
ক্রীড়া ডেস্ক

বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ২০ বিলিয়ন ডলারের একটি নতুন প্রতিষ্ঠান গড়ে তাতে বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের অংশীদার করার পরিকল্পনা থেকে সরে দাঁড়িয়েছে ফিফা। বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থাটির সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো ঘোষণা দিয়েছেন, বহুল সমালোচিত ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ প্রকল্প আর এগিয়ে নেওয়া হবে না।
দ্য গার্ডিয়ান, বিবিসি ও বার্তা সংস্থা এএফপির খবরে বলা হয়েছে, ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফার তীব্র বিরোধিতা, উত্তর ও মধ্য আমেরিকার কনকাকাফ এবং এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের (এএফসি) আপত্তি, এবং এমনকি শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের মধ্যেও মতবিরোধ দেখা দেওয়ার পর শেষ পর্যন্ত পরিকল্পনাটি বাতিল করতে বাধ্য হলেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো।
প্রথম দিকে ফিফা দাবি করেছিল, এই উদ্যোগের মাধ্যমে বিশ্ব ফুটবলে আরও বেশি অর্থ বিনিয়োগ করা সম্ভব হবে। তবে সমালোচকদের আশঙ্কা ছিল, এর মাধ্যমে বিশ্বকাপের মতো সবচেয়ে মূল্যবান ফুটবল সম্পদের ওপর বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব তৈরি হবে। সেই বিতর্কই শেষ পর্যন্ত পরিকল্পনাটি ভেস্তে দেয়।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) এক বিবৃতিতে ইনফান্তিনো বলেন, সব পক্ষের মতামত মনোযোগ দিয়ে শোনার পর স্পষ্ট হয়েছে, এই প্রকল্প এমন ধরনের বিভাজন তৈরি করেছে, যা সমর্থনের মাত্রা যাই হোক না কেন, আমাদের মূল উদ্দেশ্যের স্বার্থে আর গ্রহণযোগ্য নয়।
ফিফা সভাপতি আরও বলেন, ‘ফুটবলকে ঐক্যবদ্ধ করা ও এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যই সবসময় ছিল আমাদের, আগামী দিনেও তাই থাকবে। তাই এই প্রস্তাব আর এগোবে না। আগামী দিনগুলোতে সব অংশীজনকে আবার একত্রিত করে পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে ফুটবলের উন্নয়ন অব্যাহত রাখার চেষ্টা করব, বিশেষ করে যেসব দেশের সবচেয়ে বেশি সহায়তা প্রয়োজন।’
মাত্র কয়েকদিন আগেই এফএফই প্রকল্প উন্মোচন করে ফিফা। পরিকল্পনা ছিল— পুরুষ ও নারী বিশ্বকাপের পাশাপাশি ক্লাব বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক স্বত্বের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রি করে শত শত কোটি ডলার সংগ্রহ করা হবে।
পরিকল্পনার কেন্দ্রবিন্দু ছিল ‘ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ’ (এফএফই) নামে একটি নতুন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান গঠন। বিশ্বকাপ, ক্লাব বিশ্বকাপসহ ফিফার বড় টুর্নামেন্টগুলোর বাণিজ্যিক ও ইভেন্ট পরিচালনার দায়িত্ব এই প্রতিষ্ঠানের হাতে দেওয়ার কথা ছিল। তবে টুর্নামেন্ট পরিচালনা, নিয়ম প্রণয়ন বা ফুটবল শাসনের ক্ষমতা ফিফার কাছেই থাকবে বলে সংস্থাটি জানিয়েছিল।
ফিফা এই প্রতিষ্ঠানের মূল্য নির্ধারণ করেছিল প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলার। এরপর এর ২০ শতাংশ পর্যন্ত শেয়ার বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রি করে প্রায় ৪ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার বা ৪২০ কোটি ডলার সংগ্রহের পরিকল্পনা ছিল। সেই অর্থ সদস্য দেশগুলোর ফুটবল উন্নয়ন, অবকাঠামো নির্মাণ এবং বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যয় করার কথা বলা হয়।
ফিফা সভাপতি সেই অর্থের একটি বড় অংশ ফিফার ২১১ সদস্য অ্যাসোসিয়েশনের মধ্যে বিতরণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। সদস্য দেশগুলোকে এই প্রকল্পে যুক্ত হওয়ার জন্য ১৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়ও বেঁধে দেওয়া হয়েছিল। অংশগ্রহণকারী প্রতিটি অ্যাসোসিয়েশনকে প্রাথমিকভাবে ২ কোটি ডলার দেওয়ার প্রস্তাব ছিল।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, নিউইয়র্কভিত্তিক বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান থ্রাইভ ইটারনালকে এই পরিকল্পনায় সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অন্যতম হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছিল। পুরো আর্থিক কাঠামো তৈরিতে উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করছিল জেপি মরগ্যান।
ফিফা সভাপতির পরিকল্পনা প্রকাশের পর সবচেয়ে কঠোর অবস্থান নেয় উয়েফা। সংস্থাটির অভিযোগ ছিল, ফুটবলের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদকে বেসরকারি বিনিয়োগের আওতায় আনার অর্থ খেলার মৌলিক চরিত্রকে বাণিজ্যিক স্বার্থের কাছে তুলে দেওয়া। উয়েফা এটিকে ফুটবলের ‘আত্মা বিক্রি’ করার সমতুল্য বলেও মন্তব্য করে।
উয়েফার ৫৫টি সদস্য দেশ জরুরি বৈঠক করে এ পরিকল্পনার বিরুদ্ধে একমত হয়। তারা প্রয়োজনে ফিফার প্রতিযোগিতা বয়কটের হুমকিও দেয়। পরে কনকাকাফ ও এএফসিও শাসনব্যবস্থা ও স্বচ্ছতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে। এতে ফিফার ২১১ সদস্যের অর্ধেকেরও বেশি পরিকল্পনার বিপক্ষে অবস্থান নেয়।
সমালোচকদের প্রধান যুক্তিগুলো ছিল—
ইউরোপীয় ফুটবল ক্লাবগুলোর সংগঠনও একই অভিযোগ করেছে। ৮৫০টির বেশি ক্লাবের প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠনটির দাবি, ফিফার সঙ্গে সমঝোতা স্মারক থাকা সত্ত্বেও এত বড় একটি পরিকল্পনা নিয়ে তাদের সঙ্গে কোনো পরামর্শ করা হয়নি, সংবাদমাধ্যমের খবর থেকেই তারা বিষয়টি জানতে পেরেছে।
বিতর্ক শুধু বাইরেই সীমাবদ্ধ ছিল না। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা কার্লোস কর্দেইরো এ পরিকল্পনার প্রতিবাদে পদত্যাগ করেন। একই সময়ে ফিফার প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা (সিওও) কেভিন লামুরও পরিকল্পনাটির সমালোচনা করেন। এতে সংস্থার শীর্ষ পর্যায়েও বিরল মতবিরোধ প্রকাশ্যে আসে।
ক্রমবর্ধমান বিরোধিতা, সদস্য দেশগুলোর সমর্থন না পাওয়া এবং অভ্যন্তরীণ বিভক্তির কারণে শেষ পর্যন্ত পরিকল্পনাটি আর এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়নি। জিয়ান্নি ইনফান্তিনো ঘোষণা দেন, প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠ সমর্থন না থাকায় প্রস্তাবটি বাস্তবায়ন করা হবে না এবং এখন ফিফার লক্ষ্য হবে আবারও সদস্যদের ঐক্যবদ্ধ করা।
এফএফই পরিকল্পনা ঘিরে সম্ভবত সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক প্রভাব পড়তে পারে ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনোর ভবিষ্যৎ নেতৃত্বে। আগামী মার্চে ফিফা সভাপতি নির্বাচনে তিনি শক্ত অবস্থানে ছিলেন এবং দুই শতাধিক সদস্য অ্যাসোসিয়েশন থেকে সমর্থনের চিঠিও পেয়েছেন।
তবে এখনকার পরিস্থিতি ভিন্ন। বিশ্লেষকরা এএফই চালুর পরিকল্পনা ও তা বাতিলের ঘটনাকে ফিফার বর্তমান নেতৃত্বের জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে দেখছেন। বিশ্বকাপ চলাকালে যুক্তরাষ্ট্রের ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগুনের নিষেধাজ্ঞা স্থগিতের বিতর্কে ইনফান্তিনোর ভূমিকা নিয়ে যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল, তার রেশ এখনো কাটেনি। এর সঙ্গে নতুন এই বিতর্ক যোগ হওয়ায় আগামী মার্চে ফিফা সভাপতি নির্বাচনে তার অবস্থানও প্রশ্নের মুখে পড়েছে।
বিশ্ব ফুটবলের একাধিক কনফেডারেশন এরই মধ্যে ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে সম্ভাব্য প্রার্থী খোঁজার কাজও শুরু করেছে বলে জানা গেছে। ইউরোপীয় ফুটবলের অভ্যন্তরে এখন আলোচনা চলছে, আগামী নির্বাচনে ইনফান্তিনোর বিপরীতে একজন ঐক্যবদ্ধ ইউরোপ-সমর্থিত প্রার্থী দাঁড় করানো যায় কি না।
বিতর্কিত পরিকল্পনাটি প্রত্যাহার করে আপাতত বড় সংকট এড়াল ফিফা। তবু এ ঘটনার পর বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থাটির নেতৃত্বে ইনফান্তিনোর গ্রহণযোগ্যতা কতটা পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।

বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ২০ বিলিয়ন ডলারের একটি নতুন প্রতিষ্ঠান গড়ে তাতে বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের অংশীদার করার পরিকল্পনা থেকে সরে দাঁড়িয়েছে ফিফা। বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থাটির সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো ঘোষণা দিয়েছেন, বহুল সমালোচিত ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ প্রকল্প আর এগিয়ে নেওয়া হবে না।
দ্য গার্ডিয়ান, বিবিসি ও বার্তা সংস্থা এএফপির খবরে বলা হয়েছে, ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফার তীব্র বিরোধিতা, উত্তর ও মধ্য আমেরিকার কনকাকাফ এবং এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের (এএফসি) আপত্তি, এবং এমনকি শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের মধ্যেও মতবিরোধ দেখা দেওয়ার পর শেষ পর্যন্ত পরিকল্পনাটি বাতিল করতে বাধ্য হলেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো।
প্রথম দিকে ফিফা দাবি করেছিল, এই উদ্যোগের মাধ্যমে বিশ্ব ফুটবলে আরও বেশি অর্থ বিনিয়োগ করা সম্ভব হবে। তবে সমালোচকদের আশঙ্কা ছিল, এর মাধ্যমে বিশ্বকাপের মতো সবচেয়ে মূল্যবান ফুটবল সম্পদের ওপর বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব তৈরি হবে। সেই বিতর্কই শেষ পর্যন্ত পরিকল্পনাটি ভেস্তে দেয়।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) এক বিবৃতিতে ইনফান্তিনো বলেন, সব পক্ষের মতামত মনোযোগ দিয়ে শোনার পর স্পষ্ট হয়েছে, এই প্রকল্প এমন ধরনের বিভাজন তৈরি করেছে, যা সমর্থনের মাত্রা যাই হোক না কেন, আমাদের মূল উদ্দেশ্যের স্বার্থে আর গ্রহণযোগ্য নয়।
ফিফা সভাপতি আরও বলেন, ‘ফুটবলকে ঐক্যবদ্ধ করা ও এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যই সবসময় ছিল আমাদের, আগামী দিনেও তাই থাকবে। তাই এই প্রস্তাব আর এগোবে না। আগামী দিনগুলোতে সব অংশীজনকে আবার একত্রিত করে পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে ফুটবলের উন্নয়ন অব্যাহত রাখার চেষ্টা করব, বিশেষ করে যেসব দেশের সবচেয়ে বেশি সহায়তা প্রয়োজন।’
মাত্র কয়েকদিন আগেই এফএফই প্রকল্প উন্মোচন করে ফিফা। পরিকল্পনা ছিল— পুরুষ ও নারী বিশ্বকাপের পাশাপাশি ক্লাব বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক স্বত্বের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রি করে শত শত কোটি ডলার সংগ্রহ করা হবে।
পরিকল্পনার কেন্দ্রবিন্দু ছিল ‘ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ’ (এফএফই) নামে একটি নতুন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান গঠন। বিশ্বকাপ, ক্লাব বিশ্বকাপসহ ফিফার বড় টুর্নামেন্টগুলোর বাণিজ্যিক ও ইভেন্ট পরিচালনার দায়িত্ব এই প্রতিষ্ঠানের হাতে দেওয়ার কথা ছিল। তবে টুর্নামেন্ট পরিচালনা, নিয়ম প্রণয়ন বা ফুটবল শাসনের ক্ষমতা ফিফার কাছেই থাকবে বলে সংস্থাটি জানিয়েছিল।
ফিফা এই প্রতিষ্ঠানের মূল্য নির্ধারণ করেছিল প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলার। এরপর এর ২০ শতাংশ পর্যন্ত শেয়ার বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রি করে প্রায় ৪ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার বা ৪২০ কোটি ডলার সংগ্রহের পরিকল্পনা ছিল। সেই অর্থ সদস্য দেশগুলোর ফুটবল উন্নয়ন, অবকাঠামো নির্মাণ এবং বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যয় করার কথা বলা হয়।
ফিফা সভাপতি সেই অর্থের একটি বড় অংশ ফিফার ২১১ সদস্য অ্যাসোসিয়েশনের মধ্যে বিতরণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। সদস্য দেশগুলোকে এই প্রকল্পে যুক্ত হওয়ার জন্য ১৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়ও বেঁধে দেওয়া হয়েছিল। অংশগ্রহণকারী প্রতিটি অ্যাসোসিয়েশনকে প্রাথমিকভাবে ২ কোটি ডলার দেওয়ার প্রস্তাব ছিল।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, নিউইয়র্কভিত্তিক বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান থ্রাইভ ইটারনালকে এই পরিকল্পনায় সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অন্যতম হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছিল। পুরো আর্থিক কাঠামো তৈরিতে উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করছিল জেপি মরগ্যান।
ফিফা সভাপতির পরিকল্পনা প্রকাশের পর সবচেয়ে কঠোর অবস্থান নেয় উয়েফা। সংস্থাটির অভিযোগ ছিল, ফুটবলের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদকে বেসরকারি বিনিয়োগের আওতায় আনার অর্থ খেলার মৌলিক চরিত্রকে বাণিজ্যিক স্বার্থের কাছে তুলে দেওয়া। উয়েফা এটিকে ফুটবলের ‘আত্মা বিক্রি’ করার সমতুল্য বলেও মন্তব্য করে।
উয়েফার ৫৫টি সদস্য দেশ জরুরি বৈঠক করে এ পরিকল্পনার বিরুদ্ধে একমত হয়। তারা প্রয়োজনে ফিফার প্রতিযোগিতা বয়কটের হুমকিও দেয়। পরে কনকাকাফ ও এএফসিও শাসনব্যবস্থা ও স্বচ্ছতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে। এতে ফিফার ২১১ সদস্যের অর্ধেকেরও বেশি পরিকল্পনার বিপক্ষে অবস্থান নেয়।
সমালোচকদের প্রধান যুক্তিগুলো ছিল—
ইউরোপীয় ফুটবল ক্লাবগুলোর সংগঠনও একই অভিযোগ করেছে। ৮৫০টির বেশি ক্লাবের প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠনটির দাবি, ফিফার সঙ্গে সমঝোতা স্মারক থাকা সত্ত্বেও এত বড় একটি পরিকল্পনা নিয়ে তাদের সঙ্গে কোনো পরামর্শ করা হয়নি, সংবাদমাধ্যমের খবর থেকেই তারা বিষয়টি জানতে পেরেছে।
বিতর্ক শুধু বাইরেই সীমাবদ্ধ ছিল না। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা কার্লোস কর্দেইরো এ পরিকল্পনার প্রতিবাদে পদত্যাগ করেন। একই সময়ে ফিফার প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা (সিওও) কেভিন লামুরও পরিকল্পনাটির সমালোচনা করেন। এতে সংস্থার শীর্ষ পর্যায়েও বিরল মতবিরোধ প্রকাশ্যে আসে।
ক্রমবর্ধমান বিরোধিতা, সদস্য দেশগুলোর সমর্থন না পাওয়া এবং অভ্যন্তরীণ বিভক্তির কারণে শেষ পর্যন্ত পরিকল্পনাটি আর এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়নি। জিয়ান্নি ইনফান্তিনো ঘোষণা দেন, প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠ সমর্থন না থাকায় প্রস্তাবটি বাস্তবায়ন করা হবে না এবং এখন ফিফার লক্ষ্য হবে আবারও সদস্যদের ঐক্যবদ্ধ করা।
এফএফই পরিকল্পনা ঘিরে সম্ভবত সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক প্রভাব পড়তে পারে ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনোর ভবিষ্যৎ নেতৃত্বে। আগামী মার্চে ফিফা সভাপতি নির্বাচনে তিনি শক্ত অবস্থানে ছিলেন এবং দুই শতাধিক সদস্য অ্যাসোসিয়েশন থেকে সমর্থনের চিঠিও পেয়েছেন।
তবে এখনকার পরিস্থিতি ভিন্ন। বিশ্লেষকরা এএফই চালুর পরিকল্পনা ও তা বাতিলের ঘটনাকে ফিফার বর্তমান নেতৃত্বের জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে দেখছেন। বিশ্বকাপ চলাকালে যুক্তরাষ্ট্রের ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগুনের নিষেধাজ্ঞা স্থগিতের বিতর্কে ইনফান্তিনোর ভূমিকা নিয়ে যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল, তার রেশ এখনো কাটেনি। এর সঙ্গে নতুন এই বিতর্ক যোগ হওয়ায় আগামী মার্চে ফিফা সভাপতি নির্বাচনে তার অবস্থানও প্রশ্নের মুখে পড়েছে।
বিশ্ব ফুটবলের একাধিক কনফেডারেশন এরই মধ্যে ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে সম্ভাব্য প্রার্থী খোঁজার কাজও শুরু করেছে বলে জানা গেছে। ইউরোপীয় ফুটবলের অভ্যন্তরে এখন আলোচনা চলছে, আগামী নির্বাচনে ইনফান্তিনোর বিপরীতে একজন ঐক্যবদ্ধ ইউরোপ-সমর্থিত প্রার্থী দাঁড় করানো যায় কি না।
বিতর্কিত পরিকল্পনাটি প্রত্যাহার করে আপাতত বড় সংকট এড়াল ফিফা। তবু এ ঘটনার পর বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থাটির নেতৃত্বে ইনফান্তিনোর গ্রহণযোগ্যতা কতটা পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।

বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে সুইজারল্যান্ডের ফরোয়ার্ড ব্রিল এম্বোলোকে লাল কার্ড দেখানোর সিদ্ধান্তটি ভুল ছিল বলে আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে ফুটবলের আইন প্রণয়নকারী সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন বোর্ড (আইএফএবি)। ম্যাচ রেফারিদের উদ্দেশে দেওয়া নতুন এক নির্দেশনায় সংস্থাটি জানি
৪ দিন আগে
ঙ্গলবার (২৮ জুলাই) প্যারিসে এফএফএফ সদর দপ্তরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জিদানকে নতুন কোচ হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেন সংস্থাটির সভাপতি ফিলিপ দিয়ালো।
৪ দিন আগে
স্প্যানিশ গণমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ভিনিসিয়ুসের বর্তমান চুক্তির মেয়াদ শেষ হবে ২০২৭ সালের জুনে। নতুন চুক্তি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা চললেও বেতন নিয়ে দুই পক্ষের অবস্থানে বড় ব্যবধান রয়ে গেছে।
৫ দিন আগে
রোনালদোর সঙ্গে এই প্রকল্পে যুক্ত হয়েছেন আর্সেনাল ও ফ্রান্সের সাবেক কিংবদন্তি থিয়েরি অঁরি। একসময় মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বী হলেও এবার তারা একই প্রজেক্টে কাজ করবেন।
৫ দিন আগে