
টিম রাজনীতি ডটকম

ইরানের তেহরানে রেড ক্রিসেন্ট শান্তি ভবনের আশেপাশের এলাকাকে লক্ষ্যবস্তু করে হামলা চালানো হয়েছে।
ইরানি রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির টেলিগ্রাম চ্যানেলে বলা হয়েছে, তেহরানের খাতাম আল আনবিয়া, মোতাহারি এবং বেহজিস্তা হাসপাতালের কাছেও হামলা চালানো হয়েছে।
ইরানের গোয়েন্দা পুলিশের সংস্থা ফারাজার প্রধান গোলামরেজা রেজাইয়ান নিহত হয়েছেন।
রেজাইয়ান এর আগে ইমিগ্রেশন ও ফরেন ন্যাশনাল পুলিশ, চিফ অব ইন্টেলিজেন্স এবং পাবলিক সিকিউরিটি পুলিশের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ইরানের পুলিশ বাহিনীর ডিরেক্টর অব জেনারেল ইন্সপেক্টরের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
ফার্স নিউজ এজেন্সির বরাত দিয়ে ইরানিয়ান সংবাদ মাধ্যমগুলো এ খবর জানিয়েছে।
এ ছাড়া বিস্তারিত আর কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব স্টাফ আবদুলরহিম মৌসাভি নিহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে ইরানের রাষ্ট্রায়াত্ত টেলিভিশন। খবরে বলা হয়েছে, আরও কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কমান্ডারের সঙ্গে মৌসাভি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় নিহত হয়েছেন।
খবরে বলা হয়েছে, শনিবারের ওই হামলায় নিহতদের তালিকায় মৌসাভির নামের সঙ্গে আরও রয়েছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী আজিজ নাসিরজাদে, বিপ্লবী গার্ডের কমান্ডার মোহাম্মদ পাকপুর ও সুপ্রিম ডিফেন্স কাউন্সিলের চেয়ারম্যান আলী শামখানি।
ইরানি টেলিভিশনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, তারা একটি প্রতিরক্ষা পরিষদের বৈঠকের সময় নিহত হন।

তেহরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যৌথ হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। তার মৃত্যুর খবরে ইরান পালটা হামলা ও প্রতিশোধের ঘোষণা দিলেও দেশটির ক্ষমতার পালাবদল নিয়ে গভীর অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে— আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির উত্তরসূরি হবেন কে?
বর্তমানে আলি খামেনির সম্ভাব্য উত্তরসূরিদের তালিকায় তার ঘনিষ্ঠজনদের নাম রয়েছে। আবার ইরান থেকে নির্বাসিত অনেক নেতাই রয়েছেন, যারা রাজনৈতিক পটপরিবর্তনে ইরানের ক্ষমতাবলয়ে প্রবেশের সুযোগ খুঁজছেন। উপযুক্ত পরিস্থিতিতে তারা সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা না হতে পারলেও ইরানের রাষ্ট্রকাঠামো বদলে রাষ্ট্রীয় নেতৃত্বে উঠে আসতে পারেন।

বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় ইরানের শাসন পদ্ধতি বেশ আলাদা। সেখানে নির্বাচনের মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট বা সংসদ সদস্যরা নির্বাচিত হলেও দেশের মূল ক্ষমতা থাকে সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতার হাতে। বলতে গেলে ধর্মীয় নেতাই সবকিছুর নেপথ্যে থেকে দেশটি পরিচালনা করে থাকেন।
১৯৭৯ সালে ইরানে ইসলামি বিপ্লবের পর ইরানের প্রথম সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতার পদে আসীন আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খামেনির ঘনিষ্ঠ ছিলেন আলি খামেনি। ১৯৮৯ সালে রুহুল্লাহর মৃত্যুর পর তিনিই ইরানের সর্বোচ্চ নেতার আসনে বসেন। তখন থেকে তিনিই ইরানের সবচেয়ে প্রভাবশালী নেতা।
কিন্তু কে এই আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি? কীভাবেই বা তিনি ইরানের নেতৃত্বের চূড়ায় উঠলেন? বিস্তারিত পড়ুন এখানে।
সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুর প্রতিশোধ নিতে ইরানকে হামলা করতে নিষেধ করেছেনমার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বলেছেন, ইরান যদি এমন হামলা চালায় তাহলে ইরানের ওপরও ‘নজিরবিহীন’ হামলা চালানো হবে।
রোববার (১ মার্চ) নিজের ট্রুথ সোশ্যাল অ্যাকাউন্টের এক পোস্টে এমন হুমকি দিয়েছেন ট্রাম্প। এতে তিনি সতর্ক করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে যেন হামলা চালানো না হয়।
ট্রাম্প লিখেছেন, ‘ইরান মাত্রই জানিয়েছে, তারা আজ প্রচণ্ড আঘাত হানবে, যা তারা আগে কখনো করেনি। তাদের সেটা না করাই ভালো। তারপরও তারা যদি সেটা করে, তাহলে আমরা তাদের এমন এক শক্তি দিয়ে আঘাত করব যা আগে কখনো দেখা যায়নি!’
এর আগে ইরানের বিপ্লবী গার্ড যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটি ও ইসরায়েলে হামলার হুমকি দেয়। বিপ্লবী গার্ড বলেছে, ‘অধিকৃত অঞ্চল ও আমেরিকান সন্ত্রাসী ঘাঁটি লক্ষ্য করে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর ইতিহাসে সবচেয়ে ধ্বংসাত্মক আক্রমণাত্মক অভিযান আর কিছুক্ষণের মধ্যে শুরু হবে।’

ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুকে স্বাগত জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন দেশটির শেষ শাহ-এর (রাজা) নির্বাসিত পুত্র রেজা শাহ পাহলভি।
ওয়াশিংটন পোস্টে এক লেখায় তিনি প্রথমেই ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানান। কারণ ইরানের জনগণের উদ্দেশে ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘তোমাদের স্বাধীনতার সময় এসে গেছে।’
পাহলভি লিখেছেন, প্রায় অর্ধশতাব্দী ধরে ইসলামি প্রজাতন্ত্রটি প্রতিবেশী দেশগুলোর সার্বভৌমত্ব ক্ষুণ্ন করেছে, বিশ্বজুড়ে সংঘাত উসকে দিয়েছে এবং পারমাণবিক অস্ত্র ও সেগুলো বহনে সক্ষম দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির চেষ্টা চালিয়ে গেছে।
ইরানের নির্বাসিত এ নেতা আরও বলেন, ইসলামি প্রজাতন্ত্রের সবচেয়ে ‘জঘন্য অপরাধ’ সংঘটিত হয়েছে দেশের ভেতরেই, যার মধ্যে আছে জানুয়ারিতে বিক্ষোভ দমনের সময় হাজারো প্রতিবাদকারী নিহত হওয়ার ঘটনা।
পাহলভির মতে, ইরানের ভবিষ্যৎ পথচলায় একটি নতুন সংবিধান প্রণয়ন ও গণভোটের মাধ্যমে তা অনুমোদন করা উচিত। এরপর প্রয়োজন ‘আন্তর্জাতিক তত্ত্বাবধানে’ একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন।
পাহলভি লিখেছেন, ‘ইতিহাস তার মোড় পরিবর্তনের মুহূর্ত খুব কমই আগাম ঘোষণা করে। কিন্তু এমন সময় আসে, যখন সাহস, নেতৃত্ব এবং সংহতি জাতির গতিপথ বদলে দিতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় দেশটির ইসলামিক রেভ্যুলেশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) কমান্ডার-ইন-চিফ মোহাম্মদ পাকপুর ও ডিফেন্স কাউন্সিলের সেক্রেটারি আলি শামখানি মারা গেছেন।
রোববার (১ মার্চ) ইরানের সরকারি বার্তা সংস্থা ইরনা এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
মোহাম্মদ পাকপুর ২০২৫ সালের জুনে ১২ দিনের ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের সময় তার পূর্বসূরী নিহত হওয়ার পর ওই পদে নিযুক্ত হয়েছিলেন। কমান্ডার-ইন-চিফ নিযুক্ত হওয়ার আগে ১৬ বছর ধরে আইআরজিসির স্থলবাহিনীর নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি।
ইরান-ইরাক যুদ্ধের সময় পাকপুর আইআরজিসির সাঁজোয়া ইউনিটের কমান্ডার ছিলেন। যুদ্ধের পর তিনি নাজাফ আশরাফের অষ্টম ডিভিশন ও আশুরার ৩১তম ডিভিশনের কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করেন।
আলি শামখানিও ওই যুদ্ধের সময় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতার সিনিয়র উপদেষ্টা ছিলেন। পাকপুর ও শামখানি দুজনই যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার আওতায় ছিলেন।

ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে মেয়েদের একটি স্কুলে বিস্ফোরণে এখন পর্যন্ত কমপক্ষে ১০৮ জন মারা গেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার সময় ওই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।
প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এ হামলাকে ‘বর্বোরোচিত কাজ’ বলে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি বলেছেন, এটি আগ্রাসকদের দ্বারা সংঘটিত অসংখ্য অপরাধের ধারাবাহিকতায় আরেকটি কালো অধ্যায়।
স্কুলটি ইরানের বিপ্লবী গার্ডের একটি ঘাঁটির কাছে অবস্থিত, যা হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল। তবে স্কুলে হামলার অভিযোগ যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েল স্বীকার করেনি।
এদিকে ইরানের রেড ক্রিসেন্ট বলছে, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ হামলায় শনিবার ইরান জুড়ে ২০১ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এ ছাড়া আরও ৭৪৭ জন আহত হয়েছেন।
রেডক্রস ও রেডক্রিসেন্ট কর্মকর্তারা জেনেভায় জানিয়েছেন, ঘটনার পর তারা সেখানে রেসপন্স টিম পাঠিয়েছে।

সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করার পর অন্তর্বর্তী সময়ের জন্য রাষ্ট্র পরিচালনার কাঠামো ঘোষণা করেছে ইরান। দেশটি জানিয়েছে, তিন ব্যক্তি আপাতত ইরানের সার্বিক দায়িত্ব তত্ত্বাবধান করবেন।
এই তিনজন হলেন— ইরানের প্রেসিডেন্ট, বিচার বিভাগের প্রধান ও আইন যাচাই-বাছাইয়ের দায়িত্বে থাকা গার্ডিয়ান কাউন্সিলের একজন জুরি।
অন্তর্বর্তী এই সময়ে ‘অ্যাসেম্বলি অব লিডারশিপ এক্সপার্টস’ নামে ধর্মীয় নেতাদের একটি পরিষদ খামেনির উত্তরসূরি নির্বাচন করবেন। দেশটির সংবিধান অনুযায়ী এটি তাদের দ্রুতই করতে হবে।
১৯৭৯ সালে ইরানের ইসলামি বিপ্লবের পর আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খামেনি দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতার পদে বসেন। ১৯৮৯ সালে তার মৃত্যুর পর আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি দ্বিতীয় ব্যক্তি হিসেবে সে পদে আসীন হন।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে হত্যার ঘটনাকে ‘শত্রুদের কাপুরুষোচিত কাজ’ হিসেবে অভিহিত করেছে দেশটির বিপ্লবী সামরিক বাহিনী ইরান রেভ্যুলেশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। এ হত্যাকাণ্ডের ‘কঠিন প্রতিশোধ’ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে বাহিনীটি।
রোববার (১ মার্চ) সকালে ইরান সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে খামেনির মৃত্যু নিশ্চিত করার পরপর বিপ্লবী গার্ড এ হুঁশিয়ারি দিয়েছে। এর আগে শনিবার যুক্তরাষ্ট-ইসরায়েল যৌথ হামলায় নিহত হন ৮৬ বছর বয়সী আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি।
১৯৮৯ সাল থেকে টানা ৩৭ বছর ধরে ইরানের সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী খামেনির প্রস্থানে দেশটিতে ৪০ দিনের শোক ঘোষণা করা হয়েছে। তবে শোকের মাঝেই প্রতিশোধের আগুনে জ্বলছে তেহরান, যার ফলে মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের যুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
তেহরান খামেনির মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করার পর এক বিবৃতিতে আইআরজিসি বলেছে, ‘আমরা একজন মহান নেতাকে হারিয়েছি এবং আমরা তার জন্য শোকাহত। মানবতার সবচেয়ে নিষ্ঠুর সন্ত্রাসী ও জল্লাদদের হাতে আমাদের মহান নেতার এই শাহাদাৎ বরণ প্রমাণ করে, তার ব্যক্তিত্ব, নেতৃত্ব ও দেশপ্রেম তাদের জন্য আতঙ্কজনক হয়ে উঠেছিল।’
‘যাদের হাতে আমাদের সর্বোচ্চ নেতা নেতা নিহত হয়েছেন, তাদের এই জাতি ছাড়বে না। ইরান প্রতিশোধ নেবে এবং আইআরজিসি দেশি-বিদেশি যেকোনো ষড়যন্ত্রকে নির্মূল করতে বদ্ধ পরিকর।’
আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি ছিলেন ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা। ক্ষমতাসীন শিয়াপন্থি ইসলামি প্রজাতান্ত্রিক সরকারের সামরিক বিভাগ, বিচার বিভাগ, রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা বিভাগসহ দেশটির সব ক্ষেত্রে খামেনির প্রভাব ছিল অত্যন্ত গভীর ও সর্বব্যাপী। মূলত তার নির্দেশনাতেই ইরানের সরকার চলত।
১৯৭৯ সালে ইসলামি বিপ্লবের মাধ্যমে ইরানের তৎকালীন শাহ (রাজা) মুহম্মদ রেজা শাহ পাহলভি সরকারকে উৎখাত করে ক্ষমতা দখল করে শিয়াপন্থি বিভিন্ন সশস্ত্র রাজনৈতিক গোষ্ঠী, শাহবিরোধী রাজনৈতিক দল ও কমিউনিস্ট দলগুলো। সেই বিপ্লবে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনি। বিপ্লবের পর তিনি হন ইরানের প্রথম সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা।
১৯৮৯ সালে বয়সজনিত অসুস্থতায় মারা যান খোমেনি। তার মৃত্যুর পর দেশটির দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নেতা হন আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি।






ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি তার নিজ কার্যালয়ে কাজ করার সময় ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ বিমান হামলায় নিহত হয়েছেন। তেহরানে খামেনির প্রধান কার্যালয় ‘লিডারশিপ হাউজ কম্পাউন্ডে’র ওপর চালানো এ হামলায় ভবনটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। এ ছাড়া বিবিসি ভেরিফাইয়ের স্যাটেলাইট থেকে পাওয়া ছবিতেও লিডারশিপ হাউজ কম্পাউন্ডের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির চিত্র উঠে এসেছে।
ইরানের বিপ্লবী সামরিক বাহিনী আইআরজিসির ঘনিষ্ঠ সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ জানিয়েছে, খামেনি আত্মগোপনে ছিলেন বলে যে গুঞ্জন ছড়িয়েছিল তা ছিল ‘শত্রুর মনস্তাত্ত্বিক লড়াই’। বরং তিনি শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত নিজ দপ্তরেই অবস্থান করছিলেন।
১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর দেশটির দ্বিতীয় সুপ্রিম লিডার ও সশস্ত্র বাহিনীর কমান্ডার-ইন-চিফের এই আকস্মিক মৃত্যুতে ইরান জুড়ে ৪০ দিনের শোক ঘোষণা করা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যৌথ হামলায় নিহত ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে ‘ইতিহাসের সবচেয়ে নিষ্ঠুর ব্যক্তি’ হিসেবে অভিহিত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
বাংলাদেশ সময় শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত গভীর রাতে নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে খামেনির মৃত্যুর খবর জানান ট্রাম্প। বলেন, ‘ইতিহাসের সবচেয়ে নিষ্ঠুর ব্যক্তি খামেনি নিহত।’
পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘ইতিহাসের অন্যতম এক নিষ্ঠুর ব্যক্তি খামেনি মারা গেছেন। এটি শুধু ইরানের মানুষের জন্যই নয়, বরং সেইসব মার্কিনি ও বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানুষের জন্যও এক কাঙ্ক্ষিত বিচার, যাদের খামেনি ও তার রক্তপিপাসু গুন্ডাবাহিনী হত্যা কিংবা পঙ্গু করে দিয়েছিল।’
ট্রাম্প লিখেছেন, ‘তিনি আমাদের গোয়েন্দা ও অত্যন্ত উন্নত ট্র্যাকিং সিস্টেম থেকে বাঁচতে পারেননি। ইসরাইলের সঙ্গে মিলে আমরা এমন এক অভিযান চালিয়েছি যে খামেনি বা তার সঙ্গে মারা যাওয়া অন্য নেতাদের আসলে কিছুই করার ছিল না।’
খামেনির মৃত্যুর ঘটনায় ইরানের জনগণ তাদের নিজেদের মতো করে দেশ ‘ফিরে পাওয়া’র সুযোগ পেয়েছে বলে মনে করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, ‘ইরানের জনগণের জন্য তাদের দেশ ফিরে পাওয়ার এটাই সবচেয়ে বড় সুযোগ। আমরা খবর পাচ্ছি যে ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড, সেনাবাহিনী এবং অন্যান্য নিরাপত্তা ও পুলিশ বাহিনীর অনেকেই আর যুদ্ধ করতে চায় না এবং তারা আমাদের কাছে ক্ষমা বা নিরাপত্তা চাইছে।’
“আমি গত রাতেই বলেছি, ‘এখনই সুযোগ, তারা চাইলে ক্ষমা পেতে পারে; কিন্তু দেরি করলে মৃত্যু ছাড়া আর কিছুই পাবে না তারা।’ আশা করি, বিপ্লবী গার্ড ও পুলিশ বাহিনী ইরানি দেশপ্রেমিকদের সঙ্গে একাত্ম হবে এবং এই দেশকে তার প্রাপ্য মর্যাদায় ফিরিয়ে নিতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবে,”— লিখেছেন ট্রাম্প।
ইরানের নাগরিকদের দ্রুতিই ‘দেশ পুনর্গঠনের প্রক্রিয়া’ শুরু করার তাগিদ দিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘সেই প্রক্রিয়া খুব দ্রুতই শুরু হওয়া উচিত। কারণ শুধু খামেনির মৃত্যু নয়, মাত্র একদিনের ব্যবধানে দেশটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত এবং বলতে গেলে বিধ্বস্ত হয়ে পড়েছে।’
‘মধ্যপ্রাচ্যসহ সারা বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য’ অর্জন না হওয়া পর্যন্ত ‘নিখুঁত ও ভারী বিমান হামলা’ পুরো সপ্তাহ জুড়ে অথবা প্রয়োজনমতো বিরতিহীনভাবে চলতে থাকবে বলেও ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছেন ট্রাম্প।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হয়েছেন। এর মধ্য দিয়ে খামেনির ৩৭ বছরের শাসনের অবসান ঘটেছে। তার মৃত্যুতে ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে ইরান।
রোববার (১ মার্চ) বাংলাদেশ সময় ভোরের দিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছিলেন খামেনির মৃত্যুর খবর। পরে ইরানি সংবাদমাধ্যম তাসনিম ও ফার্স নিউজ এজেন্সি এ খবর নিশ্চিত করেছে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প এক ঘোষণায় জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের নিখুঁত বিমান হামলায় খামেনির প্রাসাদ পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে এবং তিনি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনাকে ইরানের জনগণের জন্য ‘দেশ ফিরে পাওয়ার বড় সুযোগ’ হিসেবে অভিহিত করেন ট্রাম্প।
ইরানের শাহ মোহাম্মদ রেজা পাহলভির সময়ই বিরোধী দলীয় রাজনীতিতে পরিচিতমুখ হয়ে ওঠেন আলি খামেনি। ১৯৭৮-৭৯ সালের ইরান বিপ্লবের অন্যতম নেতা ছিলেন তিনি।
১৯৭৯ সালে ইরান বিপ্লবে শাহ সরকারের পতন ঘটলে ‘ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান’ প্রতিষ্ঠিত হয়। ওই সময় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতার পদ গ্রহণ করেন আলি খামেনির নেতা আয়াতুল্লাহ রুহুলুল্লাহ খামেনি। সে সময় ইরানের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেন আলি খামেনি। ১৯৮১ সালে ইরানের তৃতীয় রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন।
ইরানের রাষ্ট্রপতি পদে ১৯৮৯ সাল পর্যন্ত আট বছর দায়িত্ব পালন করেন আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। ওই বছর রুহুলুল্লাহ খামেনির মৃত্যু হলে তিনি ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতার পদ অলঙ্কৃত করেন। গত ৩৭ বছর ধরে তিনিই দেশটির নেতৃত্ব দিয়ে আসছিলেন।
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যৌথ বাহিনীর হামলার মুখে প্রাণ হারালেন আলি খামেনি। তার ৩৭ বছরের শাসনেরও অবসান ঘটল।