না ফেরার দেশে পেরুর নোবেলজয়ী ঔপন্যাসিক মারিও বার্গাস য়োসা

ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম
মারিও বার্গাস য়োসা [১৯৩৬ - ২০২৫]

২০ শতকের লাতিন আমেরিকান সাহিত্যের অন্যতম নক্ষত্র নোবেলজয়ী ঔপন্যাসিক মারিও বার্গাস য়োসা আর নেই। নিজ পরিবারের সান্নিধ্যেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন তিনি। ২০১০ সালে সাহিত্যে য়োসাকে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত করা হয়।

রোববার (১৩ এপ্রিল) পেরুর রাজধানী লিমায় নিজ বাসভবনে পরিবারের সদস্যদের সান্নিধ্যেই শান্তিপূর্ণভাবে শেষ বিদায় নিয়েছেন মারিও বার্গাস য়োসা। তার বয়স হয়েছিল ৮৯ বছর।

য়োসার ছেলে রাজনৈতিক বিশ্লেষক আলভারো বার্গাস য়োসা এক্স হ্যান্ডেলে এক পোস্টে জানান, পারিবারিকভাবেই তার বাবার শেষকৃত্য করা হবে। কোনো নাগরিক অনুষ্ঠান আয়োজন করা হবে না।

১৯৩৬ সালে পেরুর আরেকুইপাতে জন্মগ্রহণ করেন নোবেলবিজয়ী এ ঔপন্যাসিক। দরিদ্র পরিবারে তার বেড়ে ওঠা ছিল ব্যাপক প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে। ধীরে ধীরে যখন বড় হন, প্রত্যক্ষ করেন পেরুর রাজনৈতিক টালমাটাল পরিবেশও।

এর মধ্যেই ১৯৪৮ সালে স্বৈরশাসক ম্যানুয়েল অদ্রিয়ার উত্থান ঘটে। সেই স্বৈরশাসন গভীরভাবে প্রভাব ফেলে কৈশোর থেকে তারুণ্যের দিকে ধাবমান য়োসার মধ্যে। ১৯৬৩ সালে তার প্রথম যে উপন্যাস ‘দ্য টাইম অব দ্য হিরো’ প্রকাশিত হয়, সেটিও ছিল তার নিজের অভিজ্ঞতার উপর ভিত্তি করেই। বিষয়বস্তু ছিল এক নিষ্ঠুর মিলিটারি একাডেমিতে কিশোরদের টিকে থাকার সংগ্রামের গল্প।

য়োসার লেখা ‘ডেথ ইন দ্য আন্দিজ’, ‘দ্য ওয়ার অব দ্য এন্ড অব দ্য ওয়ার্ল্ড’, ‘আন্ট জুলিয়া অ্যান্ড দ্য স্ক্রিপ্টরাইটার’-এর মতো সাড়া জাগানো সব উপন্যাসগুলো কেবল লাতিন নয়, বিশ্বসাহিত্যেরই অমূল্য সম্পদে পরিণত হয়েছে। নোবেল কমিটি তাকে পুরস্কৃত করার কারণ হিসেবে লিখেছিল, লেখনীর মাধ্যমে ক্ষমতা কাঠামোর মানচিত্র তুলে ধরা এবং ব্যক্তির প্রতিরোধ, বিদ্রোহ ও পরাজয়ের মর্মস্পর্শী চিত্র তুলে ধরার জন্য তাকে এই পুরস্কারে ভূষিত করা হলো।

লাতিন আরও সাহিত্যের মতো য়োসাও সমাজতান্ত্রিক ধারণায় দীক্ষিত হয়েছিলেন। পরে অবশ্য রক্ষণশীল মতাদর্শ ধারণ করেন তিনি। ১৯৯০ সালে তিনি পেরুর প্রেসিডেন্ট নির্বাচনেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। দ্বিতীয় দফার ভোটে তিনি আলবের্তো ফুজিমোরির কাছে পরাজিত হন।

নির্বাচনে হেরে যাওয়ার পরপরই স্পেনে চলে যান মারিও বার্গাস য়োসা। বছর তিনেক পরে তিনি স্পেনের নাগরিকত্বও নেন। ধারণা করা হয়, নির্বাচনে পরাজয়ের হতাশা থেকেই তিনি পেরু ত্যাগ করেন।

ad
ad

বিশ্ব রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনা নিয়ে ধোঁয়াশা, হরমুজে জাহাজে হামলায় বাড়ল উদ্বেগ

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পাঁচ মাস ধরে চলা যুদ্ধের অবসান ঘটাতে সম্ভাব্য আলোচনা নিয়ে দুই দেশের পরস্পরবিরোধী বক্তব্য নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। এর মধ্যেই হরমুজ প্রণালির কাছে একটি পণ্যবাহী জাহাজে হামলার ঘটনায় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যপথের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

২০ ঘণ্টা আগে

রেকর্ড দাবদাহে বিপর্যস্ত দক্ষিণ কোরিয়া, ১৬ জনের প্রাণহানি

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রেসিডেন্ট লি দাবদাহে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য সহায়তা বাড়ানোর নির্দেশ দেন।

২০ ঘণ্টা আগে

ইরান ইস্যুতে এখনো যে বড় ভুলটি করেননি ট্রাম্প

কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ব্যর্থ হতে থাকলে ট্রাম্পের সামনে কয়েকটি কঠিন বিকল্প রয়েছে। তিনি কি এখনকার মতো ফলহীন বিমান হামলা, নড়বড়ে যুদ্ধবিরতি এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের সামুদ্রিক অবরোধের ধারাবাহিকতা বজায় রাখবেন, যা যুদ্ধের কোনো স্থায়ী সমাধান দিচ্ছে না?

২১ ঘণ্টা আগে

সমঝোতায় আসাটাই শেষ সুযোগ, ইরানকে ট্রাম্পের আলটিমেটাম

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো ধরনের সরাসরি আলোচনা চলছে না—ইরানের পক্ষ থেকে এমন বক্তব্য আসার পরই ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর জবাবে গতকাল সোমবার (৩ আগস্ট) নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই হুঁশিয়ারি দেন।

১ দিন আগে