়ে বারের ওপর দিয়ে পাঠান মেহেদী। গোল শোধে বাংলাদেশও আক্রমণে ওঠার চেষ্টা করতে থাকে। ৫৭ মিনিটে শেখ মোরছালিনকে তুলে মিনহাজুল করিমকে মাঠে নামান কোচ টমাস ডুলি। ২৪ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ডের জাতীয় দলের হয়ে এটি অভিষেক।

৬৪ মিনিটে সিঙ্গাপুরের রক্ষণে আক্রমণে ওঠেন শমিত সোম, তবে বল ধরে রাখতে পারেননি। ৭১ মিনিটে তাকে তুলে সোহেল রানাকে মাঠে নামান ডুলি। একই সময়ে শুক্তি ইতোফুসার বদলি হিসেবে মাঠে নামেন ফাহামিদুল ইসলাম।

বদলি নেমে বাঁ প্রান্তে সিঙ্গাপুরের রক্ষণকে ব্যস্ত রাখেন ফাহামিদুল। তার গতি সামলাতে সমস্যায় পড়ছিলেন সিঙ্গাপুরের ডিফেন্ডাররা। তবে তার আক্রমণ থেকে পরিষ্কার গোলের সুযোগ তৈরি হচ্ছিল না। ৭৩ মিনিটে সিঙ্গাপুরও দুটি পরিবর্তন আনে। বদলি নামা শাওয়াল আনু পরের মিনিটেই বাংলাদেশের বক্সে একটি গোলের সুযোগ তৈরি করেছিলেন।

শেষ দিকে গোলের জন্য আরও মরিয়া হয়ে ওঠে বাংলাদেশ। রক্ষণ ছেড়ে ওপরে উঠে আসেন হামজা চৌধুরী। ৭৯ মিনিটে বাঁ প্রান্ত দিয়ে আক্রমণে উঠে ফাহামিদুলের বাড়ানো ক্রসে রাকিব হোসেনের হেড সিঙ্গাপুরের গোলকিপার ঠেকিয়ে দেন। এটি ছিল দ্বিতীয়ার্ধে বাংলাদেশের সবচেয়ে ভালো সুযোগগুলোর একটি।

নির্ধারিত ৯০ মিনিট শেষে ছয় মিনিট যোগ করা হয়। এই সময়েও বাংলাদেশ একের পর এক আক্রমণের চেষ্টা করে। ফাহামিদুল বাঁ প্রান্ত দিয়ে কয়েকবার উঠে এলেও সিঙ্গাপুরের বক্সে গোলের মতো জায়গা তৈরি করতে পারেনি বাংলাদেশ। শেষ বাঁশি বাজলে ১-০ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে সিঙ্গাপুর।

দুই দলের এটি ছিল ষষ্ঠ মুখোমুখি লড়াই। আগের পাঁচ ম্যাচে সিঙ্গাপুর জিতেছিল তিনটি, বাকি দুটি হয়েছিল ড্র। সর্বশেষ গত মার্চে এএফসি এশিয়ান কাপের বাছাইয়ে সিঙ্গাপুরে মুখোমুখি হয়েছিল দুই দল। ওই ম্যাচে স্বাগতিকেরা ১-০ গোলে জিতেছিল। এর আগে গত বছরের জুনে ঢাকায় বাংলাদেশকে ২-১ গোলে হারিয়েছিল সিঙ্গাপুর।

সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে ম্যাচে আগের একাদশ থেকে চারটি পরিবর্তন এনেছিলেন কোচ ডুলি। মালয়েশিয়ার বিপক্ষে এক মিনিটও না খেলা জামাল ভূঁইয়া এ দিন শুরু থেকেই মাঠে ছিলেন। একাদশে ফিরেছিলেন শেখ মোরছালিন, সুকি ইতোফুসা ও জিদান ইউসুফও। তাদের জায়গা করে দিতে বাদ পড়েন সোহেল রানা, ফারহান আলী, শাকিল আহাদ তপু ও ফাহামিদুল ইসলাম।

ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশ অবস্থান ১৮২তম এবং সিঙ্গাপুরের ১৪৮তম। আজকের ম্যাচে বাংলাদেশের একাদশে ছিলেন— গোলকিপার মেহেদী হাসান, সাদ উদ্দিন, জিদান ইউসুফ, জায়ান আহমেদ, তারিক কাজী, হামজা চৌধুরী, শমিত সোম, জামাল ভূঁইয়া, রাকিব হোসেন, সুকি ইতোফুসা ও শেখ মোরছালিন।

Ad
ad
Ad 300x250

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Ad 300x250
ad
Advertisement