আজ রাতে একটি সভ্যতা সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যাবে: ট্রাম্প

ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম
ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইরান যুদ্ধ। প্রতীকী ছবি

ইরানকে আগের আলটিমেটামকে আবারও মনে করিয়ে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর আগে চুক্তি না হলে বা হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া না হলে ইরানে ‘দোজখ নামিয়ে আনা’ বা ইরানকে ‘সম্পূর্ণ গুঁড়িয়ে দেওয়া’র মতো ভাষা তিনি ব্যবহার করেছিলেন। এবার তিনি বলেছেন, একটি গোটা সভ্যতাই সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যাবে।

মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৬টার কিছু পরে ট্রাম্প তার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে এমন হুমকি দিয়েছেন। বলেছেন, বৈশ্বিক রাজনৈতিক বাস্তবতায় এ রাতটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি রাত।

ট্রাম্প লিখেছেন, ‘আজ রাতে একটি পুরো সভ্যতা বিলীন হয়ে যেতে পারে, যাকে আর কখনো ফিরিয়ে আনা যাবে না। আমি তা চাই না, কিন্তু সম্ভবত সেটিই ঘটবে।’

ট্রাম্প এর আগে গত ২৭ মার্চ ইরানকে ১০ দিনের সময় বেঁধে দিয়ে আলটিমেটাম দেন। তার সে আলটিমেটামের সময়সীমা শেষ হচ্ছে ৬ এপ্রিল। এর মধ্যে ট্রাম্প দফায় দফায় ট্রুথ সোশ্যালে পোস্ট দিয়ে বলেছেন, মঙ্গলবারের মধ্যেই ইরান কোনো চুক্তিতে না এলে বা হরমুজ প্রণালি খুলে না দিলে তাদের ওপর ‘নরক’ নামিয়ে আনবেন।

গত রোববার আরেক পোস্টে ট্রাম্প সরাসরি সময় পর্যন্ত উল্লেখ করে দিয়েছেন। সেখানে তিনি উল্লেখ করেছেন মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় রাত ৮টার (বাংলাদেশ সময় বুধবার ভোর ৬টা) কথা। আর কিছু না লিখলেও তার আগের অন্যান্য পোস্ট ও বক্তব্য থেকে এটি স্পষ্ট হয়, ইরান চুক্তিতে না এলে ঠিক ওই সময়ই হয়তো ইরানে চূড়ান্তভাবে বড় ধরনের আক্রমণ চালানোর ইঙ্গিতই সুস্পষ্ট করেছেন তিনি।

সেই সময়সীমা শেষ হওয়ার ১২ ঘণ্টা আগেই এলো ট্রাম্পের এই ‘সভ্যতা ধ্বংসে’র হুঁশিয়ারি। তবে এবারের যুদ্ধে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ায় দেশটির শাসনব্যবস্থায় পরিবর্তন দেখতে পাচ্ছেন এবং ইরানের নতুন ক্ষমতাসীনরা খামেনির চেয়ে কম কট্টর বলে মনে করছেন তিনি।

ট্রাম্প লিখেছেন, “তবে যেহেতু এখন আমরা সেখানকার শাসনব্যবস্থার ‘পূর্ণাঙ্গ ও চূড়ান্ত পরিবর্তন’ দেখতে পাচ্ছি— যেখানে ভিন্ন ধরনের, আরও বেশি বুদ্ধিমান ও অপেক্ষাকৃত কম উগ্রপন্থি মানসিকতার মানুষদের প্রাধান্য পাচ্ছে— তাই কে জানে, হয়তো দারুণ বৈপ্লবিক কিছুও ঘটে যেতে পারে।”

ট্রাম্প ইরানের শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন দেখতে পেলেও বিশ্লেষকরা হয়তো তার সঙ্গে একমত হবেন না। কেননা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির প্রয়াণের পর ইরান নতুন সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা হিসেবে বেছে নিয়েছে তারই ছেলে মোজতবা খামেনিকে, যিনি বাবার মতোই কট্টরপন্থি আদর্শের ধারক বলে পরিচিত। ফলে ইরানি বিশ্লেষকরা তার দায়িত্ব গ্রহণের পর বলেছেন, দেশটিকে প্রয়াত আলি খামেনির শাসনের ধারাবাহিকতাই বজায় রয়েছে।

ইরানের কপালে কী আছে, তা মঙ্গলবার রাতেই (বাংলাদেশ সময় বুধবার সকাল) স্পষ্ট হয়ে উঠবে বলে পোস্টে উল্লেখ করেন ট্রাম্প। এ রাতকে ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ একটি রাত হিসেবেও অভিহিত করেছেন তিনি।

ট্রাম্প লিখেছেন, ‘আজ রাতেই আমরা জানতে পারব (ইরানের ভাগ্যে কী রয়েছে), যে সময়টি বিশ্বের দীর্ঘ ও জটিল ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এক মুহূর্ত। এর মধ্য দিয়ে শেষ পর্যন্ত দীর্ঘ ৪৭ বছরের দখলদারি, দুর্নীতি ও প্রাণহানির অবসান ঘটবে। সৃষ্টিকর্তা ইরানের মহান জনগণের মঙ্গল করুন!’

ad
ad

বিশ্ব রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে বড় সুবিধা পাবে আইআরজিসির ব্যবসায়িক সাম্রাজ্য

যুক্তরাষ্ট্র ও তার পশ্চিমা মিত্রদের দৃষ্টিতে যাকে একটি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে বিবেচনা করা হয়, সেই ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) এই সম্ভাব্য সমঝোতার মাধ্যমে সবচেয়ে বড় সুবিধাভোগীদের একটিতে পরিণত হতে পারে।

৬ ঘণ্টা আগে

‘বিশ্বাসঘাতক’ ট্রাম্পের ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতায় ক্ষোভ, এককভাবে লড়াইয়ের পক্ষে ইসরায়েলিরা

৭৬ বছর বয়সী নেতানিয়াহুর জন্য পরিস্থিতি রাজনৈতিকভাবেও কঠিন হয়ে উঠেছে। দুর্নীতির মামলায় বিচারাধীন এই নেতা এখন ভোটারদের বোঝানোর চেষ্টা করছেন, দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য এখনও তিনিই সবচেয়ে উপযুক্ত ব্যক্তি।

৬ ঘণ্টা আগে

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি আলোচনা: সুইজারল্যান্ড যাচ্ছেন উইটকফ ও আরাগচি

লেবাননে যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর অন্তর্বর্তীকালীন ইরান যুদ্ধ চুক্তিকে একটি স্থায়ী আঞ্চলিক চুক্তিতে রূপ দেওয়ার প্রচেষ্টা আবারও জোরদার হয়েছে। এই আলোচনার অংশ হিসেবে মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি উভয়েই সুইজারল্যান্ডের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন বলে এক্সিওসের বরাতে জানিয়ে

৮ ঘণ্টা আগে

ইরান ইস্যুই গড়তে পারে জে ডি ভ্যান্সের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ

কূটনৈতিক প্রথা অনুযায়ী এ ধরনের হাই-প্রোফাইল আলোচনায় নেতৃত্ব দেওয়ার কথা ছিল পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর। কিন্তু ট্রাম্প দৃশ্যত রুবিওর পরিবর্তে ভ্যান্সকেই সামনে নিয়ে এসেছেন। ফলে প্রশাসনের ভেতরে রুবিওর প্রকৃত ভূমিকা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

৯ ঘণ্টা আগে