
ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম

১৯৯৮ সালে ভারত ও পাকিস্তান পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্রে পরিণত হয়। এরপর ১৯৯৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারি বাজপেয়ি “লাহোর বাস যাত্রা”র মাধ্যমে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের সঙ্গে শান্তি প্রতিষ্ঠার এক ঐতিহাসিক উদ্যোগ নেন। দুই দেশের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে উঠবে বলেই সবাই আশাবাদী হয়েছিল।
কিন্তু এই আশার মধ্যেই ঘটে যায় বিপরীত ঘটনা। পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর কিছু অংশ এবং ‘মুজাহিদিন’ নামধারী অনুপ্রবেশকারীরা চুপিচুপি ভারতীয় ভূখণ্ডে ঢুকে পড়ে এবং জম্মু-কাশ্মীরের কার্গিল অঞ্চলের স্ট্র্যাটেজিক পাহাড়ি এলাকাগুলো দখল করে নেয়।
কার্গিল হচ্ছে জম্মু ও কাশ্মীর রাজ্যের একটি পাহাড়ি এলাকা, যার উচ্চতা গড়ে ১৫,০০০ থেকে ১৮,০০০ ফুট। এটি লাদাখের খুব কাছে এবং কৌশলগত দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এখান দিয়ে সিয়াচেন গ্লেসিয়ার ও লেহ অঞ্চলের সঙ্গে সংযোগ রক্ষা করা হয়। মূলত মে মাসে যখন বরফ গলতে শুরু করে, তখন পাকিস্তানের সেনারা এই সুযোগে ভারতের পাহাড়ি পোস্টগুলোতে ঢুকে পড়ে।
পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর তৎকালীন প্রধান ছিলেন জেনারেল পারভেজ মোশাররফ। তাঁর পরিকল্পনাই ছিল এই অনুপ্রবেশ। তারা ধারণা করেছিল, ভারত প্রথমে বুঝতেই পারবে না যে কারা পাহাড় দখল করেছে। পাকিস্তান তাদের সেনাদের ‘মুজাহিদিন’ বলে চালানোর চেষ্টা করেছিল। এই পরিকল্পনার মূল উদ্দেশ্য ছিল কাশ্মীর ইস্যুকে আবার আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরা এবং সিয়াচেন গ্লেসিয়ারের দিকে ভারতের সংযোগ কেটে দেওয়া।
মে মাসের শুরুতে ভারতীয় প্যাট্রোলিং দল হঠাৎ করে পাহাড়ি কিছু পোস্টে অনুপ্রবেশকারীদের দেখা পায়। শুরু হয় গোলাগুলি। প্রথমদিকে ভারতীয় সেনারা ধারণা করেছিল, তারা কেবলমাত্র সন্ত্রাসীদের মোকাবিলা করছে। কিন্তু পরে জানা যায়, এগুলো ছিল আসলে পাকিস্তানের রীতিমতো প্রশিক্ষিত সেনা এবং পদাতিক বাহিনী।
যুদ্ধ দ্রুত তীব্র আকার ধারণ করে। ভারতীয় সেনা তিনটি প্রধান দিকে অভিযান চালায়—ড্রাস, বাতলিক এবং টাইগার হিল। প্রত্যেকটি জায়গাই ছিল চরম উচ্চতায় এবং প্রতিকূল আবহাওয়ায়। যুদ্ধটা ছিল প্রায় সম্পূর্ণরূপে পাহাড়ের চূড়ায়—যেখানে বাতাসে অক্সিজেন কম, পা ফেলার জায়গা নেই, আর গুলি চললে নিচে পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে সবসময়।
ভারতের প্রতিক্রিয়া ছিল সুসংগঠিত এবং ধাপে ধাপে। ২৬ মে ১৯৯৯ সালে ভারত ‘অপারেশন বিজয়’ শুরু করে। ভারতীয় বায়ুসেনাও পরে যুক্ত হয় ‘অপারেশন সাফেদ সাগর’-এর মাধ্যমে। তারা পাহাড়ের চূড়াগুলোতে বোমা ফেলে এবং শত্রুর অবস্থানগুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানায়।
ভারতীয় সেনাবাহিনীর বিভিন্ন রেজিমেন্ট এই যুদ্ধে অংশ নেয়। ক্যাপ্টেন বিক্রম বাত্রা, লেফটেন্যান্ট অনুজ নায়ার, গ্রেনেডিয়ার যোগেন্দ্র সিং যাদব, ক্যাপ্টেন মনোজ পান্ডে সহ অনেক সাহসী অফিসার ও জওয়ান তাঁদের জীবন উৎসর্গ করেন।
এই যুদ্ধে টাইগার হিল ছিল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং কৌশলগত এলাকা। পাকিস্তানি সেনারা এই চূড়াটিতে শক্তভাবে অবস্থান নিয়েছিল। একাধিক ব্যর্থ প্রচেষ্টার পর ভারতীয় সেনাবাহিনী অবশেষে ৪ জুলাই টাইগার হিল পুনরুদ্ধার করে। এটি ছিল পুরো যুদ্ধে ভারতের এক বিশাল মনোবল-উদ্দীপক বিজয়।
যখন বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে, তখন বিশ্বজনমত পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যায়। কারণ, পাকিস্তান ‘লাহোর ঘোষণাপত্র’ স্বাক্ষর করার পরেও গোপনে ভারতীয় ভূখণ্ডে অনুপ্রবেশ করেছিল। যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, এবং জাতিসংঘের পক্ষ থেকে পাকিস্তানের এই পদক্ষেপের নিন্দা জানানো হয়। শেষ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক চাপে পড়ে পাকিস্তান তাদের সেনা সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়।
কার্গিল যুদ্ধ প্রায় দুই মাস স্থায়ী হয়। আনুষ্ঠানিকভাবে জুলাই মাসের মাঝামাঝি যুদ্ধ শেষ হয়। এতে ভারতের প্রায় ৫০০ সেনা শহীদ হন এবং পাকিস্তানের হতাহতের সংখ্যা ছিল আরও বেশি। ভারত তার জমি পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হয় এবং পাকিস্তানকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে মুখ রক্ষা করতে কষ্ট হয়।
এই যুদ্ধ ভারতের জনগণের মধ্যে দেশপ্রেমের জোয়ার এনে দেয়। ভারতীয় সেনাবাহিনীর সাহসিকতা এবং ত্যাগ অনুপ্রেরণার প্রতীক হয়ে ওঠে। ২৬ জুলাই দিনটি প্রতি বছর “কার্গিল বিজয় দিবস” হিসেবে পালিত হয়।

১৯৯৮ সালে ভারত ও পাকিস্তান পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্রে পরিণত হয়। এরপর ১৯৯৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারি বাজপেয়ি “লাহোর বাস যাত্রা”র মাধ্যমে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের সঙ্গে শান্তি প্রতিষ্ঠার এক ঐতিহাসিক উদ্যোগ নেন। দুই দেশের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে উঠবে বলেই সবাই আশাবাদী হয়েছিল।
কিন্তু এই আশার মধ্যেই ঘটে যায় বিপরীত ঘটনা। পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর কিছু অংশ এবং ‘মুজাহিদিন’ নামধারী অনুপ্রবেশকারীরা চুপিচুপি ভারতীয় ভূখণ্ডে ঢুকে পড়ে এবং জম্মু-কাশ্মীরের কার্গিল অঞ্চলের স্ট্র্যাটেজিক পাহাড়ি এলাকাগুলো দখল করে নেয়।
কার্গিল হচ্ছে জম্মু ও কাশ্মীর রাজ্যের একটি পাহাড়ি এলাকা, যার উচ্চতা গড়ে ১৫,০০০ থেকে ১৮,০০০ ফুট। এটি লাদাখের খুব কাছে এবং কৌশলগত দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এখান দিয়ে সিয়াচেন গ্লেসিয়ার ও লেহ অঞ্চলের সঙ্গে সংযোগ রক্ষা করা হয়। মূলত মে মাসে যখন বরফ গলতে শুরু করে, তখন পাকিস্তানের সেনারা এই সুযোগে ভারতের পাহাড়ি পোস্টগুলোতে ঢুকে পড়ে।
পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর তৎকালীন প্রধান ছিলেন জেনারেল পারভেজ মোশাররফ। তাঁর পরিকল্পনাই ছিল এই অনুপ্রবেশ। তারা ধারণা করেছিল, ভারত প্রথমে বুঝতেই পারবে না যে কারা পাহাড় দখল করেছে। পাকিস্তান তাদের সেনাদের ‘মুজাহিদিন’ বলে চালানোর চেষ্টা করেছিল। এই পরিকল্পনার মূল উদ্দেশ্য ছিল কাশ্মীর ইস্যুকে আবার আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরা এবং সিয়াচেন গ্লেসিয়ারের দিকে ভারতের সংযোগ কেটে দেওয়া।
মে মাসের শুরুতে ভারতীয় প্যাট্রোলিং দল হঠাৎ করে পাহাড়ি কিছু পোস্টে অনুপ্রবেশকারীদের দেখা পায়। শুরু হয় গোলাগুলি। প্রথমদিকে ভারতীয় সেনারা ধারণা করেছিল, তারা কেবলমাত্র সন্ত্রাসীদের মোকাবিলা করছে। কিন্তু পরে জানা যায়, এগুলো ছিল আসলে পাকিস্তানের রীতিমতো প্রশিক্ষিত সেনা এবং পদাতিক বাহিনী।
যুদ্ধ দ্রুত তীব্র আকার ধারণ করে। ভারতীয় সেনা তিনটি প্রধান দিকে অভিযান চালায়—ড্রাস, বাতলিক এবং টাইগার হিল। প্রত্যেকটি জায়গাই ছিল চরম উচ্চতায় এবং প্রতিকূল আবহাওয়ায়। যুদ্ধটা ছিল প্রায় সম্পূর্ণরূপে পাহাড়ের চূড়ায়—যেখানে বাতাসে অক্সিজেন কম, পা ফেলার জায়গা নেই, আর গুলি চললে নিচে পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে সবসময়।
ভারতের প্রতিক্রিয়া ছিল সুসংগঠিত এবং ধাপে ধাপে। ২৬ মে ১৯৯৯ সালে ভারত ‘অপারেশন বিজয়’ শুরু করে। ভারতীয় বায়ুসেনাও পরে যুক্ত হয় ‘অপারেশন সাফেদ সাগর’-এর মাধ্যমে। তারা পাহাড়ের চূড়াগুলোতে বোমা ফেলে এবং শত্রুর অবস্থানগুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানায়।
ভারতীয় সেনাবাহিনীর বিভিন্ন রেজিমেন্ট এই যুদ্ধে অংশ নেয়। ক্যাপ্টেন বিক্রম বাত্রা, লেফটেন্যান্ট অনুজ নায়ার, গ্রেনেডিয়ার যোগেন্দ্র সিং যাদব, ক্যাপ্টেন মনোজ পান্ডে সহ অনেক সাহসী অফিসার ও জওয়ান তাঁদের জীবন উৎসর্গ করেন।
এই যুদ্ধে টাইগার হিল ছিল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং কৌশলগত এলাকা। পাকিস্তানি সেনারা এই চূড়াটিতে শক্তভাবে অবস্থান নিয়েছিল। একাধিক ব্যর্থ প্রচেষ্টার পর ভারতীয় সেনাবাহিনী অবশেষে ৪ জুলাই টাইগার হিল পুনরুদ্ধার করে। এটি ছিল পুরো যুদ্ধে ভারতের এক বিশাল মনোবল-উদ্দীপক বিজয়।
যখন বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে, তখন বিশ্বজনমত পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যায়। কারণ, পাকিস্তান ‘লাহোর ঘোষণাপত্র’ স্বাক্ষর করার পরেও গোপনে ভারতীয় ভূখণ্ডে অনুপ্রবেশ করেছিল। যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, এবং জাতিসংঘের পক্ষ থেকে পাকিস্তানের এই পদক্ষেপের নিন্দা জানানো হয়। শেষ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক চাপে পড়ে পাকিস্তান তাদের সেনা সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়।
কার্গিল যুদ্ধ প্রায় দুই মাস স্থায়ী হয়। আনুষ্ঠানিকভাবে জুলাই মাসের মাঝামাঝি যুদ্ধ শেষ হয়। এতে ভারতের প্রায় ৫০০ সেনা শহীদ হন এবং পাকিস্তানের হতাহতের সংখ্যা ছিল আরও বেশি। ভারত তার জমি পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হয় এবং পাকিস্তানকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে মুখ রক্ষা করতে কষ্ট হয়।
এই যুদ্ধ ভারতের জনগণের মধ্যে দেশপ্রেমের জোয়ার এনে দেয়। ভারতীয় সেনাবাহিনীর সাহসিকতা এবং ত্যাগ অনুপ্রেরণার প্রতীক হয়ে ওঠে। ২৬ জুলাই দিনটি প্রতি বছর “কার্গিল বিজয় দিবস” হিসেবে পালিত হয়।

এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে আমিরাত হবে প্রথম দেশ, যারা এই সরাসরি সংঘাতে যুক্ত হবে।
৪ ঘণ্টা আগে
ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, যুদ্ধ-পরবর্তী পরিস্থিতিতে এই জোট থেকে যুক্তরাষ্ট্র ঠিক কী সুবিধা পাচ্ছে, তা গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা প্রয়োজন। রুবিওর ভাষায়, 'এই সম্পর্ক আমাদের জন্য কতটা কার্যকর—তা নতুন করে ভাবার সময় এসেছে।'
৫ ঘণ্টা আগে
রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে এই দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে কারিগরি ত্রুটিকে সন্দেহ করা হচ্ছে। মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, বিমানে কোনো বাহ্যিক আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি—অর্থাৎ ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন বা পাখির সঙ্গে সংঘর্ষের সম্ভাবনা নেই। ক্রিমিয়ার দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় বিমানটি বিধ্বস্ত হয়।
৫ ঘণ্টা আগে
সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরাহতে ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পড়ে এক বাংলাদেশি প্রবাসী নিহত হয়েছেন। বুধবার (১ এপ্রিল) দেশটির সরকারি বার্তা সংস্থা ডব্লিউএএম এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। তবে নিহত ওই বাংলাদেশির নাম-পরিচয় এখনও প্রকাশ করা হয়নি।
৫ ঘণ্টা আগে