নেতানিয়াহুকে ‘পাগল’ বলেছেন— নিজেই জানালেন ট্রাম্প

ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম
বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু (বাঁয়ে) ও ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত বছরের ডিসেম্বরে ফ্লোরিডায় এক সংবাদ সম্মেলনের প্রাক্কালে। ছবি: রয়টার্স

লেবাননে চলমান সংঘাতের অবসান ও ইরানের সঙ্গে বৈরী সম্পর্কের ইতি টানতে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় যখন আলোচনা চলছিল, ঠিক তখনই ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে এক ফোনালাপে তার সঙ্গে উচ্চবাচ্য ও ‘পাগল’ বলে সম্বোধন করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প নিজেই এই তথ্য জানিয়েছেন।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়, বুধবার (৩ জুন) ‘পড ফোর্স ওয়ান’ পডকাস্টকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের একটি রিপোর্টের বরাত দিয়ে ট্রাম্পের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল— তিনি সত্যিই ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীকে অত্যন্ত কড়া ভাষায় ‘পাগল’ (Effing crazy) বলেছিলেন কি না এবং তার বিরুদ্ধে অকৃতজ্ঞতার অভিযোগ এনেছিলেন কি না।

ট্রাম্প এর জবাবে সরাসরি বলেন, ‘হ্যাঁ, আমি বলেছিলাম।’ ওই সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প অবশ্য কিছুটা নরম সুরে বলেন, ‘আমি ঠিক রাগান্বিত ছিলাম, তা বলব না। তবে লেবাননের সঙ্গে তার (নেতানিয়াহু) এই অনবরত যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার মনোভাব দেখে আমি কিছুটা ক্ষুব্ধ ও বিরক্ত হয়েছিলাম।’

ট্রাম্প অবশ্য আরও দাবি করেন, এ ঘটনার পরও নেতানিয়াহুর সঙ্গে তার ব্যক্তিগত সম্পর্ক খুবই ভালো।

এর আগে অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বলা হয়েছিল, গত সোমবার (১ জুন) এক ফোনালাপে নেতানিয়াহুর উদ্দেশে ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘তুমি একটা আস্ত পাগল। আমি যদি না থাকতাম তবে তুমি এতদিনে কারাগারে থাকতে। আমি তোমার পিঠ বাঁচাচ্ছি। অথচ এ যুদ্ধের কারণে এখন সবাই তোমাকে ঘৃণা করে। এ পরিস্থিতির জন্য সবাই এখন ইসরায়েলকে ঘৃণা করছে।’

এ বিষয়ে বুধবারের সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘ফোনালাপের একপর্যায়ে আমি বলেছিলাম— বিবি (নেতানিয়াহুর ডাকনাম), আমাদের এবার এটা থামাতে হবে। আমাদের এই যুদ্ধ বন্ধ করতে হবে।’

অ্যাক্সিওসের ওই প্রতিবেদন প্রকাশের পর এখন পর্যন্ত ইসরায়েলি কর্মকর্তারা প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেননি। তবে ইসরায়েলের স্থানীয় গণমাধ্যমগুলো কিছু সূত্রের বরাত দিয়ে দাবি করেছে, দুই নেতার এই উত্তেজনাকে যতটা বড় করে দেখা হচ্ছে, বিষয়টি আসলে ততটা গুরুতর নয়। অন্যদিকে ট্রাম্পের এই স্বীকারোক্তির পর নেতানিয়াহুর কার্যালয় থেকেও কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানানো হয়েছে।

গত ফেব্রুয়ারি মাসের শেষের দিকে ট্রাম্প ও নেতানিয়াহু যৌথভাবে ইরানের বিরুদ্ধে যে যুদ্ধ শুরু করেছিলেন, তা অবসানের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো চুক্তিতে আসতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে তেহরান। ইরানের স্পষ্ট বক্তব্য, এই যুদ্ধবিরতি চুক্তির আওতায় লেবাননকেও অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। গত মার্চ মাসে ইরান ঘনিষ্ঠ সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহকে দমনের লক্ষ্যে লেবাননে স্থল অভিযান শুরু করে ইসরায়েল।

গত সোমবার মার্কিন মধ্যস্থতায় একটি সমঝোতা ঘোষণা করা হয়, যার অধীনে ইসরায়েল বৈরুতের হিজবুল্লাহ নিয়ন্ত্রিত দক্ষিণ শহরতলিতে হামলা চালানো থেকে বিরত থাকতে সম্মত হয় এবং হিজবুল্লাহও তাদের রকেট হামলা বন্ধ করতে রাজি হয়। কিন্তু এ সমঝোতার পরও মাঠপর্যায়ে সহিংসতা থামেনি।

লেবাননের নিরাপত্তা সূত্রগুলো জানিয়েছে, বুধবারও দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় অন্তত ছয়জন নিহত হয়েছেন এবং বৈরুতের ঠিক দক্ষিণে একটি গাড়িকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। অন্যদিকে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী দাবি করেছে, হিজবুল্লাহর ছোড়া একটি ড্রোন তারা আকাশেই ধ্বংস করেছে।

‘পড ফোর্স ওয়ান’ পডকাস্টকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্পের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল— নেতানিয়াহু তাকে ‘প্রতারণা’ বা কৌশলে ইরান আক্রমণে প্ররোচিত করেছেন কি না। এই প্রশ্নে বেশ ক্ষুব্ধ হন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি তার সমালোচকদের ‘শত্রু’ হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, ‘ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধটা আমি নিজেই শুরু করেছি। আমি এটা শুরু করেছি কারণ আমরা কোনোভাবেই ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্রের মালিক হতে দিতে পারি না।’

ট্রাম্প আরও বলেন, ‘এই বিষয়টি ইসরায়েলের সুরক্ষার সঙ্গে জড়িত। কারণ ইরান পরমাণু অস্ত্র পেলে সম্ভবত ইসরায়েলই প্রথম আক্রান্ত হতো। তখন ইসরায়েল নামের কোনো রাষ্ট্রের অস্তিত্বই থাকত না। আমি পরিষ্কার বলে দিচ্ছি, আমি যদি না থাকতাম, তবে আজ মানচিত্রে ইসরায়েল থাকত না।’

ট্রাম্প তার আগের মেয়াদের সিদ্ধান্তের পক্ষে যুক্তি দিয়ে বলেন, ২০১৫ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এবং বিশ্বের অন্য পরাশক্তিগুলোর সঙ্গে ইরানের যে পারমাণবিক চুক্তি হয়েছিল, তা থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে বের করে নিয়ে তিনি সঠিক কাজই করেছিলেন। ওই চুক্তির আওতায় তেহরান নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিনিময়ে তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করতে রাজি হয়েছিল।

২০১৮ সালে ট্রাম্প ওই চুক্তি থেকে বের হয়ে যাওয়ার পর ইরান পুনরায় তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি জোরদার করে এবং প্রায় পারমাণবিক অস্ত্রমানের কাছাকাছি সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের বিশাল মজুত গড়ে তোলে। ট্রাম্প এখন ইরানকে সেই মজুত ত্যাগ করার দাবি জানাচ্ছেন। তবে ট্রাম্পের সমালোচকদের মতে, ইরান এখন পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির অনেক কাছাকাছি পৌঁছে গেছে এবং ট্রাম্পের জন্য এখন আগের চেয়ে ভালো কোনো চুক্তিতে পৌঁছানো বেশ কঠিন হবে।

ইসরায়েল বা দেশটির নেতৃত্ব নিয়ে ট্রাম্পের মুখ থেকে এমন কড়া বা আপত্তিকর ভাষা এবারই প্রথম নয়। এর আগেও গত বছর এক জনসভায় প্রকাশ্যে ক্ষোভ প্রকাশ করে ট্রাম্প বলেছিলেন, ইসরায়েল এবং ইরান— কোনো পক্ষই আসলে কী করছে, তা তারা নিজেরাও জানে না।

ad
ad

বিশ্ব রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

দিল্লির হোটেলে ভয়াবহ আগুনে প্রাণ গেল ২১ জনের, বেশিরভাগই বিদেশি

ভারতের দিল্লি নগরীর এক আবাসিক হোটেল ও নিচে থাকা রেস্তোরাঁয় আগুন লেগে অন্তত ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার স্থানীয় সময় সকাল ৮টা ৫০ মিনিটের দিকে মালভিয়া নগরের একটি পাঁচতলা ভবনের বেজমেন্টের লেমন গ্রিন রেস্তোরাঁয় আগুনের সূত্রপাত হয়। তবে আগুন লাগার কারণ এখনো স্পষ্ট করা হয়নি।

৯ ঘণ্টা আগে

বাংলাদেশসহ ৬০ দেশের পণ্যে অতিরিক্ত ১০-১২.৫% শুল্কারোপের প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্রের

প্রস্তাবিত এই শুল্ক ও অন্যান্য প্রতিকারমূলক ব্যবস্থার বিষয়ে আগামী ৬ জুলাই পর্যন্ত জনসাধারণের মতামত ও মন্তব্য গ্রহণ করবে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধির কার্যালয় (ইউএসটিআর)। আর এই বিষয়ে একটি গণশুনানি অনুষ্ঠিত হবে আগামী ৭ জুলাই।

১২ ঘণ্টা আগে

ইরানে দফায় দফায় মার্কিন হামলা, পালটা আঘাত তেহরানের

যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন স্বার্থ ও মিত্র দেশগুলোর বিরুদ্ধে ইরানের কথিত হামলার চেষ্টার জবাবে কেশম দ্বীপে এ অভিযান চালানো হয়। সেন্টকমের দাবি, অভিযানে একটি ইরানি সামরিক নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। পাশাপাশি উপসাগরীয় অঞ্চলে বেসামরিক জাহাজের দিক

১৫ ঘণ্টা আগে

মাশহাদে দাফন, ৩ শহরে আলি খামেনির জানাজায় কোটি মানুষের সমাগমের প্রস্তুতি

তাওয়াকোলিজাদেহ আরও জানান, রাজধানী তেহরানসহ কোম ও মাশহাদ শহরে জানাজার পর মাশহাদ শহরে দাফন করা হবে আলি খামেনিকে। ইরানের অন্যতম ধর্মীয় তীর্থস্থান এই শহরেই শিয়া মতাবলম্বীদের অন্যতম ইমাম আলি ইবনে মুসা ওরফে ইমাম রেজা (আ.)-এর সমাধি অবস্থিত।

১ দিন আগে